বর্তমান যুগ বিশ্বায়নের যুগ এবং ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগের একমাত্র ভাষা। বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাণ্ডারের বৃহৎ অংশ সংরক্ষিত রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এবং তা বিশ্বজুড়ে সংরক্ষিত রয়েছে পুস্তক ও জার্নাল এবং অতি সাম্প্রতিকালের তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে উন্নত যোগাযোগ আর ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবী ক্রমে সংকুচিত হয়ে এসেছে এবং সাধারণ মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষার নব অভ্যুদয় ঘটেছে। ফলে এককালের ইংরেজিবিমুখ জাতি ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, রাশিয়া ও চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইংরেজি শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং এসব দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠী ইংরেজি শেখার প্রতি ব্যাপক হারে ঝুঁকে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত জ্ঞান-বিজ্ঞানে যে বিস্তর উন্নতি লাভ করেছে, এর পেছনে অন্যান্য কারণ ছাড়াও ইংরেজিতে পারদর্শিতা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি জগতে অন্যান্য জাতির তুলনায় ভারতীয়রা অধিক এগিয়ে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি জগতে প্রবেশ ঘটার পেছনে শুধু যে কম্পিউটার সফটওয়্যারে তাদের ব্যুত্পত্তিই সহায়ক হয়েছে তা নয়, ইংরেজিতে তাদের পারদর্শিতাও একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ঐতিহাসিক কারণে ভারতের মতো আমাদের ভূখণ্ডও (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি পেয়েছিল কিন্তু আমরা সর্বমহলে তা প্রতিষ্ঠা বা যথাযথভাবে পরিপোষণ করতে সক্ষম হইনি। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা বলেন। এতে দেশবাসীর প্রত্যাশা বাড়ে। ব্যক্তির দারিদ্র্য এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তির শৃঙ্খল ভাঙতে মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ইংরেজির গুরুত্ব এবং চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। কিন্তু ইংরেজির প্রয়োজন যখন সবচেয়ে বেশি তখন আমাদের দেশে এই ভাষার দৈন্য আর দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট। কর্মসংস্থানের জন্য সম্পদশালী দেশে গমন, উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত দেশে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিদেশের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যোগাযোগ তৈরি করা, তথ্যপ্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করা, ইংরেজি ভাষায় সঞ্চিত অত্যাধুনিক জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইংরেজিতে আমাদের দুর্বলতা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি আমাদের দেশে যে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, তার বিশাল অংশ মানসম্মত ইংরেজি লিখতে, পড়তে এবং বলতে সক্ষম নয়। আমাদের একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না, এখন ইংরেজি শুধু একটি ভাষা নয়, একটি বিষয় নয়, এটি সংস্কৃতির বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এটি একটি মাধ্যম, এটি একটি প্রযুক্তি, এটি একটি অস্ত্র; যা দিয়ে আমাদের প্রজন্মকে লড়াই করতে হবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে, তা হবে প্রতিযোগিতার লড়াই, অস্তিত্বের লড়াই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পর থেকে ইংরেজির অবক্ষয়ের সূচনা হয়। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ঘিরে একটা উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা ছিল। কিন্তু যে বিষয়টি ভুল হয়েছিল তা হলো, ইংরেজি ভাষা শেখার অনীহা। বাংলায় ভালো করতে হলে ইংরেজি শিখতে হবে না অথবা ইংরেজিকে নির্বাসনে দিতে হবে—এ ধারণা অবিবেচনাপ্রসূত। ইংরেজির প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ বাংলা শিক্ষার একটা আবশ্যকীয় পূর্বশর্ত হতে পারে না। বস্তুত, আমাদের দেশে বাংলা ভাষায় অনেক স্বনামধন্য লেখক ও সাহিত্যিক আছেন। উদাহরণস্বরূপ প্রয়াত সৈয়দ আলী আহসান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শামসুর রহমান, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, খোন্দকার আশরাফ হোসেন প্রমুখ, যাদের সম্পর্কে দেশবাসী অনেকেই জানে না যে তারা ইংরেজি ভাষার সর্বোচ্চ ডিগ্রিপ্রাপ্ত। পাশ্চাত্যেও দেখা গেছে, যারা একাধিক ভাষায় পণ্ডিত, তাদের মধ্যে যারা এক ভাষাভাষী, তাদের চেয়ে বহু ভাষার মননে ও চিন্তাধারায় অগ্রগামী। বস্তুত ইংরেজিকে বর্জন করে আমরা জ্ঞানের জগতে প্রবেশের দ্বার রুদ্ধ করেছি। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। বলা বাহুল্য, ইংরেজি ভাষায় পশ্চাত্পদতা বাংলা ভাষায় উত্কর্ষ সাধনে সাহায্য করেনি, বরং একে পশ্চাত্পদ করে রেখেছে।

সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালিত শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে লক্ষ করা যায়, ইংরেজি বিষয়ের অধিকাংশ শিক্ষক ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন, এমনকি লজ্জাবোধ করেন এবং একটি ইংরেজি বাক্যও সঠিকভাবে লিখতে পারেন না। অনেক শিক্ষক যারা ইংরেজি ব্যাকরণে ভালো, এমনকি অতীতে ইংরেজিতে মোটামুটি ভালো নম্বরও পেয়েছেন, তারাও সঠিকভাবে ইংরেজি লিখতে ও বলতে পারেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলার অবস্থা আরো শোচনীয়। তাহলে স্কুলে দশটি বছর ধরে তারা কী ইংরেজি শিখছে? তারা আসলে পরীক্ষায় পাস করার জন্য ইংরেজি রচনা, প্যারাগ্রাফ, চিঠি, পাঠ্যভুক্ত কিছু ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করে পরীক্ষায় উদিগরণ করে এসেছে কিন্তু ইংরেজি ভাষা শেখেনি। সুদীর্ঘ ১২ বছর ইংরেজি পড়ে তা না শেখার কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন অথবা কোনো বিষয় শেখার ক্ষেত্রে ইংরেজি প্রয়োজন হয় না, ফলে ইংরেজি চর্চা হয় না। দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ইংরেজি পাঠ্যবই থাকলেও যথাযথভাবে পড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংকট তীব্র। তৃতীয়ত, বিদ্যমান ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ব্যবস্থা বা পদ্ধতি সামগ্রিকভাবে আদর্শনীয় নয়।

একথা অনস্বীকার্য যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ইংরেজি শিক্ষকের খুব অভাব। প্রথমত, ইংরেজি জানা শিক্ষক পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, তাদের অধিকাংশের ইংরেজি পাঠদান সম্পর্কে বাস্তবিক কোনো প্রশিক্ষণ নেই। বেশির ভাগ শিক্ষক পিটিআই (প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) বা টিটিসি (টিচার্স ট্রেনিং কলেজ) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তাদের আবার খুব অল্পসংখ্যক ইংরেজি শিক্ষাদানে সক্ষম হন। পিটিআই ও টিটিসিতে ইংরেজি শিক্ষা ও শিক্ষাদানের প্রশিক্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোয় ইংরেজির যোগ্য প্রশিক্ষকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যোগ্য শিক্ষক তৈরির জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষক পাঠানো যেতে পারে। এ ধরনের একটি শক্তিশালী প্রশিক্ষিত টিম পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক প্রশিক্ষক তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের কয়েক হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে লক্ষাধিক শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুমানিক ১১ লাখ শিক্ষককে ইংরেজি শেখানো এবং প্রশিক্ষণ প্রদান অত্যন্ত দুরূহ কাজ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যাযের দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক তৈরির জন্য বেসরকারি পর্যায়ে, বিদেশী সংস্থা, এনজিও বা সরকারি সহায়তায় বহুসংখ্যক ইংরেজি ভাষা কেন্দ্র খোলা দরকার। এ কেন্দ্রগুলোয় সমন্বিত ও সম্পূরক ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণের জন্য যুগপৎ বাধ্যবাধকতা ও উদ্বুদ্ধকরণ প্রয়োজন। প্রয়োজনবোধে শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব যোগ্যতা বৃদ্ধিকল্পে নিজ খরচে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। যতদিন না প্রাক-বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার সমস্যার সমাধান হচ্ছে, কমপক্ষে ততদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষার জন্য এক বছরের একটি আবশ্যকীয় ইংরেজি ভাষা কোর্স চালু করা আবশ্যক। ইংরেজি ভাষার জন্য কোন বিভাগে কী ধরনের কোর্স হবে, কীভাবে পড়াতে হবে ইত্যাদি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুস্তক প্রণয়ন এবং আনুষঙ্গিক প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভাষা শিক্ষণ ইনস্টিটিউট খোলা যেতে পারে। ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের এ কোর্স শেখানোর দায়িত্ব দেয়া যায়। এর বিকল্প হিসেবে ইংরেজি বিভাগের পরিসর বৃদ্ধি করে সেখানে একটি ইংরেজি ভাষা শিক্ষা সেল সৃষ্টি করা যেতে পারে, যেটি ভাষা শিক্ষার মূল দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইংরেজিতে যে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয়, তা মূলত সাহিত্যকেন্দ্রিক; ভাষাকেন্দ্রিক নয়। অথচ দেশে ইংরেজি ভাষা শেখানোর জন্য প্রয়োজন এমন স্নাতক ডিগ্রিধারী, যারা হবেন ইংরেজি ভাষার পঠন, লিখন, শ্রবণ ও কথোপকথনে সার্বিকভাবে পারদর্শী। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় দক্ষ ও যুগোপযোগী ইংরেজি শিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইংরেজি বিভাগ ছাড়াও ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টিচিং (ইএলটি) নামে পৃথক বিভাগ চালু করা যেতে পারে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মানবসম্পদ উন্নয়নে ইংরেজি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু সব প্রকল্প ও প্রচেষ্টা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বিধায় ইংরেজি শিখন-শেখানোর কার্যক্রম ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে। এর ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ মুহূর্তে প্রকল্পভিত্তিক ইংরেজি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একীভূত, সুষম, সুসংহত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি জাতীয় ইংরেজি ভাষা একাডেমি/কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। ভারতসহ অনেক উন্নত ও উন্ন্য়নশীল দেশে এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে এবং এ কেন্দ্র থেকে শিক্ষকও শিক্ষার্থী যথেষ্ট উপকার পেয়ে থাকেন। জাতীয় ইংরেজি ভাষা একাডেমি/কেন্দ্র বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখাশোনা করবে। এ কেন্দ্র প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করবে। সব ফরমাল ও নন-ফরমাল ইংরেজি শিক্ষা প্রোগ্রামের কার্যক্রম এ কেন্দ্রের গোচরীভূত থাকতে হবে। গুণগত মান সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্র বিশেষ করে সব ইংরেজি কোচিং সেন্টারের অনুমোদন পেতে হবে। জাতীয় ইংরেজি ভাষা কেন্দ্র থেকে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষাদান এ কেন্দ্র নিবিড়ভাবে তদারকি করবে। এ কেন্দ্র ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পুস্তক প্রণয়ন করবে, সর্বোত্তম শিখন ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভাবন করবে; উপকরণ প্রস্তুত করবে এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।

দেশে ও বিদেশে শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করবে। সব কার্যক্রমের বর্ণনা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য রেডিও, টেলিভিশন তথা প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করবে। এ কেন্দ্রের অধীনে আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং ল্যাংগুয়েজ ল্যাবরেটরি থাকবে। জাতীয় একাডেমি বা কেন্দ্রটি ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদানের ব্যাপারে নিয়মিত গবেষণা পরিচালনা করবে। বাংলাদেশে চার দশক ধরে ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করা সহজসাধ্য নয়। এ সমস্যা নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, চিন্তাভাবনা হয়েছে কিন্তু এর নিরসনে আশাপ্রদ অগ্রগতি হয়নি। ইংরেজি ভাষায় পাণ্ডিত্য আছে, বাংলা ভাষাভাষীদের ইংরেজির সমস্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে, ব্যবস্থাপনায় ও সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা রয়েছে—এমন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বাংলাদেশে বিদ্যমান। কিন্তু তারা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না। বরং সরকার তাদের কাজে লাগিয়ে একটা বড় ধরনের মহতী উদ্যোগ নিতে পারে। এটি এখন সময়ের দাবি। বর্তমান বিশ্বে অঘোষিতভাবে হলেও ইংরেজি জানা ব্যতীত উন্নতির সোপানে আরোহণ অসম্ভব বলেই স্বীকৃত। ভাষায় দক্ষতা না থাকলে বিদেশে পড়াশোনা, কর্মসংস্থান, ভ্রমণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে ও সূচারুরূপে সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। তাই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ আশু প্রয়োজন। কভিড-১৯ অতিমারীর কারণে মার্চ ২০২০ থেকে বাংলাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। ইংরেজি ভাষার প্রধান চারটি দক্ষতা যেমন—শোনা, বলা, পড়া ও লেখা (এলএসআরডব্লিউ) থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা প্রশাসকদের ইতিবাচক মনোভাব এবং এ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। কভিড অতিমারী থেকে উত্তরণের অব্যবহিত পরে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনের পথ সুগম করতে সমন্বিত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

ড. মো. ফখরুল ইসলাম: লেখক ও গবেষক