করোনায় জীবনহানি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে সারা বিশ্বে এবং আমাদের দেশের কারো দুশ্চিন্তার কমতি নেই এবং সেটাই স্বাভাবিক। সেই যে গত ডিসেম্বরে শুরু হলো, কভিড-১৯-এর তাণ্ডবলীলা ক্ষান্ত হয়নি কোনো দেশে। প্রাণহানি কোন পর্যায়ে যাবে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় কোন রূপ নেবে, তা উন্নত, উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত কোনো দেশই নিশ্চিত নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় টিকা উদ্ভাবনে আশার আলো নিয়ে এগিয়ে এসেছে, মানবদেহে তার পরীক্ষণ শুরু হলেও বলা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরের আগে প্রতিরোধী টিকা হিসেবে এর সাফল্য নিশ্চিত হয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব না-ও হতে পারে। তার মানে ২০২০ সালে কম করে হলেও বিশ্ব এবং আমাদের দেশে বিভিন্ন মাত্রিকে এর তাণ্ডব চলমান থাকবে ধরে নেয়া যায়। কভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে আমাদের দেশে অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও গণপরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে, গৃহাভ্যন্তরে থাকার ঘোষণা দেয়। সমাজের অনেক শলাপরামর্শ-প্রস্তাবনা উপদেশ প্রাপ্তির আগেই সরকার দ্রুতই শিল্প, সেবা, রফতানি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মহীন শ্রমজীবী, দরিদ্রদের পোষণে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করতে থাকে, যার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা। আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচির কিছু তথ্য ধরা প্রাসঙ্গিক হবে:
ক) ১. বিনা মূল্যে খাদ্য সরবরাহ, ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা; ২. ১০ টাকা কেজিতে খোলাবাজারে চাল বিক্রি, ২৫১ কোটি টাকা; ৩. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধিকরণ, ১০০ দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলায় সব দরিদ্র পরিবারকে সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা, ৮১৫ কোটি টাকা; ৪. একই সঙ্গে গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেয়া। এজন্য এই অর্থবছরে ৬৩০ কোটি টাকা এবং পরের অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; খ) ব্যাংকগুলোয় মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে মুদ্রা সংরক্ষণের হার কমিয়ে দেয়া, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেয়ার সুদহার কমিয়ে দেয়া, ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতির হার কমানো। এতে লেনদেনে ব্যাংকগুলোর হাতে কয়েক লাখ হাজার কোটি টাকার মজুদ বৃদ্ধি পাবে; গ) গার্মেন্ট শ্রমিকদের অন্তত তিন মাসের বেতন দেয়া যায়, সেজন্য ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল ঘোষণা; ঘ) শিল্প ও সেবা খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে (এতে সরকার ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে) রাখা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা; কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য ৪ শতাংশ সুদে (সরকার বহন করবে ৫ শতাংশ সুদ) ২০ হাজার কোটি টাকা; ঙ) রফতানি উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি করা হয়েছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। রফতানিকারকদের সহায়তা দেয়া হবে শিল্প উপকরণ আমদানির জন্য মাত্র ২ শতাংশ সুদে; চ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আমদানি-রফতানির জন্য প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণের ব্যবস্থা ৭ শতাংশ সুদে ৫০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ; ছ) ডাক্তার, নার্স ও সহায়ক ব্যক্তিদের বিশেষ সম্মানী এবং এদের জন্য স্বাস্থ্য ও জীবন বীমার ব্যবস্থা; জ) দিনমজুর, হকার, রিকশাওয়ালা, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, যারা কাজ হারিয়েছেন তাদের জন্য ৮০ কোটি টাকার সহায়তা তহবিল; ঝ) মূল্যসহায়তা হিসেবে ধান-চাল সংগ্রহ হবে এ বছর অতিরিক্ত ২ লাখ টন; ঞ) খামার যান্ত্রিকায়ন ভর্তুকি ২০০ কোটি টাকা; ট) বিএডিসির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বীজ, সার, চারা সরবরাহের জন্য ১৫০ কোটি টাকা। এটা আগের বরাদ্দকৃত ৯ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত; ঠ) ৪ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্র ও মধ্যম কৃষকদের, ফুল-ফলচাষীদের, মত্স্য, ডেইরি ও মোরগ-মুরগি খামারিদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা।
মোট এসব সহায়তার পরিমাণ ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে ১১ হাজার ২৪৯ ও আমাদের দেশজ আয়ের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। যতদূর জানা গেছে, ভারতে মোদি সরকারের সব সহায়তা কর্মসূচির মোট ব্যয় সে দেশের দেশজ আয়ের ১ শতাংশের কিছু বেশি। ভারতের মোট দেশজ আয় বাংলাদেশের প্রায় ১১ গুণ। এ-যাবৎ বাংলাদেশ তার সাধ্যমতো সবকিছুই করছে। দেশীও মুদ্রাবৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বাধিক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে অর্থনীতিকে সক্রিয় ও উজ্জীবিত রাখার জন্য।
এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ও ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য চাহিত সহায়তার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরছি।
ক) এডিবি থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরো সহায়তার জন্য অর্থমন্ত্রী মহোদয় অনুরোধ করেছেন; খ) এআইআইবির সঙ্গে কভিড-১৯ বিপর্যয় মোকাবেলায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান; গ) বিশ্বব্যাংকও কভিড-১৯ মোকাবেলায় নিয়োগ উন্নয়ন সহায়তায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অবমুক্তি ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে; ঘ) জাইকাকে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংক, ইইউ, ডিএফআইডিকে অতিরিক্ত সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শেষাংশ
১. আর্থিক ঋণসহায়তা, প্রণোদনা ও ২. দরিদ্রদের জন্য ভরণ-পোষণে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুটো ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দক্ষতা অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। বান-বন্যা, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় সারা দেশে সংঘটিত হয় না। অঞ্চলবিশেষ ও স্থানিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্ধার তত্পরতা ও রক্ষণে বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন এই বিপর্যয় সারা দেশে, এটা এক-দুদিনের ঘটে যাওয়া দুর্যোগ নয়। দুর্যোগ ও তার মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছবে কেউ জানে না। করোনা নিবৃত্ত হতে কমপক্ষে ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে যাবে প্রতীয়মান হয়। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিবিএসের হিসাবমতে, মধ্যম ও হতদরিদ্র মিলিয়ে দরিদ্রের সংখ্যা পাঁচ কোটি (মৃদু দরিদ্র ৩ কোটি ২০ লাখ, হতদরিদ্র ১ কোটি ৭০ লাখ), যা সর্বশেষ গৃহ আয়-ব্যয় জরিপ বলছে। কর্মহীনতার ফলে নতুনভাবে দারিদ্র্যে নিপতিত হওয়া যোগ করলে দরিদ্র এখন হতে পারে সাড়ে ছয় থেকে সাত কোটি এবং তাদেরকে আগামী ছয় মাসের জন্য ভরণ-পোষণ বিশাল চ্যালেঞ্জ আর্থিকভাবেই, আর ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ সম্ভবত আরো বিশাল। সারা দেশ লকডাউন পরিস্থিতিতে থাকলে অভাব ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ দুটোই কঠিনতর হয়ে উঠবে। আয়হীনতা ও ক্ষুধা চ্যালেঞ্জ লাঘব করতে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নতুন কৌশলে মানুষকে কর্মে ফেরাতে হবে। ব্যাপক লকডাউন দেড় থেকে দুই মাসের বেশি ছাড়িয়ে গেলে অন্য কিছু নয়, আয়হীনতা ও খাদ্য-খাবারের অপর্যাপ্ততায় বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে শ্রমজীবী মানুষ। লকডাউন বিষয়টি কেবল নতুন নয়, সামাজিক দূরত্ব আসলে আমাদের গণসংস্কৃতির পুরো বিরোধী। রাত ১০-১১টার আগে আমাদের দোকানপাট বন্ধ হয় না, আড্ডা থামে না। ওয়াক্তিয়া নামাজ ও মসজিদের ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষজন দলবেঁধে জামাত পড়ে। আমার নামাজি বাবা-দাদা আগে শুক্রবারে সেজেগুজে জামাতে যেতেন। আমাদের সামাজিক অস্তিত্ব তিন সত্তায় প্রকাশিত—পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। পাশ্চাত্যে আছে কেবল পরিবার ও রাষ্ট্র। সেখানে সমাজ নেই। তারা ভাবে ‘হোম ইজ প্যারাডাইজ’, সমাজ নেই, সেই আমেরিকায় যেখানে লাখ লাখ আক্রান্ত, লক্ষাধিক মৃত্যু, কয়েক সপ্তাহের লকডাউনে এখন মিছিল করছে, প্রতিবাদ করছে লকডাউনের বিরুদ্ধে।
শেষাংশের ১ ক্রমিক নিয়ে এখন আলোচনায় উপসংহার টানব। গত ২৬ মার্চ থেকে আমাদের অফিস, দোকানপাট, কলকারখানা বন্ধ ঘোষণার আগের দিন ২৫ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকের এক উপসম্পাদকীয় নিবন্ধে উল্লেখ করেছিলাম আমাদের করোনা সংক্রমণ রোধ তথা জীবন রক্ষা ও অর্থনীতি রক্ষা—এই দুই ফ্রন্টেই একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। একথা মনে করি আরো স্পষ্টতর হয়েছে, সেটা আজও বলব। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রথমত পুনর্বাসন, সেই সঙ্গে আর্থিক প্রণোদনা ও বিদেশী সহায়তা কাজে লাগাতে যতদূর সম্ভব বাজার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বাজার কার্যক্রম মানে উৎপাদককে কাজ করতে দেয়া, বিশেষভাবে প্রথমত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যসামগ্রীর। উৎপাদক কাজ করবে তখনই, যখন পণ্য ভোগ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতের সুযোগ থাকবে। ধরুন বৃহত্তর কৃষির ক্ষেত্রে, যা আমাদের জীবনধারণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্য দেয়। ফসল মাড়াই, কর্তনে শ্রমিক (শ্রমবাজার) প্রয়োজন হবে। শ্রমবাজার বন্ধ থাকলে কৃষি অচল। শ্রমিক চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। পণ্য বাজারজাতে ফড়িয়া, বেপারি, পাইকার, মিলার, আড়তদারদের সক্রিয় থাকতে হবে, পণ্য চলাচলে পরিবহন ব্যবস্থা চালু থাকতে হবে। খুচরা ক্রেতার জন্য বাজার উন্মুক্ত থাকতে হবে। পণ্য উৎপাদন ও বাজার কার্যক্রম চালু না থাকলে উদ্যোক্তারা যত স্বল্প সুদেই হোক, ঋণ কেন নেবেন? অর্থাৎ দেশজ ও রফতানি বাজার উন্মুক্ত না থাকলে সব আর্থিক প্রণোদনা ও ঋণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকবে, ওগুলো কোনোই কাজে আসবে না। ফসল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, দুধ বাজার চালু থাকা ছাড়া ভোক্তার কাছে পৌঁছবে না, ধ্বংস হবে। খাদ্যপণ্যের বাজার চেইন বন্ধ হলে মানুষকে ঘরে আবদ্ধ রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। শুধু খাদ্যপণ্য কেন, ওষুধ, লবণ, তেল, জীবাণুরোধক, ম্যাচবাক্স, এসব না হলে কীভাবে ও কত দিন মানুষ ঘরে থাকবে? বিকাশ, রকেট, নগদ এসবের এজেন্ট দোকান বন্ধ, টাকা পাঠানো যাচ্ছে না, মোবাইল রিচার্জ করা যাচ্ছে না—এসব কত দিন বন্ধ থাকবে? দুদিন, পাঁচদিন, না হয় চার সপ্তাহ; বাজার সহায়তা না পেলে জীবন অচল হতে বাধ্য। বাজারহীন অর্থনীতি সবার জন্য মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে আনবে।
তাহলে কথা হবে, অদৃশ্য মহাশত্রুকে ঠেকাব কেমন করে? মৃত্যুসংখ্যা কমিয়ে রাখব কেমন করে? পথ ও পন্থা খুঁজতেই হবে, দুকূল রক্ষা হবে কীভাবে? এখন আমাদের ঠেকেই শিখতে হবে। এজন্য বাইরে কোথাও আমাদের মডেল নেই। ঘরের ভেতরে ও বাইরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার, দস্তানার ব্যবহার, হাত ধোয়া, থুতু-কফ না ছিটানো, জীবাণুনাশকের ব্যবহার, ভিড় হতে না দেয়া, সমাবেশ, জামাত, জমায়েত বল প্রয়োগ করে হলেও বন্ধ রাখা, ব্যাপক পরীক্ষণ চালিয়ে যাওয়া, আইসোলেশন, সংঘনিরোধ নিশ্চিত করায় তো বাধা নেই। ১৪ দিনের সংঘনিরোধ শেষ করে শ্রমিকদের পাঁচ-দশজন করে শুরু করে কয়েকশ কিংবা হাজার হলেও বড় বড় রফতানি শিল্প-কারখানায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে শিল্প চালু রাখা, বেকারিতে, ইটখলায় শ্রমিকরা কর্মস্থানে থাকে। সংক্রমণভিত্তিক স্থানিক লকডাউন অব্যাহত রাখা হোক। পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলাচল করতে দেয়াই হতে হবে আমাদের কৌশল। বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত আমাদের দেশে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চেয়ে যথেষ্ট বিকশিত। সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে চালু করা জরুরি। করোনার বাইরেও বহু রোগে মানুষ ভুগছে। কার্যত বেসরকারি হাসপাতালগুলো পুরো খুলছে না। কয়েক ঘণ্টার জন্য জুনিয়র ডাক্তার দু-একজন এসে কয়েক ঘণ্টা খোলা রেখে আবার বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন বড় বেশি প্রয়োজন।
সরকারি-বেসরকারি ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় সর্বাধিক প্রাধান্য দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি প্রাধান্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সর্বাধিক যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এবং সবাই অভিজ্ঞতাবিহীন এক চরম যুদ্ধে নিপতিত। অভিযোজনের নতুন অভিজ্ঞতায় আমাদের সবাইকে অভ্যস্ত হতে হবে, সবাইকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এসব মেনে অফিস-আদালত যতটা সম্ভব চালু করা যেতে পারে। ব্যাংক ও বাজার সময় বাড়িয়ে দেয়া যায়। ভিড় কমানোর জন্য হাটবাজার খোলা মাঠে নেয়া সুন্দর কৌশল। এ রকম উদ্ভাবনে আমাদের যেতে হবে। ভিড় কমাতে শিল্প-কারখানায় শিফট চালু করা যেতে পারে। সব বন্দর পূর্ণ চালু হোক। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে পিকেএসএফসহ দরিদ্রদের সহায়তায় সব এনজিও কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া উচিত। এখন ডিজিটালাইজেশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারে যেতে হবে। মেনে নিতে হবে করোনা মহামারী আমাদের এক নতুন জীবনাচারে উপনীত করেছে।
ড. শামসুল আলম: অর্থনীতিবিদ ও সামষ্টিক পরিকল্পনাবিদ










