মিয়ানমারে বজায় থাকা বিবর্তনশীল ডিনামিকস বিপুল আশা জাগাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই ওই দেশে ঘটা ঘটনা সম্পর্কে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। এসব উদ্বেগ মূলত নতুন সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এবং মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সেসব ঘটনায় কীভাবে সাড়া দিচ্ছে তা ঘিরে। অবশ্য ওইসব উদ্বেগে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কোনো শর্ত কিংবা সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। আবারো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেখাচ্ছে যে তাদের সামনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেসব চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে, সেগুলো তারা সহজেই পাড়ি দিতে পারে। তাদের দিক থেকে এ ধরনের সাড়া বড়ই নির্দয় ও ভাবলেশহীন প্রমাণ হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে যে মিয়ানমারের  সেনাবাহিনী বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে আবারো ব্যাপকতর সাঁড়াশি অভিযান-আক্রমণ চালিয়েছে, যে গোষ্ঠী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছে। এই মাসব্যাপী অভিযানে আপাতত  বেসামরিক  লোকজনের নির্বিচার গুলি এবং গ্রামগুলো পুড়িয়ে  দেয়া হয়েছে। এতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এই অভিযানের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আরকান আর্মির অতর্কিত হামলার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিশোধ, যাতে তিনজন সীমান্ত পুলিশ ও একজন সিভিলিয়ান ড্রাইভার মারা গেছেন। এটি স্পষ্ট যে এই অভিযান পরিচালনায় তাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা ছিল না এবং এটিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরেকটি নির্মম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পাঁচটি গ্রাম ও রথেনডং শহর এএ যোদ্ধারা ঘিরে ধরার তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করেছে। আবশ্যিকভাবে এই অভিযান ছিল ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল, তারই পুনরাবৃত্তি। ফলে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। সর্বসাম্প্রতিক এই অভিযান আরো বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও রাখাইনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসনের আশা আরো নিষ্প্রভ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক সংস্থাটির রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অধিকতর সক্রিয় ভূমিকার তাত্ক্ষণিক ঘাটতিকে অনেক পর্যবেক্ষক ‘সম্পূর্ণ লজ্জাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মিয়ানমার সদস্য রাষ্ট্র হলেও সত্যিকার অর্থে আসিয়ান আলোচ্য সংকট সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি কিংবা রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকট ও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের (যে  দেশটি  কোনো আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্র নয়) সম্পর্কে কোনো কথা বলেনি। পুরো ইস্যুটিই কার্পেটের নিচে চাপা দেয়া হয়েছে। ফলে আলোচ্য সংকট দুর্বলভাবে সামলানোর জন্য আসিয়ান সংস্থাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। 

ভূকৌশলবিদরা সাধারণভাবে সম্মত যে একটি আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে আসিয়ান রোহিঙ্গা সংকট অ্যাড্রেস করার ব্যাপারে খুব কমই আগ্রহী। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মানবিক দিক সম্পর্কিত বিভিন্ন ফ্যাক্টরে জোর দেয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত কম প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। মানবাধিকার ইস্যু এবং মিয়ানমারে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বদের বঞ্চিত করতে দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের দিক থেকে রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে তাদের উন্মুক্ত কোনো মতদ্বৈধতা নেই। সবারই জানা যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ডকুমেন্টেশন থেকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে সেখানে নানা ইচ্ছাকৃত উদ্যোগ জারি রয়েছে। অধিকন্তু, একটি বৈষম্যমূলক আইন বলবৎ রয়েছে, যা এমনকি রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক নাগরিকত্বও হরণ করেছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ গত ৩০ বছরে তিন মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ত্যাগে বাধ্য করেছে। তারা এটা করেছে মূলত পদ্ধতিগত বিচার এড়াতে এবং তারা ১৯৯২, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উপর্যুপরি সহিংসতা চালিয়েছে। নিজেদের নিরাপদ, আশ্রয় ও সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সন্ধানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ভারত,পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোয় শরণার্থী হিসেবে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের স্ট্যান্ডিং অর্ডার সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সর্বশেষ অপারেশন চালিয়েছে। তাদের দিক থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে যে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী কেবল স্বচ্ছতা নয়, কোনো ধরনের দায়বদ্ধতায়ও বিশ্বাস করে না। ২০২০ সালের ৩০ জুন আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দিক থেকে আরেকটি পদক্ষেপও নিতে দেখেছি। এটি ছিল লজ্জার এবং মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক সামরিক দায়মুক্তির উদাহরণ। উল্লিখিত সময়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের সামরিক আদালত তিনজন সামরিক কমর্কতাকে অভিযুক্ত করেছে। এই প্রহসনমূলক বিচারের মধ্য দিয়ে চলমান সরকারের অর্থবহ জবাবদিহিতা এড়ানোর বিষয়টিই ফের প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এক্ষেত্রে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যথার্থভাবেই পর্যবেক্ষণ করেছে যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অব্যাহতভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ পর্যাপ্তভাবে তদন্ত এবং তাদের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপকতর নির্যাতনের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি বছরের গত ৩০ জুন মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে দুজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈনিক গু দর পিয়ান ঘটনার সময়ে ‘নির্দেশনা অনুসরণে দুর্বলতা’র জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।  উল্লেখ করা যেতে পারে যে রাখাইন রাজ্যে গু দর পিয়ান গ্রাম ২০১৭ সালের ২৭-২৮ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞেরও স্থান ছিল, ফলে পরবর্তী মাসগুলোয় ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। অবশ্য মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দোষী সাব্যস্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদ, হত্যাযজ্ঞে তাদের ভূমিকা, শাস্তি এ ধরনের তথ্যগুলো দেয়নি। মেজর জেনারেল মিয়াট কাইওর নেতৃত্বাধীন সামরিক তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে কোর্ট মার্শাল শুরু হয়েছিল, যেটি ‘সৈনিকরা রুলস অব এনগেজমেন্ট পুরোপুরি না মানার বিষয়টি বিশ্বাস করার কোনো ভিত্তি’ খুঁজে পায়নি। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নাগাদ বুথিয়াডং শহরে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এটিকে ‘জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোকে প্রভাবিত করতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ছলনামূলক অগ্রগতি দেখানোর সর্বসাম্প্রতিক প্রচেষ্টা’ হিসেবে শায়না বাউচনার পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে ‘বিদেশী সরকারগুলোর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তকারীর জন্য দেশটির দরজা খোলার বিষয়টি দাবি করা উচিত। এটি অবশ্যই বলা দরকার যে স্বচ্ছতা ঘাটতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিচার প্রক্রিয়া কিংবা গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে সবিস্তার প্রকাশ করেনি। জেনারেল জ মিন তুন মন্তব্য করেছেন, সেনাবাহিনীর নৈতিক মানের ক্ষতি এড়াতে দেশটির সেনাবাহিনী তথ্য প্রকাশ স্থগিত রেখেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাদের মর্যাদা ও সার্ভিস বিবেচনা করতে হবে।’ এখানে এটিও দেখা দরকার যে মানবাধিকার গ্রুপগুলো, সংবাদমাধ্যমে এবং জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তথাকথিত বিচারিক চর্চা খুব সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করছে। তারা সেটি করছে এজন্য যে গু দর পিয়াইনের ওপর তাদের ব্যাপকভিত্তিক ডকুমেন্টেশন হাতে আছে। রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিয়েছে যে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকশ সশস্ত্র সৈনিক ও পুলিশ শহর ঘেরাও করেছিল এবং গ্রামবাসীদের গুলি করেছিল, যাতে তারা পালাতে না পারে। মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ সমর্থিত তথ্যানুসন্ধান মিশনও প্রতিবেদন দিয়েছে যে সৈনিকরা নারী ও উঠতি তরুণীদের গ্রাম থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল এবং সংলগ্ন মিলিটারি চত্বরে গণবলাত্কার করেছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অন্তত পাঁচটি গণকবর চিহ্নিত করেছিল, অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেয়ার আগে যেখানে সৈনিকরা মরদেহ পুঁতে রেখেছিল। একটি আনুমানিক হিসাবে ৩০০ থেকে ৪০০ রোহিঙ্গা খুন হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী গ্রামে তাদের প্রতিটি কাঠামোও পুড়িয়ে দিয়েছিল। এই দৃশ্যপটের দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, গু দর পিয়াইনে সামরিক হামলা সম্পর্কে উপস্থাপিত সব প্রমাণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অস্বীকার করা। অন্যদিকে তারা দাবি করেছিল যে মিয়ামনারের নিরাপত্তা বাহিনী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিও (আর্সা) [একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ] হামলার জবাব দিয়েছে, প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মাত্র। এটি উল্লেখ করা মজার হবে যে স্বচ্ছতার সর্বশেষ ঘাটতি সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে চুট পিয়াইন, মঙ্গ নো ও রাখাইন রাজ্যের অন্য গ্রামগুলোয় হামলার বিষয়ে সামরিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি বিস্ময়ের হবে না, যদি মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু বেসামরিক লোকদের শায়েস্তা করার ক্ষেত্রে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন খুঁজে পায়নি বলে দাবি করে বসে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪৪তম অধিবেশনে গত ১৪ জুলাইয়ের এক মৌখিক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপকতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধসহ অন্য ধরনের খারাপ আচরণের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আলোচ্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রেফার করার দাবি জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে তারা এ বিষয়ে যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিতেরও কথা বলেছে। তথাপি মিয়ানমার সরকার অব্যাহতভাবে দাবি করে—যেমনটা ৩০ জুন ২০২০ রোহিঙ্গা ইস্যুর ওপর চলা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনে করেছে—তারা ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ইচ্ছুক ও সমর্থ’ এবং ‘একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।’ তাদের এই মতের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল হবে তখনই, যখন মিয়ানমার জবাবদিহিতার বিষয়ে সিরিয়াস হবে, ইউএন ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ ম্যাকানিজম ফর মিয়ানমানমার, দ্য নিউ ইউএন স্পেশাল রেপার্টিয়ার অন মিয়ানমার এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টসহ (যেটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে নির্বাসন ও অন্য সম্পর্কিত অপরাধের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত রুজু করেছে) আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাম্বাসেডর ফর হিউম্যান রাইটস রিটা ফ্রেন্সও জুলাইয়ে বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার জন্য বর্বরতার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত অত্যাবশ্যক। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, তাত্পর্যজনকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ডকুমেন্টেশনের সংস্কার এবং রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশন ও ইনডিপেনডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারির পরামর্শগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে অনুমতি প্রদানের শর্ত শিথিলের মাধ্যমে এটি (পড়ুন শান্তি ও স্থিতিশীলতা) অর্জন হতে পারে। যুক্তরাজ্য আরো উল্লেখ করেছে যে সবচেয়ে জঘন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সাক্ষ্য সংগ্রহে ইনডিপেনডেন্ট ম্যাকানিজম ফর মিয়ানমারের মূল্যবান কাজকে তারা স্বাগত জানায়।

 

মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক বিষয়াদির বিশ্লেষক ও সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার

muhammadzamir0@gmail.com