পাইপ, কূপ বা গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে আহত কিংবা নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই উন্মুক্ত সুয়ারেজের লাইন বা ম্যানহোলের ভেতরে পড়ে যাওয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনার খবর আমাদের চোখে পড়ে। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি দৈনিকে অরক্ষিত বিভিন্ন ম্যানহোলে পড়ে দুই বছরে ৩৩ জন নিহত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সবচেয়ে হূদয়বিদারক ছিল ঢাকার শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনির খোলা একটি নলকূপের পাইপের ভেতরে পড়ে শিশু জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি। সেদিন ছিল ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। এদিন বিকালে বাসার পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের একটি ১৪ ইঞ্চি ব্যাসের গভীর পাইপের ভেতরে পড়ে যায় জিহাদ।
জিহাদকে উদ্ধারে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। পুরো অভিযানটিই বিভিন্ন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার সুবাদে সারা দেশের মানুষ সেই উদ্ধার অভিযান প্রত্যক্ষ করে। কিন্তু দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ২৭ ডিসেম্বর বিকালে পাইপের ভেতরে কোনো মানবদেহের অস্তিত্ব নেই—এ ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেয় ফায়ার সার্ভিস। তার কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকজন তরুণের প্রচেষ্টায় তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে প্রায় ৩৩৪ ফুট নিচ থেকে জিহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে পাইপের ভেতরে শিশু পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া হয় এবং উল্টো জিহাদকে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে তার বাবাকে পুলিশ হেফাজতে আটকে রাখা হয়। পরিত্যক্ত পাইপের মুখ খোলা রাখা এবং জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থতায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতি ও অদক্ষতা দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
ওই ঘটনার দুদিন পর ২৭ ডিসেম্বর চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষ থেকে জিহাদকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট (রিট মামলা নং ১২৩৮৮/২০১৪, সিসিবি ফাউন্ডেশন বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য) মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় যথাক্রমে সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সচিব, রেল মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স; মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালক; ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স; চেয়ারম্যান, ওয়াসা; প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ; ওসি, শাহজাহানপুর পুলিশ স্টেশনকে প্রতি-বাদী করা হয়। সিসিবি ফাউন্ডেশনের পক্ষে রিট মামলাটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আব্দুল হালিম। এ রিট মামলায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ইন্টারভেনর হিসেবে ভূমিকা রাখে।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন প্রতি-বাদীদের শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, রেলওয়ে ও সিটি করপোরেশনের নিষ্ক্রিয়তা, অবহেলা এবং ব্যর্থতাকে কেন আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ব্যতীত এবং অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত জিহাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। সেই সঙ্গে আইনানুযায়ী নিজ কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারী/দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সরকার/মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং অধিকার রক্ষায় চরম অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতি-বাদীদের জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তাছাড়া সারা দেশে অবহেলিত অথবা উন্মুক্ত অথবা অনিরাপদ অবস্থায় থাকা পরিত্যক্ত নল, নলকূপ, পয়োনিষ্কাশনের নল, গর্ত ও পানির চৌবাচ্চার একটি তালিকা তৈরি, একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা আদালতের কাছে জমা দেয়া এবং জীবন বিপন্নকারী দুর্ঘটনায় পতিত মানুষদের উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তি ক্রয় ও দক্ষতা তৈরির উদ্দেশ্যে করা ব্যয়ের তথ্য প্রদানের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মোহম্মদ ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ, মোট ২০ লাখ টাকা রায় ও আদেশের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জিহাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশিত হয়। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ফায়ার ও রেল কর্তৃপক্ষ। ১০১৮ সালের ৫ আগস্ট জিহাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল চেয়ে রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ফলে জিহাদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা দিতে দুই কর্তৃপক্ষকে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে এবং ঘটনার প্রায় তিন বছর পর ক্ষতিপূরণের অর্থ পান জিহাদের মা-বাবা।
উল্লেখ্য, এ রিট মামলায় আদালতের মূল বিচার্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল: ১. জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিবি ফাউন্ডেশনের জনস্বার্থে রিট মামলা দায়েরের অধিকার রয়েছে (লোকাস স্ট্যান্ডাই/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি) কিনা? ২. জিহাদের মৃত্যু অভিযুক্ত প্রতি-বাদীদের অবহেলার কারণে হয়েছিল কিনা? ৩. চার বছর বয়সী জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় বিধিবদ্ধ বা সাংবিধানিক কর্তব্যে অবহেলার কারণে সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে কিনা? ৪. রিট এখতিয়ারের অধীনে আলোচ্য বিষয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে কিনা? ৫. এমন ক্ষতিপূরণের দাবিকে কীভাবে পরিমাপ করা হবে?
প্রথম বিচার্য বিষয় নির্ধারণে ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ বনাম আবু সাইদ খান, ড. মহিউদ্দীন ফারুক বনাম বাংলাদেশসহ এর আগে ঘোষিত কয়েকটি মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে আদালত বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জনক্ষতির অন্তর্ভুক্ত এবং সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত ভিক্টিমের জীবনের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বিবেচনায় আবেদনকারী ফাউন্ডেশনের লোকাস স্ট্যান্ডাই নেই বলার সুযোগ নেই।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার প্রমাণে ‘র্যাস ইপ্সা লকুইটার’ (ঘটনা নিজেই প্রমাণস্বরূপ) এবং কঠোর দায় (স্ট্রিক্ট লায়াবিলিটি) নীতির প্রয়োগ করেন। দুর্ঘটনাটি নিজেই ওই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবহেলার যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করে, যেখানে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং পাঁচজন তরুণের প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনার শিকার জিহাদের মরদেহ উদ্ধার কোনো সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং তা বিবাদীর অবহেলার দুর্ভাগ্যজনক প্রতিফলন; যা কোনো গভীর নল-গর্তে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় তাদের অনুপযুক্ততা ও অযোগ্যতাকে প্রতীয়মান করে। আরেক প্রতি-বাদী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও তাদের দায় এড়াতে পারে না এবং এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লিখিত কূপটির মুখ বন্ধ থাকার কথা ছিল, যাতে কেউ নিচে পড়ে না যায় এবং জিহাদের উন্মুক্ত কূপটির ভেতর পড়ে যাওয়াটিই তাদের অবহেলার একটি দৃশ্যমান প্রমাণ।
তাছাড়া এ মামলা বিধিবদ্ধ/সাংবিধানিক কর্তব্যে অবহেলার কারণে সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের এবং রিট এখতিয়ারের আওতায় সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্নেও একটি পথনির্দেশক রায় হিসেবে বিবেচিত। কেননা আমাদের দেশে দুর্ঘটনায় ব্যক্তি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা (প্রাইভেট টর্ট আইন) হলেও সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এখতিয়ারের আওতায় ক্ষতিপূরণের (পাবলিক ল কম্পেনসেশন) মামলার কোনো উদাহরণ ছিল না। উল্লিখিত মামলায় এ দুটি প্রশ্নে আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদ সার্বভৌম ও অসার্বভৌম দায়িত্ব সম্পাদনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করে না এবং সরকারের দায়িত্বের সীমার উল্লেখ করে না। অতএব, কোনো কাজ সম্পাদন বা কাজ সম্পাদনে নিষ্ক্রিয়তার জন্য বিধিবদ্ধ/সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘনের ফলে কোনো মৃত্যু সংঘটিত হলে সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা সংবিধান কর্তৃক নিষিদ্ধ নয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের সংবিধানের ৩০০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ভারতে রাষ্ট্রের জন্য সার্বভৌম দায়মুক্তির প্রতিরক্ষা থাকলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছেন।
রিট এখতিয়ারের আওতায় সরকার/সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা প্রসঙ্গে আদালত বলেন, সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকারের ধরন নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের সুবিবেচনাবোধের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বনাম আহমেদ নাজির (১৯৭৫)২৭ ডিএলআর (এডি)৪১-এর রেফারেন্স দিয়ে আদালত বলেন, সংবিধান প্রাপ্য প্রতিকারের প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয়নি। নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিকারের ধরন নির্ধারণের ভার উচ্চ আদালতের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ভারতের মেহতা বনাম ইন্ডিয়া, এআইআর ১৯৮৭ এসসি ১০৮৬, ১০৯১ মামলার রেফারেন্স তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞামূলক প্রতিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে এরই মধ্যে সংঘটিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের পরিমাপ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রের নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারেন কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। প্রায়ই আদালতকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ের কঠিন কাজ করতে হয়। সাধারণত ক্ষতিপূরণের মামলায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ণয়ে যে মাপকাঠি ব্যবহার হয়, তা সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে সংবিধানের তৃতীয়ভাগের অধীনে সুরক্ষিত নাগরিকের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের ক্ষতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এবং এ মামলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক আর্থসামাজিক অবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রার্থিত ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করা হয়। এই রায়ে আদালত এটিও ঘোষণা দেন, এ ক্ষতিপূরণের আদেশ উল্লিখিত মৃত্যুর ঘটনায় প্রতি-বাদীগণের বিরুদ্ধে উদ্ভূত অন্য কোনো দায়কে প্রভাবিত করবে না।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় শিশু জিহাদের বাবার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চারজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়।
চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (সিসিবি ফাউন্ডেশন) বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য রিট মামলার রায় এবং অন্যান্য
কামরুন্নেসা নাজলী: মানবাধিকার কর্মী










