ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। একটি বহুল আলোচিত ও বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে ওঠে। সেই জায়গা থেকে ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যমতে, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে আনুমানিক ৩৩ শতাংশ। শেষ দিকে এসে মোট ভোটার উপস্থিতি ৪০-৪৭ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে কম সংখ্যক ভোট পড়ার ইঙ্গিত দেয়। এতটা প্রত্যাশিত একটি নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ যদি এর মধ্যে সীমিত থাকে, তাহলে সেটি দুঃখজনক এবং একই সঙ্গে ভাবনার কারণ।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। চূড়ান্ত ভোট গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই কেন্দ্র ত্যাগ না করা, ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে টানানো পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা—এগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কম টার্নআউটের নির্বাচন সবসময়ই ফলাফল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—আজকের এ নির্বাচনের দিকে শুধু দেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশ কীভাবে একটি প্রতিযোগিতামূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, সেটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি বার্তা বহন করে।

শেষ পর্যন্ত যেই দল বা প্রার্থীই বিজয়ী হোক না কেন, এ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা, সুষ্ঠুতা ও শান্তিপূর্ণ চরিত্রই তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি হবে। কারণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাই ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার বৈধতার ভিত্তি গড়বে। সেই জায়গা থেকে আজকের ভোট শুধু একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

সামিনা লুৎফা: অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়