আবৃত্তি করতে করতে সুলতান আবেগাপ্লুত হয়ে গেলেন। বললেন, ‘আমি তখন শ্রীনগরে। (১৯৪৭ সালের শেষ দিকে বোধ করি) দাঙ্গা শুরু হলে আমি আঁকা অনেক ছবি আর সামান্য যা কিছু পার্থিব অবলম্বন ছিল পাঞ্জাব মুসলিম হোটেলে ফেলে রেখে মাত্র দু-তিনটে ছবি হাতে নিয়ে পালিয়ে উদ্বাস্তুদের এক ট্রাকে উঠে পড়লাম। তারপর সোজা শিয়ালকোট, লাহোর।...কাশ্মীর থেকে তো আমি আসতে চাইনি, বাধ্য হয়েই ছাড়তে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্মৃতি থেকেই আমি কাশ্মীরের ছবি এঁকেছি।’ বাংলায় প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত বাংলার ছবিও স্মৃতি থেকে আঁকা।
কবি শামসুর রাহমান সুলতানের প্রশস্তি করে একটি নিবন্ধে (‘সুলতান তার সালতানাত ত্যাগ করেননি’) বলেছেন, ‘তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে সকলের অবশ্য-পাঠ্য আমাদের অন্যতম কৃতী কথাশিল্পী হাসনাত আব্দুল হাইয়ের লেখা উপন্যাস সুলতান।’ এ গবেষণানির্ভর জীবনীভিত্তিক বইটিতে ‘বিশিষ্ট রূপদক্ষতায়’ (কবি শামসুর রাহমান) হাসনাত আব্দুল হাই সুলতানকে জীবন্ত করে তুলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে ১৯৫৪ সাল থেকে আমৃত্যু ছিল সুলতানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ—ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে। তিনি ছিলেন একজন খুব কাছের মানুষ। দুই প্রজন্মের পরিচয়। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বই লেখাকালীন আলাপচারিতায় সুলতান নিজেকে হাসনাতের কাছে উজাড় করেই দিয়েছিলেন এবং কুশলী হাতে অতীব দক্ষতা এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গেই হাসনাত আব্দুল হাই তা পাঠকের কাছে চমত্কার উপস্থাপন করেছেন। নিজেও একজন প্রায়-উদ্বাস্তু হিসেবেই কপর্দকশূন্য অবস্থায় সুলতান লাহোরে পা রেখেছিলেন। অবশ্য আগে পাঞ্জাবের কামালবাগ আর তালবন্দে ওখানকার বিরাট জমিদার আমির হাবিবুল্লাহর সঙ্গে কাটিয়েছিলেন ছয় বছর। পরে আমির সাহেবের শ্বশুর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের অম্বের নবাব তালেহ মোহাম্মদ খানের প্রাসাদেও থাকেন বহুদিন। তার কাগান-ভ্যালির চিত্রগুলো ছিল ওই সময়ের আঁকা।
লাহোরে তিনি খাকছার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা মাশরেকীর সঙ্গেও দেখা করেন। লাহোরে তাই তার কিছু যোগসূত্র ছিল। আর সৌভাগ্যক্রমে শিয়ালকোটে এসেই তার সঙ্গে আকস্মিকভাবেই দেখা হয়েছিল সৈয়দ আমজাদ আলীর। তিনি ছিলেন একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ আর্ট-ক্রিটিক এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। আমজাদ আলীই সুলতানের স্কেচ এবং সঙ্গে থাকা দু-তিনটে ছবি দেখে বুঝে নিয়েছিলেন সুলতানের প্রতিভার উচ্চতা। তিনিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন একজন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ শিল্পীর সঙ্গে—আব্দুর রহমান চুঘতাই। অনুজপ্রতিম স্নেহে চুঘতাই করলেন সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতা। কয়েক মাসেই সুলতানের যোগাযোগ হলো বিস্তৃত। কাশ্মীর ও বাংলার স্মৃতি থেকে ছবি আঁকলেন অনেক। লাহোর তখন বিভিন্ন দিকে উপমহাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি কেন্দ্র। এ লাহোরেই কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে সুলতানের একক চিত্র প্রদর্শনী হলো। উদ্বোধন করলেন স্যার ফিরোজ খান নূন। পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী। (ব্রিটিশ ভারতের কয়েকটি প্রদেশে, পাকিস্তান যুগের প্রথম দিকে পূর্ববঙ্গেও, প্রধানমন্ত্রী বলা হতো, মুখ্যমন্ত্রী নয়)। তুমুল সফল হয় প্রদর্শনীটি। উদ্বোধনের দিন হঠাৎ করেই দেখা শহীদ সোহরাওয়র্দীর (পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে, যাদের অতি ফলপ্রসূ পারিবারিক আতিথ্য তিনি কলকাতায় পেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নূন এবং সোহরাওয়ার্দী দুজনই সুলতানের ছবি কেনেন। প্রায় সব ছবিই বিক্রি হয়ে যায় উদ্বোধনের দিনই। স্যার ফিরোজ খান এবং তার স্ত্রী ভিকারুননিসা নূন শিল্পবোদ্ধা ছিলেন। ঢাকায় যখন পরে ফিরোজ খান নূন গর্ভনর হিসেবে এসেছিলেন তখন তিনি সুলতানের সঙ্গে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ঢাকার বিখ্যাত ভিকারুননিসা স্কুলটি বেগম নূন-এর নাম ধারণ করছে। তাঁরই উদ্যোগে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এবং সুলতানের পরামর্শেই ‘পেইন্টিং’ প্রশিক্ষণ ওই স্কুলে শুরু হয়। বাবা দীর্ঘকালীন ওই স্কুলের গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ওই ঐতিহ্য বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। যাহোক, লাহোর সমাজে সুলতান অনায়াসে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছিলেন। বহু শিল্পী, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ গুণীজনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং কারো কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। কবি আহমদ দানেশের বাড়িতে আড্ডায় যেতেন সুলতান। যেখানে প্রায় নিয়মিতই আসতেন কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, কথাশিল্পী সাদাত হাসান মান্টো, হাবিব উদ্দীন বীনকার প্রমুখ। সাধারণভাবে উদার বামপন্থী বলেই এদের খ্যাতি ছিল। গানের মাহফিল, কবিতার মোশায়েরা, চারুশিল্প নিয়ে আলোচনা হতো। সুলতান এসবে সাগ্রহে অংশ নিতেন। লাহোরেই ওস্তাদ বড় গোলাম আলি খানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য সুলতানের হয়। ১৯৫৭ সালে ভারতে পাড়ি দেয়ার আগে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খান লাহোরেই থাকতেন। করাচি তখন দেশের রাজধানী। এস আমজাদ আলি এবং শিল্পী আব্দুর রহমান চুঘতাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৪৯-এর শেষের দিকে একটি বড় ধরনের প্রদর্শনী করার মানসে সুলতান চলে এলেন করাচি। চুঘতাই তখন উপমহাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে সুবিখ্যাত। এটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা যে একজন শিল্পী হয়েও অত্যন্ত দরাজ-দিলে এই মহান শিল্পী তরুণ সুলতানকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন এবং প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন।
করাচিতে সুলতানের প্রদর্শনী একটি বিরাট ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এর উদ্বোধন করেন মোহতারেমা ফাতেমা জিন্নাহ। লাহোর থেকে অনেকে আসেন—চুঘতাই, ফয়েজ আহমদ ফয়েজ আর অবশ্যই এস আমজাদ আলি। করাচির শিল্পী শাকির আলি, শেখ আহমদ একান্ত সহায়তা করেন। বহু ব্যবসায়ী-শিল্পপতিও এলেন। চড়া দামে তার প্রায় সব ছবিই এবারো উদ্বোধনের দিনই বিক্রি হয়ে গেল। এটা ছিল সুলতানের তৃতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী। প্রথমটা হয়েছিল ১৯৪৪ সালে শিমলায়। উদ্বোধন করেন কাপুরতলার মহারাজা, শিমলা আর জলন্ধরে বেশকিছু কাল যার আতিথ্য সুলতান গ্রহণ করেছিলেন। করাচিতে সুলতান বেশ কয়েকজনকে ছবি শেখান। প্রশিক্ষণের একটি urge তাঁর মধ্যে সব সময়ই প্রবল ছিল। মাঝে মাঝে কেউ কেউ এসে তাঁর ছবি কিনে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে নিখিল পাকিস্তান একটি প্রতিযোগিতায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে সুলতান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আয়োজনে এক দীর্ঘ সফরে আমেরিকা যান। পরে বিলেতেও অনেক দিনব্যাপী ভ্রমণ করন। আর্ট গ্যালারি ও মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে বিশ্বশান্তির ওপর বক্তৃতা দেন। পছন্দমতো শিক্ষায়তন ও দ্রষ্টব্য স্থানগুলোও দেখেন। আর ছবি আঁকেন। ওই সময়কার কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী সৈয়দ আমজাদ আলির কথার (১৯৫২ সালের) উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় সুলতান কারিগরি কৌশলের দিক থেকে তার সাফল্য অর্জন করেছেন। এখন দরকার মহৎ আইডিয়া আর জীবনের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাবলি, যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন চিত্রকলার ‘মাস্টার পিসসমূহ’। ভবিষ্যদ্বাণীই করেছিলেন আমজাদ আলী। পঞ্চাশের দশকেই সুলতান যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচটি এবং বিলেতে চারটি প্রদর্শনী করেন। এর মধ্যে একটি ছিল যৌথ প্রদর্শনী, যেখানে পাবলো পিকাসো, সালভাদর ডালি, মাতিস, ব্র্যাক ও ক্লীর মতো বিশ্বনন্দিত আধুনিক সেরা শিল্পীদের চিত্রকর্মের সঙ্গে প্রদর্শিত হয় শেখ মুহাম্মদ সুলতানের চিত্রকর্ম।’
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই সম্ভবত সুলতানকে পুরোপুরি বিশ্বধর্মী করে তোলে। সুলতানের চিত্রকর্মের যেসব রিভিউ ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আর্ট বিভাগে বেরিয়েছিল তার কয়েকটি আমি দেখতে পেরেছিলাম। নিউইয়র্ক, লন্ডনের পত্রিকা ছাড়াও পারীর ল্যা-মঁদ পত্রিকায় প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত সেগুলো। আর্টের জগতে যেন এক নতুন বিস্ময়কর আবিষ্কার। কবীর চৌধুরীর কথায় আমজাদ আলির ভবিষ্যদ্বাণীরই যথার্থ বাস্তবায়ন। এসব রিপোর্ট সম্পর্কে শাহাবুদ্দিন আহমদ তার ‘আমার স্মৃতিতে সুলতান’ নিবন্ধে লিখেছেন, ‘সুলতানের স্যুটকেস থেকে বেরিয়ে এল কয়েকটি ইংরেজি পত্রিকা। নিউইয়র্ক টাইমস, হেরাল্ড ট্রিবিউন, ডেইলি টেলিগ্রাফ প্রভৃতি। সেখানে শেরোয়ানি পরা চুল-দাড়ি ও বাবরি চুলের সুলতানের ছাপানো ছবির সঙ্গে সুলতানের আঁকা পেইন্টিংয়ের ওপর রিপোর্ট দেখলাম। বুঝলাম সুলতাম পাগল নয়—প্রতিভা।’ কিন্তু ওই সব নিয়ে প্রায় পাগলের মতোই আচরণ করেছেন সুলতান। এ মহামূল্যবান ‘রিভিউ’গুলোর কিংবা ওগুলোর কোনো কপিই রাখেননি। আমি যত্নে রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধও করেছিলাম। তিনি বলতেন, ‘ওইগুলো রেখে আর কী হবে?’ দুঃখের বিষয় সবই নষ্ট হয়ে গেছে। অবহেলায়, অযত্নে। হারিয়ে গেছে। এক কথায় বলতে পারি, এ রিভিউগুলো থাকলে বাংলার আর্ট জগতের এক মহাসম্পদ হতো। বিদেশের বোদ্ধামহলে আর্ট-ক্রিটিকদের কাছ থেকে এ ধরনের স্তুতি এশিয়ার কোনো শিল্পী পেয়েছেন বলে মনে হয় না।
শিল্পী সুলতানের সঙ্গে আমার পরিচয় পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে। সুলতানের বয়স যখন ত্রিশ-একত্রিশ, বাবা (গিয়াসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী) তখন যশোরের জিলা-ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর। তখন আমি ছাত্র। ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে দেখি বাবা একজন স্থানীয় শিল্পীকে নিয়ে খুব উৎসাহ বোধ করছেন। পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এক তরুণ প্রতিভা। বিশ্বজুড়ে ওর নাম। কিন্তু দেশে প্রায় অপরিচিত। খুবই ভালো ছবি আঁকে।’ তাঁর অনেক ছবি দেখলাম। একটি ছবির কথা মনে পড়ে—সুন্দর বনের গহিনারণ্যে ক্রীড়ারত হরিণ যুগল। সুলতানের তখনকার ছবিগুলো ছিল কিছুটা ভিন্নধর্মী। বাবা নড়াইলে সুলতানের বাড়িতে একটি ছবি আঁকা শেখার স্কুল প্রতিষ্ঠাকল্পে সহায়তা এবং সেখানে গিয়ে সেটির উদ্বোধন করেন। এক অর্থে সুলতানকে বাংলায় পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রথম উদ্যোগ নেন। এমএম কলেজেও একটি পরিচিতি আলোচনা সভার আয়োজন করেন। হাসনাত আবদুল হাইয়ের বইটিতে বাবার (এবং পরবর্তী সময়ে আমার) সঙ্গে সুলতানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিশদ বিবরণ আছে। বইটিতে উল্লেখ আছে—বাবার সম্পর্কে কথোপকথনে সুলতান বলেন, ‘মহাপুরুষের মতো মানুষ, খুব বিবেচক, খুব ভালো মানুষ ছিলেন। পুরনো মুরব্বিরা জানতেন কখন কার সঙ্গে কী করতে হয়। জাত-পাত, ধনী-গরিবের পার্থক্য নিয়ে মাথা ঘামাতেন না—বলতে বলতে তিনি উদাস হয়ে যান।’ বাবা বদলি হয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি আর ‘নন্দনকানন’ হিসেবে স্থায়ী হয়ে যেতে পারেনি। তবে তার জীবদ্দশায় বাবা সব সময়ই সুলতানের সঙ্গে তার সস্নেহ সম্পর্ক রেখে চলেছেন। ১৯৬৭ সালে আমি যশোরে জিলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যাই এবং অবিলম্বে সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করি। তখন নড়াইলে সুলতানের নেতৃত্বাধীন ‘ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস প্রতিষ্ঠা করি’ এবং ১৯৬৮ সালে ওটা উদ্বোধন করি। সুলতানের উৎসাহে তখন শিশুদের শিল্প শিক্ষার একটি বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব ঘটনার কিছু কিছু বিবরণ হাসনাত আবদুল হাইয়ের বইয়ে এবং ‘এস এম সুলতান স্মারক গ্রন্থে’ প্রকাশিত কাজী মতিয়ুর রহমানের নিবন্ধে রয়েছে। যশোর থেকে আমি খুলনায় (বৃহত্তর) ডেপুটি কমিশনার হিসেবে যাই। সেখানে ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ সালে খুলনা ক্লাবে সুলতানের একটি একক চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করি, ৩৪টি ছবি নিয়ে। এটাই ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) সুলতানের প্রথম চিত্র প্রদর্শনী। অনেকেই ভুল করে ১৯৭৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীকে ‘প্রথম’ বলে উল্লেখ করেন। তবে খুলনা মফস্বল জায়গা, তদুপরি তখন মিডিয়ার অত বিস্তৃতি ছিল না। তাই প্রদর্শনীটির কথা ভালোভাবে হয়তো প্রচারিত হয়নি। তবে সেই প্রদর্শনীতে সুলতানের ছবি খুব ভালোভাবেই বিক্রি হয়, সম্ভবত প্রদর্শিত প্রতিটিই।
তখন ঘটনাক্রমে প্রিন্স করিম আগা খান তার নববিবাহিত বধূ প্রিন্সেস সেরিনাকে (খুব সম্ভবত এই নামই ছিল) নিয়ে খুলনা আসেন। শুনেছিলাম তাঁদের আর্টে খুব উৎসাহ। একটি প্রোগ্রাম ছিল—তাঁরা ডিসির বাংলোতে বৈকালিক চা খাবেন এবং পরে সংলগ্ন নদীতে স্বল্পকালীন নৌবিহার করবেন। খুলনা ক্লাবে তখনই সুলতানের চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে তাদের পেইন্টিংগুলো দেখাতে ক্লাবে না নিয়ে সন্নিকটবর্তী আমার বাংলোতেই ছবিগুলো নিয়ে এলাম। চা-চক্রে এসে প্রিন্স ও প্রিন্সেস গভীর আগ্রহ নিয়ে ছবিগুলো দেখলেন। একসময় প্রিন্সের সেক্রেটারি আমার কাছে এসে বললেন, ‘আর্টিস্ট মেহেরবানি করলে প্রিন্সেস দুটো ছবি নিতে চান—দাম কাকে জিজ্ঞেস করব এবং কীভাবে দেব।’ আমি বললাম, আর্টিস্ট তো নিজেই আছেন এখানে। তাকে জিজ্ঞেস করে তার নামেই চেক দিয়ে দিতে পারেন। তখন কিন্তু পেইন্টিংয়ের দাম খুব বেশি ধরা হতো না। এখনকার হিসেবে ৫০০, ৭০০ বড়জোর হাজার। প্রদর্শনীতে কোনো ছবিতেই দাম চিহ্নিত ছিল না। আমি সুলতানকে আড়ালে নিয়ে বললাম, দাম শুধোলে একটু বাড়িয়েই বলবেন। দুটো বড় ক্যানভাসের ছবিই তারা নিলেন। প্রস্তাবিত নৌবিহার বাদ দিয়েই তাঁরা ছবি দেখলেন। লনে বসে চা-চক্রে সুলতানের সঙ্গে প্রিন্সেস অনেক আলোচনা করলেন। তাদের বিদায় দেয়ার পরে সুলতানকে ঔত্সুক্যবশতই জিজ্ঞেস করলাম, কত টাকার চেক দিয়েছেন? তিনি ঝুলি ও পকেট হাতড়ে দুটো চেক বের করলেন। বললেন, ঠিক খেয়াল করিনি। নিয়ে দেখি, ৫ লাখ টাকার দুটো চেক। মোট ১০ লাখ। আমরা হতবাক। সুলতান বললেন, ‘সেক্রেটারি দাম জিজ্ঞেস করল। আমি ভেবেছিলাম পাঁচ হাজার বলব । কিন্তু “পাঁচ” বলেই আটকে গেলাম। সেক্রেটারি তখনই বলল, “আই সি। থ্যাকংস।” তারপর এসে দুটো চেক দিলেন। আমি পকেটে রেখে দিলাম। তারপর তো এই দেখি।’ সুলতান আরো ছবির মূল্য বাবদ আরো টাকা পেয়েছিলেন এ প্রদর্শনীতে। সুলতানের অযথা ব্যয় করার অভ্যাস আছে জেনে আমি নড়াইল এসডিও শেখ শওকত আলীর সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করে দেয়ার ব্যবস্থা করলাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই শওকতের আকুল আবেদনে ওই ব্যবস্থার অবসান করতে হলো। শেখ শওকত ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি। খুব চুপচাপ নিরুপদ্রব ভদ্রলোক। সে বলল, ‘স্যার আর পারা গেল না। আর্টিস্ট সাহেব দিন নেই রাত নেই, হাজার হাজার টাকার চেক লিখে স্বাক্ষরের জন্য পাঠান বা নিয়ে আসেন। রাত দুপুরেও পাঁচ, দশ, পঞ্চাশ হাজার, ঠিক নেই। সবই সাহায্য করার জন্য।’ যাহোক এসডিওকে নিষ্কৃতি দিলে পুরোপুরি সুলতানের আওতায়ই পরে চেকের অপারেশন চলে গেল। আর কিছুকালের মধ্যেই ‘হাতেম তাই’ এস এম সুলতান সব সঞ্চয় সম্ভবত নিঃশেষ করে দেন। সব খরচই অবশ্য কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা, রোগীর চিকিৎসা, দরিদ্র ছাত্রের শিক্ষা—এসবের জন্যই ছিল। নিজের জন্য কিছুই না। কাজী মতিয়ুরের নিবন্ধে সুলতানের এসব খরচাদি ও প্রদর্শনীর উল্লেখ আছে। ১৯৭৩ সালে আমি যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তখন খবর পেলাম প্যারিস থেকে আগা খান এন্টারপ্রাইজের একটি দুই সদস্যের ডেলিগেশন আসবে। আমরা ভাবলাম, সম্ভবত তখন আগা খানের বেশ কয়েকটা রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা ছিল, ওগুলো নিয়েই আলোচনা করতে আসছেন তারা। কিন্তু আসলে তা নয়। তারা অবশ্য সরকারকে এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে শুভেচ্ছা জানালেন। কিন্তু তারা আসল উদ্দেশ্য জানালেন আমার সঙ্গে দেখা করে। প্রিন্স করিম আগা খান এবং প্রিন্সেসের খুলনায় কেনা সুলতানের দুটো ছবি উদ্ধার করতে তাঁরা এসেছেন। ছবি দুটো খুলনা-যশোর সীমান্তে আগা খানিদের নওয়াপাড়া জুট মিলে রক্ষিত ছিল। আমি অবিলম্বে খুলনা যশোরের ডিসিদের ফোন করে ছবি দুটির সন্ধান বের করতে বললাম। তারা অনেক খোঁজ করে জানালেন, ছবিগুলো নেই। খুব সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধকালীন ছবি দুটি লুট বা অপহূত হয়ে গেছে। ডেলিগেশনের লোক দুজন ব্যক্তিগতভাবে যশোর-খুলনা গিয়েও খোঁজ করলেন। কিন্তু আর পেলেনই না। ঘটনাটির আমি উল্লেখ করলাম এটাই বোঝাতে সে প্রিন্স ও প্রিন্সেস সুলতানের ছবিকে কী মহা গুরুত্ব দিতেন। ডেলিগেশন মোটেই কোনো মিল-কারখানা পুনরুদ্ধার করতে আসেনি। আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছিল।
১৯৭৫ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি জাতীয় প্রদর্শনীতে সুলতান অংশগ্রহণ করেন। অব্যবহিত পরেই ইরানি দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর জনাব সুলতানির উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে একটি একক চিত্র প্রদর্শনী করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। জনাব সুলতানির বাড়িতে থেকেও সুলতান বেশক’টি ছবি আঁকেন। অবশ্য পরে বাংলাদেশ সরকারের শিল্পকলা একাডেমি একটি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন সেপ্টেম্বর মাসে। ঢাকায় ওটাই সুলতানের প্রথম প্রদর্শনী। ১৯৮৭ সালে গ্যেটে ইনস্টিটিউট ও জার্মান দূতাবাসের উদ্যোগে আরেকটি অত্যন্ত সফল একক প্রদর্শনী হয়। যা সুলতানকে বাংলাদেশে সুপরিচিত করে তোলে। একটা বিষয় আমি সব সময় লক্ষ করেছি, সুলতানের ছবির আবেদন বিদেশীদের কাছে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এর কারণ হিসেবে আমরা বর্ণনা করেছি, সুলতানের সৃষ্ট Figure-এ, বাঙালি কৃষক হোক বা জেলে হোক বা গ্রামীণ মহিলা হোক—সবার মধ্যেই বাঙালিত্ব ছাড়িয়ে একটি সর্বজনীন আবেদনমুখর আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সুলতান যে মানবদেহ আঁকতেন তা কিন্তু তার গভীর ‘স্টাডি’রই ফলাফল। ব্যাখ্যার সূত্রে সুলতান বলেছেন, তিনি যখন ভারত ভ্রমণে আগ্রায় ছিলেন তখন ক্যান্টনমেন্টের অনেক গোরা সৈন্যের মুখাবয়ব বা মূর্তি তিনি কম সময়েই আঁকতেন ও বিক্রি করতেন। অবিকল না হলে ওরা কখনোবা গুলি করার ভয় দেখাত। তখন একজন ডাক্তার সুলতানের ছবি আঁকা দেখে তাকে (সুলতানকে) তার সহায়তার জন্য নিতে চান, শব ব্যবচ্ছেদ করার সময় দেহের বিভিন্ন অংশের ছবি কম সময়ের মধ্যে আঁকার জন্য। তিনি ছিলেন একজন মর্গের ডাক্তার। বিশেষ করে তখন মর্গে অনেক লাশ আসছিল। তিনি সামাল দিতে পারছিলেন না। তখন আগ্রায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছিল। ডাক্তারের নির্দেশে তখন সুলতান একটি হিন্দু নাম গ্রহণ করেন। এবং ওই নামেই বেশ কিছুদিন পরিচিত থাকেন। ওই ডাক্তারের ওখানে কাজ করতে করতেই সুলতান হিউম্যান অ্যানাটমি সম্পর্কে ভালো বাস্তব জ্ঞান লাভ করেন।
ডাক্তার শব ব্যবচ্ছেদ করে চলে গেলে তিনি একা ঘরে থেকে দেহের বিভিন্ন অংশের ছবি আঁকতেন। তিনি শুধু ছবি আঁকতেন না। তাঁর নিজস্ব বয়ানে, ভালোবেসে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। শরীরের বিভিন্ন অংশ আর পেশি, শিরা, উপশিরা। পরবর্তীকালে সুলতানের সৃষ্টিতে আমরা মানবদেহে প্রত্যক্ষ করেছি। ‘কী সুডৌল সুষম পেশিবহুল সুঠাম কান্তি কিষান’ আর আহমদ ছফার ভাষায় ‘গুরুভার নিতম্ববিশিষ্ট পীনস্তনী চমত্কার স্বাস্থ্যবতী কর্মিষ্ঠ লীলা চঞ্চলা নারী’...তবে সুলতানের আঁকা এ মানুষরা বা বাংলাদেশের হয়েও সমস্ত পৃথিবীর মানুষ ‘যেখানেই সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছে—তারা মিসরের ছিল, ভারতে, বেবিলনে, গ্রিসে, রোমে সবখানে।’ তার আঁকা সবকিছুরই যেন তিনি অন্তর-বাহির জানতেন। যশোরে ডিসির সত্তর বিঘাসংবলিত বাংলোতে ছিল তিনটি পুকুর। সেখানে দীর্ঘকালীন আতিথ্য গ্রহণকালে আমি দেখেছি, কখনোবা তিনি কোনো পুকুরে মাটির সোপানে বসে আনমনে বাঁশি বাজাচ্ছেন। একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি, ‘একা একা বসে কার জন্য বাজাচ্ছেন?’ তিনি বলেছিলেন, ‘কেন মাছ আছে না। অনেক মাছ। আর গাছগাছালি।’ একবার দেখেছিলাম, অতিথি কক্ষের কোল ঘেঁষে একটি কাঁঠালচাঁপা গাছকে তিনি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন। মানুষ ও প্রকৃতিকে যে এত গভীরভাবে, নিবিড় অন্তরঙ্গতায় ভালোবাসা যায় সুলতানের সঙ্গে পরিচয় না হলে তা আমার কখনো জানা হতো না।
সুলতানের কত রকমের কত ছবি যে কত দিকে ছড়িয়ে আছে তার ঠিক-ঠিকানা নেই। তিনি ছিলেন একজন অমিত শক্তিধর শিল্পী। কম সময়ে এত পরিপূর্ণ ছবি আঁকা খুব কম শিল্পীর জন্যই সম্ভব। একবার আমি সরকারি কর্ম ব্যাপদেশে ওয়েলিংটন গিয়েছিলাম। আশির দশকে। একদিন একটি আলোচনা শেষে নিউজিল্যান্ডের একজন উপমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘শুনেছি আপনি আর্ট পছন্দ করেন। গ্যালারিতে যেতে চান। তবে এখানে একজনের কাছে তিনটি পেইন্টিং আছে। যার চিত্রকর কে, চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। আপনাকে ওই বাড়িতে গৃহকর্তা একটু ড্রিংসে আমন্ত্রণ জানাতে চান, দেখার জন্য। আমাদের জানামতে আর্টিস্ট বেঙ্গলের। আপনি গিয়ে দেখলে খুশি হব।’ আমি সোত্সাহে রাজি হলাম। গিয়ে দেখেই বুঝতে পারি তিনটি ছবিই সুলতানের আঁকা। সুলতান প্রথম দিকে মাঝে মাঝে ছবিতে স্বাক্ষর করতেন না। কখনো ছবির পেছনে করতেন। দুটো ছবিতে তার স্বাক্ষর খুঁজে পেলাম না। একটিতে স্বাক্ষর রয়েছে, তবে কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সত্যিই অপূর্ব ছিল ছবিগুলো। ওদের অনুরোধে আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি সার্টিফিকেট লিখে দিলাম। এই মর্মে যে ছবিগুলো এসএম সুলতানেরই আঁকা। গৃহকর্তা ছবিগুলো সংগ্রহ করেছিলেন মহাযুদ্ধ শেষে ইন্ডিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে আসা একজন অভিবাসীর কাছ থেকে। বললেন, এগুলো আমার ‘ট্রেজার’, সম্পদ। খুব যত্ন করেই তিনি ছবিগুলো রেখেছিলেন।
সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়, চিত্রকলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সত্যিই সম্পদশালী। আমাদের বেশ কয়েকজন অত্যন্ত উঁচুমানের শিল্পী রয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানের। তবে এটা লক্ষণীয় যে সুলতানের একটি অপ্রতিরোধ্য আন্তর্জাতিক আবেদন রয়েছে। আর্টের জগতে তিনি এখনো সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হতে পারেননি। আমার কাছে মনে হয় আমাদের উদ্যোগী শিল্পকলা একাডেমি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুগপত্ভাবে সুলতানের শিল্পকর্ম চতুর্দিক থেকে সংগ্রহ করে তার একটি পূর্ণাঙ্গ একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারেন। ঢাকায় আবুল খায়ের লিটু ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে (যার মহাপরিচালক হচ্ছেন দক্ষ সংগঠক লুবা নাহিদ চৌধুরী) প্রায়ই চিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান করে থাকেন। আবুল খায়েরের ব্যক্তিগত সংগ্রহেও রয়েছে প্রচুর চিত্রকর্ম। শিল্পকলা, সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে তাঁর অভূতপূর্ব অবদান। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাস মারফত ছবি ধার করে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। দেশের ভেতরেও আবেদন করা যেতে পারে, যাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে সুলতানের ছবি আছে তাদের সহযোগিতা করার জন্য। অন্তত সুলতানের ছবিগুলোর যতদূর সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ সচিত্র তালিকা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। পাকিস্তানে ও ভারতেও তার আঁকা ছবি সম্ভবত পাওয়া যেতে পারে। বিলেতে-আমেরিকায়ও খোঁজ করা যায়। মনে পড়ে পিআইএ একবার সুলতানের আঁকা ছবি মুদ্রিত করে বর্ষপঞ্জি তৈরি করেছিলেন। আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীর কাছে সমগ্র সুলতানের একটি সর্বাঙ্গ সুন্দর উপস্থাপনা আমাদের একটি দায়িত্ব। জাতির জন্যও এটা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ইনাম আহমদ চৌধুরী: অবসরপ্রাপ্ত সচিব; জাতিসংঘ কর্মকর্তা; সাবেক চেয়ারম্যান প্রাইভেটাইজেশন কমিশন; সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, উপদেষ্টা পরিষদ










