আগামী ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী চলছে নানা বর্ণিল আয়োজন। ৫০ বছরের এ পরিসরে দেশ ও জাতি অনেক ঘটন-অঘটন, চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়েছে। সময়ে সময়ে এসব ঘটনা পুরো জাতিকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়েছে, পাল্টে দিয়েছে এর গতিপথ। কখনো জাতি কান্নায় ভেঙে পড়েছে, কখনোবা হয়েছে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় উজ্জীবিত। যদিও ৫০ বছর একটি জাতির জীবনে খুব বড় পরিসর নয়—গড় আয়ুর নিরিখে হয়তোবা একটি প্রজন্ম মাত্র, তথাপি পরাধীনতার শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসা সহস্র বছরের ঐতিহ্যসমৃদ্ধ আত্মমর্যাদায় বলীয়ান একটি জাতির সামনে অর্ধশতাব্দীর এই মাইলফলক প্রশ্নটি অবশ্যই বড় করে তুলে ধরবে—‘দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে তো?’

কী ছিল এ জনপদের মানুষগুলোর চাওয়া-পাওয়া? কেন তাদের একবারের ওপর দুবার স্বাধীন হওয়া লেগেছিল? কেন তাদের নিজেদের গড়া পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয়েছিল? বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, কৃষ্টি-কালচারের প্রতি অবজ্ঞা এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য পাকিস্তানের পরিকাঠামোয় তাদের নিজেদের অবহেলিত ভাবতে বাধ্য করেছিল। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্র আত্মপরিচয়ের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, ষাটের দশকের শেষ পাদে এসে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা স্বশাসনের দাবিতে রূপলাভ করে। ’৭০-এর নির্বাচনে জনতার দেয়া ম্যান্ডেট মেনে নিতে ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের অস্বীকৃতি আগুনে ঘৃতাহুতির মতো কাজ করে। স্বশাসনের দাবি স্বাধীনতার দাবিতে উন্নীত হয়। ’৭১-এর ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু যখন রেসকোর্স মাঠে হুঙ্কার দিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়েও এ জনপদের মানুষ বুঝে নিয়েছিল, তাদের এতদিনকার সংগ্রাম একটি সিদ্ধান্তকারী পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সমঝোতার পথে পা না বাড়িয়ে নিরস্ত্র জনতার ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউন স্বাধীনতাকে অনিবার্য করে তোলে। নয় মাসের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে হেরে গিয়ে পরে পাকিস্তানি বাহিনী বুঝতে পেরেছিল, তারা দু-একটি রাজনৈতিক দল বা তাদের কর্মিবাহিনী নয়, একটি সমগ্র জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।

সেদিন তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমার অভিজ্ঞতায় বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, এই অভীষ্ট সহজে অর্জিত হবে না, অনেক রক্ত ঝরাতে হবে। ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ্।’ আরো বুঝতে পেরেছিলেন, সামনে যে কঠিন সময় আসছে, তাতে তিনি নিজে হয়তো নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ তবে একজন শান্তিপ্রিয় জননেতা হিসেবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ও ভুট্টো সাহেবের হঠকারিতা সত্ত্বেও রক্তক্ষয় এড়ানোর প্রচেষ্টায় তিনি আন্দোলনের চাপ অব্যাহত রেখে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে গেছেন। দুর্ভাগ্য, ইয়াহিয়া খানদের শুভবুদ্ধির উদয় হলো না।

বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলেন। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে গুলি চলল। ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। পাকিস্তানের পুলিশ, ইপিআর ও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্যরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হলেন। যোগ দিলেন দেশের ছাত্র-জনতা, তরুণ-যুবারা। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে অবশেষে পাকিস্তানি বাহিনী পরাস্ত হলো। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল বটে, গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীকে এরই মধ্যে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে সামনে রেখে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’—এ চেতনায় পরিচালিত এই যুদ্ধ ছিল এক জনযুদ্ধ, যাতে দেশের আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে শামিল হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর বিজয় ও গণবিচ্ছিন্ন পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় অবধারিত ছিল।

অগণিত শহীদানের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অবশেষে দেশ স্বাধীন হলো। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশবাসীর মধ্যে ফিরে এলেন। দেশ এখন একটি নতুন অথচ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো। এ চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার, স্বাধীন দেশটিকে নিজেদের মতো করে গড়ে তোলার। অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল, সেগুলো দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা জরুরি ছিল। যুদ্ধের কারণে দেশের সর্বত্র রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সব ধরনের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছিল, বহু লোক ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল, বহু কৃষকের চাষবাসের জন্য হালের বলদ কিংবা লাঙলের সংস্থান ছিল না। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে: পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এর ব্যাংক হিসাবে ঠিক ১১৭ রুপি (১৬ ডলার) রেখে গিয়েছিল। অর্থনীতির পাশাপাশি খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব খাতকেই মেরামত করে নতুন করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ হাতে নিতে হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে তুলে ধরে সারা বিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য ছিল। এ বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বঙ্গবন্ধু তার দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন বছরের মতো সময় পেয়েছিলেন। তিনি কতটুকু সফল হয়েছিলেন, সে বিচার ইতিহাস করবে। তবে এটা অস্বীকার করার জো নেই, যেটুকু সাফল্য এসেছিল, তা তার বিশাল ব্যক্তিত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

এ দেশের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। গত ৫০ বছরে এক্ষেত্রে তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তরকালে যেখানে বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ৪ কোটি ৫৩ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৯ বছরে দেশে প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ গুণ। ১২টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে। তবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের কারণে দেশের বেশকিছু মানুষ এখনো খাদ্য সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে থাকেন, ফলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যপ্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রেই দুর্লভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে দেশে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তার সময়ে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তদীয় সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে তার স্বপ্ন ও আদর্শের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশে এখন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-৭১ সালে দেশে মোট শিক্ষার্থীর ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল মেয়ে। ২০১৮ সালে এসে তা ৫০ দশমিক ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে—প্রাথমিকে মোট ছাত্রছাত্রীর প্রায় ৫১ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৫৪ শতাংশের বেশি এবং এইচএসসি পর্যায়ে ৪৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ১৯৭১ সালে যেখানে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, সেখানে বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশে ৫৭টি সরকারি এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬টি সাধারণ, পাঁচটি প্রকৌশল, নয়টি কৃষি, ১৭টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পাঁচটি মেডিকেল এবং তিনটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নামে দুটি বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে)। এছাড়া পাঁচটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ছয়টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। তবে স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো, বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে, ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি যে বিশেষ মাত্রা লাভ করেছে এবং সময় ও ক্ষেত্রভেদে যেভাবে হানাহানিতে রূপ নেয়, তা শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পঠন-পাঠন ও জ্ঞান-গবেষণার চেয়ে পদ-পদবি অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ফলে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনগুলোয় বিশ্বমানের জনবল থাকা সত্ত্বেও উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে সে ধরনের কালচার গড়ে উঠছে না।

মেডিকেল এডুকেশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও আমাদের অর্জন নেহাত মন্দ নয়। ১৯৭১ সালে আমাদের মাত্র ছয়টি মেডিকেল কলেজ ছিল। এখন সেখানে ৩৬টি সরকারি এবং ৭১টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আধুনিক মানদণ্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও উচ্চতর মেডিকেল গবেষণার জন্য ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চকে (আইপিজিএমআর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে আরো চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব হাসপাতাল ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ বিশেষ রোগের চিকিৎসায় বেশকিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে অর্থাৎ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার আইডিয়া থেকে সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। গত কয়েক দশকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার হাজারে ১৯৯০ সালে ১৪৩ দশমিক ৮ জন থেকে ২০১৯ সালে ৩০ দশমিক ৮ জনে এবং মাতৃমৃত্যুর হার লাখে ১৯৯০ সালে ৫৭৪ জন থেকে ২০১৭ সালে ১৭৩ জনে নেমে এসেছে। ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৬০টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি করছে। তবে দেশে এখন পর্যন্ত জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল—প্রতি ১০ হাজার লোকের জন্য মাত্র ৫ দশমিক ২৬ জন। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে ব্যর্থ হয়। যথাযথ পলিসি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মেসি পেশাজীবীরা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে পারছেন না।

 

ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন: অধ্যাপক

ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়