কর আদালত বা ট্যক্স ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবগত। এটি একটি বডি বা ফোরাম, যেকোনো ধরনের ডিসপিউট সম্পর্কে শুনে থাকেন। এদিক থেকে বললে, কোর্টও এক ধরনের ট্রাইব্যুনাল। তবে বেশির ভাগ দেশে এটাকে একটি অল্টারনেটিভ ফোরাম হিসেবে বলা হয়, যার দায়িত্ব হলো কোর্টে না গিয়ে ডিসপিউট সমাধান করা। এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন কারণে গঠিত হতে পারে। তবে তাদের পরিচালন পদ্ধতি কোর্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশেও ট্যাক্স আপিলাত ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপকসংখ্যক কেইস নিষ্পত্তি হতে দেখা যায়। এতে অবশ্য কেউ সন্তুষ্ট হয় আবার কেউ হয় না। এসব ক্ষেত্রে সমাজের মার্জিনাল গ্রুপের কথা কতটুকু প্রতিফলিত হয়, সেটা আমরা কেউ ভেবে দেখি না বা তা দেখার আদৌ দরকার আছে কিনা, তাও কখনো চিন্তা করি না। যেহেতু তাদের কোর্টে যাওয়ার সক্ষমতা তেমন নেই, কাজেই সঠিকভাবে পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল একটি সহায়ক বাহক হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হলো জনগণের কর আদালত সম্পর্কিত অনুষ্ঠানটি। এতে দুটি বিষয়ের ওপর ট্যাক্স জাস্টিস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। বিষয় দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো মূল্য সংযোজন কর ও করপোরেট কর। এর মাধ্যমে আয়োজক অ্যাকশন এইড দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যাপকসংখ্যক অনেকটা মার্জিনাল করদাতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যাদের কণ্ঠ সাধারণত সবার কাছে পৌঁছে না। অথচ তারা কর দিচ্ছেন কিন্তু তার প্রতিদানে এমন কোনো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না; যা তাদের জীবনমানের উন্নতি করতে পারে বা করদানে আরো উৎসাহী করতে পারে। বস্তিবাসী জনগোষ্ঠী, পোশাককর্মী, ছাত্র—এদের কণ্ঠস্বর কতদূরই বা যেতে পারে। কিন্তু এরা সমাজের অপরিহার্য। কারণ যে সেবা তারা নগরবাসীকে দিয়ে যাচ্ছে, তা অবশ্যই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ড্রাইভার, বাড়ির কাজের লোক, পানিওয়ালা, ফেরিওয়ালা, রডমিস্ত্রি—যেকোনো সহায়ককার্যে এদের দরকার পড়ছে, কিন্তু আমরা খুব কম সময়ই এদের জন্য সঠিক নীতিমালার চিন্তা করি।
জনগণের এ কর আদালতে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভ্যাট ও করপোরেট কর বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাদের বক্তব্যে দুটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। তা হলো, তারা কর প্রদান করছে কিন্তু তার পরিবর্তে তারা কোনো সেবা পাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, যাদের অধিক কর প্রদানের সামর্থ্য আছে, তারা কর ফাঁকি দিচ্ছে। ফলে সরকার তাদের জন্য সেবা বাড়াতে পারছে না। ফাঁকির বিষয়ে নানা তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা হয়। ট্যাক্স ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা, করপোরেট কর ফাঁকি ও করপোরেটদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা তৈরি এবং কর ব্যবস্থা প্রগতিশীল করার ব্যবস্থা নেয়া নিয়ে জুড়ি, আমিকাস প্যানেল ও পিটিশন প্রদানকারী তাদের যার যার অবস্থান থেকে বক্তব্য রাখেন। সাধারণের বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরার এ ধারা একটি কার্যকর প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। কারণ বিষয়গুলো বক্তব্যে উঠে এলেও তা যে এতটা সত্য, সেটি হয়তো নীতিপ্রণেতারা ধারণা করতে পারেন না।
পোশাককর্মী ফাতেমা বেগম জানালেন, তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ বাড়ির মালিককে প্রতি মাসে দেন ৮০০ টাকা। এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ বিল ২০০ টাকা হলে তার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বাবদ তাকে ১০ টাকা দিতে হয়। প্রায় ৪০ লাখ পোশাককর্মী, মাসে তাহলে ৪ কোটি টাকা দিচ্ছেন এ খাতে। এভাবে সব সেবাকে একসঙ্গে করলে দেখা যাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তারা কর দিচ্ছেন, কিন্তু তার বিপরীতে যাতায়াত, স্বাস্থ্য, রেশনিং, ন্যায্যমূল্যে ন্যূনতম সেবাগুলো তারা পাচ্ছেন কি? তেমনিভাবে একজন ছাত্র জানালেন, তার মাসে যে খরচ হয়, এ বাবদ তাকে মাসে ৪০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। অর্থাৎ বছরে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। তাহলে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার ভ্যাট দিচ্ছে এ শ্রেণী—যদি আমরা ধরে নিই প্রায় ২০ লাখ ছাত্র একই অবস্থানে রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে শুধু একটি বস্তির ২৫ হাজার পরিবারের কথা বলা হয়। এ থেকে ভ্যাট বাবদ ১৫ টাকা করে দিলে প্রায় ৪ লাখ টাকা তারা দিচ্ছে শুধু বিদ্যুৎ বিলের ওপর। তাদের মতে, এসব করের বিনিময়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, ইন্স্যুরেন্স, যানবাহন, শিক্ষা, বৃদ্ধ বয়সের নিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ইত্যাদি বিষয় কখনই দেখা হয় না।
অন্যদিকে করপোরেট করের ক্ষেত্রে যেখানে মার্জিনাল জনগোষ্ঠীর তেমন কোনো করণীয় নেই, সেখানে বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকির প্রবণতা দেখা যায়। পিটিশনারদের বক্তব্যে জানা যায়, করপোরেট কর ফাঁকির ব্যাপারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ট্রিটির মাধ্যমে এক দেশের করের বোঝা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার একটি সহজ বুদ্ধি রয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেশের মোট ১৮টি চুক্তি পরীক্ষা করে এর ফাঁকফোকর গলিয়ে কীভাবে ট্যাক্স ব্রেক নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে, তা দেখার চেষ্টা করা হয়। ট্রান্সফার প্রাইসিং নামে একটি নীতিমালার প্রবর্তন থাকলেও তা তেমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ ট্রিটি শপিংয়ের ব্যাপারটি অনেক দিন থেকেই আলোচনায় এসেছে। কিন্তু তা তেমনভাবে সরকারি আগ্রহে প্রতিফলিত হয়নি। একটি ট্রান্সফার প্রাইসিং ডিটারমিনেশন সফটওয়্যারেও রয়েছে বলে জানা যায়, এর ব্যবহার ট্রিটি শপিংয়ের মাধ্যমে কত টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে, তা হয়তো জানা যেত।
জয়পুর হাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নির্বাচিত সদস্য জনগণের কর আদালতে প্রাক-পিটিশনটি করেন। তার মতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ এ ধরনের কর ফাঁকির কারণে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়; যা দিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ লোকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেত। এছাড়া পিটিশনে সেলফোন কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়, যার পরিমাণ পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি তার ইউনিয়নের জনসংখ্যা ও বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তার ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যার বিপরীতে মাথাপ্রতি বরাদ্দ দাঁড়ায় ২৪৫ টাকা; যা খুবই অপ্রতুল। তিনি মনে করেন, কোম্পানির কর ফাঁকি রোধ করা গেলে বর্তমানে তার ইউনিয়ন পরিষদ যে বরাদ্দ পাচ্ছে, তা অনেক গুণ বাড়ানো সম্ভব হতো। তিনি অর্থ পাচারের ওপরেও আলোকপাত করেন এবং বলেন, এগুলো উদ্ধার করা গেলে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এগুলো খরচ করা যেত। প্রকৃত উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক উপাদান হলো মানবসম্পদ ও এর সঠিক উন্নয়ন, সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি, সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা এর অন্যতম উপকরণ।
তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদানে সক্ষম। এগুলোর সেবার আওতা বাড়ানো হলে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হতো। এছাড়া বিভিন্ন সেফটিনেট প্রোগ্রামের জন্যও অর্থের প্রয়োজন।
বর্তমানে আমাদের কর-জিডিপি রেশিও বাড়লেও তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। যেমন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় নেপালের প্রায় দ্বিগুণ হলেও নেপালের কর-জিডিপি রেশিও ১৪ শতাংশ। কিন্তু আমাদের ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তথ্যে দেখা যায়, করপোরেট কর থেকে আয় জিডিপির অবদান ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অথচ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ হার যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫১ ও ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ করের রেশিও বাংলাদেশে ৩০:৭০।
বাংলাদেশে ধনী ও গরিবের বৈষম্য ক্রমে বাড়ছে। কারণ যাদের কর দেয়ার কথা, তারা সঠিকভাবে কর দিচ্ছেন না। আর জেএসসিতে রেজিস্টার্ড কোম্পানির সংখ্যা দুই লাখের ওপরে, কিন্তু করপোরেট কর প্রদানকারীর সংখ্যা প্রায় এর চার ভাগের এক ভাগ। ফলে করপোরেট কর খাত থেকে কর আদায়ের পরিমাণ বাড়ছে না। ২০১৭-১৮ সালে এ খাত থেকে আয় হয়েছে মোট করের ৩৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যার মধ্যে করপোরেট খাতে আয় প্রায় ৭১ শতাংশ। বাকিটা এসেছে আয়কর খাত থেকে। অথচ ভ্যাট থেকে আয় প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ যে কর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার ওপর প্রযোজ্য, সে খাত থেকে আয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কাস্টমস খাত থেকে কর আদায় ক্রমে কমছে। কারণ সরকার স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দিয়ে দেশজ শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে আগ্রহী। অথচ ওয়েলথ-এক্সের রিপোর্ট অনুয়ায়ী বাংলাদেশে দ্রুত সম্পদশালী হওয়ার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এজন্য দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্রমে বৈষম্য বাড়ছে। দেশজ আয় বাড়ছে কিন্তু অসমতাও বাড়ছে। জিনি কো-এফিশিয়েন্ট ১৯৮৩ সালে ছিল শূন্য দশমিক ২৫, তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৪০-এ দাঁড়িয়েছে। দরিদ্র ৫ শতাংশের কাছে সম্পদের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ, যেখানে ধনী ৫ শতাংশের কাছে সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা অবশ্য করনীতির বৈষম্যের অব্যাহতির কথাও বলে থাকেন। তার অনেক উদাহরণও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে আরো বেশি জটিলতার খবর দেখা গেছে। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রাপ্ত করের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, কর্ণফুলী পেপার মিলস ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনেরও বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে।
এছাড়া যেসব অব্যাহতি রয়েছে, তা না থাকলে ২ শতাংশ এডিপি বেশি হতে পারত বলা হয়। ট্যাক্স রেট বাড়ানো খুব সহজ কথা নয়, তবে এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি সার্ভে জোন কার্যক্রম রয়েছে, তাদের জন্য বাজেটও বরাদ্দ হয়েছে। তা কাজে লাগানো হয়নি। এক্ষেত্রে ট্রান্সফার প্রাইসিং আইন চালু থাকলেও সে ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রমও তেমন বাড়ানো হয়নি। কালো টাকার বিষয়ও সবারই জানা। এক্ষেত্রে অডিট রিপোর্টের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া ৩০ জুনের ব্যালান্স শিট ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে অডিট কোম্পানিগুলোকে তা ওয়েবসাইটে আপলোড করার বিধানও রয়েছে। কিন্তু তার সঠিক বাস্তবায়ন সেভাবে দেখা যায় না।
ওপরের আলোচনায় দেখা যায়, যদিও কর-জিডিপি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে, আইনও রয়েছে কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে তার বাস্তবায়ন নেই। কাজেই করের আপাতন দরিদ্রের ওপর বেড়ে চলেছে। একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ আসছে ভোগ থেকে, যার সঙ্গে ভ্যাটের একটি সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ আমরা যে যাই কিছু কিনছি, তার ওপরে কর প্রযোজ্য রয়েছে। এটি আমরা দিচ্ছিও, যা দরিদ্র-গরিব সবার ক্ষেত্রে সমান। আবার দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার কিছু অব্যাহতি দিচ্ছে, তার সুযোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিতে পারছে না। ফলে তাদের দরিদ্র অবস্থা চলতেই থাকে। ইউএনডিপির হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট রিপোর্টে দেখা যায়, পৃথিবীর ৭৮৩ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্র। এদের দরিদ্র অবস্থা বহুমাত্রিক এবং যাদের মাথাপিছু আয় দিনপ্রতি ১ দশমিক ৯ ডলার। ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা ছিল ৮৩৬ মিলিয়ন; যাদের মাথাপিছু আয় দিনপ্রতি ১ দশমিক ৫ ডলার। বহুমাত্রিক দরিদ্র বিবেচনায় আনা হলে বাংলাদেশের বর্তমান দারিদ্র্যরেখা আরো নিচে নেমে আসবে। বাংলাদেশে আয় দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ার পরেও এখনো প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্র, তাদের মধ্যে আবার প্রায় ১৩ শতাংশ অতিদরিদ্র।
ফেরদাউস আরা বেগম: সিইও, বিল্ড










