জলবায়ু
পরিবর্তন ও
প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত
দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা করে
খাদ্য ও
পানি নিরাপত্তা,
পরিবেশের ভারসাম্য
রক্ষা করে
টেকসই অর্থনৈতিক
উন্নয়নের জন্য
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার
নির্দেশে বাংলাদেশ
পরিকল্পনা কমিশনের
সাধারণ অর্থনীতি
বিভাগ বাংলাদেশ
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
প্রণয়ন করেছে।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
প্রণয়ন বাংলাদেশের
পরিকল্পনার ইতিহাসে
একটি যুগান্তকারী
পদক্ষেপ এবং
তা সরকারের
প্রাজ্ঞ ও
দূরদর্শী নেতৃত্বের
সাক্ষ্য বহন
করে। ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
একটি দীর্ঘমেয়াদি
পরিকল্পনা, যা
একুশ শতাব্দীব্যাপী
বাস্তবায়িত হবে।
পরিকল্পনা দলিলটি
প্রণয়নের প্রতিটি
ধাপে সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়/বিভাগ/বাস্তবায়নকারী
সংস্থা, উপকারভোগীসহ
সব স্তরের
অংশীজনের সঙ্গে
আলোচনা করে
চূড়ান্ত করা
হয়। এরই
মধ্যে ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
অনুমোদনের দুই
বছর সময়
অতিক্রান্ত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
বর্তমান বিনিয়োগ
পরিস্থিতি ও
বাস্তবায়ন অবস্থা
এবং বাংলাদেশে
উন্নয়ন বিনিয়োগের
পরিবর্তিত নতুন
দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে
কিছুটা আলোকপাত
করছি।
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়নে বিনিয়োগের
প্রয়োজনীয়তা অনেক।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়ন করা
না হলে
সামষ্টিক এবং
খাতভিত্তিক অর্থনীতি
যথেষ্ট ক্ষতির
সম্মুখীন হতে
পারে। জলবায়ু
পরিবর্তনের পদক্ষেপহীন
অবস্থায় সামষ্টিক
অর্থনীতিতে ভৌত
সম্পদ এবং
অর্থনৈতিক কার্যক্রমে
প্রতি বছর
জিডিপির প্রবৃদ্ধি
১ দশমিক
৩ শতাংশ
কম অর্জিত
হচ্ছিল। এছাড়া
স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি
বৃদ্ধি এবং
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের
ফলে অন্যান্য
ব্যয় বেড়ে
যাচ্ছিল। জলবায়ু
পরিবর্তনের চরম
পর্যায়ে এসব
ক্ষয়ক্ষতি ও
ব্যয় আরো
বেড়ে যাবে।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়নে পানি,
পরিবেশ, ভূমি,
কৃষি (বন,
প্রাণিসম্পদ এবং
মত্স্য) ইত্যাদি
খাতের কৌশল
প্রণয়ন এবং
যথাযথ বিনিয়োগ,
নতুন নীতিমালা
প্রণয়ন ও
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের
প্রয়োজন নির্দেশিত
হয়েছে বাংলাদেশ
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনায়।
নতুন নতুন
প্রকল্প বাস্তবায়ন
এবং বিদ্যমান
অবকাঠামোর উন্নয়ন
ও রক্ষণাবেক্ষণের
মাধ্যমে ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়নে প্রতি
বছর মোট
দেশজ আয়ের
প্রায় ২
দশমিক ৫
শতাংশ পরিমাণ
অর্থের প্রয়োজন
হবে। বর্তমানে
এ ব্যয়
প্রতি বছর
মোট দেশজ
আয়ের মাত্র
শূন্য দশমিক
৯৫ শতাংশ।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
অনুযায়ী মোট
দেশজ আয়ের
২ দশমিক
৫ শতাংশের
মধ্যে শূন্য
দশমিক ৫
শতাংশ অর্থায়ন
বেসরকারি খাত
থেকে এবং
প্রায় ২
শতাংশ সরকারি
খাত
থেকে নির্বাহের
প্রস্তাব করা
হয়েছে। সরকারি
খাত থেকে
প্রাপ্ত ২
শতাংশ মোট
দেশজ আয়ের
মধ্যে প্রায়
শূন্য দশমিক
৫ শতাংশ
রক্ষণাবেক্ষণ ও
ব্যবস্থাপনা খাতে
ব্যয় করার
পর অবশিষ্ট
মোট দেশজ
আয়ের ১
দশমিক ৫
শতাংশ ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বিনিয়োগ পরিকল্পনার
আওতায় ব্যয়
করার কথা
বলা হয়েছে।
বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ
ও ব্যবস্থাপনা
খাত খুব
অবহেলিত এবং
এ ব্যয়ের
প্রকৃত পরিমাণও
দেশজ আয়ের
শূন্য দশমিক
১ শতাংশের
বেশি হবে
না। ব-দ্বীপ
পরিকল্পনায় রক্ষণাবেক্ষণ
ও ব্যবস্থাপনা
খাতে কাঙ্ক্ষিত
বিনিয়োগ না
করা হলে
পানিসম্পদ খাতে
বিদ্যমান অবকাঠামোর
স্থায়িত্বের দ্রুত
অবনতি ঘটবে
এবং পরবর্তী
সময়ে এসব
অবকাঠামো অধিক
ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ
করতে হবে।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়নে বর্তমান বিনিয়োগ চিত্র:
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
অভীষ্ট ও
লক্ষ্য অর্জনে
নতুন নতুন
প্রকল্প বাস্তবায়ন
এবং বিদ্যমান
অবকাঠামো উন্নয়ন
ও রক্ষণাবেক্ষণের
জন্য অর্থায়নের
প্রয়োজন হবে।
সাধারণ অর্থনীতি
বিভাগ কর্তৃক
২০১৮-১৯,
২০১৯-২০
ও ২০২০-২১
অর্থবছরের এডিপির
বিনিয়োগ ব্যয়
বিশ্লেষণ করে
দেখা যায়,
বর্তমানে পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনা খাতের
প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগের
পরিমাণ এডিপির
৯ দশমিক
৪ থেকে
১২ দশমিক
৪৩ শতাংশ
এবং জিডিপির
প্রায় শূন্য
দশমিক ৬
শতাংশ থেকে
শূন্য দশমিক
৯৫ শতাংশ,
যা জলবায়ু
পরিবর্তনজনিত বিরূপ
প্রভাব মোকাবেলায়
প্রতীয়মান হয়
নগণ্য। ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা গ্রহণের
পর ব-দ্বীপসংক্রান্ত
প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগের
পরিমাণ ক্রমান্বয়ে
বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যদিও তা
বিনিয়োগের চাহিদার
তুলনায় কম।
যেমন ২০১৯-২০
অর্থবছরে ব-দ্বীপ
পরিকল্পনায় বিনিয়োগ
লক্ষ্যমাত্রা ছিল
জিডিপির ১
দশমিক ৮
শতাংশ, সেখানে
ওই অর্থবছরে
এডিপিতে ডেল্টাসংক্রান্ত
প্রকল্পগুলোয় ব্যয়
হয় জিডিপির
শূন্য দশমিক
৮৮ শতাংশ;
যেটি লক্ষ্যমাত্রার
তুলনায় শূন্য
দশমিক ৯২
শতাংশ কম।
২০২৫ সাল
নাগাদ জলবায়ু
পরিবর্তন, পরিবেশ
এবং পানিসম্পদ
স্থাপনাসংক্রান্ত পরিচালন
ও রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যয়সহ কর্মসূচি/প্রকল্পগুলোর
মোট ব্যয়ের পরিমাণ
জিডিপির ২
দশমিক ৫
শতাংশ নির্ধারণ
করা হয়েছে,
যা বর্তমান
ব্যয়ের প্রায়
তিন গুণ।
এটা স্পষ্ট
যে ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা
থেকে অনেকটা
পিছিয়ে আছি।
বিশেষ করে
পরিচালন ও
রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়
এবং বেসরকারি
খাতে অর্থায়নের
দিক দিয়ে।
বার্ষিক উন্নয়ন
কর্মসূচি বিন্যাসে
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
বিশেষভাবে জলাধার
নির্মাণ ও
নৌপথ সচল
রাখতে বিনিয়োগ
প্রাধান্য দিতে
হবে।
বিনিয়োগ অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিনিয়োগের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-তে
চিহ্নিত বিনিয়োগ
অগ্রাধিকার তালিকা
দীর্ঘ। এক্ষেত্রে
প্রকল্প গ্রহণে
অগ্রাধিকার নির্ধারণ
করতে হবে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ
যে ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
প্রকল্পগুলো শুধু
ভৌত বিনিয়োগ
নয়; বরং
অধিকতর গবেষণা,
জ্ঞান ও
প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা
উত্তরণেও উল্লেখযোগ্য
বিনিয়োগের প্রয়োজন
আছে।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
বেশির ভাগ
সরকারি অর্থায়ন
বন্যা থেকে
রক্ষা, নদী
ভাঙন নিয়ন্ত্রণ,
নদী শাসন,
নাব্যতা রক্ষাসহ
সামগ্রিক নদী
ব্যবস্থাপনা, নগর
ও গ্রামে
পানি সরবরাহ
এবং বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা, নগরে
বন্যা নিয়ন্ত্রণ
ও নিষ্কাশন
ব্যবস্থার মাধ্যমে
নদী ব্যবস্থাপনা
ইত্যাদির জন্য
প্রয়োজন হবে।
এগুলো অত্যন্ত
পুঁজিঘন বিনিয়োগ।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
নদী ভাঙন,
নদী খনন,
নদী শাসন
এবং নৌ-পরিবহনসহ
নদী ব্যবস্থাপনা
বর্তমান বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে হতে
হবে সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ
খাত। এ
খাতে বিনিয়োগের
পরিমাণ মোট
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা বিনিয়োগের
প্রায় ৩৫
শতাংশ। এছাড়া
দ্রুত বর্ধনশীল
জনসংখ্যা ও
অধিকতর অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ড-সংবলিত
প্রধান প্রধান
নগরে পানি
সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন,
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,
নিষ্কাশন ব্যবস্থা
প্রভৃতি খাতে
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা বিনিয়োগ
থেকে কমপক্ষে
২৫ শতাংশ
অর্থের প্রয়োজন
হবে। অধিকন্তু,
মধ্যম, ছোট
শহর ও
গ্রামীণ এলাকায়
বিদ্যমান পানি
ও পয়োনিষ্কাশন
ব্যবস্থার উন্নয়নে
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনের জন্য
ব্যাপক বিনিয়োগের
প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে সরকার
ব-দ্বীপ
ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত
প্রকল্প এবং
কর্মসূচিতে মোট
দেশজ আয়ের
শূন্য দশমিক
৯৫ শতাংশ
ব্যয় করে,
যেখানে প্রয়োজন
মোট দেশজ
আয়ের প্রায়
২ শতাংশ।
এক্ষেত্রে সরকারি
খাতে অতিরিক্ত
মোট দেশজ
আয়ের ১
দশমিক শূন্য
৫ শতাংশ
অর্থায়নের উৎস
খুঁজে বের
করা সহজ
নয়। এজন্য
কিছু সৃজনশীল
প্রচেষ্টার প্রয়োজন
হবে। কর
থেকে প্রাপ্ত
অর্থ, সুবিধাভোগীদের
কাছ থেকে
আহরিত অর্থ
(Beneficiary Pay Principle) গ্রিন
ক্লাইমেট ফান্ডসহ
বৈদেশিক অর্থায়নের
সমন্বয়ে সরকারি
তহবিলের জোগান
কৌশল নির্ধারিত
হয়েছে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগে
ব-দ্বীপ
ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে
স্বীকৃত সর্বোত্তম
অনুশীলন হিসেবে
সুবিধাভোগীদের কাছ
থেকে অর্থ
আদায়ের মাধ্যমে
‘বিনিয়োগ
ব্যয় পুনরুদ্ধার
নীতি’ প্রয়োগে
জোর দেয়া
উচিত। উদাহরণস্বরূপ,
ডাচ ডেল্টায়
বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
সেচ, পানি
সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন
ও বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা খাতে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে
এ নীতি
প্রয়োগের মাধ্যমে
অর্থায়ন করা
হয়। ব্যয়
পুনরুদ্ধার নীতি
অনুসরণ করে
এসব খাতে
বিনিয়োগ ও
রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ
স্থানীয় উপকারভোগীদের
দ্বারা অর্থায়ন
হওয়ার পাশাপাশি
সেখানকার পানি
ব্যবস্থাপনাও অধিকতর
বিকেন্দ্রীকৃত। ডাচদের
পানিসম্পদ খাতে
বিনিয়োগের ৮০
শতাংশ ব্যয়সহ
রক্ষণাবেক্ষণের শতভাগ
ব্যয় স্থানীয়
সরকার ব্যবস্থার
মাধ্যমে সম্পন্ন
হয়ে থাকে।
এ অর্থের
বেশির ভাগ
অংশ স্থানীয়
পানি ব্যবস্থাপনা
সংগঠনগুলোর মাধ্যমে
সংগৃহীত ও
ব্যয় করা
হয় ।
এক্ষেত্রে স্থানীয়
পানি ব্যবস্থাপনা
সংগঠনগুলো অতি
দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে
প্রয়োজনে ভর্তুকি
প্রদান এবং
সুবিধাভোগীদের কাছ
থেকে অর্থ
আদায়ের মাধ্যমে
বিনিয়োগ ব্যয়
পুনরুদ্ধার নীতির
বাস্তবায়নে বেসরকারিভাবে
সমবায় দল
হিসেবে কাজ
করে। বাংলাদেশ
ব-দ্বীপ
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও
অনুরূপ নীতি
প্রয়োগের সুযোগ
রয়েছে। বাংলাদেশের
শহর এলাকায়
পানি ও
পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসংক্রান্ত
রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে
উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ
দেয়া হয়।
কিন্তু এক্ষেত্রে
‘সুবিধাভোগীদের
কাছ থেকে
অর্থ আদায়ের
মাধ্যমে বিনিয়োগ
ব্যয় পুনরুদ্ধারের
প্রচলন নেই।
তাছাড়া বর্জ্য
ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যয় পুনরুদ্ধারও
অতি নগণ্য।
গতানুগতিকভাবে নগর
পানি সরবরাহ,
পয়োনিষ্কাশন এবং
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়
বিনিয়োগকৃত মূলধন
পুনরুদ্ধারেরও প্রচলন
নেই। যদিও
বাংলাদেশে মাথাপিছু
আয় এরই
মধ্যে (২০১৯-২০)
তিন গুণ
বেড়েছে। বন্যা
ব্যবস্থাপনা এবং
সেচের ক্ষেত্রেও
এসব ব্যয়
পুনরুদ্ধার করা
হয় না।
এক্ষেত্রে স্থানীয়
পানি ব্যবস্থাপনা
সংগঠনগুলোর অসয়ংক্রিয়তা
একটি কারণ।
সুবিধাভোগীদের কাছ
থেকে অর্থ
আদায়ের মাধ্যমে
বিনিয়োগ ব্যয়
পুনরুদ্ধার নীতির
প্রয়োগ করা
আবশ্যক। শহর
এলাকায় পানি
সরবরাহ ও
পয়োনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
এবং বিধিবিধান
রয়েছে। এ
বিধিবিধানের যথাযথ
প্রয়োগ প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে এমন
একটি যুগোপযোগী
নীতি গ্রহণ
করা উচিত,
যাতে পানি
ও পয়োনিষ্কাশন-সংশ্লিষ্ট
সব সরকারি
সেবার অন্তত
রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়
ক্রমান্বয়ে শতভাগ
পুনরুদ্ধার করা
যায়। সময়ের
সঙ্গে সঙ্গে
ঢাকা, চট্টগ্রাম,
খুলনা ও
রাজশাহী ওয়াসা
থেকে শুরু
করে অন্যান্য
এলাকায়ও মূলধন
ব্যয় পুনরুদ্ধারের
কথা বিবেচনা
করা যেতে
পারে। কঠিন
বর্জ্যের ক্ষেত্রে
একটি আধুনিক
সম্পদ কর
ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
এবং এর
সঙ্গে বার্ষিক
ভিত্তিতে সেবার
মূল্য যুক্ত
করে ব্যয়
পুনরুদ্ধার করা
যেতে পারে।
জলবায়ুর অভিঘাত
প্রশমন এবং
অভিযোজন কর্মসূচিতে
অর্থায়নের লক্ষ্যে
প্রতিষ্ঠিত গ্রিন
ক্লাইমেট ফান্ড
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
অর্থায়নের একটি
গুরুত্বপূর্ণ উৎস
হিসেবে বিবেচিত
হয়। এক্ষেত্রে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
নিতে হবে।
বেসরকারি খাতে
বিশেষ করে
নবায়নযোগ্য শক্তি
উৎস উৎসাহিত
করার লক্ষ্যে
বাংলাদেশ সরকারি
খাত মধ্যস্থতাকারীদের
সহায়তায় উল্লেখযোগ্য
সাফল্য পেয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন
অভিঘাত মোকাবেলায়
বেসরকারি উদ্যোগের
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন সহায়ক
পরিবেশ নিশ্চিত
করার জন্য
সময়োপযোগী পদক্ষেপ
নেয়ার প্রয়োজন
রয়েছে। কার্যকর
প্রচেষ্টার মাধ্যমে
গ্রিন ক্লাইমেট
ফান্ড থেকে
বাংলাদেশের প্রতি
বছর ২
বিলিয়ন মার্কিন
ডলারের বেশি
সহায়তা পাওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসরকারি খাতের
কার্যকর অংশগ্রহণ
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য
অবদান রাখবে।
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০-এর
প্রাক্কলন অনুসারে,
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
ও সংশ্লিষ্ট
অবকাঠামোগত প্রকল্পে
অর্থায়নের জন্য
বাংলাদেশের বেসরকারি
খাত থেকে
প্রতি বছর
মোট দেশজ
আয়ের ন্যূনপক্ষে
শূন্য দশমিক
৫ শতাংশ
জোগান পেতে
হবে। বিশ্বের
অভিজ্ঞতা থেকে
দেখা যায়,
পানি পরিশোধন,
পানি সরবরাহ
ও পয়োব্যবস্থাপনার
ক্ষেত্রে বেসরকারি
বিনিয়োগ আকর্ষণ
করার সুযোগ
রয়েছে। এক্ষেত্রে
আরো দুটি
সম্ভাব্য ক্ষেত্র
হলো সেচ
ও ড্রেজিং।
ড্রেজিং কার্যক্রমে
অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে
বেসরকারি খাতের
যথেষ্ট আগ্রহ
রয়েছে। ড্রেজিংয়ে
প্রাপ্ত বালি-মাটি
বিক্রি করে
ড্রেজিং ব্যয়
উল্লেখযোগ্য হারে
কমানো যেতে
পারে। তবে
এক্ষেত্রে কারিগরি
বিষয়াদি এবং
ঝুঁকি মোকাবেলায়
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
প্রয়োজন। ভূমি
পুনরুদ্ধারে সরকারি-বেসরকারি
অংশীদারিত্ব (পিপিপি)
আরেকটি সম্ভাবনাময়
ক্ষেত্র হিসেবে
বিবেচিত হতে
পারে। পিপিপি
অনুমোদন কাঠামোয়
নদী খননের
সঙ্গে ভূমি
পুনরুদ্ধারের সমন্বয়
করা হলে
তা বেসরকারি
খাতের জন্য
আকর্ষণীয় হবে।
পিপিপি উদ্যোগের
মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ
নৌ-পরিবহনের
(আইডব্লিউটি) জন্য
নদীবন্দর অবকাঠামো
প্রতিষ্ঠা করাও
সম্ভব।
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর
বিনিয়োগ পরিকল্পনা
ব-দ্বীপ
বিনিয়োগ পরিকল্পনায়
যাচাই-বাছাই
শেষে প্রথম
পর্যায়ে বাস্তবায়নের
জন্য মোট
৮০টি প্রকল্প
প্রস্তাব করা
হয়েছে। তার
মধ্যে ৬৫টি
ভৌত অবকাঠামোসংক্রান্ত
প্রকল্প এবং
১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক
সক্ষমতা ও
দক্ষতা উন্নয়ন
এবং গবেষণাবিষয়ক
প্রকল্প রয়েছে।
বর্তমানে মোট
৮০টি বিনিয়োগ
প্রকল্পের মধ্যে
প্রায় ২২টি
বিনিয়োগ প্রকল্প
ভিন্ন ভিন্ন
নামে এবং
কর্মসূচি হিসেবে
প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষভাবে পানিসম্পদ
মন্ত্রণালয় কর্তৃক
বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই ২২টি
প্রকল্পের মধ্যে
সাতটি বাংলাদেশ
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
অনুযায়ী প্রস্তাবিত
একই নামে
বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো হচ্ছে:
১. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
ডেমরা ডিএনডি
এলাকার নিষ্কাশন
ব্যবস্থার উন্নয়ন
(২য় পর্যায়);
২. স্টাডি
অন ইন্টিগ্রেটেড
ম্যানেজমেন্ট অব
ড্রেনেজ কনজেশন
ফর গ্রেটার
নোয়াখালী; ৩.
ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড
ফ্লাড কন্ট্রোল
ইন এমবেংকমেন্ট
কাম ইস্টার্ন
বাইপাস রোড
মাল্টি পারপাস;
৪. বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর
নদী সিস্টেম
ড্রেজিং/পুনঃখননসহ
তীর সংরক্ষণ;
৫. চট্টগ্রাম
মহানগরীর বন্যা
নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা-জলাবদ্ধতা
নিরসন ও
নিষ্কাশন উন্নয়ন;
৬. চর
ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড
সেটেলমেন্ট প্রকল্প-ব্রিজিং
(সিডিএসপি-বি);
৭. ফ্লো
কন্ট্রোল অ্যান্ড
ওয়াটার স্টোরেজ
স্ট্রাকচার ফর
ওয়াটার অ্যাভেলেবিলিটি
ইন ড্রাই
সিজন।
পরিশেষে বলা
প্রয়োজন, আমাদের
গতানুগতিক বিনিয়োগ
ধারা থেকে
বের হয়ে
আরো কার্যকর
ও গতিশীল
বিনিয়োগে মনোনিবেশ
করা প্রয়োজন।
রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ
অবকাঠামো খাতে
আমাদের ব্যাপক
বিনিয়োগ হয়েছে।
নতুন রাস্তাঘাট
তৈরির প্রয়োজনীয়তা
কমে এসেছে।
এখন ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা ২১০০
বাস্তবায়ন ও
পানিসম্পদ খাতকে
কীভাবে আরো
স্বয়ংসম্পূর্ণ করা
যায়, সেদিকে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
গ্রহণ করা
বাঞ্ছনীয়। বিশেষ
করে স্থানীয়
পর্যায়ের বিদ্যমান
জলাধার (খাল,
পুকুর, বাঁওড়
পুনঃখনন এবং
সংরক্ষণের মাধ্যমে
স্থানীয়ভাবে পানি
সংরক্ষণ) এবং
বৃষ্টির পানি
সংরক্ষণ, নদী
ও জলাভূমি
পুনরুদ্ধার এবং
জীববৈচিত্র্য রক্ষা,
স্থানীয়ভাবে পাইপের
মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে
পানি সরবরাহ
ব্যবস্থা সম্প্রসারণ,
বর্ষার পানি
ধরে রেখে
নতুন জলাধার
নির্মাণ ইত্যাদি
কার্যক্রম সুষ্ঠু
বাস্তবায়নে আরো
বিনিয়োগ বাড়ানো
প্রয়োজন। পাশাপাশি
কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ,
ব-দ্বীপ
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে
বেসরকারি খাতকে
উৎসাহিত করা, গ্রিন
ক্লাইমেট ফান্ড
পেতে প্রকল্প
তৈরি ইত্যাদির
ওপর জোর
দেয়া আশু
প্রয়োজন।
ড. শামসুল আলম: সদস্য (সিনিয়র সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন










