আজ
বিশ্ব খাদ্য দিবস। ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতি বছর দিনটি বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। এফএওর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিবসে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ পালিত হওয়ায় দিবসটির গুরুত্ব অনেকটা বেড়ে গেছে। প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের জন্য একটি থিম বা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘Grow, nourish,
and sustain ~together with nature’, যার অর্থ দাঁড়ায়—প্রকৃতির সঙ্গে মিলে উৎপাদন করা, পরিপুষ্ট করা এবং একত্রে ধারণ করা। অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে।
বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের তাত্পর্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘এমনিতেই
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে, করোনা মহামারী অবস্থা আরো ভয়াবহ করে দিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে যে বিনিয়োগ আছে, তা স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে কাজে লাগাতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে হবে, মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)
ডাইরেক্টর জেনারেল Qu Dongyu তার
ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ক্ষুধা ও অপুষ্টির বিরুদ্ধে সংগ্রামে এ বছর এফএও এবং বিশ্বনেতাদের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। তিনি অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বব্যবস্থায় গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বেসলে।
বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের উদ্দেশ্যাবলির মধ্যে রয়েছে ১. কৃষিজাত খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হতে উৎসাহিত করা এবং জাতীয়, দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক এবং বেসরকারি প্রচেষ্টাকে উদ্দীপিত করা; ২. উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেয়া; ৩. গ্রামীণ জনগণের জীবনযাপন পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে এরূপ কার্যাবলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের, বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা; ৪. ক্ষুধা সমস্যা সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা; ৫. উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রযুক্তি সরবরাহ বৃদ্ধি করা; ৬. ক্ষুধা, পুষ্টিহীনতা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংহতিকে শক্তিশালী করা এবং খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে অর্জিত সাফল্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) যৌথ উদ্যোগে গত বছরের ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বে প্রতি নয়জনের একজন ক্ষুধায় ভোগে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ২০১৭ সালে ছিল ৮১ কোটি ১০ লাখ। সে সংখ্যাটি বৃদ্ধি পেয়ে ৮২ কোটি ১০ লাখে দাঁড়ায়। শতকরা হিসাবে আফ্রিকার জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ অপুষ্টিতে ভুগলেও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা এশিয়ায় বেশি। এশিয়ায় প্রায় ৫১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া গত পাঁচ বছরে ক্ষুধা ও অপুষ্টি নিবারণে উন্নতি করলেও এখনো অঞ্চলটির ১৫ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। অঞ্চলটিতে ২০১৮ সালে গুরুতর খাদ্য ঝুঁকিতে ছিল ২৭ কোটি ১৭ লাখ মানুষ। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার যে লক্ষ্য এসডিজিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে বলে ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২০’-এর প্রতিবেদনেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘The
food security and nutritional status of the most vulnerable population groups
is likely to deteriorate further due to the health and socio-economic impacts
of the COVID-19 pandemic’,
যার অর্থ দাঁড়ায়—স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে অরক্ষিত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও অপুষ্টিজনিত অবস্থার আরো অবনতি ঘটবে।
ইউনিসেফের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ মহামারীর আর্থসামাজিক প্রভাবের কারণে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী বাড়তি ৩৯ লাখ শিশু তীব্র রুগ্ণতার শিকার হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়তে পারে। দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৬৭ লাখ শিশু তীব্র রুগ্ণতার শিকার হতে পারে এবং এর অর্ধেকেরও বেশি (৫৮ শতাংশ বা ৩৯ লাখ) হতে পারে শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই।
এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসা যাক। খাদ্যনিরাপত্তার সংজ্ঞানুযায়ী তখনই খাদ্যনিরাপত্তা বিরাজমান, যখন সবার কর্মক্ষম, স্বাস্থ্যকর ও উৎপাদনমুখী জীবনযাপনের জন্য সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের লভ্যতা ও প্রাপ্তির ক্ষমতা বিদ্যমান থাকে। আমাদের জাতীয় খাদ্যনীতিতে খাদ্যনিরাপত্তায় চিহ্নিত তিনটি নিয়ামক হলো খাদ্যের সহজলভ্যতা (availability
of food), খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা
(access to food) এবং খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার (utilization
of food)।
এ বছরের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যে খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে শর্করা (চাল, গম), আমিষ
(মাছ, মাংস, ডিম), স্নেহ
পদার্থ (ভোজ্যতেল, দুগ্ধজাতীয় খাবার) এবং পানীয় (চা)। তবে বাংলাদেশে খাদ্য বলতে সাধারণত চাল বা চাল থেকে তৈরি ভাতকে বোঝায়। স্বাধীনতার পর গত চার দশকের কিছুটা বেশি সময়ে আমাদের চাল উৎপাদনের পরিমাণ তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে তিন কোটি টন ছাড়িয়ে গেছে। দেশে প্রধান খাদ্য চাল উৎপাদনে বড় সমস্যা হলো প্রবৃদ্ধি হারে ধারাবাহিকতার অভাব। এক বছর প্রবৃদ্ধির হার ধনাত্মক হলে পরের বছর প্রবৃদ্ধির হার হয় নিম্নমুখী, না-হয় শূন্য বা ঋণাত্মক। গত এক দশকের সরকারি তথ্য এর সত্যতা প্রমাণ করে। যেমন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টনে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টনে। অর্থাৎ এ অর্থবছর চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হারে হ্রাস ঘটে দাঁড়ায় কমবেশি ১ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে মোট চাল উৎপাদনের তথ্য সরকার প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়নি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের
(ইউএসডিএ) মে মাসের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় চার লাখ টন কম। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হার ঋণাত্মক। ইউএসডিএর প্রাক্কলনকে সরকার এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানা যায়নি।
বিবিএস ও বিশ্বব্যাংকের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক দশকে চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। চাল বাদে অন্যান্য কৃষিপণ্য যথা ফল, ফুল, মসলা, আঁশজাতীয় খাদ্য, ডাল, ভুট্টা, আলু, সবজি ও তেলজাতীয় খাদ্যে যথাক্রমে ১০২, ৯১, ৬৩, ৭৩, ৬১, ৪৮, ৩১, ২৮ এবং ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক দশকে চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩০ শতাংশ (বণিক বার্তা, ২৮ আগস্ট)।
আমিষের প্রধান উৎস মাছে স্বনির্ভরতা অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে দেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান এবং
বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। আমিষের আরেক উৎস ডিম উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে। মত্স্য খাতের তুলনায় প্রাণিসম্পদ খাতে প্রবৃদ্ধির হার কম হলেও অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘বাংলাদেশ
প্রাণিসম্পদ বিশেষ করে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি পালনে প্রায় সাম্প্রতিক সময়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে। এ খাতে চলমান গবেষণা কার্যক্রম এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে অবদান রেখেছে’ (অর্থমন্ত্রীর
বাজেট বক্তৃতা ২০২০-২১)। মাছ ও মত্স্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৬৮ লাখ টন মত্স্য ও মত্স্যজাত পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চাল উৎপাদন সামান্য পরিমাণ কমে গেলেও মূলত সরকারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমানে চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যানবাহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে ব্যবসায়ীরা রাজধানী এবং বিভাগীয় শহরে কেজিপ্রতি মোটা ৪৭-৪৮ টাকায় বিক্রি করবে। মাঝারি ও চিকন চালের দাম সরকার বেঁধে দিলেও কোনো সরকারি প্রজ্ঞপন জারি না হওয়ায় তা মেনে চলা হচ্ছে না। চালকল মালিকরা ধানের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বোরো ধান কাটার মৌসুম শেষে চালকল মালিক, ব্যবসায়ী, বড় ও মাঝারি কৃষকের কাছে ধানের মজুদ দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৮ দশমিক ৯, ১৮ দশমিক ৫ এবং ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট আইনের আশ্রয় নিয়ে ব্যবসায়ী ও বড় কৃষকদের মজুদ ধান বাজারে বিক্রিতে বাধ্য করা গেলে বাজারে ধান সরবরাহ বেড়ে যাবে এবং চালের দাম কমবে। তবে সিন্ডিকেশনের মাধ্যমে চালকল মালিকরা যাতে চালের দাম বাড়াতে না পারেন, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।
তবে খাদ্যদ্রব্যের সহজলভ্যতার অর্থ খাদ্যনিরাপত্তা নয়। এজন্য দরকার জনগণের, বিশেষ করে গরিব নিম্নবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি। বিবিএসের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, করোনার আগে গত মার্চে প্রতি পরিবারে গড়
আয়ের তুলনায় আগস্টে পরিবারপ্রতি আয় কমেছে ৪ হাজার টাকা। এদিকে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াল্টার এলিজা হল ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ছুটিতে ৯৬ শতাংশ পরিবারের গড় মাসিক উপার্জন হ্রাস পেয়েছে, ৯১ শতাংশ নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল মনে করেছে এবং ৪৭ শতাংশ পরিবারের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। জুন থেকে অর্থনীতির সব খাতে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। তবে সরকারি আর্থিক প্রণোদনায় শিল্প ও সেবা খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান অনেকটা ঘুরে দাঁড়ালেও ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো দাঁড়াতে পারেনি। দ্য ডেইলি স্টারের এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানীতে এক হাজার রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরো এক হাজার বন্ধের পথে। এ রকম আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চাকরিচ্যুত হাজার হাজার কর্মী এখন পর্যন্ত বেকার রয়েছেন। এসব ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য দরকার নগদ অর্থ। এদেরকেও টেনে তোলার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। তবেই অর্থনীতি করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবশেষে বলতে চাই, বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উদযাপনকালে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। ইউরোপের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এখনই তা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা এরই মধ্যে দেখেছি, করোনার ভীতিকে উপেক্ষা করে কৃষকরা আমাদের খাদ্যের জোগান দিচ্ছেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিল্প ও সেবা খাতসহ অন্য সব খাত স্থবির হয়ে পড়লেও কৃষকরা করোনাভীতিকে উপেক্ষা করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখবেন। এজন্য তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে হবে।
মো.
আবদুল লতিফ
মন্ডল:
সাবেক খাদ্য সচিব










