বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৮ জুন নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির বছরে মাত্র একবার মুদ্রানীতি ঘোষণার যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন সেটা আমার মতে সঠিক ছিল না। কারণ বর্তমান বিশ্বে মুদ্রানীতির গুরুত্ব যেভাবে বাড়ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে নানা পরিবর্তনকে সঠিকভাবে অনুধাবন করে সময়োপযোগী যথাযথ মুদ্রানীতি পরিবর্তন করার জন্য বছরে অন্তত দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণা আধুনিক অর্থনীতিগুলোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বহু বছর আগে থেকেই (অনেক দেশে প্রত্যেক তিন মাসে একবার মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়)। পুরনো নীতিতে ফিরে যাওয়ায় বর্তমান গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এবারের ঘোষিত মুদ্রানীতির প্রধান দুটো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো, ব্যাংকঋণের সুদহারের ‘৯ শতাংশ ক্যাপ’ অপসারণ করে তা ১০ দশমিক ১২ শতাংশে নির্ধারণের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ক্লায়েন্ট বিবেচনায় সুদহার নির্ধারণের ক্ষমতা প্রদান এবং ডলারের দাম বাজার কর্তৃক নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু করা। বাংলাদেশ গভর্নরের আশা, এর ফলে বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বিদ্যমান ডলারের চার ধরনের দাম ক্রমে দূরীভূত হয়ে কিছুদিনের মধ্যে টাকার অংকে ডলারের একক মান নির্ধারিত হবে। এখানেই আমি গভর্নরের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছি না।

হুন্ডি ব্যবস্থায় দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার কয়েক বছর ধরে যে ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনের ধারাকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে নতুন ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এ বিপজ্জনক হুন্ডি ব্যবসাকে দমনের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারকে সাবধান করে চলেছি যে আমদানি বাণিজ্যের ওভার-ইনভয়েসিং, রফতানি বাণিজ্যের আন্ডার-ইনভয়েসিং এবং রফতানি আয় দেশে ফেরত না এনে বিদেশে রেখে দেয়ার মতো প্রধান প্রধান পুঁজি পাচার পদ্ধতিকে টেক্কা দিয়ে বর্তমানে হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার ক্রমেই পুঁজি পাচারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এটাই এখন আমাদের অর্থনীতির বর্তমান টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টির জন্য প্রধানত দায়ী। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গেড়ে বসা খেলাপি ঋণ সমস্যার প্রধান কারণও এই হুন্ডি পদ্ধতিতে ক্রমবর্ধমান ব্যাংকঋণ পাচার। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্স এখন হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশে আসছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সিংহভাগ রেমিট্যান্স প্রেরকরা হুন্ডি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। অতএব ২১ বিলিয়ন ডলার যদি ফরমাল চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স আসে তাহলে কমপক্ষে আরো ২১-২২ বিলিয়ন ডলার বা তার চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স (টাকার আকারে) হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশের অর্থনীতিতে ঢুকছে। তখন থেকেই আমি বলে চলেছি, হুন্ডি ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে দমন না করলে ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাড়ানো যাবে না। কারণ হুন্ডি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ‘এক নম্বর সমস্যায়’ পরিণত হয়েছে।

এর মানে, দেশের পরিবারের সদস্যদের কাছে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীরা অর্জিত এ বৈদেশিক মুদ্রাগুলো (প্রধানত ডলার) বিদেশের হুন্ডিওয়ালাদের এজেন্টের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এর প্রধান কারণ, এখনো ডলারপ্রতি তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সার চেয়ে ৫-৭ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। ফলে তাদের পরিবারের সদস্যরা এ দেশীয় হুন্ডিওয়ালাদের এজেন্টের মাধ্যমে ওই বর্ধিত দামে প্রেরিত রেমিট্যান্সের সমপরিমাণ টাকা অতিদ্রুত পেয়ে যাচ্ছেন কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়া। উপরন্তু, এ পদ্ধতিতে কোনো কাগজপত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হুন্ডিওয়ালাদের স্থানীয় এজেন্ট প্রায়ই রেমিট্যান্স প্রেরক এবং রেমিট্যান্স গ্রহীতাদের পূর্বপরিচিত থাকার কারণে এসব লেনদেনে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কাও তেমন থাকে না। আরো যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের বাইরের কেউ জানতেও পারে না যে পরিবারে রেমিট্যান্স এসেছে। টেলিফোনে খবর পেয়ে যথাস্থানে গিয়ে বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা পেয়েই রেমিট্যান্স গ্রহীতারা যথাসম্ভব দ্রুত তা নিকটবর্তী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে আমানত হিসেবে জমা করে দেন। তাই আগের দিনের মতো চোর-ডাকাত-মাস্তানদের আক্রমণের শিকার হতে হয় না পরিবারকে। যেহেতু বিশ্বস্ততাই হুন্ডি ব্যবসার সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তাই সাধারণত পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা মার যায় না, লেনদেনের গোপনীয়তাও রক্ষা করা হয় সযতনে। প্রবাসীদের জন্য উল্লিখিত হুন্ডি পদ্ধতির সাধারণ সুবিধাগুলোর যে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো তার সঙ্গে ফরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ কি পাল্লা দিতে পারবে? মোটেও নয়।

দেশের নীতিনির্ধারকদের সাবধান হওয়া আবশ্যক যে ২০২৩ সালের এপ্রিলে আগের বছরের একই সময়ে ১৬ শতাংশ কম এবং গত মে মাসে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১০ শতাংশ কম রেমিট্যান্স ফরমাল চ্যানেলে এসেছে, যা অশনিসংকেতের শামিল। (অবশ্য জুনে দেশে ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে)। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশী বিদেশে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ডলারের হিসাবে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ সিংহভাগ প্রবাসীই হুন্ডি পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে ১ ডলারের দাম উঠেছে ১১৫ টাকা পর্যন্ত। ফলে প্রবাসীদের কাছে হুন্ডি পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স প্রেরণ অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে হুন্ডির তুলনায় ফরমাল চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমে দুর্বল হতে বাধ্য। এর ফলে দেশের ডলার সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট অদূর ভবিষ্যতে কাটানো যাবে না। মাঠপর্যায়ের গবেষণায় প্রমাণিত, পুরনো পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি এখন প্রবাসী বাংলাদেশীদের বহুল ব্যবহৃত হুন্ডি পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স প্রেরণের অভ্যাস পুঁজি পাচারকারীদের একটি সহজ বিকল্প উপহার দিয়েছে। হুন্ডি পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রা যেহেতু বিদেশেই থেকে যায় তাই কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রতি বছর হুন্ডি চক্রে প্রবেশ করছে তার হদিস পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই ‘হুন্ডি ডলারের’ সমপরিমাণ টাকা (ডলারের বর্ধিত দামে) রেমিট্যান্স প্রেরকের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা যেহেতু পেয়ে যাচ্ছেন তাই এ অর্থ প্রবাসীদের পরিবার ও স্বজনদের ভোগ এবং বিনিয়োগে ব্যাপক অবদান রাখছে। বিবেচনা করুন, সারা দেশে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে প্রবাসীদের পরিবারের পাকা বাড়ি নির্মাণের যে হিড়িক চলেছে তার খরচের কত শতাংশ ফরমাল চ্যানেলে দেশে এসেছে? স্বীকার করতেই হবে, ফরমাল চ্যানেল বা হুন্ডি পদ্ধতি যেভাবেই রেমিট্যান্সের অর্থ অর্থনীতিতে প্রবাহিত হোক তার বহুবিধ সুফল পাচ্ছে অর্থনীতি। ব্যাপারটি অর্থনীতির জন্য পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। কিন্তু যে হুন্ডি ডলার বিদেশেই রয়ে যাচ্ছে সেগুলো প্রধানত কিনছে দুর্নীতিজাত কালোটাকার মালিকরা এবং ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার ‘কালচার’ সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীরা। মার্জিনখোর রাজনীতিক বলুন, দুর্নীতিবাজ সিভিল আমলা-প্রকৌশলী বলুন, রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি বলুন, ডাকসাইটে ব্যবসায়ী-শিল্পপতি বলুন—হুন্ডি ডলারের সহায়তায় ক্রমে গড়ে উঠছে প্রবাসীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপাতি, টরন্টোর বেগমপাড়া কিংবা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমগুলো। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যে বড়সড় সংকটে পড়ছে না তার পেছনে ফরমাল চ্যানেলে কিংবা হুন্ডি পদ্ধতিতে প্রেরিত রেমিট্যান্স থেকে উদ্ভূত বিশাল আমানত প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এক অর্থে এ বিপুল রেমিট্যান্সের অর্থ বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের একটা তাৎপর্যপূর্ণ বিকল্পের ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের চমকপ্রদ উল্লম্ফনও ঘটাচ্ছে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স। অনেক দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ‘প্যারাডক্স’ আখ্যায়িত করে থাকেন। এত দুর্নীতি সত্ত্বেও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকে তাদের কাছে আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী মনে হয়। আমার মতে, তারা এ বিপুল রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক অভিঘাতকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করেন না বলেই ব্যাপারটাকে ‘আন্ডার-এস্টিমেট’ করছেন। হুন্ডি পদ্ধতির সহায়তায় পুঁজি পাচারের চাহিদার প্রধান গ্রাহক হলো দুর্নীতিবাজ আমলা, প্রকৌশলী, লুটেরা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকঋণ গ্রহীতারা। যেহেতু এ ধরনের পুঁজি পাচারকারীরা ব্যাংকঋণ বিদেশে পাচারের জন্য হুন্ডি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে, তাই হুন্ডি-ডলারের দাম বাজারে প্রচলিত ডলারের দামের চেয়ে ৭-৮ টাকা বেশি থেকেই যাবে। হুন্ডি-ডলারের চাহিদা কাঠামোকে শক্তিশালী রেখে এ দুই দামের পার্থক্যকে দূর করা অসম্ভব। আমার আশঙ্কা নতুন মুদ্রানীতিতে ডলারের দাম নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ায় অতিদ্রুত ডলারের দাম বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তার পরও হুন্ডি পদ্ধতিতে বিদেশে পুঁজি পাচার হয়তো থামানো যাবে না।

