পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
চীনে জমিদার-জোতদাররা মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল মোট আবাদি জমির শতকরা ৭০ ভাগ। বেশির ভাগ জমি দরিদ্র কৃষক ও ভূমিহীন মজুররা বর্গা নিয়ে ক্ষুদ্রায়তনেই চাষ করতেন। ১৯৫৩ সালের মধ্যে কৃষি ও গ্রামীণ সমাজের চেহারা পাল্টে যায়। ভূস্বামীদের ক্ষমতার ভিত্তি উৎপাটিত হয়। ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন সম্পর্ক সমাজে প্রাণ খুলে বিকশিত হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। প্রায় ৩১ কোটি মানুষ ভূমি সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ৩০ কোটি কৃষক যাদের খুব কম জমি ছিল কিংবা ছিলেন কৃষিমজুর- বর্গাচাষী, যাদের কোনো জমি ছিল না, ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে তাদের হাতে আসে প্রায় ১২ কোটি একর জমি। আর তার সঙ্গে তাদের হাতে আসে কৃষি যন্ত্রপাতি, গবাদিপশু ও থাকার জন্য ঘরবাড়ি। জমিদার-জোতদারদের বকেয়া খাজনাঋণ সব বাতিল করা হয়।
ভূস্বামীদের জমি বাজেয়াপ্ত ও তা বণ্টনের পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। প্রথমে প্রাচীন পারস্পরিক সহযোগিতার প্রথা অনুযায়ী গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগী দল। একে বলা হয় প্রাকসমবায় স্তর। ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বরে পার্টি গৃহীত নীতি অনুযায়ী কয়েকটি পারস্পরিক সহযোগী দল মিলে আধা সমাজতান্ত্রিক চরিত্রের প্রাথমিক সমবায় গঠন শুরু হয়।
এ কাঠামোতে
জমি,
কৃষি
যন্ত্রপাতি
ইত্যাদির
ওপর
সদস্যদের
ব্যক্তিমালিকানা
থাকত।
একসঙ্গে
আবাদ
হতো
এবং
জমি,
গবাদিপশু,
কৃষি
সরঞ্জাম
এবং
শ্রম
অনুযায়ী
ফসল
বিতরণ
হতো।
প্রথমেই জমি
জাতীয়করণ
না
করে
ক্রমান্বয়ে
যৌথ
চাষাবাদের
মধ্যে
সবাইকে
সম্পৃক্ত
করে
বৃহদায়তন
কৃষির
দিকে
অগ্রসর
হয়
চীন।
পার্টির
মধ্যে
একটি
মত
ছিল
আইনের
মাধ্যমে
সব
ব্যক্তি
মালিকানা
বিলুপ্ত
করে
শিল্প
কৃষিতে
রাষ্ট্রীয়
নিয়ন্ত্রণ
নিরঙ্কুশ
করার
পক্ষে।
এর
বিপরীত
মত
ছিল
যৌথ
চাষাবাদের
প্রবর্তন
না
করে
বাজার,
পণ্য
উৎপাদনের
বিধি
অনুযায়ী
ব্যক্তিমালিকানার
বিকাশের
মাধ্যমে
উৎপাদিকা
শক্তির
বিকাশ
ঘটানো।
শিল্প
খাতের
বড়
অংশ
বাজার
অর্থনীতির
নিয়মে
চালানোর
পক্ষেও
ছিলেন
তাঁরা।
আমদানি-রফতানি
ও
অভ্যন্তরীণ
ব্যবসা-বাণিজ্যে
সরকারি
নিয়ন্ত্রণেরও
তাঁরা
বিরোধী
ছিলেন।
মাও
সে
তুং
এ
দুই
বিপরীত
মতকেই
প্রত্যাখ্যান
করেছিলেন।
পার্টির
মধ্যে
দুটো
বিপরীত
মতের
বাইরে
থেকে
মাও
সে
তুং
রূপান্তরের
গ্রহণযোগ্য
ধারার
পক্ষে
পার্টিকে
যুক্ত
করছিলেন
অবিরাম
আলোচনা,
বিতর্ক
ও
গবেষণার
মধ্য
দিয়ে।
তবে
মত
দুটোর
সংঘাত
শেষ
হয়নি,
কোনো
মীমাংসাও
হয়নি।
বরং
৬০
ও
৭০
দশকে
এ
সংঘাত
আরো
তীব্র
হয়ে
ওঠে।
তার
নানা
দিক
আমরা
পরবর্তী
আলোচনাগুলোতে
আরো
পাব।
বস্তুত চীনে
বিপ্লবী
সরকার
ক্ষমতা
গ্রহণের
পরও
বেশ
কয়েক
বছর
ধনী
কৃষকসহ
ব্যক্তিমালিকদের
অবস্থান
বেশ
ভালো
মাত্রায়
ছিল।
গ্রামাঞ্চলে
ভূমি
সংস্কারের
পর্যায়ক্রমিক
অগ্রগতি
নিয়ে
এবং
ক্রমান্বয়ে
ব্যক্তিমালিকানাধীন
কৃষিকে
যৌথ
চাষাবাদ
ও
সমবায়ের
দিকে
নিয়ে
যাওয়ার
পক্ষে
মাও
সে
তুং
অনেক
লিখেছেন,
বক্তব্য
রেখেছেন।
সংক্ষেপে
তাঁর
চিন্তা
বোঝা
যায়
নিচের
বক্তব্যে:
‘চীনে
বিশাল
জনসংখ্যার
জন্য
অপর্যাপ্ত
জমি
(সারা দেশে
গড়পড়তা
মাথাপিছু
জমি
৩
মৌ,
দক্ষিণাঞ্চলের
প্রদেশগুলোর
বিভিন্ন
অঞ্চলে
মাথাপিছু
জমি
১
মৌ
কিংবা
তারও
কম)
রয়েছে।
প্রাকৃতিক
দুর্যোগ
খুবই
ঘন
ঘন
(প্রতি বছর
বিশাল
পরিমাণ
আবাদি
জমি
বন্যা,
খরা,
পোকা,
ইত্যাদি
দুর্যোগে
ক্ষতিগ্রস্ত
হয়)।...
বর্তমানে
বিক্রয়ের
মতো
খাদ্যশস্য
এবং
কাঁচামাল
উৎপাদনের
মাত্রা
খুবই
নিচু
কিন্তু
এগুলোর
জন্য
রাষ্ট্রের
চাহিদা
প্রতিদিনই
বাড়ছে
এবং
এতে
সৃষ্টি
হয়েছে
গভীর
দ্বন্দ্ব।...
দ্বিতীয়ত,
সমাজতান্ত্রিক
শিল্পায়নের
খুবই
গুরুত্বপূর্ণ
একটি
শাখা
ভারী
শিল্প,
যা
কৃষিতে
ব্যবহারের
জন্য
ট্রাক্টরসহ
বিভিন্ন
যন্ত্রপাতি,
রাসায়নিক
সার,
পরিবহনের
জন্য
আধুনিক
উপকরণ
ও
বিদ্যুৎ
উৎপাদন
করছে।
এগুলোর
সর্বোচ্চ
ব্যবহার
সম্ভব
হবে
তখনই,
যখন
বৃহদায়তন
চাষাবাদ
করা
যাবে
এবং
তা
সমবায়ের
মাধ্যমেই
সম্ভব।
আমরা
সমাজ
ব্যবস্থাতেই
শুধু
বিপ্লব
আনছি
না,
ব্যক্তিমালিকানাধীন
থেকে
সামাজিক
মালিকানায়
পরিবর্তন
শুধু
নয়,
পরিবর্তন
আনতে
হবে
প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে,
হস্তশিল্প
থেকে
প্রবর্তন
করতে
হবে
বৃহদায়তন
আধুনিক
যন্ত্রশিল্পের
এবং
এ
দুদিকের
বিপ্লব
ঘনিষ্ঠভাবে
সম্পর্কিত।...
এছাড়া
হালকা
শিল্পের
ব্যাপক
বিকাশের
জন্য
একই
সঙ্গে
কৃষি
এবং
ভারী
শিল্পের
বিকাশ
প্রয়োজন।’
১৯৫৬ সাল
নাগাদ
বিকশিত
কৃষি
সমবায়ের
উদ্ভব
হয়।
এ
পর্যায়ে
জমি
ও
কৃষি
সরঞ্জামের
মালিকানা
ক্রমে
সমবায়ের
হাতে
স্থানান্তরিত
হয়।
এসব
সমবায়কে
একত্রিত
করেই
১৯৫৮
সাল
নাগাদ
নতুন
একটি
উৎপাদন-প্রশাসনিক-সামাজিক
কাঠামো
উদ্ভূত
হয়
যার
নাম
কমিউন।
তিন
পর্যায়ে
এ
কাঠামো
কাজ
করত:
উৎপাদন
টিম,
উৎপাদন
ব্রিগেড
ও
কমিউন।
উৎপাদন
টিম
গঠিত
হতো
৩০
থেকে
৫০টি
কৃষক
পরিবার
নিয়ে।
এ
উৎপাদন
টিমের
কাজ
হলো
ব্যক্তিগত
খণ্ডজমি
বাদে
বাকি
জমি
ও
উৎপাদন
উপায়
নিয়ে
যৌথ
উৎপাদন
এবং
তার
বিতরণ
পরিচালনা।
কয়েকটি
উৎপাদন
টিম
নিয়ে
গঠিত
হতো
একেকটি
উৎপাদন
ব্রিগেড।
এর
সদস্য
৩০০
থেকে
৪০০
পরিবার।
ব্রিগেড
পর্যায়েই
উৎপাদন
উপকরণ
যৌথ
সম্পত্তি
হিসেবে
রাখা
হতো।
মেরামত
ও
পরিচালনাও
এ
পর্যায়
থেকেই
হতো।
কমিউন
গঠিত
হতো
এ
রকম
কয়েকটি
ব্রিগেড
নিয়ে,
যাতে
সদস্য
হিসেবে
থাকতেন
৪
থেকে
৫
হাজার
পরিবার।
কমিউন
কৃষি
বিষয়ে
পরিকল্পনা
ও
তার
বাস্তবায়ন
ছাড়াও
এলাকায়
গ্রামীণ
শিল্প,
শিক্ষা,
চিকিৎসা
কার্যক্রম
সমন্বয়
করার
দায়িত্বে
ছিল।
প্রশাসনিক
দায়িত্ব
পালন
ছাড়াও
পরিবেশ,
আইন
ও
সাংস্কৃতিক
দিকগুলোও
কমিউনের
দায়িত্বের
অন্তর্ভুক্ত
ছিল।
নারী প্রশ্ন
এ
সময়কালে
সামাজিক
আরো
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়গুলোতে
পরিবর্তনের
আইন
প্রণয়ন
ও
তার
পক্ষে
আন্দোলন
গড়ে
তোলা
ছিল
অত্যাবশ্যক।
এর
মধ্যে
নারী
প্রশ্ন
ছিল
খুব
গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজে
যেকোনো
শৃঙ্খলমুক্তির
আন্দোলন
নারীর
শৃঙ্খলকে
আঘাত
করে।
নারীর
জন্য
পরিসর
তৈরি
হয়।
আবার
নারীর
শৃঙ্খলমুক্তির
বিষয়টি
যথাযথভাবে
অন্তর্ভুক্ত
না
হলে
অন্য
কোনো
শৃঙ্খলমুক্তির
আন্দোলনও
সফল
হতে
পারে
না,
মুখ
থুবড়ে
পড়ে।
বস্তুত
চীনে
১৯১১
সাল
থেকে
সংঘটিত
বিভিন্ন
আন্দোলনে
ধীরে
ধীরে
নারীর
অংশগ্রহণ
বাড়তে
থাকে।
ওই
বছর
আন্দোলনে
অংশ
নিয়ে
কিউ
জিন
নামে
এক
নারী
শহীদ
হয়েছিলেন।
পরে
তিনি
চীনের
বিদ্রোহী
বিপ্লবী
নারীর
প্রতীকে
পরিণত
হন।
বিপ্লব পূর্বকালে
চীনে
প্রচলিত
বচন
থেকে
সমাজে
নারীর
অবস্থান
আন্দাজ
করা
যায়।
এলিজাবেথ
ক্রল
তাঁর
গবেষণাকালে
এসব
বচনের
একটি
তালিকা
তৈরি
করেছিলেন
যেমন,
‘নুডলস
যেমন
ভাত
নয়,
নারীও
তেমনি
মানুষ
নয়’,
‘স্ত্রী
হলো
কেনা
ঘোড়ার
মতো,
আমি
তাকে
চালাব
এবং
যখন
খুশি
চাবুক
মারব’,
‘স্বামীর
মৃত্যুর
পর
সতী
স্ত্রীর
কর্তব্য
হচ্ছে
মৃত
স্বামীর
প্রতি
বিশ্বস্ত
থাকা
এবং
আর
বিয়ে
না
করা’,
‘পুরুষের
স্থান
সর্বত্র,
নারীর
স্থান
শুধুমাত্র
রান্নাঘরে’,
‘নারী
যে
কুয়া
খুঁড়বে
তাতে
পানি
উঠবে
না,
যে
নৌকা
মেয়েরা
চালাবে
তা
পানিতে
ডুববে’।
প্রতিষ্ঠার পর
থেকেই
চীনের
কমিউনিস্ট
পার্টিতে
নারী
প্রশ্ন
গুরুত্ব
পেয়েছে,
তার
জন্য
নারী
কমরেডদের
অবিরাম
লড়াইও
জারি
ছিল।
দীর্ঘপথ
দীর্ঘ
সময়ে
চলা
লংমার্চ
পার্টির
ভেতর
নেতাকর্মীদের
মতাদর্শিক
সাংস্কৃতিক
অনেক
কিছুই
নতুন
করে
চিন্তা
ও
বিন্যস্ত
করার
মুখোমুখি
করে।
লংমার্চ
চীনের
বিভিন্ন
লোকালয়,
বিভিন্ন
জাতিকে
যেমন
অভিন্ন
লক্ষ্যে
যুক্ত
করে,
তেমনি
নারীকে
প্রত্যক্ষ
প্রকাশ্য
এবং
পুরুষের
সঙ্গে
যৌথ
লড়াইয়েও
যুক্ত
করে।
এসব
সর্বব্যাপী
লড়াইয়ে
নারীর
শারীরিক
উপস্থিতি
বিভিন্ন
কর্মসূচি
ও
নীতিগত
অবস্থানগুলোকে
ঠিকঠাকমতো
এগিয়ে
নেয়ার
জন্য
গুরুত্বপূর্ণ
ছিল।
বিপ্লবী ক্ষমতা
গ্রহণের
পর
১৯৫০
সালের
মে
মাসে
প্রবর্তন
করা
হয়
‘বিবাহ
সংস্কার
আইন’,
যা
হাজার
বছরে
নারীর
অধস্তনতার
আইনগত
ভিত্তি
ভেঙে
দেয়।
এ
আইনে
জোরপূর্বক
বিবাহ
নিষিদ্ধ
করা
হয়।
এ
আইনে
চীনের
ইতিহাসে
প্রথমবারের
মতো
বিবাহকে
সাবালক
নারী
ও
পুরুষের
স্বেচ্ছাচুক্তি
হিসেবে
অভিহিত
করা
হয়।
সম্পত্তি,
বিবাহ
বিচ্ছেদ
ও
সন্তানের
ওপর
নারী
সমান
অধিকার
লাভ
করে।
এ
আইনে
একই
সঙ্গে
পরিবারে
দুজনের
সমান
দায়িত্বও
নির্ধারিত
হয়।
বিবাহ
বিচ্ছেদ
অনেক
সহজ
করা
হয়।
বহুবিবাহ,
পতিতাবৃত্তি,
অবাঞ্ছিত
মেয়েশিশু
হত্যা
কঠোরভাবে
নিষিদ্ধ
করা
হয়।
তবে ব্যাপক
অর্থনৈতিক
রাজনৈতিক
প্রাতিষ্ঠানিক
পরিবর্তন
ছাড়া
এ
আইন
বাস্তবায়ন
সম্ভব
ছিল
না।
সেজন্য
ভূমি
সংস্কারসহ
বিভিন্ন
পরিবর্তনের
মধ্য
দিয়ে
জোতদার,
সমরপ্রভু,
বড়
আমলাসহ
সম্পত্তিশালী
গোষ্ঠীর
আধিপত্য
শৃঙ্খল
থেকে
যত
মানুষ
মুক্ত
হতে
থাকে
ততই
নারীর
জন্য
মুক্তির
পথ
প্রশস্ত
হয়।
কমিউন
ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠার
পর
নারীর
পক্ষে
লড়াই
আরো
সহজ
হয়।
সারা
দেশজুড়ে
শিল্প
ও
সেবা
প্রতিষ্ঠানে
শ্রমিকদের
আইনগত
অধিকার
নিশ্চিত
করা,
সর্বত্র
শিশুযত্ন
কেন্দ্র
প্রতিষ্ঠা,
প্রসূতিকালীন
ছুটি,
সমান
মজুরিসংক্রান্ত
আইন
প্রণয়ন
ও
বাস্তবায়ন
চেষ্টার
পাশাপাশি
চীনা
নারী
ফেডারেশনের
অব্যাহত
নজরদারি
এবং
মতাদর্শিক
সংগ্রাম
সমাজে
নারীর
অবস্থা
ও
অবস্থান
পরিবর্তনকে
অনেক
স্পষ্ট
করে
তোলে।
কিন্তু হাজার
বছরের
প্রথা,
চর্চা,
বিশ্বাস,
চিন্তার
আধিপত্য
দূর
করা
সহজ
ছিল
না।
তাই
১৯৫৬
সালে
‘নারী
ফেডারেশন’
পার্টি
কংগ্রেসে
যে
রিপোর্ট
প্রদান
করে
তাতে
বলা
হয়:
‘বর্তমান
সময়ে
তিনটি
সমস্যা
বিবেচনা
করতে
হবে:
১.
যদিও
নারী
ক্যাডারদের
সংখ্যা
বাড়ছে
কিন্তু
অনুপাত
অনুযায়ী
তাদের
সংখ্যা
খুবই
কম;
২.
যদিও
মেয়েদের
ক্ষমতা
এখন
আগের
তুলনায়
বেশি,
তবুও
তাদের
সাংস্কৃতিক,
বৈজ্ঞানিক
এবং
তাত্ত্বিক
চেতনার
মান
অনেক
নিচু;
এবং
৩.
নারী
ক্যাডারদের
বিপুল
অধিকাংশ
সন্তান
লালন
ও
গার্হস্থ্য
কাজেই
বেশি
সময়
ব্যয়
করেন।...
আমরা
দেখেছি,
কিছু
প্রতিষ্ঠান
ও
নেতৃস্থানীয়
ক্যাডাররা
পুরনো
ভাবধারা,
চিন্তা
ও
প্রথা
প্রশ্রয়
দেন,
যেগুলো
নারী
বৈষম্যবাদী।
তাঁরা
মনে
করেন,
‘তিনজন
নারীও
একজন
পুরুষের
সমান
নন।’
নারী
ক্যাডারদের
পদোন্নতির
প্রশ্ন
যখন
ওঠে,
তখন
নানারকম
সংশয়
সৃষ্টি
করা
হয়।
তাঁরা
মনে
করেন,
মেয়েদের
যদি
পদোন্নতি
দেয়া
হয়,
তাহলে
তাঁরা
সে
কাজের
জন্য
নিজেদের
যোগ্যতা
প্রমাণ
করতে
পারবেন
না,
সন্তান
প্রতিপালন
নিয়ে
নিজেরা
ব্যস্ত
থাকবেন
এবং
প্রতিষ্ঠানের
জন্য
বোঝা
হয়ে
উঠবেন।
সমান
দক্ষ
নারী
ও
পুরুষ
উপস্থিত
থাকলেও
পুরুষকেই
পদোন্নতির
জন্য
অগ্রাধিকার
দেয়া
হয়।’
বস্তুত আত্মসন্তুষ্টির
ঘোরে
আটকে
না
থেকে
নারী
প্রশ্নসহ
নানা
বিষয়ে
পার্টির
ভেতরে
এবং
বিভিন্ন
সংগঠনে
লড়াই
অব্যাহত
থাকে।
এর
মধ্যে
গ্রাম
ও
শহরের
চেহারা
দ্রুত
পাল্টে
যেতে
থাকে।
নারীর
আত্মবিশ্বাসী
উপস্থিতি
বাড়তে
থাকে
সর্বত্র।
দামি
গাড়ি,
বিদেশী,
বিদেশী
ব্যবসায়ী
প্রতিষ্ঠান
কমে
যায়
অনেক।
কমে
যায়
বিত্তশালীদের
শান-শওকত।
ভিখিরি
উধাও
হয়ে
যায়।
শহরে
যানবাহনের
মধ্যে
দ্রুত
বাড়তে
থাকে
নারী-পুরুষের
বাহন
সাইকেল।
(চলবে)
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক,
অর্থনীতি
বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়










