এ
বছর ২৬ মার্চ পূর্ণ হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন এ দেশ আমাদের এক পরম পাওয়া। তবে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্লেষণে গণমাধ্যম-প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কেবল অর্থনৈতিক দিককেই বেশি মুখ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত যা কিছু অর্জন, তার মূলে রয়েছে দেশের জনসংখ্যা এবং তার পরিমাণগত ও গুণগত পরিবর্তন; সেই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার বিশেষ ভূমিকা। বাংলাদেশের গত ৫০ বছর সময়কালীন জনসংখ্যা ও উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা দুই-ই লক্ষণীয়। অধিকন্তু, অতিমারী কভিড-১৯ অধিকতর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায়। ফলে এ নিয়ে বিস্তর কাজ ও ভাবনার সুযোগ রয়েছে। তবে আজকের এ লেখার পরিসর মূলত গত ৫০ বছরে গ্রামীণ জনসংখ্যায় পরিবর্তন ও সামনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। লেখাটি শুরু করতে চাই এই বলে যে গ্রামীণ জনসংখ্যায় কী পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটছে, নাকি স্থবির রয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পরিসর রয়েছে জনমিতিক পাঠের সুপরিচিত ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন মডেলের আলোকে এবং এ মডেলের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ট্রানজিশনের প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে।
যেমন প্রজনন হারের ট্রানজিশন, স্বাস্থ্য ও মরণশীলতার ট্রানজিশন, বয়স কাঠামোর ট্রানজিশন, স্থানান্তর বা মাইগ্রেশন ট্রানজিশন, পরিবার ট্রানজিশন, গৃহস্থালির ট্রানজিশন, নগর বা গ্রাম ট্রানজিশন। এসব ট্রানজিশনের সবই ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন মডেলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমাদের সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তার করছে, যেখানে গ্রামীণ সমাজজীবন বিচ্ছিন্ন নয়, বরং নানা কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ধাবিত হচ্ছি। ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন মডেল অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে নিম্নমুখী প্রজনন বা জন্মহার ও নিম্ন মৃত্যুহারের কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ববর্তী জনশুমারি ১৯৬১ অনুযায়ী এ অঞ্চল তথা পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ, যা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালের জনশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার আকার দাঁড়ায় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ জনে। এ জনসংখ্যার ৯১ দশমিক ২২ শতাংশই (৬,৫২,০৫,৪৬৮) তখন বাস করত গ্রামীণ এলাকায় আর ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ শহরে। তবে পরবর্তী সময়ে দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে (বর্তমানে ৩৭% নগর জনসংখ্যা, বিশ্বব্যাংক ২০২০)। গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কাজের সন্ধানে, জীবনের টানে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, পরিবেশগত বা অন্যান্য কারণে মানুষ গ্রাম থেকে স্থানান্তরিত হয় শহরে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার গ্রামীণ এলাকায় যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে নগরে। এক্ষেত্রে গ্রাম থেকে শহরে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর প্রভাব রেখেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গৃহস্থালি আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ গ্রামীণ গৃহস্থালি থেকে পরিবারের সদস্য কেউ না কেউ এক বছর সময়কালীন স্থানান্তর করেছে, যেখানে শহরে এ হার ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে লক্ষণীয় যে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশে মূলত বেশি স্থানান্তর করে গ্রামীণ এলাকা থেকেই। জন্ম, মৃত্যু ও স্থানান্তরকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের মোট জনসংখ্যা হিসাব করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মোট জনসংখ্যার আকার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে ২০১১ সালে। আর ২০১৯ সালে এ জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখে (জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের
‘টেস্ট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০১৯’ রিপোর্ট অনুযায়ী)। জনবহুল আমাদের এ বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করত ৫৩৮ দশমিক ৩ জন, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৫ দশমিক ২ জন (সূত্র: জাতিসংঘ জনসংখ্যা ডিভিশন)। জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন এইজিং রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৫ বছর ও এর ওপরে জনগোষ্ঠী রয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। বয়স কাঠামোর বিচারে বর্তমানে বাংলাদেশে ৬০ বছর ও ঊর্ধ্বে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে, যা ১৯৭৪ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ (২০১৯ সালে বিবিএস প্রকাশিত রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০১৯-এর তথ্যে) যা জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালে পৌঁছে যাবে প্রায় ১২ শতাংশে। এ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই বসবাস করেন গ্রামে। গ্রামীণ জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৯ শতাংশই হচ্ছে ৬৫ বছরের ওপরে, যা শহরে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ (বিবিএস ২০১৯)। এ প্রবীণ জনগোষ্ঠী নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন চাহিদার পরিসরে। ২০১১ সালের গৃহ ও জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশের অধিক এ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমান কভিড-১৯ সংকটকালে এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিপুলসংখ্যক এ প্রবীণের খুব কম শতাংশই ভোগ করেন পেনশন বা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা। বেশির ভাগেরই নিজের সঞ্চয়, সম্পত্তি কিংবা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। পরিবারের ধরনে যৌথ বা বর্ধিত পরিবার প্রথা থেকে পরিবর্তিত বর্তমানে মূলত অনু পরিবার ব্যবস্থায় বয়স্ক এ জনগোষ্ঠীর যত্ন ও সেবা প্রদান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদ্ভূত হচ্ছে।
তবে আশাপ্রদ ব্যাপার হলো, জনসংখ্যার কাঠামোগত মানদণ্ডে বাংলাদেশ এমন একটি সময় পার করছে, যেখানে নির্ভরশীলতার হার সবচেয়ে কম এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা (১৫-৫৯ বছর) এখন সবচেয়ে বেশি। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রথম জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সময় পার করছে, যা সদ্ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে ২০৩৫-৩৭ পর্যন্ত। বর্তমানে দেশে জাতীয়ভাবে নির্ভরশীলতার অনুপাত ৫১ শতাংশ হলেও পল্লী বা গ্রামীণ এলাকায় ৫৫ শতাংশ। পল্লী এলাকায় ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৫৯ শতাংশ (বিবিএস ২০১৯)। ফলে নির্ভরশীলতার এ হারকে আরো কমিয়ে এ সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ত্বরায়ন নির্ভর করছে বয়স কাঠামোর পরিবর্তনে কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীর সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক নীতি ও সুশাসন নিশ্চিতের ওপর। এক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার সঠিক তথ্যভিত্তিক উপাত্তের বিশ্লেষণে।
গত ৫০ বছরে আমাদের রয়েছে লক্ষণীয় অর্থনৈতিক সাফল্য। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ (১৯৭৩) থেকে ৮ দশমিক ২ শতাংশে (২০১৯, বিশ্বব্যাংক) পৌঁছেছে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ১ দশমিক ৯০ ডলারের নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ১৯৮৩ সালে ছিল ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ (বিশ্বব্যাংক)। সরকারি হিসাবে জাতীয় মাথাপিছু দারিদ্র্যের হার ২০০০ সালের ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে (বিবিএস ২০১৬)। তবে গ্রামে এ দারিদ্র্যের হার শহর থেকে এখনো ৭
দশমিক ৫ শতাংশ বেশি (২৬.৪%)। আয়বৈষম্যে কোনো উন্নতি হয়নি, বরং বেড়েছে; যা ১৯৮৩ সালের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০১৬-তে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে (বিশ্বব্যাংক)। সাম্প্রতিক সময়ে জিনি সহগের মানদণ্ডে ২০১০-এ ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮, যা ২০১৬-তে বেড়ে হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৮২ (বিবিএস ২০১৬)। এক্ষেত্রে গ্রাম (০.৪৫৪) ও শহরে (০.৪৯৮) উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে। বাংলাদেশে যুবগোষ্ঠী ও দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়লেও বেকারত্বের হারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি (৪.৩ শতাংশ ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৩; ৪.৬ শতাংশ-২০১০)। এক্ষেত্রে শহরের তুলনায় গ্রামে বেকারত্বের হার অপেক্ষাকৃত কম (৪.০% বনাম ৪.৯%, বিবিএস
২০১৬-১৭)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ শ্রম জরিপ বলছে,
বাংলাদেশে ১৫-২৯ বছর বয়সী যুবগোষ্ঠীর বেকারত্ব ক্রমান্বয়ে বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, যার মধ্যে গ্রামে ১০ দশমিক ২ শতাংশ আর শহরে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এ বয়সী কর্মক্ষম যুবগোষ্ঠীর ২৯ দশমিক ৮ শতাংশই শিক্ষা, চাকরি অথবা প্রশিক্ষণের (নিট) কোনোটিতেই নেই, যাদের ৮৭ শতাংশই হচ্ছে নারী। গ্রাম ও শহরে নিট এ হার যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ ও ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাম ও শহরে কাজের সুযোগ বৃদ্ধিতে দরকার ব্যাপক বিনিয়োগ ও পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের উন্নয়নে পরিবার-পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। বলা যায়, আজকের বাংলাদেশের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। বাংলাদেশের এ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম একসময় ছিল বিশ্বস্বীকৃত। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। দেশে মোট প্রজনন হার ১৯৭৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ২৪, যা ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে নেমে আসে ৩ দশমিক ৪৪-এ। তবে তা গ্রামীণ এলাকায় ছিল শহরের চেয়ে বেশি (৩.৫৪)। সময়ের পরিক্রমায় পল্লী এলাকায় ও সারা দেশে মোট প্রজনন হার হ্রাসে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন এলেও ২০১১ পরবর্তী সময়ে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা গেছে। ২০১১ পরবর্তী সময়ে প্রজনন হার হ্রাসে সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভ ২০১৭-১৮ ও মাল্টিপল ক্লাস্টার ইনডিকেটর সার্ভে-২০১৯-এর তথ্যানুযায়ী তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। অর্থাৎ বর্তমানে দেশে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৩-এ স্থিত হয়ে আছে। ক্ষেত্রবিশেষে মোট প্রজনন হার হ্রাসে রয়েছে ভিন্নতা। যেমন সিলেট, চট্টগাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে এখনো প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রজনন হারের চেয়ে অনেক বেশি। গ্রাম এলাকা (২.৩), দরিদ্র
গৃহস্থালি সম্পদ (২.৬), শিক্ষা
নেই বা প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেনি (২.৬) এমন মায়েদের মধ্যে প্রজনন হার বেশি। যদি গ্রামীণ এলাকার কথা বিবেচনা করি তাহলে দেখব শহর এলাকা প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রজনন হারে পৌঁছতে পারলেও পল্লী এলাকায় এখনো তা বেশি। ২০১৪ সালে এ হার পল্লী এলাকায় ছিল ২ দশমিক ৪, যা ২০১৭-১৮-তে ২ দশমিক ৩।
দেশে বর্তমানে মোট কাঙ্ক্ষিত প্রজনন হার ১ দশমিক ৭, যেখানে পল্লী এলাকায় ১ দশমিক ৮ হলেও বাস্তবে তা ২ দশমিক ৩। ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গ্রামীণ এলাকায় জোরদার করা প্রয়োজন। জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০১২ অনুযায়ী আমরা এখনো জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। জনসংখ্যা নীতির লক্ষ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে সমগ্র প্রজনন হার (টিএফআর) ২.১-এ পৌঁছার কথা। ২০০৪ সালের জনসংখ্যা নীতিতেও একই লক্ষ্য ছিল। জন্মনিরোধের হার ২০১৫ সালের মধ্যে ৭২ শতাংশে পৌঁছার কথা। আর সরকারের বাংলাদেশ রূপকল্প (২০১০-২১) অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে টিএফআর ১ দশমিক ৭-এ আর জন্মনিরোধে ৮০ শতাংশে পৌঁছার কথা। কিন্তু সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে উভয় হারের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ দশমিক শূন্য এবং ৭৫ শতাংশ, যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও (২০২০-২৫) একই লক্ষ্যমাত্রা বিদ্যমান। ১৯৭৫ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৮ শতাংশ। দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপটে এক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য থাকলেও ২০১১-১৮ সময়কালীন জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহারে নেই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ সালের বিডিএইচএস জরিপ অনুযায়ী ১৫-৪৯ বয়স্ক বিবাহিত নারীদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ, যার মধ্যে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতি—নেই স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি ব্যবহারে কোনো সাফল্য। গ্রাম ও শহরভেদে পদ্ধতি ব্যবহারে পার্থক্য রয়েছে, যেখানে গ্রামে এ হার ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ, শহর থেকে ৫ শতাংশ কম। এছাড়া ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অপূর্ণ চাহিদার হার ১২ শতাংশ, যা ১৫-১৯ বছরের মধ্যে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০-২৪ বয়সীদের ক্ষেত্রে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১১ থেকে ২০১৮—এ সময়ে অপূর্ণ চাহিদার হার কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রামে এ হার (১৩.১%) শহর
থেকে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কিশোরী অবস্থায় বা কম বয়সে গর্ভধারণ বা কিশোরী মাতৃত্বের হার কমিয়ে আনা, যা অনেক বেশি ২৭.৭% ( ২০১৭-১৮ বিডিএইচএস)। ১৯৯৩-৯৪ সালে কিশোরী (১৫-১৯ বছর) প্রজনন হার ছিল ৩৩ শতাংশ। গত ২৬ বছরে (১৯৯৩-২০১৮) এ হার হ্রাস পেয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ বিডিএইচএস একই তথ্য সূত্রে দেখা যায়, বর্তমানে গ্রাম এলাকায় এ হার ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যা শহর থেকে ৬ শতাংশ বেশি। ফলে কম বয়সে গর্ভধারণ বা কিশোরী মাতৃত্বের হার কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তার জন্য দরকার যুগোপযোগী কার্যক্রম ও পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নির্মূল হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ। এখনো বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু বা কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে (বিডিএইচএস ২০১৭-২০১৮), যার
বেশির ভাগই হচ্ছে গ্রামে (৬০.৭%)। গ্রামে এ হার শহরের চেয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে ২০০১ থেকে ২০১০ সময়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও ২০১০ সালের পর তা স্থিতাবস্থায় রয়েছে কিংবা আংশিক বেড়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬ তাই প্রতিফলিত করে, যেখানে আগের (২০১০) জরিপ অনুযায়ী প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে ১৯৪ থেকে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ১৯৬। ২০০১ সালে বাংলাদেশে এ হার ছিল ৩২২। গ্রাম ও শহরভেদে রয়েছে ব্যবধান। ২০০১ সালে গ্রামে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৩২৬, যা বেশ আশাব্যঞ্জকভাবে হ্রাস পেয়ে ২০১০ সালে পৌঁছে ১৯৯-তে। আর ২০১৬ সালের সর্বশেষ বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপের তথ্যমতে গ্রামে মাতৃমৃত্যু হার ২১৬ দশমিক ৬, যেখানে শহরে ১৩৭ দশমিক ৭। ফলে শহর ও গ্রামভেদে এ হারে বেশ পার্থক্য লক্ষণীয়। ফলে আগামী নয় বছরে এই টেকসই বা বজায়যোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বা আইসিপিডি+ ২৫-এর অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ অর্থাৎ ১ লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ৭০-এ
হ্রাস করা বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রামে এ হার কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সেদিকে প্রয়োজন বিশেষ দৃষ্টি দেয়া। এখনো বাংলাদেশে ৫০ শতাংশের মতো প্রসব বাড়িতে হয়। উল্লেখ্য, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার ব্যবহার বাড়লেও এক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাওয়া যেন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দিকে গুরুত্বারোপ করতে হবে। রক্তক্ষরণ বন্ধ ও একলাম্পশিয়া চিকিৎসায় গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এ দুটো কারণেই ৫৫ শতাংশ মা মারা যান। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বিদ্যমান সিজারিয়ান প্রসবের হার কীভাবে কমিয়ে আনা যায় ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস করায় মনোযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশে এক বছর ও পাঁচ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর হার
হ্রাসে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এক্ষেত্রে গ্রাম শহর থেকে এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১৩৩ (বিডিএইচএস ১৯৯৩-৯৪) থেকে নেমে এসেছে ৪৫-এ (বিডিএইচএস ২০১৪ ও ২০১৭-১৮)। বর্তমানে গ্রামে এ হার ৪৩ হলেও শহরে তা ৪৮। আর এক বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার
গ্রামে ৩৬ আর শহরে ৪১। এক্ষেত্রে শিশুদের টিকা প্রদান বা ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের রয়েছে সাফল্য। যথাযথ বয়স অনুযায়ী সব মৌলিক টিকা প্রদানের হার যথাক্রমে গ্রামে ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ আর শহরে ৮৫ শতাংশ (বিডিএইচএস ২০১৭-১৮)।
সময়ের আবর্তে বাংলাদেশে সাধারণ খানা বা গৃহস্থালির আকারেও পরিবর্তন এসেছে। জনসংখ্যা শুমারি অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে শহর ও গ্রামে সাধারণ খানা বা গৃহস্থালির আকার একই ৫ দশমিক ৫ থাকলেও ২০১১ সালে তা গ্রামে ছিল ৪ দশমিক ৩৬ আর শহরে ৪ দশমিক ২৯, যা শহর থেকে অপেক্ষাকৃত কিছুটা বেশি। বর্তমানে দেশে খানার আকার ৪ দশমিক ২ (এসভিআরএস, বিবিএস ২০১৯)। খানাপ্রধানের জেন্ডারভিত্তিক পরিচয়ের শতকরা হারে তেমন কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। বর্তমানে দেশে মোট ১৫ দশমিক ১ শতাংশ খানাপ্রধান নারী (এসভিআরএস, বিবিএস ২০১৯), যেখানে
১৯৮২ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যার আবার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল পল্লীতে আর মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল শহরে (এসভিআরএস, বিবিএস, ১৯৮১-১৯৯২)।
দেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫+) সাক্ষরতার
হার গ্রামে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা শহরের (৮২.২%) তুলনায়
পিছিয়ে রয়েছে (এসভিআরএস, বিবিএস ২০১৯)। এক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের এ ব্যবধান আরো কমিয়ে আনতে হবে। বিদেশের শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন লোক বিদেশে গেছে ১৯৭৬-২০২০ সময়কালে, যেখানে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স পেয়েছে ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ২০ দশমিক ৮২ কোটি টাকা (বিএমইটি ২০২১)। বিদেশে গমন করা এসব মানুষদের বেশির ভাগ গেছে গ্রাম এলাকা থেকে, যার অধিকাংশই অদক্ষ কিংবা আংশিক দক্ষ কাজের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিবিএসের গৃহস্থালি আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, জরিপকালীন গত এক বছরে গ্রামীণ গৃহস্থালি থেকে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। গ্রাম-শহর উভয় ক্ষেত্রেই ২৫-৩৪ বছর বয়স্ক নারী-পুরুষই বিদেশে স্থানান্তর করেছেন। এক্ষেত্রে প্রেরিত রেমিট্যান্সের ৭০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ব্যয় করে মৌলিক চাহিদা পূরণে আর ২৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ করে বিনিয়োগে। সঞ্চয় এক্ষেত্রে খুবই কম—মাত্র ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্রামে শহরের তুলনায় বিনিয়োগে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি ব্যয় করে, যেখানে শহরে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় গ্রামের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি (বিবিএস ২০১৬)। বৈদেশিক এ রেমিট্যান্স বাংলাদেশ তথা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতায়ন, সম্পত্তির মালিকানা, পারিবারিক ও অন্যান্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখছে তার অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন।
বাংলাদেশের মানুষের জীবন আয়ুষ্কাল ৭২ দশমিক ৬ বছরে (এসভিআরএস ২০১৯) উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে নারীদের পৌঁছেছে ৭৪ দশমিক ২ বছরে আর পুরুষের ৭১ দশমিক ১ বছরে। জীবন আয়ুষ্কাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এখন কভিড-১৯ সংক্রমণে করোনাকাল পার করছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাও এর বাইরে নয়। এখনো প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থাকলেও শনাক্তকৃত মানুষের চেয়ে যারা শনাক্ত হয়নি বা পরীক্ষা করাতে পারেনি এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক বলে ধারণা করা যায়, যার অবশ্য নির্ভরযোগ্য কারণও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় এ পরীক্ষার হার ও সচেতনতা অনেক কম, যা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো এখন অসংক্রামক ব্যাধি এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়ছেই। এখানে অসংক্রামক ও সংক্রামক রোগের দ্বৈত বোঝা বা ভারের চাপ রয়েছে। রোগশোক বিশেষ করে মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের পরিবর্তন—সংক্রামক থেকে অসংক্রামক। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায়ই অসংক্রামক রোগ বাড়লেও কিছুু ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় শহরের চেয়ে বেশি, যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কারণে মৃত্যু (৮.১% বনাম ৭.২%), অ্যাজমা
(৭.১% বনাম ৪.৪%), লিভার
ক্যান্সার (২.৩% বনাম ২.০%) (বিবিএস
২০১৯) লক্ষণীয়।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ ও সারা বিশ্ব বর্তমানে এক অনিশ্চিত সময় পার করছে। কবে এ অতিমারী থেকে আমাদের এ পৃথিবী মুক্ত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কভিড-১৯ আমাদের স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের আবাস গ্রামীণ পর্যায়ে সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে কি, যেখানে সরাসরি যুক্ত রয়েছে জনমিতিক ও সামাজিক নির্দেশক? বয়সের মানদণ্ডে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারে গ্রাম-শহরভিত্তিক ভিন্নতা লক্ষ করা যাছে কি? কী করে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়? জনসংখ্যার সুরক্ষাহীনতা গ্রাম-শহরভিত্তিক কী কী প্রভাবক দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? এক্ষেত্রে কী কী জনমিতিক ও সামাজিক প্রভাবক জড়িত রয়েছে? সময়ের পরিক্রমায় গ্রামীণ এলাকায় জনমিতিক প্রভাব কী হচ্ছে? জনসংখ্যার পরিবর্তনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব কী হচ্ছে এবং কীভাবে তা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন উপগোষ্ঠীতে ভিন্নতা সৃষ্টি করছে? গ্রাম-শহরভিত্তিক উপাত্তের চাহিদা ও পদ্ধতিগত বিশ্লেষণে আমাদের অর্জন বা ঘাটতি এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের নীতি-কৌশল কী নিতে হবে? জনসংখ্যা ও উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা পাঠের পরিসরে এরই মধ্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে এবং খুঁজতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে। এক্ষেত্রে ১৯৯৪ সালের জনসংখ্যা ও উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (আইসিপিডি) প্রোগ্রাম কর্মসূচি, ২০১৯ সালের আইসিপিডি+২৫-পুনঃপ্রতিশ্রুতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাউকে পেছনে ফেলে নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে বিবেচনায় জাতীয় নীতি-কৌশলে গ্রামীণ ও শহরের জনসংখ্যার সঠিক চিত্র সব ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে। উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মনিটরিং ও মূল্যায়নে উপাত্তের নির্মোহ বিশ্লেষণে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন ইস্যুগুলোকে সমন্বয় ও একীভূতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে উন্নয়নের ভিত্তিমূলে থাকবে অধিকার ও পছন্দ, সমতা ও জীবনের গুণগত উন্নয়ন।
ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম: অধ্যাপক পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










