বাঙালি জাতির জীবনে সংগ্রামের দৃষ্টিকোণ থেকে এক ঐতিহাসিক দিন ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালে এদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি তথা দিক নির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। এই ভাষণের রাজনৈতিক গুরুত্ব বা তাৎপর্য নিয়ে কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে সামান্য বিশ্লেষণই এ লেখার মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু সেই ঐতিহাসিক ভাষণে বজ্রকষ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ পরবর্তী ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিলেন স্বাধীনতা এবং নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতি অর্জন করল স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়। বঙ্গবন্ধুর এ স্বাধীনতার ডাক দেয়ার পেছনে ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি। আর এ মুক্তির অন্যতম একটি হচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তি। ১৯৭৪ সালে ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমি জেনে শুনেই বলেছিলাম স্বাধীনতার সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। কিন্তু মানুষ মুক্তি পাবে সেই দিন যেদিন অর্থনৈতিক মুক্তি দেবা বাংলার মানুষকে। মুক্তি সংগ্রামের এই ঘোষণা অত্যাবশ্যকীয় করে পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর দুই প্রদেশে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশে) মধ্যে গড়ে তোলা ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্য; পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের গড় আয়ের ব্যাপক পার্থক্য। ১৯৬৯-৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের মাথাপিছু গড় আয় পূর্ব পাকিস্তানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি দাঁড়ায় ৬১ শতাংশ। এছাড়া শুধু বৈদেশিক আমদানি-রপ্তানির হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদীরা কিভাবে বাংলাদেশকে শোষণ ও বঞ্চনা করেছে। ১৯৪৮-৪৯ থেকে ১৯৬৯-৭০ সাল পর্যন্ত রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ আয় করেছে ৪৩৮ কোটি টাকা; অথচ আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে মাত্র ২ হাজার ১৭ কোটি টাকার পণ্য। অর্থাৎ বহিঃবাণিজ্যে উদ্ধৃত্ত ছিল ৫০০ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে আলোচ্য সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান আয় করেছে ২ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। অথচ সে সময় ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা।

বৈদেশিক বাণিজ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের এই ২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত থেকে। অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে মাথাপিছু আয়, শিল্পস্থাপন, শিল্পে কর্মচারী নিয়োগ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সুবিধা, আভ্যন্তরীন ও বৈদেশিক মুদ্রার উন্নয়ন বরাদ্দে বিরাজ করছিল ব্যাপক বৈষম্য। ১৯৫৮-৫৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম পাকিস্তানকে যে ক্ষেত্রে ৫২ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা সাহায্য দিয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানকে দিয়েছে ২৬ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে থাকায় ১৯৬৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মি. জর্জ উডস গত বিশ বছরের উন্নয়ন সাহায্য, সাহায্যদান নীতির সাফল্য, ত্রুটি ও ফলাফল পর্যালোচনার জন্য কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মি. এল. বি পিয়ার্সন এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতা ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করেন যা পিয়ার্সন কমিশন নামে অভিহিত। ওই কমিশনের রিপোর্টের একটি ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‌পাকিস্তানে দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য অবিলম্বে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যয় এবং সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের হার হ্রাস করতে হবে।’

স্বাধীনতা লাভের পর প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তিদানের জন্য রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ছিল কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ, ভূমি সংস্কারের আমূল পরিবতন, শিল্পনীতি ঘোষণা, সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য জাতীয়করণ নীতি ঘোষণা, দেশকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সদস্য করা, রেলসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যুৎ লাইন বসানো, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, কৃষি শিল্পসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ, মুদ্রাস্ফীতি রোধে পদক্ষেপ, বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বের ১১৬টি দেশ থেকে বাংলাদেশের স্বীকৃতি গ্রহণ সর্বোপরি মোট দেশজ উৎপাদন, মাথাপিছু আয় এবং প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক সফলতা অর্জন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট শুক্রবার প্রত্যুষে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কতিপয় বিশ্বাসঘাতক কর্মকর্তা ও জওয়ানের হাতে ঘটে সেই মহান সংগ্রামী জীবনের অবসান। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর তিরোধানের পর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশ তথা দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয় সাময়িক সরকারের মাধ্যমে। সব সামরিক সরকার দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালেও প্রকৃতপক্ষে দেশে অর্থনৈতিক কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। ১৯৯০ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের চাপে পড়ে স্বৈরতন্ত্রের বিদায় এবং জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের হাতিয়ার অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় এসে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সেই অর্থনৈতিক মুক্তির পথ অনেকখানি সুগম করেছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ১৯৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেখানে অর্থনৈতিক ভিত্তির তিনটি স্তম্ভ সম্পর্কে উল্লেখ করেন- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বিপুলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর সেই অর্থনৈতিক দর্শনকে অনুসরণ করায় দেশের বিদ্যুৎ, পরিবহন যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, আর্থিক নীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ভীষণ প্রতিকূল অবস্থাকে কাটিয়ে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশ। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে লক্ষ্য করা যায়, ২০০৮ সালে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা যেখানে ছিল ৫২৬২ মেগাওয়াট, ২০২২ সালের জুন মাসে প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে সেটি দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। ১৯৯৫ সালে ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে মাথাপিছু আয় ছিল ১২৮০ মার্কিন ডলার। ২০০৮ সালে অর্থাৎ ১৩ বছরে সেটি ২১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৭৯০ মার্কিন ডলার। অথচ ২০২১ সালে পুনরায় তের বছরে মাথাপিছু আয় ২৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬৮৪০ মার্কিন ডলার। বিগত ১৩ বছরে রপ্তানির পরিমান ২ দশমিক ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে। কৃষিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বিগত টানা চার বছর বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। মাছ উৎপাদনে টানা ছয় বছর পঞ্চম স্থান ধরে রেখে ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। সদ্য স্বাধীন দেশে দারিদ্রের হার যেখানে ছিল ৯০ শতাংশ, সেই দারিদ্রের হারও বেশ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মাথাপিছু ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাওয়ার প্রথম স্বীকৃতি আসে ২০১৫ সালে। ২০১৫ সালে জুলাইয়ে বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে এক ধাপ এগিয়ে নিম্নমধ্যম আয়ের তালিকায় ঢুকে পড়ে। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের চেয়ে অনেক সুচকে এগিয়ে। জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। সাক্ষরতার হার বর্তমানে পাকিস্তানে ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশে সেটি ৭৫ শতাংশ। ২০২১ সালে পাকিস্তানের রপ্তানি আয় ছিল ৩১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশে সেটি ৪৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমান বর্তমানে বাংলাদেশে যেখানে ৩২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানে সেটি মাত্র ৮ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

একটা দেশে সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি পরিমাপের যদি কোনো সার্বিক সূচক খুঁজতে হয়, তাহলে সেটা হতে পারে মানুষের গড় আয়ু। জাতি, সমাজ, পরিবার-কোনো পর্যায়ে উন্নয়ন বা উৎকর্ষ লাভের যেসব প্রচেষ্টা নেয়া হয়, যেমন আর্থিক, সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশগত বা অভ্যাসগত- সবকিছুরই মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তি বা মানবকল্যাণ। আর এগুলোর সামগ্রিক সুফল গড় আয়ু বৃদ্ধি।

পরিসংখ্যান মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৪-৪৫ বছর। বর্তমানে এটি বেড়ে প্রায় ৭২ বছরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান গড় আয়ু বৈশ্বিক গড় আয়ুর সমান। অন্যদিকে পাকিস্তানের মানুষের গড় আয়ু ৬৬ বছর। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছে। প্রতিবছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন বাংলাদেশ যেখানে ১ দশমিক ১ শতাংশ, সেখানে পাকিস্তানের এ হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ। নবজাতক শিশু মৃত্যুর হারে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ। এক বছরের চেয়ে কম বয়সের প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে বাংলাদেশে মারা যায় ২২টি, আর পাকিস্তানে মারা যায় ৫৭টি শিশু। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান ও গতি এবং মানবসম্পদের চিত্র পরিমাপের তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রাসঙ্গিক। কেননা এ তুলনামূলক ফল প্রমাণ দেয় পাকিস্তান এক সময় যে বাংলাদেশকে শোষণ ও বঞ্চনা করেছে, সেই বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। 

শুধু পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তৃতীয় সমুদ্র বন্দর, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, অর্থনৈতিক জোনসহ যেসব বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, সেসব প্রকল্পের সুফল বাস্তবায়ন শুরু হলে দেশের কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক প্রসারতা, বেকারত্ব দূরসহ সার্বিক অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য হারে ঊর্ধ্বগামী হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের প্রতিবেদন বলছে, ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫ অর্থনীতি দেশের একটি হবে। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া এবং ২০৩২ সালে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্নার পেছনে একদিকে যেমন রয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ দূরদর্শী অর্থনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, তেমনি রয়েছে এদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও মেধার প্রয়োগ। তবে দেশের এই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরো বেগবান এবং বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য চিরতরে রোধকল্পে কার্যকরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

লেখক: মো. শাহাদাৎ হোসেন: এফসিএ, কাউন্সিল সদস্য ও সাবেক সভাপতি, দ্য ইনস্টিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