বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের যাত্রা ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল। প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সেদিন। সে ধারাবাহিকতায় এবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী। এ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, যেখানে উঠে এসেছে সংসদ নিয়ে তার ভাবনাগুলোও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জেসমিন মলি
বাংলাদেশ জাতীয়
সংসদের শুরুর
দিকের প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জানতে
চাই।
জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান
১৯৭২ সালের
১০ জানুয়ারি
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের
পরদিনই অর্থাৎ
১১ জানুয়ারি
গণপরিষদের সংজ্ঞা
প্রদানে নির্দেশনা
জারি করেন।
পরে সেই
পরিষদকে একটি
সংবিধান রচনার
দায়িত্ব দেয়া
হয়। স্বাধীন
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের
পর অত্যন্ত
গুরুত্বের সঙ্গে
বঙ্গবন্ধু জাতিকে
একটি সংবিধান
উপহার দেন।
ওই বছরের
৪ নভেম্বর
সেটি গণপরিষদে
পাস হয়
এবং ১৬
ডিসেম্বর থেকে
কার্যকর হয়।
এ সংবিধানই
আমাদের সর্বোচ্চ
আইন। এর
মধ্যেই রাষ্ট্রের
তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী,
বিচার ও
আইনসভার গঠন
ও কার্যক্রম
বর্ণিত রয়েছে।
এর আলোকেই
আমাদের সংসদ
গঠিত।
আমাদের সংসদ
এক কক্ষবিশিষ্ট।
বিশ্বের অনেক
দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট
সংসদ রয়েছে।
জনগণের ভোটে
নির্বাচিত ৩০০
সদস্য নিয়ে
সংসদ গঠিত।
তার সঙ্গে
৫০টি সংরক্ষিত
নারী আসন
রয়েছে। জাতীয়
সংসদের প্রথম
অধিবেশন অনুষ্ঠিত
হয় ১৯৭৩
সালের ৭
এপ্রিল। তারই
ধারাবাহিকতায় ২০২৩
সালে আমরা
সুবর্ণজয়ন্তী পালন
করতে যাচ্ছি।
তাই এ
বছর আমাদের
সংসদের জন্য
বিশেষ গুরুত্ব
ও তাত্পর্য
বহন করে।
এটা অনেক
গৌরবের। এখানে
আমাদের সংসদ
নেতা প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা,
বিরোধীদলীয় নেতা
রওশন এরশাদ,
সংসদ উপনেতা
মতিয়া চৌধুরী
এবং স্পিকারও
একজন নারী।
নবম সংসদের
কিছু অংশসহ
দশম ও
একাদশ জাতীয়
সংসদে একটি
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
হিসেবে সারা
বিশ্বে পরিচিত।
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয় সংসদ
সচিবালয়ের কর্মপরিকল্পনা কী?
বিশেষ এ সময়টিকে উদযাপনের জন্য আমরা কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটি বিশেষ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এরই মধ্যে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। আজ আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে। ৭ এপ্রিল শুক্রবার হলেও আমরা এটিকে কার্যদিবস হিসেবে ঘোষণা করছি, ওই দিনও আমাদের বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম চলবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে আসবেন। তিনি একটি স্মারক বক্তব্য দেবেন। তার পরবর্তী অংশে ১৪৭-এর কার্যপ্রণালি বিধির আলোকে একটি প্রস্তাব লেখা হবে এবং সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করবেন এবং তার পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এরপর সব সদস্য এ আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। যারা বলতে চান, বিশেষ করে যারা প্রবীণ সদস্য, যারা ১৯৭৩-এর সংসদে ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা শুনব। সকাল থেকেই এ আলোচনা চলমান থাকবে। ৯ এপ্রিল এ আলোচনা সমাপ্তির দিকে যাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে আমরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করব। এর পরই আমাদের অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এজন্য আমরা
একটি খসড়া
প্রস্তাব তৈরি
করব। কিন্তু
বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে
নির্ধারিত হবে
আমাদের কার্য
উপদেষ্টা কমিটির
বৈঠকে। আর
সে বৈঠকটি
হবে ৬
এপ্রিল (আজ)
সকাল ১০টায়।
এটাই আমাদের
নিয়ম। আশা
করি এভাবেই
আমরা অগ্রসর
হতে পারব।
বিশেষ অধিবেশনে
যে আলোচনাগুলো
হবে, সেগুলো
সবই লিপিবদ্ধ
রাখব। সেগুলো
একত্রিত করে
একটি বই
আকারে প্রকাশ
করা হবে।
এমনিভাবেই আমরা
জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের
জন্মবার্ষিকী পালন
করেছি। সেখানেও
বিশেষ অধিবেশনে
যে বক্তব্যগুলো
এসেছিল, সেগুলো
সংকলিত করে
একটি বই
আকারে রূপ
দেয়া হয়েছে।
৬ তারিখে
(আজ) সেই
বইটিরও মোড়ক
উন্মোচন হবে।
সংসদের ৫০
বছর উদযাপনে
এটাও রাখার
চিন্তা রয়েছে।
এছাড়া ৭
তারিখে প্রধানমন্ত্রী
একটি স্মারক
ডাকটিকিটও উন্মুক্ত
করবেন।
বিশেষ অধিবেশনের বাইরেও বছরব্যাপী আমাদের কিছু অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকবে। প্রবীণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মের পরিচিতিমূলক আলোচনা করতে চাচ্ছি, যেখানে প্রবীণরা তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবেন। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রশ্ন করতে পারবে। এছাড়া আমরা একটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সও করতে চাই। সেটার জন্যও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে অন্যান্য দেশের স্পিকার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে সেটাও একটা অংশ হবে বলে আমরা আশা করছি।
জাতীয় সংসদ
গত ৫০
বছর কতটা
কার্যকরভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে
পেরেছে বলে
আপনার মনে
হয়?
নবম, দশম
ও একাদশ—এ
তিনটি সংসদের
ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা
পরপর তিনবার
নির্বাচিত হওয়ার
পর তার
সরকারের ব্যাপক
উন্নয়ন কার্যক্রম
ও জনগণের
জীবনমান উন্নয়নে
যেসব পরিকল্পনা
বাস্তবায়ন করেছেন
সে জায়গাগুলোতে
আমাদের অর্জন
রয়েছে। কভিড-১৯-এর
সময়কালের আগে
আমাদের অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি ছিল
৮ শতাংশ।
অতিমারীর কারণে
তা কিছুটা
পেছালেও ততটা
পিছাইনি। আমরা
আবারো সে
বাধা কাটিয়ে
উঠেছি। আমাদের
প্রবৃদ্ধি এখনো
৬ শতাংশের
ওপরে। রেমিট্যান্সপ্রবাহও
বেড়েছে। এটা
আমাদের অর্থনীতির
চাকাকে বেগবান
করছে। বাংলাদেশ
আজকে স্বল্পোন্নত
দেশের কাতার
থেকে বেরিয়ে
উন্নয়নশীল দেশের
পথে পা
বাড়িয়েছে। ২০২৪
থেকে ২০২৬
সালের মধ্যে
আমরা উন্নয়নশীল
দেশ হিসেবে
আমাদের অবস্থান
সুনিশ্চিত করব।
পরবর্তী ভিশনও
এরই মধ্যে
ঘোষিত হয়েছে।
দেশ আজ
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
এত বড়
একটি অতিমারীর
সময়েও কোনো
মানুষ না
খেয়ে ছিল,
এ ধরনের
তথ্য নেই।
তার পরও
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
আমাদের জন্য
চিন্তার কারণ।
রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধের কারণে
এ পরিস্থিতি
তৈরি হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশে
নয়, সব
দেশেই এর
প্রভাব পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে
দরিদ্র ও
নিম্ন আয়ের
মানুষ যাতে
কষ্ট না
পায় তার
জন্য সরকার
এরই মধ্যে
বিশেষ কিছু
পরিকল্পনা গ্রহণ
করেছে। এক
কোটি মানুষকে
নিত্যপণ্য সরবরাহের
ব্যবস্থা করা
হয়েছে। আমাদের
এ অগ্রযাত্রা
অব্যাহত থাকবে।
পরপর তিনটি
সংসদ কার্যকরভাবে
পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদে বিরোধী
দলের স্বতঃস্ফূর্ত
অংশগ্রহণ রয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে তারা
(বিরোধীদলীয় সংসদ
সদস্য) সংসদে
উপস্থিত থাকেন।
আমরা লাগাতার
সংসদ বয়কট
বা বর্জনের
মতো বিষয়
এ সময়ে
লক্ষ্য করিনি।
সংসদ খুবই
সক্রিয় ও
গতিশীলভাবে চলছে
বলেই রাজনৈতিক
অস্থিরতা, হরতাল,
ভাংচুর বা
অন্য ধরনের
বিশৃঙ্খলা সেভাবে
অনুভূত হয়নি।
বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো
নিয়মিত তাদের
কার্যক্রম পরিচালনা
করেছে, ছেলে-মেয়েরা
লেখাপড়া করছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য
যারা করছেন,
তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে
করতে পারছেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সংসদীয় গণতন্ত্রে
জাতীয় সংসদই
হচ্ছে গণতন্ত্রের
কেন্দ্রবিন্দু। জাতীয়
সংসদ সক্রিয়
ও গতিশীল
থাকলে মানুষের
জীবনের উন্নয়ন
ও তাদের
আশা-আকাঙ্ক্ষা
বাস্তবায়ন সম্ভব
হয়। সরকারকেও
জবাবদিহিতা এবং
স্বচ্ছতার ভেতর
নিয়ে আসা
যায়। বিভিন্ন
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম
পর্যবেক্ষণ ও
তদারকিতে জাতীয়
সংসদের স্থায়ী
কমিটিগুলো খুবই
সক্রিয়। মন্ত্রণালয়ের
বিভিন্ন কার্যক্রমের
ত্রুটি-বিচ্যুতি
নিয়ে কমিটির
বৈঠকে তারা
সুপারিশ দিচ্ছে।
সংসদকে গতিশীল
এবং এ
ধারাকে অব্যাহত
রাখা আমাদের
গণতন্ত্রকে সুসংহত
করার ক্ষেত্রে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
মাইলফলক।
বিএনপি একটি
বড় রাজনৈতিক দল, তারা
এখন সংসদে
নেই। একাদশ
জাতীয় সংসদ
অর্থাৎ চলতি
সংসদ থেকে
তারা পদত্যাগ করেছে, এটিকে
কীভাবে দেখেন?
বিএনপির যে
সদস্যরা আমাদের
সঙ্গে ছিলেন
তারা নিয়মিত
সংসদের অধিবেশনে
আসতেন। তাদের
কথা বলার
যথেষ্ট সুযোগও
তারা পেয়েছেন।
সংসদের যেকোনো
কার্যক্রমেই অংশ
নিয়েছেন; সেটি
বক্তৃতা হোক
বা প্রশ্নোত্তর
পর্ব কিংবা
পয়েন্ট অব
অর্ডার। তারা
তাদের দলের
অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের
কারণে পদত্যাগ
করেছেন, এটি
তাদের পার্টির
সিদ্ধান্ত। সংসদ
থেকে কোনো
বিরূপ আচরণ
পেয়েছেন বা
তাদের কথা
বলতে দেয়া
হয়নি, তাদের
কোনোভাবে বাধা
দেয়া হয়েছে—এ
ধরনের কোনো
অভিযোগ উঠেছে
বলে আমার
জানা নেই।
পদত্যাগকারী সংসদ
সদস্যরা সে
রকম কোনো
অভিযোগও করেননি।
এটা তাদের
দলের রাজনৈতিক
সিদ্ধান্ত। তবে
আমি সব
সময় মনে
করি, সংসদে
থেকে একজন
সদস্য যতটা
কার্যকর ভূমিকা
রাখতে পারেন,
সেটি সংসদের
বাইরে থেকে
সম্ভব না।
কাজেই আপনি
যদি বাইরে
আন্দোলন করতে
চান সেটি
করতে পারেন
কিন্তু সংসদে
আপনার উপস্থিতির
একটা অন্য
রকম গুরুত্ব
রয়েছে। জনগণ
আপনাকে ভোট
দিয়ে নির্বাচিত
করে সংসদে
প্রতিনিধি হিসেবে
পাঠিয়েছে। তাদের
প্রতিও আপনার
একটি দায়িত্ব
রয়ে যায়।
তারাও চায়,
আপনি সংসদে
এসে তাদের
কথা বলেন,
তাদের সমস্যা,
সুবিধা-অসুবিধা
নিয়ে আলোচনা
করেন। সে
কারণেই তারা
প্রতিনিধি নির্বাচিত
করে সংসদে
পাঠায়।
জাতীয় সংসদে
এ যাবৎ
এগারশর বেশি
আইন পাস
হয়েছে। কিন্তু সে আইন
প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময়
বিভিন্ন ঘাটতি
দেখা যায়।
এ বিষয়ে
আপনার অভিমত
কী?
আইনসভার কাজ
আইন প্রণয়ন
করা। একটি
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার
ভেতর দিয়ে
সেটি পাস
হয়। একটি
আইন যখন
বিল আকারে
জাতীয় সংসদে
উত্থাপন করা
হয় তার
আগে বিভিন্ন
মন্ত্রণালয়ের কিছু
প্রক্রিয়া শেষ
করে আসতে
হয়। সংসদে
উত্থাপনের সঙ্গে
সঙ্গে সেটিকে
পাঠানো হয়
স্থায়ী কমিটিতে।
স্থায়ী কমিটি
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করে, যদি
তারা মনে
করে বিলটিতে
অভিজ্ঞ মতামত
প্রয়োজন, সেটিও
তারা গ্রহণ
করে। এরপর
তারা একটি
প্রতিবেদন আকারে
সংসদে উপস্থাপন
করে। সে
পর্যায়েও যদি
কোনো সংসদ
সদস্য চান
সংশোধনী আনতে
তিনি সেটি
করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী
যদি মনে
করেন সেই
সংশোধনী গ্রহণের
সুযোগ আছে,
তাহলে সে
পর্যায়েও তার
সুযোগ আছে।
তারপর সেই
বিল সংসদে
পাস হয়।
স্পিকার তাতে
স্বাক্ষর করার
পর মহামান্য
রাষ্ট্রপতির কাছে
পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের
পরই সেটি
আইন আকারে
প্রকাশিত হয়।
কোনো বিশেষ
আইনের ক্ষেত্রে
যারা এটি
প্রয়োগ করবেন,
তাদের জন্য
যদি প্রশিক্ষণের
প্রয়োজন হয়
তাহলে সেটিও
দেয়া যেতে
পারে। সংসদ
সদস্যরা যদি
কোনো আইনের
ব্যাপারে আরো
গভীরে যেতে
চান তাহলে
সেটার ব্যাপারেও
আমরা তাদের
জন্য কর্মশালার
আয়োজন করতে
পারি। কোনো
আইনের ব্যাখ্যা
যদি ভালো
হয় তাহলে
সেটি প্রয়োগের
ক্ষেত্রেও জটিলতা
কমে যাবে।
জাতীয় সংসদকে আরো কার্যকর করতে আপনার
পরামর্শ কী?
সব সংসদ
সদস্য যতখানি
সময় পাওয়ার
অধিকার রাখেন,
জাতীয় সংসদ
পরিচালনায় একজন
স্পিকার হিসেবে
সেটি সঠিকভাবে
নিয়ন্ত্রণ করতে
পারলে সংসদ
কার্যকর থাকবে।
বিরোধী দলকে
যথেষ্ট সুযোগ
দিতে হবে।
তাদের কথাগুলো
সঠিকভাবে উপস্থাপনের
সুযোগ দিলে
তাদের ভেতর
কোনো অসন্তোষ
তৈরি হবে
না। সংসদ
বর্জন বা
সংসদ বয়কট
করার প্রয়োজন
হবে না।
বক্তব্য চলাকালীন
মাইক বন্ধ
করে দেয়ার
যে প্রবণতা
সেটা স্পিকার
হিসেবে আমি
একদমই উৎসাহ
দিই না।
কারণ সদস্যরা
সংসদে এসেছেনই
কথা বলার
জন্য। কাজেই
তাদের মাইক
অফ করে
দেয়ার সংস্কৃতি
গণতন্ত্রের সঙ্গে
যায় না,
অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে
হয়। তবে
মাঝেমধ্যে মাইক
বন্ধ করার
কাজটি করতে
হতে পারে
যদি কেউ
অশালীন মন্তব্য
বা অসাংবিধানিক
কথা বলেন।
সংসদ সদস্যদের
‘পালস’
বোঝাটা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। সেটি
ঠিকভাবে বুঝতে
না পারলে
হাউজ ভালোভাবে
পরিচালনা করা
সম্ভব নয়।
সংসদে ৩৫০
জন মানুষ
(সংসদ সদস্য)
থাকে। প্রত্যেকেই
ভিন্ন, প্রত্যেকেই
একজন রাজনীতিবিদ.
প্রত্যেকেরই একটি
নির্বাচনী এলাকা
রয়েছে, প্রত্যেকেরই
তার নিজস্ব
জনগণের কাছে
ওয়াদা আছে।
কাজেই তাকে
সে সম্মানটা
দিতে হবে।
কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য,
কাউকে উপেক্ষা
করা, কাউকে
বসিয়ে দেয়া,
আমার কাছে
মোটেই শোভন
নয়। একজন
স্পিকার সর্বময়
ক্ষমতার অধিকারী
কিন্তু সে
ক্ষমতার চর্চা
করতে হবে
একটি ভারসাম্যপূর্ণ
অবস্থানে থেকে।
সেটা যদি
পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে
যায় তাহলে
সদস্যরা আস্থা
হারাবেন। এজন্য
স্পিকারের বিশেষ
কিছু দায়িত্ব
আছে। সেটা
তাকে খুব
সচেতনভাবে পালন
করতে হয়,
যাতে কোনো
সংসদ সদস্য
বঞ্চিত না
হন। ব্যক্তিগত
ইচ্ছা-অনিচ্ছার
মাধ্যমে যাতে
সংসদ পরিচালিত
না হয়,
এসব ব্যাপারেও
সচেতন থাকতে
হবে। একজন
স্পিকার অনেক
ধরনের চাপ
অনুভব করেন।
সে চাপ
সহ্য করে
নিয়ে ‘ব্যালান্স’
করতে হয়।
অনেক সময়
বিরোধী দল
এমন প্রসঙ্গে
কথা বলছে
তা নিয়ে
সরকারি দল
উত্তেজিত হয়ে
যাচ্ছে, চিৎকার
করছে। সরকারি
দলের উত্তেজনা
দেখে স্পিকার
যদি ঘাবড়ে
গিয়ে বিরোধী
দলকে বসিয়ে
দেন, তাহলে
আপনি যথাযথভাবে
দায়িত্ব পালন
করেত পারবেন
না। সংখ্যালঘু
হিসেবে তাকে
প্রটেকশন দিতে
হবে। যে
বক্তব্য দিচ্ছে
তাকে বক্তব্য
শেষ করার
সুযোগ দিতে
হবে। পরবর্তী
সময়ে কেউ
বলতে চাইলে
তাকেও সুযোগ
দেয়া যেতে
পারে। এভাবেই
ভারসাম্য রক্ষা
করতে হবে।










