প্রথম দিন কেমব্রিজ কলেজ খুঁজতে গিয়ে অমর্ত্য সেন ট্রিনিটির রাজকীয় এবং উচ্চ তোরণটির সামনে এসে পৌঁছলেন। এর নাম The Great Gate of Trinity। ছবিতে যেমনটি দেখেছিলেন, ঠিক তেমনি তোরণটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আগে থেকে আবছা ধারণা ছিল যে কিংস হলের আমলে ১৩১৭ সালে কলেজটি স্বয়ং নির্মিত হওয়ার আগে ট্রিনিটির বড় তোরণটি হয়েছিল। অষ্টম হেনরি ১৫৪৬ সালের আগে বিদ্যমান দুই কলেজ—কিংস হল ও মাইকেল হাউজ—অঙ্গীভূত করে ট্রিনিটি কলেজ স্থাপন করেন। ওই অঙ্গীভবনের সঙ্গে কিংস হলের তোরণগুলো ট্রিনিটির বড় তোরণে রূপান্তরিত হয় এবং প্রথম দর্শনেই তোরণটির শুধু বিশেষ ইতিহাস নয়, এর রুচিশীল সৌন্দর্য চিত্তাকর্ষক বলে মনে হয়েছে অমর্ত্য সেনের কাছে। যা-ই হোক, একসময় তোরণের দুই দরজার মধ্যে ছোটটি দিয়ে তিনি অলক্ষে চলে গেলেন পোর্টার’স লজ বা দারোয়ানদের ছোট কক্ষের দিকে।

অমর্ত্য সেনকে দেখে দারোয়ানরা সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করল বটে, তবে তারা জেনে অবাক হলো যে অমর্ত্য সেন একজন চীনা নন। উপপ্রধান দারোয়ান বলল, ‘আমরা কিছু সেন পেয়েছি চীন থেকে কিন্তু তারা সবাই চেয়েছিল আমরা তাদের প্রথম নামে ডাকি। অমর্ত্য সেন বললেন, ‘আমাকেও আপনারা প্রথম নামে ডাকতে পারেন তবে মিস্টার যোগে নয়।’ দারোয়ান তখন মাথা ঝাঁকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল, ‘ওটা হওয়ার নয়। তাছাড়া আমি আপনার প্রথম নাম দেখেছি, আমাদের পক্ষে তার চেয়ে বরং মিস্টার সেন  চালিয়ে নেয়া অনেক সহজতর হবে।’

দুই.

অমর্ত্য সেন তারপর গেলেন চ্যাপেলে। ফ্রান্সিস বেকন, থমাস ম্যাকলে এবং অন্যান্য ট্রিনিটি জ্যোতিষ্কের সঙ্গে চিন্তাশীল একজন আইজ্যাক নিউটনের ভাস্কর্য তার সামনে যেন তিন মাত্রায় কলেজের ইতিহাসটা সামনে নিয়ে এল। সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তিনি প্রথমবারের মতো দেখতে পেলেন এ কলেজের যেসব সদস্য প্রথম মহাযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের নাম চ্যাপেলের দেয়ালে খোদাই করা আছে। অমর্ত্য সেন বলছেন, ‘আমার বিশ্বাস হতে চায়নি ট্রিনিটির এতজন নিহত হয়েছেন এবং বিষয়টা বুঝে ওঠা যে তারা সবাই এসেছিলেন ঠিক একই কলেজ থেকে, একই বয়স-গোষ্ঠীর, ঠিক চার বছর ধরে চলা একটা যুদ্ধে, ধ্বংসের মাত্রা আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছিলাম না, চ্যাপেলের ভেতর একটা কাঠের বেঞ্চে বসে পড়তে হলো ঘটে যাওয়া নৃশংসতা উপলব্ধির চেষ্টা করতে।’

এমন কিছুটা বিচলিত অবস্থায় তিনি গ্রেট কোর্টের সৌন্দর্যে ফিরে এলেন এবং অন্তরাল পেরিয়ে জীবনে প্রথম দেখলেন স্যার ক্রিস্টফাররেনের নকশাকৃত নেভিলস কোর্টের উত্তেজনাপূর্ণ চমত্কারিত্ব। অমর্ত্য সেনের জীবনে দেখা অন্যতম সবচেয়ে সুন্দর ইমারত নেভিলস কোর্টের এক পাশে অবস্থিত রেন লাইব্রেরি (The Wren Library)। লাইব্রেরিটির ভেতরে প্রবেশ করে যখন পুরনো বইয়ের তাক দেখছিলেন এবং উঁচু জানালা ভেদ করে আসা সূর্যের আলোর দিকে চোখ তুলছিলেন, তখন অবাক হয়ে ভাবছিলেন প্রকৃতপক্ষে এমন একটা বিশিষ্ট সৌন্দর্য একজনের দৈনন্দিন কাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব কিনা।

যেই ভাবা, ঠিক সেই মুহূর্তে স্বল্প বয়স্ক হাসিখুশি এক নারী জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি নতুন ছাত্রদের একজন?’ অমর্ত্য অনুমান করলেন, ভদ্রমহিলা নিশ্চয় পাঠাগারের কর্মচারীদের একজন হবেন। তারপর ভদ্রমহিলা বলে চললেন, ‘আমি ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারিনি যে গ্রীষ্ম শেষে নতুন টার্ম সমাগত প্রায়। এসো তোমাকে চারপাশ ঘুরিয়ে দেখাই।’ এবং সেটি তিনি দক্ষতার সঙ্গেই করলেন। অমর্ত্য সেন নিজেকে প্রশ্ন করলেন, একজনের নিজস্ব সময়ের পছন্দ সাপেক্ষে এমন জায়গায় কাজ করার সম্ভাবনার চেয়ে আরো আকর্ষণীয় কিছু থাকতে পারে কিনা। ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, খুব ঘন ঘন তিনি সেখানে থাকবেন এবং স্বীকার করলেন, ‘যদিও অনেক কিছু আমার ভুল হয়, ওটা করেছিলাম একদম ঠিক।’

তিন.

পরের দিন সকালে তিনি তার টিউটর জন মরিসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। মরিসন বেশ উত্ফুল্ল এবং উষ্ণ অভিনন্দন জানাতে উন্মুখ ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। মরিসন একজন অর্থনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন প্রাচীন গ্রিকের প্রখ্যাত পণ্ডিত। পরিচয় পর্ব আর টুকিটাকি প্রশ্নোত্তর শেষে মরিসন অভিবাদনের অংশ হিসেবে অমর্ত্যকে  ‘শেরি’র (এক ধরনের মদ) প্রস্তাব দিলেন। অবশ্য অমর্ত্য সেন তা পানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করামাত্র মরিসন বললেন, ‘সেটা ঠিক আছে, নিজের কাজে লেগে যাও কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আমার শেরি পার্টিতে তোমাকে আসতেই হবে; আমি তোমাকে একটা কার্ড পাঠাব।’

অমর্ত্য সেন ওই পার্টিতে উপস্থিত হয়ে কয়েকজন সাথী-শিক্ষার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছিলেন কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে একটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। মরিসন একটা বড় গ্লাসে তাকে ‘মিষ্টি শেরি’ প্রস্তাব করলেন। শেরি এমন একটা পানীয়, যা অমর্ত্য আবেগপূর্ণতার সঙ্গে ঘৃণা করতেন এবং মিষ্টি শেরির প্রতি সেই ঘৃণা ছিল আরো তীব্র। কিন্তু মরিসনকে এটা বলতে খুব লজ্জা হচ্ছিল বিধায় তাকে মরিসনের দুই রুমের মধ্যে থাকা ফুলের টব খুঁজতে হয়েছিল। মরিসন যখন দেখলেন অমর্ত্যের গ্লাস খালি, মুহূর্তের মধ্যে ওটা পূরণ করে দিতে কার্পণ্য করলেন না। সুতরাং কিছুটা দ্বিধাগ্রস্তের পর অমর্ত্যকে আবারো সেই প্যাসেজের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে এরপর সাহস সঞ্চয় করে মরিসনকে তিনি বলেই ফেললেন, ‘অনেক ধন্যবাদ, দয়া করে আর না।’ মরিসনের সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষাতের আগে অমর্ত্য সেন খানিকটা স্নায়ুর চাপে প্রথমেই পরখ করে দেখতেন পুষ্পিত চারাটি তখনো সেখানে অক্ষত অবস্থায় ছিল কিনা এবং দেখেছিলেনও যে ভাগ্যক্রমে সেটা সতেজে বেড়ে উঠছিল।

চার.

কলেজে দ্বিতীয় সকালে ১০টার দিকে নেভিলস কোর্টে তিনি তার ডাইরেক্টর অব স্টাডিজ পিয়েরো স্রাফার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। অমর্ত্য গিয়ে খবর পেলেন যে তার অব্যবহিত সুপারভাইজার হতে চলেছেন মিস্টার কেনেথ বেরিল। বেরিলের সব গুণ থাকা সত্ত্বেও সেই মুহূর্তে অমর্ত্য সেন হতাশ হয়ে পড়লেন এই ভেবে যে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ট্রিনিটিতে আসার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল যে তিনি মরিস ডব ও স্বয়ং স্রাফার পথনির্দেশনায় কাজ করবেন। অমর্ত্য সেন তার হতাশা লুকাতে পারলেন না, ফলে এক পর্যায়ে স্রাফা খুব সহানুভূতিশীল হয়ে কিছুক্ষণ কেনেথ বেরিলের গুণকীর্তন করে অমর্ত্যকে মরিস ডবের সঙ্গে কথা বলতে বললেন এবং আশ্বস্ত করলেন, যেকোনো সময় তার সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ রয়েছে।

এক ফাঁকে একদিন প্রাক-অনুমতি নিয়ে মরিস ডবের সঙ্গে দেখা করলেন অমর্ত্য সেন। সুদূর কলকাতা থাকতেই অমর্ত্য তার বেশকিছু লেখা পড়ে ফেলেছেন এবং মতামত তৈরি করে রেখেছেন—এ খবর শুনে মরিস রীতিমতো বিস্ময় বস্ফািরিত। ট্রিনিটি কলেজে বহু বছর থাকাকালে মরিস ডব যখন খুব নিকটের বন্ধু হয়ে উঠলেন তখন পুরনো প্রসঙ্গ টেনে প্রায়ই বলতেন, তিনি অমর্ত্যের ‘অস্বাভাবিক অধ্যয়ন রুচির’ (Odd taste in reading) কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন। যাই হোক, অমর্ত্য সেনের দ্বিতীয় বর্ষে মরিস ডব তার প্রধান সুপারভাইজার হয়ে স্বপ্ন পূরণে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।

পিয়েরো স্রাফাকে অমর্ত্য সেন তার অতিরিক্ত সুপারভাইজার হিসেবে ভাবতেন। শুধু অর্থনীতির জ্ঞান নয়, তার কাছ থেকে তিনি খুব মনোজ্ঞ বিষয়ে ধারণা পেতেন। যেমন ‘Ristretto—এসপ্রেসো কফির প্রথম প্রবাহ, যেটা প্রারম্ভিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দেখা যায় এবং তারপর তোমাকে প্রবাহটা বন্ধ করতে হয়।’ অমর্ত্য সেন এখনো মনে করেন, ওই উপদেষ্টা ছিলেন তার জীবনে পছন্দ পরিবর্তনকারী সূচক। স্রাফা আরো বলেছিলেন, ‘তুমি এখন এমন এক জায়গায় এসে পড়েছ অমর্ত্য, যেখানে অর্থনীতিবিদরা সবসময় নতুন তত্ত্ব প্রস্তাব করতে ভালোবাসেন। এটা মন্দ হতে পারে আবার নাও হতে পারে কিন্তু তোমাকে বুঝতে হবে নিজের তত্ত্ব এক লাইনের স্লোগানে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত কেমব্রিজের অর্থনীতিবিদ কেউই মনে করেন না যে তার কাজ শেষ হয়েছে। কেমব্রিজে সেটা পরিহার করা কঠিন কাজ কিন্তু তোমাকে তা করতেই হবে। ‘অমর্ত্য সেন যখন কেমব্রিজ অর্থনীতির স্লোগানের মাইন পাতা এলাকার মধ্য দিয়ে পাড়ি দিচ্ছিলেন, তখন তার কাছে সেই উপদেষ্টাও উপকারী মনে হয়েছিল।

ট্রিনিটির শিক্ষকরা ছিলেন খুব ভালো অর্থনীতিবিদ; প্রত্যেকে তাদের নিজের মতো করে উদ্ভাবনক্ষম এবং উদ্দীপক কিন্তু তারা একে অন্যের সঙ্গে সহমতে ছিলেন না। ডেনিস রবার্টসন ছিলেন টরি দলের সমর্থক কিন্তু অমর্ত্য সেনকে বলেছেন, তিনি লিবারেলকে ভোট দিয়েছেন; স্রাফা ও ডব ঝুঁকেছিলেন বামে বেশি, বস্তুত ডব ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। এ তিনজনের মধ্যে তাত্পর্যপূর্ণ তফাত থাকা সত্ত্বেও একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে চলতেন।

একটা মজার গল্প আছে। প্রথমে রবার্টসন যখন ডবের কাছে ট্রিনিটিতে একটা চাকরির প্রস্তাব জানালেন, ডব তাত্ক্ষণিক সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু পরের দিন রবার্টসনকে মরিস ডব লিখতে বাধ্য হলেন, ‘আপনি যখন চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম যে এবং সেজন্য মাফ চাইছি, আমি ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য এবং সেই কারণে যদি আমাকে দেয়া আপনার দয়ালু প্রস্তাব তুলে নিতে চান, আমি আপনাকে জানাচ্ছি, সেক্ষেত্রে আপনাকে দায়ী করব না।’ তবে এর বিপরীতে মরিস ডব রবার্টসনের কাছ থেকে এক বাক্যের একটা উত্তর পেয়েছিলেন, ‘প্রিয় ডব, বোমা মেরে এই চ্যাপেল উড়িয়ে দেয়ার আগে আপনি যদি আমাদের এক পক্ষকালের নোটিস দেন, তাহলেই চলবে।’

পাঁচ.

দ্রুত অর্জিত বিএ ডিগ্রির জন্য দুই বছরের জন্য ট্রিনিটিতে থাকার কথা ছিল কিন্তু অমর্ত্য সেন প্রথম দশ বছর কাটিয়েছিলেন সেখানে (১৯৫৩-১৯৬৩): প্রথমে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট হিসেবে, তারপর একজন গবেষণা ছাত্র, তারপর একজন প্রাইজ ফেলো এবং অবশেষে একজন লেকচারার ও স্টাফ ফেলো হিসেবে।

অনেক অনেক দিন পর, বস্তুত এ পথ দিয়ে প্রথম অতিক্রান্তের ৪৫ বছর পর, অমর্ত্য সেন একদিন আচারনিষ্ঠ পোশাকে এসে দাঁড়ালেন দৃঢ়ভাবে—আটকানো ট্রিনিটির বড় তোরণের বাইরে। এ তোরণের এক প্রান্তে থাকা ছোট পথচারী দরজায় তিনবার টোকা দেয়ার পর প্রধান দারোয়ান দরজাটি খুলে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কে জনাব?’ এর উত্তরে যতটুকু আস্থা জোগাড় করা সম্ভব ততটুকু জুগিয়ে অমর্ত্য সেন বললেন, ‘আমি এ কলেজের নতুন মাস্টার।’ প্রধান দারোয়ান তখন জানতে চাইল, ‘আপনি কি পেটেন্ট চিঠি পেয়েছেন? প্রসঙ্গত, পেটেন্ট চিঠি হচ্ছে রানীর কাছ থেকে অমর্ত্য সেনকে ট্রিনিটির মাস্টার হিসেবে নিয়োগপত্র। ‘হ্যাঁ, আমি পেয়েছি’ বলেই অমর্ত্য সেন চিঠিটি তার হাতে তুলে দিলেন। দারোয়ান অমর্ত্য সেনকে জানাল, ‘গ্রেট কোর্টে সব সহকর্মী অপেক্ষা করছেন এ চিঠির সত্যতা যাচাই করার জন্য’ এবং তারপর খটাশ করে ছোট দরজাটি বন্ধ করে দিল। মাস্টার অমর্ত্য সেন বড় তোরণটির এখানে-সেখানে ইতস্তত ঘুরে বেড়ানোর সময় উপলব্ধি করছিলেন পরীক্ষার জন্য সহকর্মীদের মধ্যে তার চিঠিখানা ঘুরছে। এরই মাঝে মনে উঁকি দিল ১৯৫৩ সালের অক্টোবরের কথা, যেদিন ট্রিনিটি তোরণের ছোট দরজাটি দিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো এ কলেজে প্রবেশ করেছিলেন।

এক পর্যায়ে রাজকীয় নথিটির যথার্থতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গ্রেট গেটের বড় দরজাটি খুলে দেয়া হলো। ভাইস মাস্টার এগিয়ে এসে নিজের টুপি খুলে অমর্ত্য সেনকে বললেন, ‘ওয়েলকাম, মাস্টার।’ সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর—অবশ্য অনেককে তিনি এরই মধ্যে জানতেন—একটা আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয়ার জন্য ধীরে ধীরে চ্যাপেলের দিকে এগিয়ে গেলেন অমর্ত্য সেন আর মনে মনে ভাবলেন,

‘ট্রিনিটি এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমার বাঁধন প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বহুধা পরিচয়ের জটিলতাও আমার কাছে ঠিক পরিষ্কার হতে লাগল। এগুলো শুরু হয়েছিল কলকাতার থিয়েটার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলে এবং তা চলেছিল বোম্বেতে আমার SS Strathnaver জাহাজে চিন্তামগ্ন আরোহণ পর্যন্ত। যখনই ট্রিনিটির দরজা দিয়ে হেঁটে প্রবেশ করেছিলাম, শক্তিশালী সংযুক্ততা এবং অঙ্গীভূত হওয়ার অসাধারণ অনুভূতি নিয়ে এগুলো আমার মধ্যে আরো বেশি জাগরূক হতে শুরু করে।’

‘আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব

ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ, জীবন নব নব।’

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

 

আব্দুল বায়েস: অর্থনীতির অধ্যাপক; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক