তিনটি অর্থনৈতিক সংবাদ আমার সামনে। একটি সঞ্চয়পত্রের ওপর, আরেকটি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির ওপর, বাকি আরেকটি কালো টাকার ওপর। মুশকিল হচ্ছে কোনটি রেখে কোনটির ওপর লিখি। মনে হয় সঞ্চয়পত্রের খবরটি করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরিজীবী, পেশাজীবী ইত্যাদি করদাতার প্রতি বছর কর রেয়াতের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনতে হয়। আয়করের নিয়মানুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনলে এ রেয়াত পাওয়া যায়। কত টাকার তা নির্ভর করে কত টাকা আয়। যতটুকু মনে পড়ে মোট আয়ের ২০ শতাংশ টাকা পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। করদাতারা এসব কিনতেন ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে। এদের অনেক শাখা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সারা দেশে এবং দীর্ঘকাল ধরে তারা তা বিক্রি করে আসছে। এখন থেকে সরকারি নিয়ম হয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ব্যাংক ও ডাকঘর বিক্রি করবে না। এটা কিনতে হবে সারা দেশের মাত্র ৭০টির মতো সঞ্চয় ব্যুরো থেকে। হঠাৎ এ ধরনের নিয়ম চালু করার কারণ কী? অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও ডাকঘর সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিয়ম মানছে না। তাই এর বিক্রি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য এ পরিবর্তন করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র ও তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র যথারীতি ব্যাংক থেকে কেনা যাবে। তাহলে প্রশ্ন ওই দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি যদি ব্যাংক ও ডাকঘর করতে পারে তাহলে পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বাধা দেয়া হচ্ছে কেন? নিয়মকানুন তো সব সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রেই আছে। ব্যাংক ও ডাকঘর সুদীর্ঘকাল ধরে নিয়মকানুন মেনেই সেসব বিক্রি করে আসছে। বর্তমান বিধির ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরের রিটার্ন দিতে গিয়ে বহু করদাতা ঝামেলার মধ্যে পড়বেন বলে মনে করি। ব্যাংক ও ডাকঘরের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ফলে করদাতারা সহজেই পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনে কিছুটা রেয়াত পেতেন। আশঙ্কা বহু করদাতা এবার পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন না। প্রথম এবং বড় কারণ সারা দেশে মাত্র ৭০টি অফিস তা বিক্রি করবে। কোথায় এসব অফিস তা খুঁজতে খুঁজতেই সময় যাবে। তার ওপর এসব অফিসে ভিড় লেগেই থাকবে। সঞ্চয় পরিদপ্তরের কি এত লোকবল ও প্রশাসনিক দক্ষতা রয়েছে যে তারা লাখ লাখ করদাতার পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের চাহিদা মেটাতে পারবে? এ প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা কম। বলাই যায়, বহু করদাতা এবার কর প্রদানের ক্ষেত্রে রেয়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন? সরকারি বিভাগের কর্তব্য ও দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সেবাকে উন্মুক্ত করা, সহজলভ্য করা, যাতে মানুষ কম পরিশ্রমে, কম খরচে, কম ঝামেলায় সরকারের সেবা গ্রহণ করতে পারে। বর্তমান সিদ্ধান্তটি এক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। ব্যাংক ও ডাকঘরগুলোর অফিস হাজার হাজার, তারা সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ। তাদের গ্রাহকদের অনেকেই করদাতা। তাদের এ সেবা দিতে হয়। এমন অবস্থায় বলাই বাহুল্য, বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে করদাতাদের করের বোঝা বাড়ছে। এ দুঃসময়ে কেন নতুন এ পরিবর্তন, তার প্রকৃত কারণ বোঝা অসাধ্য। সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এটা মে মাসের শেষ। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনতে হবে করদাতাদের ২০২০-২১ অর্থবছরের জুনের মধ্যে। অতএব যত শিগগির সম্ভব নতুন নিয়মটি রদ করে পুরনো নিয়মে ফেরত গেলে সরকারের বড় কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। করদাতাদের করভার কিছুটা লাঘব হবে।

দ্বিতীয় যে ইস্যু খুব বড় করে আসছে তা হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির ইস্যু। একই সঙ্গে সমগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কালো টাকার ইস্যু। একটি পত্রিকার খবরের শিরোনাম হচ্ছে, যতদিন কালো টাকা থাকবে ততদিন সাদা হবে। এ কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরই মধ্যে তার এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কাগজে মতামত প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকীয়ও হয়েছে। কালো টাকার ব্যাপারে জনমত কী, এ নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ প্রায় সবাই কালো টাকা সাদা করার বিরুদ্ধে। নীতিগতভাবে তা-ই হওয়ার কথা। এতে কালো টাকার মালিকরা উৎসাহিত হয় এবং নিয়মিত করদাতারা শাস্তি পান। নৈতিকতার দিক থেকে এ বিষয়ে বিরোধিতা করার কোনো যুক্তি নেই। আমি ওইদিকে যাব না। আমার বক্তব্য অন্যত্র। আর সেটা হচ্ছে আমরা কি স্বীকার করি যে সরকারি বিধিবিধান, পদ্ধতি ইত্যাদি মানুষকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘কালো টাকার’ মালিক করে? একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। ধরা যাক জমিজমা, ফ্ল্যাট, বাড়ি ইত্যাদি বিক্রির কথা। এসব বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের এলাকা ও আকারভেদে দাম নির্ধারণ করা আছে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, ওই দামে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব সম্পত্তি বেচাকেনা হয় না। এক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য সবসময়ই দুই, তিন, চার, পাঁচ গুণ। সমস্যা হচ্ছে প্রকৃত মূল্যে সাবরেজিস্ট্রি অফিস রেজিস্ট্রি করতে অনীহা দেখায়, দলিল লেখকরাও অনীহা দেখান। প্রকৃত মূল্য দেখালে সরকারকে দেয় করের পরিমাণ অসম্ভব রকমের বেশি হয়। ক্রেতা এত মূল্যে সম্পত্তি কিনতে চায় না। বিক্রেতাও এত মূল্য দেখাতে চায় না। ফলে বাঁচার পথ হয়েছে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য। এতে সরকারও কিছু বলতে পারে না। ক্রেতা-বিক্রেতা, দলিল লেখক, অফিসার সবাই সন্তুষ্ট। এর ফল কী? প্রকৃত দামের চেয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য কম হওয়ায় ক্রেতার সরকারি খরচ কম হচ্ছে। এতে ক্রেতা লাভবান। কিন্তু প্রকৃত মূল্য দিতে হচ্ছে তথাকথিত কালো টাকায়। এর বড় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে কতজন লোকের/করদাতার ট্যাক্স ফাইলে ৫০ লাখ, ১ কোটি, ২ কোটি টাকার সম্পদ দেখানো আছে? এ সংখ্যা খুবই কম। অথচ একটা স্ট্যান্ডার্ড ফ্ল্যাটের দামই ১ কোটি, দেড় কোটি, ২ কোটি টাকা। এখন ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি কিনতে যেহেতু ‘সাদা টাকা’ লাগে তাই এসব ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি কেনা সম্ভব নয়। তাহলে আবাসন ব্যবসায়ীদের বাজারে ধস নামবে। ধস নামবে সিমেন্ট, বালি, লোহা, রড, গ্লাস, কাঠ ইত্যাদি শিল্পে। শ্রমের চাহিদা কমে যাবে। করদাতার সংখ্যা এমনিতেই কম। এর মধ্যে ‘সাদা টাকা’ কর ফাইলে দেখানো আছে কতজনের? ফলে দেখা যায় ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি মূল্য ২০ লাখ টাকা। অথচ এর প্রকৃত মূল্য কোটি টাকা। বাকি টাকার দেনদেন কালো টাকায়। অতএব কালো টাকা থাকতে হবে। নইলে এসব সম্পত্তি-জমি-ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া কঠিন। ব্যাংকের লোন হতে পারে। কিন্তু লোন অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

আমরা সচরাচর যাকে কালো টাকা বলি তা কি সত্যি সত্যি কালো টাকা? কালো টাকার এক ধরনের সংজ্ঞা দেয়া আছে ‘মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্টে’, যেখানে ঘুষ ইত্যাদি সংক্রান্ত টাকা লন্ডার্ড টাকা। রাজস্ব বিভাগের খাতাপত্রে কি ‘কালো টাকা’ বলতে কিছু আছে? আমার জানা নেই। কর বিভাগ দেখে কর দেয়া হয়েছে কিনা। কর কম দেয়া হয়েছে কিনা, যাকে ফাঁকি বলা হয়। অনেক ‘ফাঁকি’ আইনের অধীনেই দেয়া সম্ভব, তার ব্যবস্থাও আছে। রাজস্ব বিভাগের চেষ্টা সর্বোচ্চ কর আদায় করা, জেল-ফাঁসি দেয়া নয়। গত ৫০ বছরের স্বাধীনতাকালে কেউ কি শুনেছেন কর কম দেয়ার কারণে বা কর ফাঁকি দেয়ার কারণে কেউ জেলে গেছেন? অবৈধ আয় ভিন্ন কথা। ওই আইন ভিন্ন। অবৈধ আয় আর তথাকথিত ‘কালো টাকা’ কি এক কথা? ধরা যাক ডাক্তার, উকিল-মোক্তার, পেশাজীবী, গৃহশিক্ষক ইত্যাদি শ্রেণীর করদাতার কথা। এদের প্রকৃত আয় কত তার হিসাব পাওয়া কঠিন। এটা পাওয়া যায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তার কর ফাঁকির কোনো সুযোগ নেই। মাসে মাসে বেতন থেকে প্রতিষ্ঠানই কর কেটে সরকারকে প্রদান করে। এখন প্রশ্ন ডাক্তার, উকিল-মোক্তার, পেশাজীবী, গৃহশিক্ষকদের উপার্জিত টাকা কি ‘কালো টাকা’? এসব কি ঘুষ-দুর্নীতির টাকা? প্রচলিত নিয়মের অধীনে তারা তাদের কাজ করছেন। ভালো টাকা রোজগার করছেন। হতে পারে উচ্চ করহারের জন্য তারা যথাযথ পরিমাণের কর দিচ্ছেন না। এ কারণেই কি সেই টাকা ‘কালো টাকা’? তাদের টাকা তাদের মেধা দ্বারা অর্জিত, শ্রম দ্বারা অর্জিত। বড়জোর এ টাকাকে সরকারের খাতায় ‘অপ্রদর্শিত’ টাকা বলা যায়। সরকারি বিভাগ তা উন্মোচন করে অধিকতর কর আদায় করতে পারে এবং তারা তা করছেও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ‘কালো টাকা’ ও ‘অপ্রদর্শিত’ টাকার মধ্যে তফাত টানলে কেউ কেউ রেগে যাচ্ছেন। তাদের ভাষায় কর না দেয়া টাকার সবটাই ‘কালো টাকা’। ‘কালো টাকার’ সঙ্গে যে আইনি সম্পর্ক রয়েছে তা তারা ভুলে যান। ‘কালো টাকা’ হতে হবে ‘লন্ডার্ড মানি’। ‘লন্ডার্ড মানি’ কাকে বলা হবে তা আইনে আছে। সেখানে অন্যতম হচ্ছে ঘুষ-দুর্নীতির টাকা। ধরা যাক বড় বড় কোম্পানির কথা। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা জানছি যে বড় বড় কোম্পানি তাদের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। কিছু বেতন খাতায়, কিছু বেতন হাতে। এটা করা হয় উচ্চ করহার এড়ানোর জন্য। বেআইনি কি আইনি, তা দেখছে কর বিভাগ। তারা নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করছে এসব রোধ করার জন্য। এখানে প্রশ্ন অন্যত্র। যারা বেতনভুক্ত কর্মকর্তা তাদের এখানে দোষ কোথায়? এটা তাদের শ্রম ও মেধার টাকা। কোম্পানি দুইভাবে দিচ্ছে। এখানে কর্মকর্তাদের বলার তো কিছু নেই। হয় চাকরি করো, নতুবা ছেড়ে দাও। এমন অবস্থায় ওই অর্জিত টাকাকে কি ‘কালো টাকা’ বলব, না অপ্রদর্শিত টাকা বলব? বিষয়টি নিশ্চয়ই বিবেচনার দাবি রাখে। ধরা যাক কাঁচাবাজারের কথা। বড় বড় মাছওয়ালা ও বড় বড় সবজি দোকানের মালিক, বড় বড় স্টেশনারি দোকানের মালিক, বড় বড় মুদি দোকানদারের মাসিক আয় কত বলে মনে হয়? তারা কেউ কি করমুক্ত আয়সীমার মধ্যে পড়েন? বলা বাহুল্য, এদের অনেকের মাসিক/বার্ষিক আয় অনেক বড় বড় কর্মকর্তার চেয়ে বেশি। তারা কয় পয়সা কর দেন? অথচ তারা বেশ সহায়-সম্পত্তির মালিক। তাদের টাকা কি ‘কালো টাকা’? এটা ব্যবসার টাকা, তাদের লাভের টাকা। বলা হতে পারে, জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে, মানুষকে কষ্ট দিয়ে রোজগার করছেন। সেটা তো বিমান কোম্পানিগুলোও করছে। ছুটির দিনে তারা দ্বিগুণ, তিন গুণ ভাড়া আদায় করে কীভাবে? চাহিদার কারণে, তাই নয় কি? সেই কাজটাই তো দোকানদাররাও করছেন এবং করছেন বাজারের নিয়মেই। চাহিদা সরবরাহের ভিত্তিতে। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা কর দেন কম, অথচ অনেক সম্পত্তির মালিক। আমরা কি বলব এরা ‘কালো টাকার’ মালিক।

আমরা জানি, কর বিভাগকে আয় দেখালেই পাই পাই করে আয়ের উৎস, আয়ের সনদ দেখাতে হয়। একজন লোক কর দিতে চান। ধরা যাক তিনি দেশের বাড়িতে ৫ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছেন। এ আয়ের উৎস এবং সনদ কোথায় পাবেন? শুধু আয় নয়, আয়ের উৎস দেখাতে হবে, সনদ দিতে হবে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের হিসাব দেখাতে হবে। এসব কয়জন পারেন? ধরা যাক বড় বড় ব্যবসার কথা। তারা নিজেরাই বলেন, শতকোটি/কোটি টাকা তাদের বিনিয়োগ। অনেক প্রকল্পের খবর যখন পড়ি তখন দেখি প্রকল্পটি করতে নাকি ৫ হাজার, ১০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। প্রশ্ন কত টাকা ব্যবসায়ীর ইকুইটি, কত টাকা ব্যাংক লোন? কত টাকা বিদেশী ঋণ? এভাবে হিসাব করলে কোনো হিসাবই মিলবে না। অনেক ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে জমিতে, স্টকে, ইমারতে, কাঁচামালে যে টাকা বিনিয়োজিত আছে তার প্রকৃত হিসাব নেয়া খুবই কঠিন। তবে কি বলব তারাও ‘কালো টাকার’ মালিক। এভাবে তালিকা আর বাড়াতে চাই না। আমার এসব বলার কারণ কী? কারণ ‘কালো টাকার’ সমর্থন জোগানো নয়। আমার বলার কথা হচ্ছে সরকারি নিয়মনীতি, বিধিবিধান, কার্যপদ্ধতি ইত্যাদির কারণে প্রচুর টাকা ‘অপ্রদর্শিত’ থেকে যাচ্ছে, যাকে আমরা ‘কালো টাকা’ বলে আখ্যায়িত করছি। যারা সত্যি সত্যি ‘কালো টাকার’ বিরুদ্ধে কাজ করতে চান, তাদের কর্তব্য হচ্ছে এসব নীতিগত-পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার জন্য সরকারকে বলা। আর কর দিলে অবসরের পর, চাকরি হারানোর পর, বেকারত্বে সরকার ভাত-কাপড় দেবে তার নিশ্চয়তা বিধান করা। সর্বোপরি উন্নত দেশে যাতে কেউ বাড়িঘর, ব্যবসা/সম্পত্তি করতে না পারে, তার জন্য ওইসব সরকারকে বলা। বলা বাহুল্য, তাদের নাগরিকত্বের প্রলোভনে এবং সেখানে বিনা বাধায় টাকা নিয়ে যাওয়া যায়। এ কারণে দেশে ‘কালো টাকা’র জন্ম হচ্ছে।

 

ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক