পটভূমি
বিশ্বব্যাপী
পর্যায়ক্রমে করোনার
অভিঘাতের ক্ষয়ক্ষতির
মুখে সরকারপ্রধানের
দৃঢ়হস্ত কৌশলী
দিকনির্দেশনা ও
ব্যবস্থাপনার ফলে
বাংলাদেশ এক্ষেত্রে
বিশ্বে পঞ্চম
শ্রেষ্ঠ ও
দক্ষিণ এশিয়ায়
সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে
কভিড-১৯
মোকাবেলা করেছে।
তবে অর্থনীতি
বা সামাজিক
খাতের সর্বক্ষেত্রের
সফলতা একই
অনুপাতে হয়নি।
বিজ্ঞ প্রণোদনা
প্যাকেজের বৃহৎ
শিল্পের অংশ
প্রায় শতভাগ
কাজে লাগলেও
কুটির, ক্ষুদ্র
ও অতিক্ষুদ্র
শিল্পগুলোর গুরুত্বপূর্ণ
কর্মসংস্থান তথা
দারিদ্র্য ও
বৈষম্য প্রশমনকারী
উপখাতে বাস্তবায়ন
ততটা কার্যকর
হয়নি। ৫০
লাখ দরিদ্র
পরিবারের জন্য
নগদ অনুদান
এবং কৃষি
খাতের ভর্তুকি
দেয়ার ব্যাংক
হিসাবগুলোয় দুর্নীতি-কারচুপির
ভূত সওয়ার
হয়েছে। সরকারিভাবে
এ অভিযোগ
ঢালাওভাবে অস্বীকার
না করে
বিশ্বস্ততার সঙ্গে
এটি খতিয়ে
দেখা এবং
টেকসই ব্যবস্থা
প্রবর্তন জরুরি।
অর্জনে আরো
সংযুক্তি
সংবিধানের
বিধানগুলো এবং
জাতির পিতার
নির্দেশিত পথপরিক্রমায়
শেখ হাসিনা
সরকার অন্ন
ও বস্ত্রে
স্বয়ম্ভরতা এনে
দিয়েছে। আশ্রয়ণ
প্রকল্পের প্রথম
দিকের ত্রুটি
ও দুর্নীতি
দূর করে
এটিও প্রতিটি
কম ভাগ্যবান
নাগরিকের জন্য
মাথা গোঁজার
ঠাঁই করে
দেয়ার ভরসাস্থল
হয়ে উঠেছে।
অন্য দুটি
মৌলিক চাহিদা—স্বাস্থ্য
ও শিক্ষা
খাতে বঙ্গবন্ধুর
তিন বছর
সাত মাস
ছয় দিনের
শাসনামলের বাজেটের
অনুপাতে বরাদ্দ
পর্যায়ে পৌঁছতে
পারা যায়নি।
তদুপরি দুর্নীতি,
ইতস্ততা ও
অপচয় রোধেও
তেমন কার্যকর
নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা
গড়া যায়নি।
সামগ্রিকভাবে দেশ
পরিচালনায় কোনো
কোনো ক্ষেত্রে
সমন্বয়হীনতাও বেশ
ক্ষতির কারণ
হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সম্প্রতি ঘোষিত
সময়সূচির পরিবর্তে
যদি স্কুল-কলেজ
সকাল ৮টা
থেকে বেলা
৩টা এবং
অফিস-আদালত,
সদাগরী প্রতিষ্ঠানগুলো
যদি সকাল
১০টায় খুলে
৫টা বা
তারও পরে
বন্ধ হতো
তাহলে যানজট
কমাতে এবং
এনার্জি ব্যবহারে
সাশ্রয় হতো।
এমনকি বেশির
ভাগ মুসলিম
দেশসহ বিশ্বের
প্রায় সব
দেশে সোমবার-শুক্রবার
(দুপুর সাড়ে
১২টা পর্যন্ত)
কর্মসপ্তাহের কথাও
ভাবা যেতে
পারে। জানুয়ারি-ডিসেম্বর
অর্থবছর হলে
তো কথাই
নেই।
কভিড-১৯
ও বিশ্বের
অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর
অর্থনীতির বাজার
ক্ষমতা বলয়
সম্প্রসারণের রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধে বাংলাদেশও
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেখান থেকে
ঘুরে দাঁড়ানোর
পথে অকটেন,
পেট্রল, ডিজেল
ও কেরোসিনের
মূল্যবৃদ্ধি, বিনিময়
হারে দীর্ঘদিন
জমে থাকা
টাকার মানে
অবধারিত তুলনামূলক
বেশি হারে
অধোগতি (যদিও
একজন কর্তাব্যক্তি
বলেছেন একে
বাগে এনে
ফেলেছেন!), কর
ও অন্যান্য
খাতে রাজস্ব
আদায়ে সফলতার
অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের
দাপট স্বাভাবিক
মাত্রার চেয়ে
বেশি থাকা,
মুদ্রা পাচার
ঠেকাতে প্রত্যয়ের
অপ্রতুলতা, খেলাপি
ঋণ আদায়ে অনীহা,
ব্যাংক মালিকানায়
পারিবারিকতার ফলে
জাতির পিতার
সমতাপ্রবণ আর্থিক
নীতির উল্টোপথে
যাত্রা, কার্যকর
মনিটরিং ছাড়া
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
এবং আর্থিক
খাত বিশেষ
করে ব্যাংক,
বীমা ও
পুঁজিবাজারে সংস্কারের
কথা সদাশয়
সরকার বিবেচনা
করে দেখতে
পারে।
কিছু বাস্তবতা
সংস্কার
কর্মসূচি প্রণয়ন
ও বাস্তবায়নে
হাত দেয়া
দ্রুত করা
জরুরি। নিম্নোক্ত
তথ্য ও
অবস্থানগুলো এ
পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায়
নিতে হবে—
w জিডিপির
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি
একমুখী ইতিবাচক
হলেও ২০১৯-২০
অর্থবছরে শতকরা
৩ দশমিক
৪৫ শতাংশে
নেমে যায়
w মাত্র
১১টি দেশ
করোনাকালে ইতিবাচক
প্রবৃদ্ধি ঘটাতে
পারে); ২০২২-২৩
অর্থবছরে বাজেটে
প্রাক্কলিত শতকরা
৭ দশমিক
৫
শতাংশ প্রবৃদ্ধি
অর্জন সম্ভব
নাও হতে
পারে।
w বাজেট:
জিডিপি পরিমিতভাবে
অন্তত ২০
শতাংশ হওয়া
বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশে
এ অনুপাত
মাত্র একটি
বছর ১৮
শতাংশ পর্যন্ত
উঠলেও বর্তমানে
তা শতকরা
১৫ শতাংশেরও
কম কারণ
কর: জিডিপি
শতকরা ৭
শতাংশ ও
প্রবণতা নিম্নমুখী।
w জাতীয়
সঞ্চয়: জিডিপি
অনুপাত শতকরা
৩১ শতাংশ
থেকে নামতে
নামতে এখন
শতকরা ২৫
শতাংশে।
w আমদানি-রফতানি
খাতের নেতিবাচক
ভারসাম্য রেমিট্যান্স
প্রবাহ দিয়ে
মেটানো যাচ্ছে
না।
w ব্যাংক
ঋণের খেলাপি
বাড়ছে এবং
সুদ মওকুফের
নীতিজ্ঞানবিবর্জিত পরিমাণ
ও প্রবণতাও
ক্রমবর্ধমান।
w ২০২২-২৩
অর্থবছরের বাজেটে
প্রক্ষেপণ করা
মূল্যস্ফীতির হার
৫ দশমিক
৬ শতাংশ
বাস্তবসম্মত বলে
মনে হয়
না। পৃথিবীতে
মূল্য বাড়ছে।
w বর্তমান-আগামী
বছরে আউশ,
আমনের ফলন
কিছুটা হলেও
কমতে পারে।
বিবিএস আর
কৃষি মন্ত্রণালয়ের
মধ্যকার হিসাবের
গরমিল মেটানো
হয়ে গেলেও
তা এখনো
জনসমক্ষে প্রকাশ
করা হয়নি।
প্রস্তাবিত কয়েকটি পদক্ষেপ
১।
সুদের হারে
ছয়-নয়ের
বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার
করে মোটামুুটি
মুক্তবাজার অর্থনীতির
নিয়ামক পরিমণ্ডলে
সুদহার নির্ধারিত
হোক।
২।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
অত্যন্ত পটু
হাতে REER-এর
হিসাব করা
যেতে পারে
(তবে বাণিজ্য
পার্টনার বর্তমান
বাস্তবতার নিরিখে
পরিবর্তন/পরিবর্ধন
করা যেতে
পারে) এবং
সে অনুসারে
ম্যানেজড ফ্লোটিং
এক্সচেঞ্জ রেট
মোটামুটি দৃঢ়ভাবে
নির্ণয় করা
গেলে প্রত্যাশা/
জল্পনা কল্পনাজনিত
অনিশ্চয়তা কমানো
যেতে পারে।
৩।
বহুবিধ বিনিময়
হারের স্থলে
একক বিনিময়
হার চালু
করা হলে
রেমিট্যান্স ও
রফতানি বাড়বে।
স্থানীয় টাকায়
আমদানি খরচের
বৃদ্ধি সামাল
দিতে তেমন
গুরুত্বপূর্ণ নয়,
আমদানি দ্রব্য
(ফার্নিচার, গুঁড়োদুধ,
ফ্রিজ, এসি,
প্লাস্টিক ফুল,
বিস্কুট, আচার,
বাথরুম ফিটিংস,
সিডান গাড়ি
ইত্যাকার আমদানি
পণ্যে ব্যাপক
শুল্ক বাড়িয়ে
আমদানি খরচ
কমানো যাবে
অথবা শুল্ক
রাজস্ব বাড়বে।
এমনকি দুটিই
ঘটতে পারে।
৪।
করবহির্ভূত রাজস্ব
আদায়ে অটোমেশনের
ব্যবস্থা জোরেশোরে
সম্পন্ন করা
যেতে পারে।
কর কর্মকর্তাদের
ঐচ্ছিক ক্ষমতা
এবং প্রণোদনার
নামে একজনও
যেন জবরদস্তি
করতে না
পারেন তা
নিশ্চিত করা
জরুরি। দেশে
আড়াই কোটি
লোকের মাথপিছু
আয় বছরে
৫ হাজার
মার্কিন ডলার
অর্থাৎ ৫
লাখ টাকার
মতো; সুতরাং
প্রতি বছর
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ
করদাতার সংখ্যা
১০ লাখ
বৃদ্ধি করে
২০২৪-২৫
অর্থবছরে ৫০
লাখে বৃদ্ধি
করার সর্বাত্মক
প্রণোদনা—চোখ
রাখানো প্রচেষ্টা
চালু করা
যেতে পারে।
তবে রাজস্ব
আদায়কারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
অফিস ও
বাসস্থানের জন্য
যে উন্নততর
ব্যবস্থা করা
হচ্ছে তাতে
আরো অগ্রাধিকার
দেয়া যেতে
পারে।
৫।
দ্বিতীয় রিফাইনারি
স্থাপন প্রকল্পে
অগ্রাধিকার দেয়া
যেতে পারে।
৬।
ডিজেল ও
কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির
বিষয়টি পুনর্বিবেচনা
করা যেতে
পারে।
৭।
ইটলসের ২০১২-১৪
সালে পাওয়া
যুগান্তকারী ইতিবাচক
রায়ের আলোকে
গ্যাস উন্নয়নে
ব্যাপক বিনিয়োগ
জরুরি। উত্তর
বাংলার উন্নত
মানের বিটুমিন
কয়লাকে ওপেট
পিট আহরণে
অন্তত ২০
হাজার মেগাওয়াট
বিদ্যুৎ উৎপাদনের
যে হিসাব
বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন
তাতে মনোযোগ
দেয়া যেতে
পারে।
৮।
যেসব মেগাপ্রকল্পে
স্বল্প বা
মধ্যমেয়াদি ঋণ
আছে সেগুলোকে
ধীরগতি করে
ঋণের পুনঃতফসিল
চেষ্টা করা
যেতে পারে।
আমাদের পরামর্শ
অগ্রাহ্য করে
২০১৩ সাল
থেকে বেসরকারি
খাতে বৈদেশিক
মুদ্রায় ঋণ
নেয়ার বিষয়টিতে
যে বিপুল
দায়ভার জমেছে
সে সম্পর্কে
সজ্ঞান, সতর্ক
ও দৃঢ়
পদক্ষেপ সুপারিশ
করা হলো।
বৈদেশিক ঋণের
বার্ষিক সুদ
ও মূল
অংশ পরিশোধে
বর্তমানে বাংলাদেশের
অবস্থান অত্যন্ত
ভালো। প্রাণঢালা
সাধুবাদ দিতেই
হয়।
৯।
অপ্রয়োজনীয় বা
কম প্রয়োজনীয়
প্রকল্প স্থগিতের
প্রুনিং প্রক্রিয়া
চলমান থাকতে
পারে। বড়
মেগা প্রকল্পগুলোর
মনিটরিংয়ে বস্তুগত
অগ্রগতির সঙ্গে
আর্থিক খরচের
সময় নির্ঘণ্ট
কঠোরভাবে নির্ণয়
করে তবেই
প্রকল্প সম্পর্কে
সঠিক মূল্যায়ন
করা সম্ভব
হবে। পরিকল্পনা
কমিশনের আইএমইডিকে
ক্ষমতায়িত করে
অথবা সরকারপ্রধানের
জন্য একটি
উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন
করে শতকরা
৮০ শতাংশ
অর্থ খরচকারী
প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু
তদারক নিশ্চিত
করা যেতে
পারে।
১০। একটি
আর্থিক খাত
সংস্কারের মাধ্যমে
ব্যাংকিং ও
অন্যান্য অর্থ
সেবা খাতে
সুশাসন আনা
জরুরি হয়ে
পড়েছে।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব; বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর










