১৯৬৬ সালের বর্ষাকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের একটি বড় ক্লাসরুমে অর্থনীতি বিভাগের অনার্সে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছিল শ-দুয়েক প্রার্থী, যাদের মধ্যে ৮০ জনের মতো (১৪ জন ছাত্রীসহ) নির্বাচিত হয়েছিল। আমিও ছিলাম তাদের মধ্যে।

এভাবেই শুরু হয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (এখন থেকে লিখব ঢাবি) সঙ্গে আমার সম্পর্ক—প্রথমে ছাত্র হিসেবে। পরে শিক্ষক, কর্মজীবনের প্রথম চাকরি; বলা যায় আমার জীবনের লক্ষ্যপূরণ। আর জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে অতিথি বক্তা হিসেবে মাঝে মাঝে বক্তৃতা।

ষাটের দশকে বাংলাদেশে (অর্থাৎ তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে) বিশ্ববিদ্যালয় ছিল হাতেগোনা কয়েকটি। উচ্চ মাধ্যমিকে যারা ভালো ফল করবে, তারা ঢাবিতে পড়বে—সেটাই ছিল স্বাভাবিক। আমি প্রথম হয়েছিলাম মানবিক শাখায়। সুতরাং চাইলে যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারি এ রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে পদার্পণ ঢাবির ক্যাম্পাসে। তবে সবাইকেই ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হতে হতো। সে যাই হোক, ছাত্র হলাম আমার কাঙ্ক্ষিত অর্থনীতি বিভাগে। ১৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে চার বছর—জীবনের সোনালি সময়। পড়াশোনা ছাড়াও সুযোগ ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা, রাজনীতি—বিভিন্ন দিকে জীবনকে বিকশিত করার। আর সে সুযোগ আমি হাতছাড়া করিনি।

এককালে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের সুনাম ছিল খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের জন্য। সেখানে শিক্ষক ছিলেন এমএন হুদা, নুরুল ইসলাম এবং আনিসুর রহমানের মতো অর্থনীতিবিদরা। আমি যখন ছাত্র হিসেবে সেখানে ঢুকি তখন অবশ্য তারা কেউ ছিলেন না। কিন্তু কয়েকজন খ্যাতিমান শিক্ষক তখনও ছিলেন, যাদের মধ্যে বিশেষভাবে মনে পড়ে অধ্যাপক আবু মাহমুদ এবং ড. মুজাফফর আহমেদের (দুজনেই প্রয়াত) কথা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষাক্ত রাজনীতির কারণে তাদেরকেও ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। সে কথায় পরে আবার আসব।

বিশেষ করে বলব ড. মাহমুদের কথা, যিনি নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের বাইরে গিয়ে পড়িয়েছিলেন মার্ক্সের অর্থনৈতিক তত্ত্ব। ক্লাসরুমে বিষয়টি পড়ানো সে সময়ের জন্য ছিল একটি সাহসী পদক্ষেপ। আরো বলব, ড. মুজাফফর আহমেদের কথা, যিনি আমাদের গণিত ও পরিসংখ্যান পড়াতে গিয়ে উৎসাহিত করেছিলেন গণিতের ইতিহাস, তার দর্শন আর অর্থনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক এসব বিষয়ে গবেষণা করে কিছু লিখতে। তারই ফলে আমি লিখেছিলাম হিস্ট্রি অব দ্য ডেভেলপমেন্ট অব ম্যাথমেটিকস, যা পরে বিভাগের ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল ।

অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পেয়েছিলাম ড. মালিক খুসরো চৌধুরীকে (প্রয়াত), তত্ত্ব পড়াতে গিয়ে যিনি আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আধুনিক পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবহূত পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে। অধ্যাপক রেহমান সোবহান এমএ ক্লাসে পড়িয়েছিলেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন; আমাদের পরিচয় ঘটিয়েছিলেন প্রথাগত তত্ত্বের বাইরের বক্তব্যের সঙ্গে।

অর্থনীতি বিভাগের একটি শক্তি ছিল মেধাবী তরুণ শিক্ষক, যাদের বেশির ভাগই সাময়িকভাবে আসতেন শিক্ষকতায়; প্রশাসনিক চাকরিতে যাওয়ার আগে। তবে তাদের অনেকেই নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের পড়িয়েছেন এবং প্রায় সবাই পরে সরকারের সচিব বা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পৌঁছে দেশের জন্য কাজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে মনে পড়ছে শাহ মোহাম্মদ ফরিদ, তৌফিক-এ-এলাহী চৌধুরী, সৈয়দ নূর হোসেন, শহিদুল আলম (প্রয়াত), সাইফুল হক প্রমুখ ব্যক্তিকে। তরুণ শিক্ষকদের মধ্যে দু-একজন শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবেও  নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখ করতে হয় এসএ লতিফুর রেজা (প্রয়াত) এবং ইফতিখার আহমেদের কথা।

আমাদের সময় সাবসিডিয়ারি সাবজেক্ট হিসেবে দুটি বিষয় পড়তে হতো। আমি পড়েছিলাম পরিসংখ্যান এবং অংক। দুই বিভাগেই পেয়েছিলাম মেধাবী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক, যাদের কাছ থেকে শিখেছি অনেক। তবে সে বিষয়গুলোর ক্লাসের জন্য আমাদের যেতে হতো সায়েন্স অ্যানেক্স ভবনে (শহীদ মিনারের পূর্ব পাশে)।

ছাত্ররাজনীতি

ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র ছিলাম আমি। সে সুবাদে আমার পরিচয় হয়ে গিয়েছিল জ্যেষ্ঠ ছাত্রদের সঙ্গে, যারা অর্থনীতি এবং অন্যান্য বিভাগে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। তাদের অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আজীবন। যেমন মুহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুল্লাহ, জীশান হুসাইন, সা’দত হুসাইন (প্রয়াত), জায়েদী সাত্তার, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আহমেদ কামাল প্রমুখ।

ছাত্রদের রাজনীতি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং আবাসিক হলে। আমি সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পেরেছি। এসএম হলে সে সময় রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ছাত্র ইউনিয়ন ছিল খুবই শক্তিশালী। দলটির প্রথা ছিল মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির কাউকে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেয়া। যখন থেকে আমি সমাজ ও দেশ সম্পর্কে একটু একটু ভাবতে শুরু করেছি তখন থেকেই মনের মধ্যে প্রগতিশীল ধ্যানধারণা বাসা বেঁধেছিল। প্রথম বর্ষে ছাত্র থাকাকালে মনোনয়ন পেলাম এসএম হলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এবং জয়ী হয়েছিলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছিলেন সা’দত হুসাইন (পরে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব)।

নির্বাচনের সময়টা ছিল খুবই জমজমাট। বলা যায় উৎসবমুখর। রাতের খাওয়ার পর শুরু হতো নির্বাচনী প্রচার—ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সভার মাধ্যমে। শেষ হতে হতে গভীর রাত। তখন দলবেঁধে যাওয়া হতো কাছের (মূলত পলাশী এলাকায়) কোনো চায়ের দোকানে (উল্লেখ্য, নিরাপত্তা কোনো চিন্তার বিষয় ছিল না)। হতো আরেক প্রস্থ আড্ডা। সে সময়ের কথা মনে করে আমি এখনো স্মৃতিমেদুর হই।

কিন্তু এত সুন্দর সময়টায় বাদ সেধেছিল দেশের রাজনীতি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে কলুষিত করেছিল পরিবেশকে। আইয়ুব খানের সরকার ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে তার দোসরদের মাধমে সৃষ্টি করেছিল ছাত্রদের দল ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ)। শুধু পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দলটি শুরু করে ভিন্নমতের ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ, যার শিকার হয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. আবু মাহমুদ এবং আমিও। এক ঘটনায় আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম এবং হকিস্টিকের আঘাতে আহত হয়ে হাঁটতে পারিনি কয়েক সপ্তাহ। সেটা ১৯৬৯ সালের কথা। আর তার পর পরই শুরু হয়ে যায় ঊনসত্তরের গণআন্দোলন।

লেখাপড়ার বাইরে

একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমনটি হওয়ার কথা, তেমনভাবে ঢাবিতে ছিল পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অনেক সুযোগ। ছিল কেন্দ্রীয় ও আবাসিক হল পর্যায়ে সংগীত, বক্তৃতা-বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদির প্রতিযোগিতা। আবাসিক হলগুলোয় পালিত হতো সাংস্কৃতিক সপ্তাহ। আমি অংশ নিতাম কবিতা আবৃত্তি আর বিতর্ক-বক্তৃতায়; পুরস্কারও পেয়েছি কিছু।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো টিএসসিতে। বেশ কয়েকজন গানের শিল্পী উঠে এসেছিল সেসব অনুষ্ঠান থেকে। আর অর্থনীতি বিভাগে আমার ক্লাসেই ছিল তখনকার উঠতি (পরে প্রতিষ্ঠিত) রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ইকবাল আহমেদ। সে উদ্যোগী হয়ে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করত গানের  অনুষ্ঠানের। ক্লাসের সময়ের পরে কলা ভবনের কোনো রুমে হতো সেসব অনুষ্ঠান।

খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা হতো। অর্থিনীতি বিভাগের ভালো ক্রিকেট দল ছিল এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল একাধিকবার। আমার ক্লাসেই ছিল বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, যারা বিভাগের টিমের সদস্য ছিল। শিক্ষকদের মধ্যে দু-একজনকে দায়িত্ব দেয়া হতো দল ম্যানেজ করার জন্য এবং অনুকরণীয় নিষ্ঠার সঙ্গে তারা সে কাজ করতেন।

শুধু খেলোয়াড় নয়, সবার জন্যই শরীরচর্চা ছিল বাধ্যতামূলক। জিম বা খেলার মাঠে যেতে হতো একটা নির্দিষ্টসংখ্যক দিন। জিমের প্রশিক্ষক ক্ষিতিশদাকে এখনো মনে পড়ে তার উচ্চতা ও সুঠাম দেহের জন্য।

বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ আড্ডা, যা আমার ঢাবির স্মৃতির একটা বড় জায়গাজুড়ে রয়েছে। মূলত দুটি জায়গায় হতো আমাদের আড্ডা: মধুর ক্যান্টিনে বেশি হতো রাজনৈতিক সভা-সমিতি। লাইব্রেরির পূর্ব পাশে এক কোনায় একটি ছোট্ট টিনের ঘরে ছিল শরিফ মিয়ার ক্যান্টিন, যেখানে হতো ফ্রি-স্টাইল আড্ডা, যেখানে সাধারণ ছাত্ররা বাদেও আসতেন সম্ভাবনাময় ও সদ্য প্রতিষ্ঠিত কবি, চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন স্তরের তরুণ বুদ্ধিজীবী। সুযোগ ছিল আহমদ ছফা (প্রয়াত) ও আবুল কাসেম ফজলুল হকের মতো চিন্তাবিদদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার। সেখানে নিছক আড্ডা যেমন হতো তেমনি চলত রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি-সমাজ বিষয়ে আলোচনা আর বিতর্ক। চীন, ভিয়েতনাম, নকশালবাড়ি, কবিতা, প্রবন্ধ—কোনো কিছুই বাদ যেত না।

অকালপ্রয়াত কবি হুমায়ুন কবিরের কবিতা ‘পার্শ্ববর্তিনী সহপাঠিনীকে’ তখন আমাদের মুখে মুখে। সাহিত্য গণমুখী হওয়া উচিত কিনা, এ নিয়ে হতো বিতর্ক। সে সময় (সেটা ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনের সময়) এল শামসুর রাহমানের লেখা কবিতা ‘আসাদের শার্ট’; আর তারপর নির্মলেন্দু গুণের ‘হুলিয়া’। আমরা বুঝলাম যে কবিরা রাজনীতি ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন।

পাশেই ছিল আর্ট কলেজ, যেখানে মাঝে মাঝে হতো ছাত্র-শিক্ষকদের কাজ নিয়ে প্রদর্শনী। বন্ধুত্ব হয়ে গেল কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গেও। সেভাবেই উৎসাহ সৃষ্টি হলো চিত্রকলা ও ভাস্কর্য শিল্পে, যা রয়ে গেছে আজীবন।

সব মিলিয়ে এমন একটা পরিবেশ, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং জীবনকে সার্বিক পরিসরে দেখার সুযোগ ছিল। যৌবনের শুরুতে সে রকম একটি পরিবেশ পাওয়া এবং কিছুটা হলেও তার আলো-হাওয়া উপভোগ করতে পারা ছিল আমার জীবনের একটি বিরাট অর্জন।

শিক্ষকতা

এমএ পরীক্ষার ফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি পেয়ে গেলাম অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে। তখন একটি ব্যবস্থা ছিল: পদ শূন্য থাকলে উপাচার্য বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশ অনুযায়ী ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে (অ্যাডহক) কাউকে নিয়োগ দিতে পারতেন। আমি সম্মান ও এমএ দুই পরীক্ষাতেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছিলাম বলে আমাকে সেই ব্যবস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। যেসব ক্লাসরুমে কয়েক দিন আগেও ছাত্র হিসেবে বসতাম, সেসব ঘরেই আমি শিক্ষক হিসেবে গিয়ে দাঁড়াই এবং আমার যা কিছু জ্ঞান তা ভাগ করি ছাত্রদের সঙ্গে। যারা আমার শিক্ষক ছিলেন তারাই আমার সহকর্মী। এ রকম একটি পরিবেশে পেশাগত জীবন শুরু। এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আর কী হতে পারে।

দেড় বছরের মাথায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কমনওয়েলথ বৃত্তি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে তখনকার তরুণ কিন্তু খ্যাতনামা অধ্যাপক (পরে নোবেল বিজয়ী) অমর্ত্য সেনের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আবার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, প্রায় সাড়ে তিন বছর। আমার জীবনের স্মরণীয় সময় কিন্তু জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম সে পেশা। সেটি অবশ্য অন্য এক কাহিনী।

তবে এখনো মাঝে মাঝে সুযোগ ঘটে অতিথি বক্তা হিসেবে কোনো ক্লাসে বক্তৃতা দেয়ার। চোখে পড়ে অনেক পরিবর্তন। অর্থনীতি বিভাগে হয়েছে কম্পিউটার ল্যাবরেটরি। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে এক ক্লাসে দেখেছি সবার সামনে কম্পিউটার। মনে পড়ে যায় আমার পরিসংখ্যানের প্র্যাকটিকাল ক্লাসের কথা, যেখানে ব্যবহার করতাম ‘ফ্যাসিট’ কোম্পানির ক্যালকুলেটর মেশিন। কতটা পথ পেরিয়ে এসেছে আমার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিতরণ এবং সর্বোপরি জ্ঞান সাধনার স্থান। আগামী দিনগুলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দায়িত্বগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবে—এ প্রত্যাশা রইল।

 

ড. রিজওয়ানুল ইসলাম: অর্থনীতিবিদ, সাবেক শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা, এমপ্লয়মেন্ট সেক্টর, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জেনেভা