কর্মজীবনের এক পর্যায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এ খাতটির প্রতি আমার যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, সেই আগ্রহই করোনাকালে বেসামরিক বিমান পরিবহনের দুর্যোগের দিকে দৃষ্টিকে টেনে নিয়েছে। ২৪ জুলাই ২০১৯ আকাশে একটি বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি হলো, ফ্লাইটট্রেডার ২৪ হিসাব করে দেখল যে সেদিন ২৪ ঘণ্টায় আকাশে উড়েছে মোট ২ লাখ ২৫ হাজারটি উড়োজাহাজ, এর মধ্যে হেলিকপ্টারও আছে। আকাশে উড়োজাহাজের ভিড় বাড়ছে। ফ্লাইটট্রেডার ২৪-ও বিস্মিত হলো যখন দেখা গেল পরদিনই ভেঙে গেছে এই বিশ্বরেকর্ড। ২৫ জুলাই পৃথিবীর আকাশে উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখতে এক বছরও অপেক্ষা করতে হয়নি। এসে যায় করোনাকালের আকাশ।

কোনো সন্দেহ নেই, নভেল করোনাভাইরাস প্যানডেমিক বা বিশ্বব্যাধি হিসেবে সবচেয়ে বড় আঘাত করেছে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আঘাত এসেছে অর্থনীতির ওপর—টাকার অংকে দীর্ঘমেয়াদে তার পরিমাণ ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাব) না আরো বেশি, এখনই তার নিশ্চয়ন করা সম্ভব হয়নি। বরং ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন মুখোশ না পরে মুখোশ না-পরা সামাজিক দূরত্ব না-মানা বিশাল সমাবেশে নির্বাচন সামনে রেখে চীনকে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর অপবাদ দিয়ে গালাগাল দিচ্ছিলেন, কেবল সেদিনই পৃথিবীতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার, তখন পর্যন্ত বিশ্বরেকর্ড। নভেল করোনাভাইরাস পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার আয়োজন করছে এমন কোনো গ্যারান্টি এখনো পাওয়া যায়নি, প্রতিহত করার মতো নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা কোনো দেশই দিতে পারেনি। বৃহত্তর আর্থিক ও উন্নয়ন খাতে সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে বিমান পরিবহন ও পর্যটনে। এই নিবন্ধে কেবল বেসামরিক বিমান পরিবহনের কিছু জ্ঞাত ও কিছু স্বল্পজ্ঞাত বিষয় তুলে ধরা হবে।

২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি শত ডলার ছাড়িয়ে ১৫০ ডলারের কাছাকাছি চলে যায়, কেবল জেট ফুয়েলের দামই অনেক বিমান সংস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। কয়েকটি এয়ারলাইনস দেউলিয়াও হয়ে যায়। ২০২০ সালের করোনাকালে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। জেট ফুয়েলের ন্যূনতম চাহিদাও নেই। অশোধিত তেলের দাম শূন্যের অনেক নিচে নেমে আসে, কিন্তু অভাবনীয় এই মূল্যপতন এয়ারলাইনসগুলোর কোনো কাজে লাগেনি। কারণ করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় বৈশ্বিক লকডাউন আকাশপথও বন্ধ করে দিয়েছে। পৃথিবীর সব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের বহুমূল্য উড়োজাহাজগুলো তাদের বেইজ এয়ারপোর্টে, সেখানে স্থান সংকুলান না হলে অন্য কোনো এয়ারপোর্টে, এমনকি রানওয়েতেও পার্ক করে রেখেছে। এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা এর আগে কখনো এয়ারলাইনসকে করতে হয়নি। ২০২০-এর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এয়ারলাইনসের বিপর্যয়ের কিছু তথ্য আগ্রহী অনেকের কাছেই সামাজিক মাধ্যমে পৌঁছেছে। তথ্যের যথার্থ যাচাই করে কিছু তথ্য পুনরায় উপস্থাপন করছি:

১. সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজ দেউলিয়া হয়ে গেছে। ২. ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ৩. ভার্জিন ৬০০ পাইলটসহ তিন হাজার কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে। ৪. এয়ার মারিশাস দেউলিয়া হওয়ার পথে। ৫. এয়ার ফ্রান্স ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মচারী অর্থাৎ ৭ হাজার ৫৮০ জনকে বিদায় করতে যাচ্ছে। ৬. ফিনএয়ার নতুন কেনা ১২টি উড়োজাহাজ ফেরত দিয়েছে এবং ২ হাজার ৪০০ কর্মচারীকে লেঅফ করেছে। ৭. থাইল্যান্ডের ইউ এয়ারলাইনস ২২টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ড করেছে এবং ৪ হাজার ১০০ কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে। ৮. ওয়ান এয়ার ১১৩টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ড করেছে, ৯০০ পাইলট বাদ দিয়েছে এবং আসছে মাসে আরো ৪৫০ জনকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।  ৯. নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইনস দূরপাল্লার সব অপারেশন স্থগিত করে সব বোয়িং ৭৮৭ লিজদাতার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। ১০. স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ার সার্ভিসেস ৫২০ জন পাইলটকে চাকরি থেকে সরিয়ে ১৪টি উড়োজাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো নরওয়েজিয়ান ও এসএএস এয়ারলাইনস বিলুপ্ত করে নতুন কোনো এয়ারলাইনস স্থাপনের চিন্তা করছে। ১১. ইতিহাদ ১৮টি এয়ারবাস ৩৫০ ক্রয়ের আদেশ বাতিল করেছে, ১০টি এয়ারবাস ৩৮০ এবং ১০টি বোয়িং ৭৮৭ গ্রাউন্ড করে ৭২০ জন কর্মচারীকে চাকরি থেকে বিদায় করেছে। ১২. এমিরাত ৩৮টি এয়ারবাস ৩৮০ গ্রাউন্ড করেছে; ১৫০টি বোয়িং ৯৯৯ এক্স সরবরাহের অর্ডার বাতিল করেছে। ৫৬ বছর বয়সের বেশি যাদের বয়স, তাদের সব কর্মচারীকে অবসর গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ১৩. উইজ এয়ার ৩২টি এয়ারবাস ৩২০ ফেরত দিয়েছে, ২০০ পাইলটসহ ১ হাজার ২০০ কর্মচারীকে বাদ দিয়েছে। আরো ৪৩০ জনকে দু-এক মাসের মধ্যে বিদায় করবে এবং অবশিষ্ট কর্মচারীদের বেতন ৩০ ভাগ কমিয়ে দেবে। ১৪. ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মালিক প্রতিষ্ঠান আইএজি এয়ার ইউরোপা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এয়ার ইউরোপা থেকে সরে গিয়েছে এবং সেজন্য ৪০ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা আছে। ১৫. ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ৩২টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ড করেছে। প্রথমে ৫৮ বছরের বেশি বয়স যাদের, তাদের অবসরে পাঠানোর চিন্তা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সব কর্মচারী চাকরিচ্যুত করে কমসংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ বিরাজ করছে। ১৬. আইবেরিয়া এয়ার ৫৮টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ড করেছে। ১৭. লাক্সএয়ার উড়োজাহাজের বহর থেকে অর্ধেক জাহাজ কমিয়ে দিয়েছে এবং সে হারে চাকরিচ্যুতিও ঘটছে। ১৮. সিএসএ (চেক) তার সব দূরপাল্লার উড়োজাহাজের রুট বন্ধ করে দিয়ে মাত্র পাঁচটি মধ্যম পাল্লার উড়োজাহাজ রেখেছে। ১৯.  ইউরোউইংস দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০. লুফথানসা দুই দফায় ৭২টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ড করেছে। ২২ হাজার কর্মচারী চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ২১.  হপ এয়ার জাহাজের বহর অর্ধেক করে ফেলছে, আনুপাতিক হারে লোক ছাঁটাই করবে।

তাছাড়া উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিক্রয় ও সরবরাহ দেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত উড়োজাহাজ মজুদ আছে কিন্তু ক্রেতা নেই।

এয়ারবাস কোম্পানির কারখানায় এ-৩৫০সহ ৬০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য অপেক্ষমাণ। দুর্যোগের যে ভবিষ্যদ্বাণী, তাতে সেপ্টেম্বর নাগাদ গ্রাউন্ড করা উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ হাজার। প্রতিটিতে গড়পড়তা ৫ দশমিক ৮ জন ক্রু হিসেবে ততদিনে বেকার পাইলটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯০ হাজার। বাস্তবতা হচ্ছে, এয়ারলাইনসগুলো লাইফ সাপোর্টে টিকে আছে।

বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সূচকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এয়ারলাইনস হিসেবে সমাদৃত সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ৪৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। ৩১ মার্চ শেষে হওয়া বছরে নিট লস দাঁড়িয়েছে ২১২ মিলিয়ন ডলার। ক্ষতির সময়টি মূলত করোনাকালের সূচনা। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী জানালেন, অবস্থার কখন পরিবর্তন ঘটবে, তার জানা নেই। মে মাসে এসে মোট ফ্লাইটের ৯৬ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদে বাতিল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানির মূলধন ১৫ বিলিয়ন ডলারে উত্তীর্ণ করতে শেয়ারমালিকদের কাছে নতুন শেয়ার বিক্রি করছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাধিজনিত এভিয়েশন খাতের ক্ষতির হিসাব করেছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার।

বলা আবশ্যক, বেশ কয়েক বছর ধরে এভিয়েশন খাত রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছিল। কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনার পরও এ খাতের লাভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামেনি।

আইএটিএ দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতির চিত্রটি নতুন করে তুলে ধরল। এবার বলল, ক্ষতি সর্বনিম্ন ৬৩ বিলিয়ন ডলার দাঁড়াবে। তবে তা বেড়ে ১৯৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ক্ষতির বিশাল ব্যবধানই বলে দেয় পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত। তিন সপ্তাহ পুরো না হতেই আইএটিএ আবার হিসাবের খাতা নিয়ে বসল এবং ২৪ মার্চ ঘোষণা করল, এভিয়েশন খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫২ বিলিয়ন ডলার।

এপ্রিল নাগাদ এয়ার কানাডা প্রায় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত ঘোষণা করে ৫ হাজার ১০০ কর্মচারীকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এয়ার ফ্রান্স কেবল যাত্রীর পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। ইজি জেট চার হাজার কেবিন ক্রুকে বিনা বেতনে স্বল্পমেয়াদি ছুটিতে পাঠিয়েছে। এয়ার সার্বিয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ৯০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে এবং বহরের অনেক বোয়িং ৭৫৭, বোয়িং ৭৬৭, এমব্রেয়ার ১৯০ ও এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ স্থায়ীভাবে বসিয়ে দিয়েছে। মে মাসে ক্যাথে প্যাসিফিকের ৯৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চলিক পরিবহন কম্পাস এয়ারলাইনস স্থায়ীভাবে নিজেদের গুটিয়ে এভিয়েশন ব্যবসা থেকে সরে গেছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ১৯০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির পর ইউপিয়ান এয়ারলাইনস ৮০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারলাইনস ফ্লাইবি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে।

২০২০-এর প্রথম মাসে আগের বছরের তুলনায় আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা বেড়েছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। জানুয়ারির শেষ দিকে এসে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ধাক্কা বিমান পরিবহন খাতে এসে লাগে, মার্চের শেষ সপ্তাহে ফ্লাইটের সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজারে নেমে আসে। গত বছর মার্চে তা ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার। সেসব ফ্লাইটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ঘোস্ট ফ্লাইট (বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ফ্লাইট স্লট ধরে রাখার জন্য অল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে কিংবা যাত্রীবিহীন ফ্লাইট পরিচালনা)। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় স্লট ধরে রাখার জন্য ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার তো হয়ই, এমনকি বৈশ্বিক লকডাউনে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীর সব এয়ারপোর্ট ভুতুড়ে এয়ারপোর্টে পরিণত হয়।

এপ্রিলের মাঝামাঝি এসে এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) জানায়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রী সংখ্যা ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পরাক্রমশালী ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঘোষণা দেয় উড়োজাহাজের উড্ডয়ন এবং অবতরণ ৯৬ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি কন্ট্রোল টাওয়ারের কর্মকাল বহুলাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। ক্যাপ্টেনদের কাছেও বার্তা পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, অনেক জায়গায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সার্ভিস ও ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম বন্ধ থাকবে।

ইউরোপিয়ান এয়ারলাইনসগুলো আদৌ টিকে থাকতে পারবে কিনা, এ নিয়ে আইএজি গ্রুপের সিইও (সাবেক ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ প্রধান) উইলি ওয়ালশ সন্দিহান।

উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী দুটো বড় প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাস তাদের বেশকিছু উৎপাদন কারখানার কাজ বন্ধ করেছে বা কমিয়ে এনেছে। ২০১৯-এ প্রথম তিন মাসে ক্ষতি হয়েছিল ৪০ মিলিয়ন ইউরো। আর ২০২০-এর প্রথম তিন মাসে ক্ষতি হয়েছে ৪৮১ মিলিয়ন ইউরো। বোয়িংয়ের সিইও ডেভিড ক্যালহুন হিসাব করে দেখিয়েছেন পৃথিবীর এভিয়েশন খাতকে করোনা খাতের পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগবে—এটাও নির্ভর করছে এই বিশ্বব্যাধির আচরণের ওপর। অথচ করোনা সংক্রমণের ঠিক আগক্ষণে হিসাব পেয়েছি আকাশভ্রমণ যে হারে বাড়ছে, ২০৩৪ সালে আকাশযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন।

 

ড. এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা