একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। মূলত দেশের সবচেয়ে মেধাবী অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা অর্জন করবে সেটিই সবার কাছে স্বীকৃত সত্য। এক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধান্য থাকলেও পাল্লা দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা অধ্যয়ন করছে? নিঃসন্দেহে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই চিন্তার গতিমুখ পাল্টে যাচ্ছে তরুণদের। এক গড্ডলিকাপ্রবাহে গা-ভাসিয়ে অজানা সাগরে হাবুডুবু খেতে হচ্ছে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার কাণ্ডারিদের।

তারুণ্যের চিন্তার স্রোত পাল্টে দেয়ার ক্ষেত্রে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্র কি দায় এড়াতে পারে? আমাদের দেশে কেন উচ্চ শিক্ষার উপযোগী কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হলো না, সে চিন্তা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারকদের রয়েছে? প্রচলিত কাঠামোবদ্ধ চিন্তার বাইরে কারো পক্ষে কোনো কিছু চিন্তা করা কি সম্ভব হচ্ছে?

স্বপ্নটা দেখবে কে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পক্ষে কি সম্ভব বৃত্তের বাইরে চিন্তা করা? তারও তো সীমাবদ্ধতা আছে, নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ করে পরীক্ষা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকেও নির্দিষ্ট সিজিপিএ পেতে হবে। না হলে চাকরির বাজারে সে কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ডের বিচারে প্রতিযোগিতাই করতে পারবে না।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এখনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পথিকৃৎ গণ্য করা হয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপযোগিতা মেলাতে না পেরে ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার মান হারাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, আবাসন ব্যবস্থার সংকট, গবেষণার ঘাটতি আর অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যোগ্য শিক্ষক রয়েছে বটে, কিন্তু নতুন যারা শিক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন তারা প্রবীণদের রেখে আসা অধ্যবসায় আর পাঠদানের ধরনকে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছেন কি না এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন।

অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সীমাবদ্ধতার বাইরে নয়। বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোয় সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করা সম্ভব হয় না এটি এখন নিখাদ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এটার কার্যত সমাধানেরও যেন কোনো উদ্যোগ নেই। ২০১৭ সালে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এর ফলে কলেজগুলোর পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি হলেও শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি যে জটিলতা সেটির উত্তরণ সম্ভব হয়নি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে আরো বেড়েছে। শুধু পরীক্ষা দিতে চাওয়ার জন্য আন্দোলন করতে এসে এক শিক্ষার্থী তার চোখ হারিয়েছিলেন। কোনোরকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এ অধিভুক্তির ফলে আজও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মেলেনি। যে কারণে এখনো কোনো দাবি আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জনগণের করের টাকায় পড়াশোনা করে, এমন কথা বলা হলেও শিক্ষা জীবন শেষে শিক্ষার্থীরা আর দেশমাতৃকার কথা ভাবে না। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র কি শিক্ষার্থীদের দেশের কথা ভাবার শিক্ষা দিতে পারে? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘সেমিস্টার সিস্টেমের অর্থ হচ্ছে দৌড়ের ওপর থাকা, শিক্ষকরাও দৌড়ের ওপর থাকে, শিক্ষার্থীরাও দৌড়ের ওপর থাকে।’ এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে পড়াশোনা শেষ করার পর শুরু হয়ে যায় ক্যারিয়ারের দৌড়। আর এ ক্যারিয়ারের দৌড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার লেশমাত্র থাকে না। তাহলে কেন এত সময় ব্যয় করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা। কারণ একটাই সরকারি-বেসরকারি চাকরি পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রয়োজন হবে। এজন্য শুধু একটি সনদের জন্য দিনরাত এমন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশের সম্ভাবনাময়ী তরুণরা।

আর আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ গবেষণা হলেও গবেষণার যেন সময়ই নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। সেমিস্টার সিস্টেমে পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষা জীবনের বৈতরণী পার করাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। আর কাঙ্ক্ষিত গবেষণা না হলেও প্রতি সমাবর্তনেই তো পিএইচডি দেয়া হচ্ছে। বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ এই এক দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৭৫৩ জনকে পিএইচডি দেয়া হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ৯৭ জনকে পিএইচডি দেয়া হয়েছে। এসব ডিগ্রির বেশির ভাগই কলা অনুষদ থেকে দেয়া হয়েছে। অথচ উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশে আর্থিক কারণেই এসব বিষয়ে ডক্টরেট গ্রহণে আগ্রহীদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মানে উন্নত দেশে আবাসনহ পিএইচডি গবেষকরা যেসব সুবিধা পান তার কিছুই বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। তার ওপর নিবিড় গবেষণার জন্য গবেষকরা শিক্ষা ছুটি পান, কিন্তু বাংলাদেশে চাকরির পাশাপাশি পিএইচডি অর্জনের জন্য পড়তে হয়। এর ফলে যেটা হয় এসব পিএইচডি ডিগ্রি শুধু সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই হয় না। মান বিবেচনায় অনেক ঘাটতি থেকে যায়। যে কারণে নতুন জ্ঞান অন্বেষণ ও সৃষ্টির পরিবর্তে নামের আগে ড. ডিগ্রি যোগ করাই বর্তমান সময়ের পিএইচডি অর্জনের নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কি করণীয় রয়েছে? শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে যোগ্য জনসম্পদ তৈরি করা। কিন্তু শুধু সনদ প্রদান করাই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হতে পারে? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ধরন প্রসঙ্গে এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কি কোনো উদ্যোগ নেয়া যায় না? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে প্রকৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতেন। এ ভাবনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে বর্তমান সময়েও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক উন্মুক্ত স্থানে ক্লাস নিয়ে উদাহরণ দেখিয়েছেন। তবে মাত্র একটি ক্লাস নিয়ে সেটিকে স্থায়ী কোনো উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কেননা প্রথাগতভাবে যেহেতু সুউচ্চ ভবনের বদ্ধ শ্রেণীকক্ষেই ক্লাস নিতে হবে, সেহেতু সারা বছরের পাঠ কার্যক্রমের কথা চিন্তা করেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা ভাবতে হবে।

মূলত তরুণ যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন, তাদের মধ্যে একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ভাবতে চাইলেও কার্যত সেটি সম্ভব হয় না। কারণ একজন প্রভাষকের পক্ষে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার কার্যক্রম বদলে দেয়া সম্ভব না। এজন্য পুরো সিস্টেমকেই নিয়ে ভাবতে হবে।

একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগোপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা যদি না হয়, তাহলে সে দেশের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পাওয়া দুষ্কর। জাতির মেধাস্বত্ব এবং জ্ঞানের বিকাশে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। অবশ্য শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যদি শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রমে সৃজনশীলতার চর্চা না থাকে তাহলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পার হয়ে এসে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই সৃজনশীলতা আশা করা বিবেচ্য বিষয় বৈকি। কারণ ভিতটা তো সুন্দর করে গড়ে তুলতে হয়। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার যে ধরন আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটা আসলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থারই সর্বশেষ অংশবিশেষ। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রেও শিক্ষার নামে শিশুদের কাঁধে ১১/১২টি বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে কি আদৌ শিশুকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করে তোলা যাচ্ছে?

এখন প্রযুক্তির যুগ, তাই শিক্ষা খাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার স্বাভাবিক। মূলত শিক্ষা কার্যক্রমের যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ শিক্ষিত করে তোলা, সেটির লালন ও পরিচর্যা শিশুজীবন থেকেই করতে হয়, তারপর ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে সেটি পূর্ণতা পাবে এমনটি আশা করা যায়। এক্ষেত্রে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত মানের ঘাটতি আছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার যে ধারণা তার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা খাপ খাওয়াতে পারে না। যার মূল নির্যাস দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চলতি বছর ‘ক’ ইউনিটে পাসের হার ছিল ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ‘খ’ ইউনিটে পাসের হার ৯ দশমিক ৮৭ এবং ‘গ’ ইউনিটে পাসের হার ছিল ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ভর্তিযুদ্ধে পাসের হারে খুবই বিপর্যয়কর অবস্থা লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ প্রশ্নের ধরনে কিন্তু পাঠ্যবই এবং পাঠ্যসূচির বাইরে প্রশ্ন করা হয় না। সাধারণ জ্ঞানে যেসব প্রশ্ন করা হয়, নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পাঠ করলেই সেগুলোর উত্তর দেয়া যায়। এর পরও প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এমন দুর্দশার চিত্র দেখা যাচ্ছে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে জ্ঞানের বাতিঘর, কিন্তু তারই নিচে অন্ধকার রেখে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সর্বোচ্চ ফল পেতে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষার সমাপ্তির পর মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষাক্রমকে ঢেলে সাজানো দরকার। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে সেটি আশা করা যায়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কোনো উচ্চ মার্গীয় বিমূর্ত ধারণা নয়। বিশ্ব পরিমণ্ডলে দৃশ্যমান কাঠামোয় বিরাজমান বাস্তবতায় জ্ঞানের যে পুঞ্জীভূত নিদর্শন জমা হয়ে আছে, তারই সরল বহিঃপ্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্রমে জ্ঞানার্জনের পথে হাঁটতে হয়, এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একে অন্যের পরিপূরক। শিক্ষকের পাঠদান থেকে শিক্ষার্থী যেমন জ্ঞান লাভ করবেন, তেমনি শিক্ষার্থীর উত্থাপিত প্রশ্নের ফলে একজন শিক্ষকও নতুন কিছু জানার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় ‘সিনিয়র স্কলার’ এবং ‘জুনিয়র স্কলার’ ধারণাটি এভাবেই তৈরি হয়েছে। যুগ বদলে যাবে, শিক্ষার কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে, এর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কেও এগিয়ে যেতে হবে। তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগোপযোগী শিক্ষার ধারণা কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা পাবে।

 

তৌফিকুল ইসলাম: সাংবাদিক