কোথাও পানি আর নিরাপদ নয়। ছোট্ট আয়তনের এ দেশে জনসংখ্যার আধিক্যের চাপে পানির চাহিদা সবসময় ঊর্ধ্বমুখী। নদীগুলো ভাঙনে আর বালি-পলি ভরাটে ক্ষীণ অবস্থা। ভূ-উপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের আগ্রাসন। শিল্পবর্জ্য-পয়ঃপ্রণালির পানিতে সয়লাব। পানির আধারে অবকাঠামো নির্মাণ, জাহাজ, লঞ্চসহ নৌ-চলাচলে পানি দূষিত। পুকুর, দীঘি, জলাধার ভরাট করা, বিনোদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে পানির ব্যাপক ব্যবহার হওয়ায় এটি তার সত্তাগত অবস্থানে নেই। ভূপৃষ্ঠের ওপর-নিচ সব পানি এখন বিষাক্ত। হরহামেশা পানিতে মিশে যাচ্ছে ক্ষতিকর নানা উপাদান। পুকুর, বিল-ঝিল, খাল, নদী, সাগর, মহাসাগর প্রতিটি মুহূর্তে সংযুক্ত হচ্ছে মানুষের মলমূত্র, নিত্যব্যবহার্য নোংরা পানি, শিল্পবর্জ্যসহ নানা ‘ওয়াটার পলিউশন’ উপাদান। ফলে ভূ-উপরিস্থ কিংবা ভূগর্ভস্থ যে পানিই হোক না কেন তা আর শুদ্ধ ব্যবহারে নেই। এ পানি ব্যবহার করলে মানুষ তথা জীবের শরীরে ক্যান্সারসহ আরো জটিল রোগ আশ্রয় নিতে বাধ্য।

সেকালে মানুষ হাওর-বাঁওড়, পুকুর-দীঘি, নদী-খাল, বিল-ঝিল, বৃষ্টি থেকে পানি সংগ্রহ করে তা পান করত। স্নানসহ নিত্যব্যবহারে এখানকার পানি কাজে লাগাত। এ পানিকে ব্যবহারকারীরা শুদ্ধ ও পানযোগ্য মনে করতেন। দিনে দিনে মানুষের এমন সব পানির আধার বা উৎস মানুষই বিষাক্ত করে তোলে। দিন দিন এখানকার পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা সেখান থেকে সরে আসেন। বলতে গেলে তারা পানির সে আধার থেকে আরো নিরাপদ উৎসে ফিরে আসেন। অগভীর নলকূপ থেকে গভীর নলকূপ খুঁজে পান। নতুন এ উৎস থেকে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি জোগাড় হতে থাকে। তারপর একটা সময় এসেছে, মানুষ ও জীবের চাপে বিশুদ্ধ পানির সে উৎস আজ আবারো আতঙ্কের আশ্রয়ে। বৃষ্টি কিংবা নলকূপের সে পানিও আজ বিষ ছুঁয়েছে। যে কারণে এখন পানি পান মানে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে জীবনের ঝুঁকিতে এসে দাঁড়িয়েছে। নলকূপের পানিতে আয়রন, আর্সেনিকসহ জীব শরীরের জন্য অনুপযুক্ত দ্রব্য মিশে গেছে। এমনকি বৃষ্টির পানিতে বেড়েছে ধূলিকণা আর অ্যাসিডের পরিমাণও। এখন পরিমাণমতো বৃষ্টি নেই। যা আছে তার গড় পরিমাণ অনেক কম। যেজন্য উপকূলীয় এলাকার পানিতে জলজ প্রাণী যেমন চিংড়িতে ‘হোয়াইট স্পট’ রোগসহ মরণব্যাধি জেঁকে ধরেছে। এখানে লবণের ঘনত্ব মাত্রা বেড়েছে। জোয়ারে পানি আরো উত্তরমুখী হওয়ায় সুন্দরবনের জলজ প্রাণী, বৃক্ষ, লতা, পশু-পাখিসহ সব জীবের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। যেজন্য অনেক প্রাণী হয়তো মাইগ্রেট হচ্ছে নতুবা বিলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে।

তথ্যানুসারে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলে গভীর ও অগভীর নলকূপ আছে ৮৬ লাখ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, দেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ এলাকা নিরাপদ পানির আওতায় এসেছে। দেশের জলাধারের মধ্যে নদী ও মোহনায় জলজ আয়তন আছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬৩ হেক্টর এলাকা। সুন্দরবন আছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা। বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬১ হেক্টর। কাপ্তাই লেক আছে ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর। পুকুর-দীঘি আছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭০০ হেক্টর আয়তন। মৌসুমি জলাশয় আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৩ হেক্টর। বাঁওড় আছে ৫ হাজার ৪৮৮ হেক্টর। কাঁকড়া ও চিংড়ি খামার ২ লাখ ৭২ হাজার ৭১৭ হেক্টর। আমাদের নোনা পানির আধার আছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার আয়তনের। সূত্র মত্স্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।

সমীক্ষা মতে, আগামী ২০৭০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃতিতে বরফ গলে পানির পরিমাণ বাড়বে। নানা কারণে আবার এ পানি দূষণ হয়। যেমন উষ্ণায়নের জন্য সাইক্লোন বা পানির ঘূর্ণিমাত্রায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ে। খরা, বন্যা আর বৃষ্টিপাত হয়। এজন্য মানুষ পানীয় পানির সমস্যায় পড়ে। ‘গ্রাসরুট জার্নাল অব ন্যাচারাল রিসোর্স’ সাময়িকীতে বলা হয়েছে, জমিতে ব্যবহূত রাসায়নিক সার, শত শত টন কেমিক্যাল পেস্টিসাইড, শিল্পবর্জ্য, গৃহস্থালির নোংরা পানি, ময়লার ভাগাড়ের চুয়ানো পানি, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নোংরা ও ময়লা পানি এবং পানিতে বিভিন্ন কারণে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ দূষণ সম্ভব হচ্ছে দ্রুত। দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরে এ ক্ষতিকর অদ্রবণীয় ক্ষতিকর উপাদান সবচেয়ে বেশি। দেশের কৃষিতে এ সফলতার পেছনে রয়েছে শত শত টন কেমিক্যাল পেস্টিসাইডের ব্যাপক মাত্রার ব্যবহার। যে কারণে মাটি যেমন তার প্রাকৃতিক শক্তিতে নেই বলে তার ক্রিয়া হাইব্রিড, হরমোন ও কেমিক্যালনির্ভর হয়ে গেছে। তার চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো, প্রতি বছর জমিতে ব্যবহূত শত শত টন কেমিক্যাল পেস্টিসাইড মাটি ভেদ করে পৌঁছে যাচ্ছে ভূগর্ভের জলস্তরে। কেননা দিনে দিনে নীরস মাটি এখন, কৃষি সেচনির্ভর হয়েছে। সেচের পানি ওপর  থেকে অপদ্রব্য বহন করে চুইয়ে চুইয়ে পৌঁছে যাচ্ছে গভীর পানির স্তরে।

দেশে পানির ভূগর্ভস্থ স্তর দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। কেননা হ্যান্ড টিউবওয়েল ও অগভীর নলকূপ ব্যবহার বাড়ছে। আমরা পানির প্রয়োজনে স্থিতিশীল স্তর পাচ্ছি না। পানির প্রয়োজনে আমাদের কৃষিতে, পরিবেশে, জনস্বাস্থ্যে ভাবনার উদ্বেগ ঘটেছে। মাটির নিম্নে পানির স্তরে নোনা পানির আগ্রাসন এগিয়ে আসছে। ফলে ছোট্ট এ বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশ যেমন বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা জেলা এগিয়েছে মরুময়ের দিকে। লবণের আগ্রাসন আমাদের ঘিরে ধরছে। যেমন মিষ্টি পানি এলাকার মানুষের জন্য প্রতিদিন লবণের প্রাপ্যতা মাত্র ৫ গ্রাম, কিন্তু উপকূলীয় এলাকার মানুষ বৈশিষ্ট্যগত কারণে প্রতিদিন গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৬ গ্রাম পর্যন্ত। বিশ্বে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে প্রতি পাঁচ বছর বয়সী শিশু মারা যায় প্রায় ১৫ লাখ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, দেশে ২৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৬৫টি সুপেয় পানির আধার রয়েছে। যার মধ্যে গভীর-অগভীর ও অন্যান্য উৎস রয়েছে।

আমাদের দেশ পানির হলেও আমরা নিশ্চিতভাবে নিরাপদ পানির ভরসা পাই না। আমাদের অফুরন্ত পানিতে বিষ যেমন হানা দিচ্ছে প্রতিক্ষণ, আবার আমাদের পানির উৎস সময় অনুক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে। পানি হলো তার পরিমাণ, প্রাপ্যতা আর গুণগত কারণে মৌলিক উপাদানও বটে। সে কারণে এ পানির ব্যবহারে সুষম হিসাব-নিকাশে নিশ্চিত পরিকল্পনায় আনতে হবে। পানি আজকে মানুষের খাদ্য জোগান, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক সম্পদের উন্নয়ন, সামাজিক দৃঢ়তা ও পরিবেশ বিনির্মাণে নিয়ামক বিষয় হলেও সেই উপাদান এখন বেশ জটিল সমীকরণে ধাবিত হয়েছে। এ পানিসম্পদকে সামাজিক ও পরিবেশে সমীক্ষণের উপযোগিতা দিতে, পানিসম্পদকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে অটুট রেখে তার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, সরবরাহ এবং পানিকে সেবা পর্যায় রেখে বণ্টনের আয়োজন করতে সব সেবা খাতকে সমন্বয় করে সরকার ১৯৯৯ সালে ‘জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯’ প্রণয়ন করে। যার উদ্দেশ্য হলো, পানি খাতের সব সংস্থাকে তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য বজায় রেখে একই নির্দেশনায় তা ব্যবহারে নিয়ে আসা।

সরকার ২০১৩ সালে ‘বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করে। এ আইনের ৩ নম্বর ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে, রাষ্ট্রের সীমানাভুক্ত ক. ভূ-উপরিস্থ পানি, খ. ভূগর্ভস্থ পানি, গ. সামুদ্রিক পানি, ঘ. বৃষ্টির পানি এবং ঙ. বায়ুমণ্ডলের পানির সব অধিকার জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের ওপর অর্পিত থাকবে। উপধারা ২ মতে, সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্নতা ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবহার্য পানির অধিকারকে সর্বাগ্রে রাখা হয়েছে। একই আইনের চতুর্থ অধ্যায়ে পানিসম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ের ধারা ১৫-এর উপধারা ২-এর অনুধারা  খ, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট-তে পানির অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশ ও পরিবেশগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপাদান, বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পানি ও পানিসম্পদ আহরণ, ব্যবহার, সুরক্ষা, বিতরণের নির্দেশনা বর্ণনা করা আছে। এছাড়া বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্য পানির গুণগত মান ও ব্যবহারের পর্যায় লভ্যতার বর্ণনা করা আছে। এ আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও পানিসম্পদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের ১৮ ধারার উপধারা-১-এর অনুধারা ‘ক থেকে ঠ’ পর্যন্ত জনগোষ্ঠীর পানি সংকটাপন্ন এলাকার পানি প্রাপ্যতার সাপেক্ষে পানির আহরণ ও ব্যবহারের পর্যায় এবং ব্যবহার বিবরণীর খাতগুলো বর্ণিত। তবে ধারা ১৯-এ ভূগর্ভস্থ পানিধারক স্তরের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ এবং এ উৎসের পানি আহরণে আইনের সীমারেখায় আইনগত সুরক্ষা করা হয়েছে। ধারা ২২-এ জলাধার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্পষ্টত উল্লেখ করা আছে। ‘বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩’-এর ষষ্ঠ অধ্যায়ে ২৯ ধারায় এ আইন প্রতিপালন বা সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের দণ্ড, অর্থদণ্ড ও জরিমানার বিষয়টি আলোচনা করা আছে। এছাড়া এ আইন অমান্যে যেকোনো অপরাধকে আমলে নেয়া, তার বিচার ও আপিল বিচারের আদালত ও বিচারকের ক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১ নম্বর আইনে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। যেখানে এমন কাজে শাস্তি হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে। অথবা কোনো ব্যক্তিকে উপধারা ১-এর বিধানে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড বা ২ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ড দেয়া যাবে। আবার এমন বিষয়ে জ্ঞাতসারে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিলে বা কোনো তথ্য গোপন করা হলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৩ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা যেকোনো একটি সাজার বিধান বলা আছে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এ পানীয় জলের ব্যবহার, প্রাপ্তি ও দূষণ বিষয়ে বর্ণনা করা আছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ পানি ব্যবহার, সরবরাহ, আবর্জনা রাখা, অপসারণ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, পাবলিক টয়লেট আবর্জনা ব্যবস্থাপনার বিধিবদ্ধতা বর্ণনা করে ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা করা আছে; যা প্রতিপালন করা গেলে পানি ও পানির আধার দূষিত হতে বাধা পায়।

পানি সুশাসনে, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সড জলের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, রাজনীতি, সামাজিক সংযুক্তি ও অর্থনীতিকে ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা ইকো সিস্টেম সচল ও আর্থসামাজিক গতিশীলতায় পানির ক্ষেত্র এবং তার সেবাকে সমুন্নত করতে এ সুশাসনের আয়োজন। যেজন্য পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এসেছে নিয়ম, নীতি ও ব্যবহারগত কৌশল। এ কৌশল রূপায়ণ করতে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থান ও প্রয়োজন সামনে রেখে প্রণীত হয়েছে পানির জন্য সরাসরি আইন, পানি ব্যবহারে সরকারি সংস্থা সংশ্লিষ্ট আইন, পানি ব্যবস্থাপনায় নগর উন্নয়ন আইন, পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আইন, পানিসংক্রান্ত অন্য কিছু আইন এবং পানিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন, চুক্তি ও প্রটোকলগুলো; যা পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে তার উৎস এবং তা থেকে প্রাপ্য পানির ধারার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এখন দেখার বিষয় হলো এ আইন ও বিধি কিংবা প্রটোকলগুলো কতটুকু বাস্তবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। আমাদের দেশে আইন তৈরি হয় সমস্যার কারণে কিন্তু তার ব্যবহার হয় বলতে গেলে প্রকারান্তে ভিকটিমের ওপরই চাপিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা অনেকটা সৃষ্টি করে। এত আইন থাকার পরেও জলাশয় বা পুকুর, নদী টিকছে না। পানি বিশুদ্ধ থাকছে না। প্রকৃতির পানির উৎস ব্যবহার করতে পারছি না শুধু আইন প্রয়োগে অনীহা এবং কখনো কখনো সমন্বয়হীনতার জন্য।

 আমাদের পানি এবং তার সম্পদ ব্যবহার করতে যে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো ধারণ করে এগোতে হবে, তা হলো পানি ও পানির উৎস ধারার বণ্টনের বিষয়, নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত, আর্থসামাজিক যোগাযোগ, নির্দিষ্ট কার্যক্রম এবং হতে হবে তা বাস্তুশৃঙ্খলযুক্ত। প্রণীত আইন কিংবা অন্যান্য নীতি ও কৌশল, ঘোষণাপত্রকে বিবেচনা করতে হবে পরিকাঠামোয় জড়িয়ে থাকা সবাইকে নিয়ে। ভাবতে হবে সুপায়ী পানি কমে আসছে। এ পানির উৎস স্থানগুলো আমাদের ব্যবহারে রুদ্ধ হয়ে আসছে। অথচ জনসংখ্যার আধিক্যে পানির চাহিদা বাড়ছে ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে। আমাদের পানি সংকুচিত হওয়ার গতির সঙ্গে অবশিষ্ট যতটুকু পানি আছে তা প্রতি ক্ষণে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে বিষের আচরে।

গৌতম কুমার রায়: আইনজীবী ও পরিবেশবিদ