হুন্ডি পদ্ধতিতে পুঁজি পাচার দমনে নিচের পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য মনে করি। প্রথমত, অবিলম্বে দেশের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো কিছুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হোক। বেশির ভাগ এক্সচেঞ্জ হাউজ হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত বলে আমাদের খবর রয়েছে। দ্বিতীয়ত, পুঁজি পাচারের প্রধান আট/দশটি গন্তব্যে আট/দশটি তদন্ত টিম প্রেরণ কিংবা গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করে নিচের পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে: ১) যেসব পুঁজি পাচারকারীর নাম তদন্তে উঠে আসবে তাদের বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানা এবং পরিচালনা বোর্ড থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে; ২) এসব পাচারকারীকে নতুন কোনো ব্যাংকঋণ থেকে অবিলম্বে খারিজ করতে হবে; ৩) এদের কাছে যেসব ব্যাংকঋণ খেলাপি ঋণ হিসেবে বছরের পর বছর আটকে আছে সেগুলো আদায়ের জন্য অবিলম্বে ‘খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে; ৪) যেসব চাকরিরত আমলা, প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তার নাম-ঠিকানা পাচারকারী হিসেবে উদ্ঘাটিত হবে তাদের বরখাস্ত করে তাদের চাকরি-পরবর্তী সব সুযোগ-সুবিধা বাতিল করতে হবে; ৫) যেসব রাজনীতিবিদের নাম পাওয়া যাবে তারা যদি সরকারে ক্ষমতাসীন দলের কেউ হয় তাদেরকে সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করতে হবে; ৬) যেসব রফতানিকারকের নাম উঠে আসবে তাদের নামে খেলাপি ঋণ থাকলে সেগুলো আদায়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। উপরন্তু, তারা রফতানি আয় নিয়মিতভাবে দেশে ফেরত আনছেন কিনা তা কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে হবে; ৭) যেসব আমদানিকারকের নাম পাওয়া যাবে তারা ওভার-ইনভয়েসিং করছেন কিনা তা কঠোরভাবে পরখ করতে হবে; এবং ৮) পুঁজি পাচারকারীর নাম-ঠিকানা সংসদে উত্থাপন এবং পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। তৃতীয়ত, দেশের শহরগুলোয় কিংবা গ্রামে যেখানেই প্রবাসীদের পরিবার পাকা বাড়ি নির্মাণ করবে তাদেরকে বাড়ির নির্মাণ ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অর্থ ফরমাল চ্যানেলে দেশে আনার ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্যাংক-স্টেটমেন্ট’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে গৃহনির্মাণের পূর্বানুমতির জন্য জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা চালু করতে হবে।

ড. মইনুল ইসলাম: সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়