[গতকালের
পর]
এ
গল্পের
সত্যতা
আমি
জানি
না,
এ
ধরনের
কোনো
কথা
সেদিন
হয়েছিল
কিনা।
তবে
বঙ্গবন্ধু
যে
জেলে
ছিলেন
সেই
জেলের
প্রিজন
গভর্নর
হাবীব
আলী
যা
বলেছেন
তা
কিছুটা
অন্য
রকম।
তিনি
বলেছেন,
‘ভুট্টো
যখন
আসেন
তখন
এক
কর্নেল
এসে
মুজিবকে
বলছিলেন,
পাকিস্তানের
প্রেসিডেন্ট
আসবেন।
তারপর
সেখানে
ভুট্টো
এলেন
এবং
মুজিবকে
সালাম
দিয়ে
বললেন
যে
এখন
আমি
পাকিস্তানের
রাষ্ট্রপতি
এবং
প্রধান
সামরিক
আইন
প্রশাসক।’
তার
পরই
শেখ
মুজিবের
প্রশ্ন
ছিল,
‘ভুট্টো,
আমাকে
প্রথমে
বলেন,
আমি
কি
একজন
বন্দি
অথবা
মুক্ত
মানুষ।’
তখন
ভুট্টো
উত্তর
দিয়েছিলেন,
আপনি
একজন
বন্দিও
না,
আবার
মুক্ত
মানুষও
না।’
তখন
শেখ
মুজিব
বললেন,
‘সেক্ষেত্রে
আমি
আপনার
সাথে
কোনো
কথা
বলব
না।’
তখন
জুলফিকার
আলী
ভুট্টো
বলতে
বাধ্য
হলেন
যে
‘আপনি
একজন
মুক্ত
মানুষ।’
এরপর
শেখ
মুজিব
প্রেসিডেন্ট
ভুট্টোর
সঙ্গে
কথা
বলতে
শুরু
করলেন।
তারপর
তিনি
অনেক
রকমের
প্রস্তাব
দিলেন।
কীভাবে
একটা
কনফেডারেশন
করা
যায়,
কীভাবে
একসঙ্গে
থাকা
যায়
ইত্যাদি।
কিন্তু
শেখ
মুজিব
কোনো
কথাই
বললেন
না।
চুপ
করে
থেকে
শুধু
বললেন,
‘যতক্ষণ
পর্যন্ত
আমি
আমার
প্রিয়
সহকর্মীদের
সঙ্গে
কথা
বলতে
না
পারব,
ততক্ষণ
আমার
পক্ষে
কিছুই
বলা
সম্ভবপর
নয়।’
এরপর
শেখ
মুজিবকে
একটা
যৌথ
ইশতেহার
দেয়া
হয়েছিল
স্বাক্ষর
করার
জন্য।
মুজিব
সেটাও
প্রত্যাখ্যান
করলেন।’
(অনেকটা একই
রকম
বর্ণনা
পাওয়া
যাবে
রবার্ট
পেইনের
The
Tortured and Damned গ্রন্থে।
তবে
তিনি
এ
কথা
লেখেননি
যে
ভুট্টো
বঙ্গবন্ধুকে
বলেছিলেন
‘আপনি
একজন
মুক্ত
মানুষ।’
জুলফিকার আলী
জমিদার
পরিবারের
সন্তান
ছিলেন
বিধায়
অত্যন্ত
দাম্ভিক
ছিলেন।
নিজেকে
উঁচু
দরের
রাজনীতিক
মনে
করলেও
বঙ্গবন্ধুর
সামনে
তার
ব্যক্তিত্ব,
বুদ্ধিমত্তা
ও
যুক্তির
কারণে
উচ্চবাচ্য
করতেন
না।
এটাই
ছিল
বাস্তবতা।
যেমন
বঙ্গবন্ধুর
ব্যক্তিত্বের
কাছে
পরাস্ত
হয়ে
ভুট্টো
বলতে
বাধ্য
হয়েছিলেন
যে
‘আপনি
একজন
মুক্ত
মানুষ।’
তা
না
হলে
বঙ্গবন্ধু
তার
সাথে
কথা
বলতেন
না।
আলজিয়ার্স নগরীর
উপকণ্ঠে
এক
বিশাল
কনফারেন্স
হলে
নির্দিষ্ট
সময়ে
সম্মেলন
শুরু
হওয়ার
আগেই
মোট
৯২টি
দেশের
রাষ্ট্রপ্রধান
ও
প্রশাসনিক
প্রধানরা
এসে
পৌঁছেছিলেন।
বাংলাদেশের
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিব
ছাড়াও
এদের
মধ্যে
যুগোস্লাভিয়ার
প্রেসিডেন্ট
মার্শাল
টিটো;
সৌদি
আরবের
বাদশা
ফয়সাল,
মরক্কোর
বাদশা
হাসান,
ইথিওপিয়ার
সম্রাট
হাইলে
সেলাসি,
সিরিয়ার
প্রেসিডেন্ট
হাফিজ
আল
আসাদ,
ইরাকের
প্রেসিডেন্ট
সাদ্দাম
হোসেন,
তিউনিসিয়ার
প্রেসিডেন্ট
হাবিবরগুইবা,
মিসরের
প্রেসিডেন্ট
আনোয়ার
সাদাত,
লিবিয়ার
প্রেসিডেন্ট
গাদ্দাফি,
পিএলও
প্রধান
ইয়াসির
আরাফাত,
ইন্দোনেশিয়ার
প্রেসিডেন্ট
সুহার্ত,
কাপুচিয়ার
প্রিন্স
রাদম
সিহানুক,
নাইজেরিয়ার
জোমো
কেনিয়াত্তা,
উগান্ডার
ইদি
আমিন,
কিউবার
ফিদেল
কাস্ত্রো,
নেপালের
রাজা
বীরেন্দ্র,
শ্রীলংকার
প্রধানমন্ত্রী
শ্রীমাভো
বন্দরনায়েক
ও
ভারতের
প্রধানমন্ত্রী
ইন্দিরা
গান্ধী
অন্যতম।
উল্লেখ্য,
পাকিস্তান
জোটনিরপেক্ষ
সম্মেলনের
সদস্য
নয়
এবং
তাদের
সদস্য
লাভের
বারবার
প্রচেষ্টা
ব্যর্থ
হয়েছে।
সম্মেলনের শুরুতেই
বিভিন্ন
দেশের
নেতাদের
পরিচয়
করিয়ে
দেন
সম্মেলনের
সভাপতি
ও
আলজেরিয়ার
প্রেসিডেন্ট
বুমেদিন।
একজন
করে
নেতা
মঞ্চে
এসে
দাঁড়ানোর
পর
প্রেসিডেন্ট
বুমেদিন
ক্ষুদ্র
বক্তৃতায়
তাদের
পরিচয়
প্রদান
করেন।
সঙ্গে
সঙ্গে
হলে
উপস্থিত
সব
প্রতিনিধি
করতালির
মধ্য
দিয়ে
জানিয়েছেন
উষ্ণ
অভিনন্দন।
পিএলও
প্রধান
ইয়াসির
আরাফাতের
পরিচিতির
সময়
করতালি
দীর্ঘস্থায়ী
হয়েছিল।
কিন্তু
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
পরিচিতির
পর
সম্মেলন
কক্ষে
এক
অভূতপূর্ব
দৃশ্যের
অবতারণা
হয়েছিল।
মঞ্চে
দাঁড়িয়ে
বাঙালি
পোশাকে
শ্বেতশুভ্র
পাজামা-পাঞ্জাবি
আর
কালো
মুজিব
কোট
পরিহিত
প্রায়
ছয়
ফুটের
এক
হিমাচল
সদৃশ
ব্যক্তিত্ব
শেখ
মুজিব।
মুখে
শিশুর
সরল
হাসি।
সম্মেলন
কক্ষের
প্রতিটি
মানুষ
আসন
ছেড়ে
দাঁড়িয়ে
করতালি
দিয়ে
চলেছিলেন,
সে
করতালি
যেন
আর
থামার
নয়।
এভাবেই
সেদিন
বিশ্বনেতারা
বাঙালি
জাতীয়তাবাদী
নেতা
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
জানালেন
হূদয়ের
প্রাণঢালা
সংবর্ধনা।
একনাগাড়ে
করতালির
পর
প্রেসিডেন্ট
বুমেদিনের
ইশারায়
সবাই
আবার
আসন
গ্রহণ
করেছিলেন।
নিচে বঙ্গবন্ধু
ও
ডেভিড
ফ্রস্টের
সেই
বিখ্যাত
সাক্ষাত্কারের
সংগ্রামের
নোটবুক
অনূদিত
বিশেষ
অংশ
উদ্ধৃত
হলো:
ফ্রস্ট: মি.
ভুট্টো
সম্পর্কে
আপনি
এখন
কী
ভাবেন?
আপনি
কি
ভাবেন
যে
পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী
কিংবা
প্রেসিডেন্ট
হিসেবে
তিনি
কখনো
স্বাধীন
ঢাকা
সফর
করবেন?
তিনি
কি
কখনো
এখানে
কথা
বলতে
আসবেন?
শেখ মুজিব:
আমি
জানি
না।
কিন্তু
তিনি
প্রথমে
এখন
এ
বাস্তবতাকে
স্বীকার
করুন
যে
বাংলাদেশ
একটি
স্বাধীন
দেশ।
তার
এটাও
জানা
উচিত
যে
বাংলা
তার
ভূখণ্ড
এ
চিত্কার
করে
লাভ
নেই।
বাংলা
তা
নয়।
কারণ
কোনো
কেজো
উদ্দেশ্যে
তারা
যদি
একক
পাকিস্তান
দাবি
করে,
তখনো
আপনি
জানেন
যে
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
আমার
রয়েছে
এবং
আমি
পাকিস্তানের
প্রেসিডেন্ট
হওয়ার
দাবি
করতে
পারতাম,
যেখানে
পশ্চিম
পাকিস্তান
হতো
আমার
ভূখণ্ড।
তারা
যদি
গণতন্ত্রে
বিশ্বাস
করে,
তাহলে
আমি
দাবি
করতে
পারি
যে
আমার
দলই
সংখ্যাগরিষ্ঠ।
আমি
একটি
সভা
ডেকে
গোটা
দেশকে
বাংলাদেশ
ঘোষণা
করতে
পারি
এবং
তাদের
বলতে
পারি
যে
পশ্চিম
পাকিস্তান
আমার
ভূখণ্ড।
আপনি,
ভুট্টো
বেরিয়ে
যান,
আমি
গভর্নর
নিয়োগ
করছি।
এটা
আমার
ভূখণ্ড,
আপনি
বিদায়
নিন,
অন্যথায়
আমি
মিত্রবাহিনীসহ
আমার
সেনাবাহিনী
পাঠাব
পশ্চিম
পাকিস্তান
দখল
করার
জন্য।
এসব
ঝামেলা
আমি
চাই
না।
ভূখণ্ডের
উচ্চাকাঙ্ক্ষা
আমার
নেই।
পশ্চিম
পাকিস্তান
নিয়ে
মি.
ভুট্টো
সুখী
থাকুন।
বাংলাদেশের
মানুষকে
নিয়ে
আমি
সুখী
থাকতে
চাই
এবং
বাংলাদেশ
এখন
একটি
সার্বভৌম
স্বাধীন
দেশ।
১৯৭৪ সালে
যখন
বঙ্গবন্ধুকে
ওআইসি
সম্মেলনে
যোগদানের
জন্য
মধ্যপ্রাচ্যের
নেতারা
অনুরোধ
করেন,
তখন
তিনি
তা
নাকচ
করে
দেন।
তিনি
জানিয়ে
দেন,
যতক্ষণ
পাকিস্তান
বাংলাদেশকে
স্বীকৃতি
না
দেবে
ততক্ষণ
তিনি
সেখানে
সম্মেলনে
যোগ
দিতে
যাবেন
না।
তখন
প্রধানমন্ত্রী
জুলফিকার
আলী
ভুট্টোর
ওপর
ওআইসিভুক্ত
দেশগুলো
থেকেও
প্রচণ্ড
চাপ
পড়ে।
ভুট্টো
বাংলাদেশকে
স্বীকৃতি
দেয়ার
পর
কয়েকজন
ওআইসি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকায়
এসে
বঙ্গবন্ধুকে
সসম্মানে
তাদের
প্লেনে
করেই
লাহোর
নিয়ে
যান।
বঙ্গবন্ধুকে
লাহোর
বিমানবন্দরে
যথাযথ
অভ্যর্থনা
জানানো
হয়,
মর্যাদা
ও
গুরুত্ব
দেয়া
হয়।
১৯৭৪-এর
২২-২৪
ফেব্রুয়ারিতে
লাহোরে
অনুষ্ঠিত
ওআইসির
দ্বিতীয়
শীর্ষ
সম্মেলনটি
বাংলাদেশের
জন্য
খুব
তাত্পর্যপূর্ণ
ছিল।
এভাবেই ভুট্টো
একের
পর
এক
জাতির
জনক
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
কাছে
ব্যক্তিত্বে,
কৌশলে,
উপস্থিত
বুদ্ধিতে,
নীতি
আদর্শে
পরাস্ত
হয়েছেন।
ভুট্টোর
মতো
দুর্ভাগা
নেতা
বিশ্বে
খুব
কম
আছেন।
তাকে
তার
দেশে
ফাঁসিতে
ঝুলিয়ে
সামরিক
জান্তা
হত্যা
করেছে।
জনগণ
তার
একটা
প্রতিবাদ
করেনি।
কিন্তু
বাংলাদেশের
মাটিতে
কোনো
সামরিক
জান্তা
বা
কেউ
বঙ্গবন্ধুকে
ফাঁসি
দেয়ার
ক্ষমতা
রাখত
না।
তাই
তাকে
চোরাগোপ্তা
হামলা
করে
হত্যা
করেছিল।
খুনিদের
একজন
রশিদ
এন্থনি
মাসকারেনহাসের
সাথে
সাক্ষাত্কারে
তো
বলেছেনই
যে
‘বঙ্গবন্ধুকে
বাঁচিয়ে
রাখলে
সবকিছু
তাদের
নিয়ন্ত্রণের
বাইরে
চলে
যেত।
অতএব
সেই
কারণেই
তারা
তাকে
হত্যা
করেছেন।’
[শেষ]
মমতাজুল ফেরদৌস জোয়ার্দার:
বঙ্গবন্ধু
গবেষক;
তথ্য
ও
গবেষণা
সম্পাদক
অল ইউরোপিয়ান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ও জার্মান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন










