পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির শক্তি ও দুর্বলতা, সাফল্য ও ব্যর্থতা এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ

১৯৭৭ সালেই দেং সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রসঙ্গে বললেন, ওই বিপ্লবকালে দুর্ভোগের কথা সবারই খোলাখুলি বলা উচিত। তিনি ‘বেইজিং বসন্ত’-এর ডাক দিলেন, যার মধ্য দিয়ে ওই বিপ্লবপন্থীদের বিরুদ্ধে জনমত বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলো। যারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবকালে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, তাদের গুরুত্ব বাড়তে থাকল। এ সময় পার্টি কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলো। পার্টিতে সদস্যপদের জন্য আগে শ্রেণী পরিচয় ছিল নির্ধারক, প্রাক্তন জোতদারদের পার্টি সদস্যপদ গ্রহণে বিধিনিষেধ ছিল, এসব শর্তের বিলোপ ঘটানো হলো। পার্টি ও সরকারে দেংয়ের প্রভাব সংহত হওয়ার পর পার্টি সেক্রেটারি ও প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে হুয়া গুয়ো ফেংকে সরিয়ে দেয়া হলো। পার্টি ও সরকারে পদ যা-ই থাকুক, দেং ততদিনে ক্ষমতার কেন্দ্রে, তবে সামরিক কমিশনের প্রধান পদে তিনি বরাবরই অধিষ্ঠিত ছিলেন।

১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে কমিউনিস্ট পার্টির একাদশতম কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় প্লেনারি অধিবেশনের প্রস্তুতি সভার সমাপনী পর্বে দেং একটি নীতিনির্ধারণী বক্তৃতা দেন। তিনি এক নতুন লংমার্চের ডাক দিয়ে বক্তৃতায় বলেন,

‘কেন্দ্রীয় কমিটি পার্টির সমস্ত কার্যক্রম চারটি আধুনিকায়নের দিকে নিবদ্ধ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়া মৌলিক নীতিমালা সামনে নিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে সমাধিত হয়েছে অতীতের উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া স্তূপীকৃত সমস্যা।... এখন আমরা নিশ্চিত হতে পারি—কেন্দ্রীয় কমিটির সঠিক নেতৃত্বে পার্টি, সেনাবাহিনী ও জনগণ আমাদের এ নতুন লংমার্চে একের পর আরেক বিজয় অর্জন করবে।...’

তিনি পার্টির ক্যাডারদের দুর্বলতা তুলে ধরে বলেন,

‘বিশেষ করে অগ্রবর্তী ক্যাডাররা এখনো তাদের মনকে পুরোপুরি মুক্ত করে উঠতে পারেননি।... প্রথমত, এর কারণ বিগত কয়েক যুগে লিনবিয়াও এবং চারজনের দল একটি মতাদর্শিক বিধিনিষেধ বা নিষিদ্ধ এলাকা তৈরি করেছিল এবং তাদের ‘হাস্যকর মার্ক্সবাদের’ গণ্ডির ভেতরে মানুষের মনকে আটকে রাখতে অন্ধবিশ্বাসের প্রচারণা চালিয়েছিল।... দ্বিতীয়ত, এর কারণ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাকে দমন করা হয়েছিল। পার্টি আক্রান্ত হয়েছিল আমলাতান্ত্রিকতা দিয়ে।... এ সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একজন বা দুজন ব্যক্তি।... তৃতীয়ত, সেই সময়ে ভুল এবং সঠিক বা দোষ এবং গুণের মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট পার্থক্য করা হতো না এবং যথোচিত তিরস্কার বা পুরস্কারেরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যারা ভালো করতেন এবং যারা করতেন না, তাদের মাঝে পার্থক্য করা হতো না।... চতুর্থত, এর কারণ হলো জনগণ এখনো ক্ষুদ্র নির্মাতার অভ্যাসের অধীন, এখনো তারা পুরনো প্রথা মেনে চলেন এবং এতেই তৃপ্ত হয়ে প্রগতিশীলতা খুঁজতে অথবা নতুন কিছুকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক।... আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ক্ষমতা অতি-ঘনীভূত অবস্থায় আছে।...’

উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাই তিনি বলেন,

‘চীনে অনেক প্রদেশ, পৌরসভা ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল আছে। আমাদের অনেক মাঝারি আকারের প্রদেশও ইউরোপের বড় দেশের সমান। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বৈদেশিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই আরো বেশি ক্ষমতা দিতে হবে। তবে তা হবে দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি, পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও কাজের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত কাঠামোর ভেতরে।... বর্তমানে সবচে বেশি দরকার খনি, কারখানা, অন্যান্য উদ্যোগে ও উৎপাদন দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো। তাদের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতেই তা প্রয়োজন।... লাখ লাখ উদ্যোগ ও উৎপাদন দলের জনগণ সবাই যদি কাজে মন দেয়—কল্পনা করুন কী বিপুল পরিমাণে বাড়তি ধন সৃষ্টি হবে। আর রাষ্ট্রে যত ধন সৃষ্টি হবে, ব্যক্তি আয় ও সমন্বিত লাভও কিছুটা বাড়বে।... ’

দেং মাওকে অস্বীকার করেননি বরং তাকে সামনে রেখেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারকাজ অগ্রসর করেছেন। তিনি বলেন,

‘দীর্ঘ বিপ্লবী সংগ্রামে কমরেড মাও জেদংয়ের মহান অবদান কোনো দিন ম্লান হবে না।... তার অনন্য-সাধারণ নেতৃত্ব ছাড়া চীনা বিপ্লব আজো জয়ী হতো না। সেক্ষেত্রে আমাদের সব জাতিসত্তার মানুষেরা এখনো সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-পুঁজিবাদের প্রতিক্রিয়াশীল শাসনে দুর্ভোগ পোহাত, আমাদের পার্টিকে আজো লিপ্ত থাকতে হতো অন্ধকারের তিক্ত সংগ্রামে। তাই বললে অত্যুক্তি হবে না যে চেয়ারম্যান মাও না থাকলে আজকের নতুন চীনের জন্ম হতো না। মাও জে দংয়ের চিন্তা আমাদের পুরো প্রজন্মকে পরিচর্যা করেছে। বলা যায় এখানে উপস্থিত প্রতিটি কমরেড তার চিন্তা দিয়ে পুষ্ট হয়েছেন।... মাও জে দংয়ের চিন্তার বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষিতটি আমাদের সঠিকভাবে এবং একটি সমগ্র হিসেবে বুঝতে হবে এবং তাকে নতুন ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আলোকে বিকশিত করতে হবে। কমরেড মাও অভ্রান্ত বা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে ছিলেন—একথা আমরা বলি না। কোনো বিপ্লবী নেতা প্রসঙ্গে এমন দাবি করা মার্ক্সবাদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে দেং বলেন,

‘কমরেড মাও মূলত সংশোধনবাদ প্রতিহত করার আকাঙ্ক্ষাতেই এর সূচনা করেন। ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’কালে সংঘটিত ভুল ও ঘাটতিগুলো যথাসময়ে মূল্যায়ন করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সমগ্র পার্টিতে বোঝাপড়ার ঐক্য অর্জন করতে তার প্রয়োজন আছে। ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ চীনের সমাজতান্ত্রিক বিকাশের একটি পর্যায় হয়ে গেছে, তাই এর মূল্যায়ন দরকার।... ইতিহাসে সেই কালের সঠিক বিশ্লেষণ করতে হলে আমাদের সম্ভবত আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন,

‘মূলত আমাদের অধ্যয়ন করা উচিত মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ ও মাও জে দংয়ের চিন্তাধারা। চেষ্টা করা উচিত আধুনিকায়ন অর্জনের প্রায়োগিক প্রয়াসের সঙ্গে মার্ক্সবাদের সার্বিক নীতির সমন্বয় ঘটানোর। বর্তমানে আমাদের অধিকাংশ ক্যাডার তিনটি বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কৃেকৗশল এবং ব্যবস্থাপনা—এ তিনটি বিষয় ভালোভাবে অধ্যয়ন করলেই কেবল সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

১৯৭৮ সালে দেং থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর করেন। বিশেষত সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন মডেল তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। জাপানের সঙ্গেও ক্রমে সম্পর্কের উন্নতি হয়। ১৯৭৯ সালে দেং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সফরকালে তিনি কোকা-কোলা ও বোয়িংয়ের সদর দপ্তরও সফর করেন। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সভা করেন। এ বছরের মধ্যে চীনের বাজারমুখী বিভিন্ন সংস্কার শুরু হয় জোরকদমে।

চার আধুনিকীকরণ ও ত্রিবিশ্ব তত্ত্ব

ক্ষমতা সংহত হওয়ার পর দেং জিয়াও পিং ‘চার আধুনিকীকরণ’ তত্ত্বকে চীনের অর্থনীতি সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করালেন। তবে এ তত্ত্ব যে তারই উদ্ভাবন এটা বলা যায় না। বস্তুত এ ডাক প্রথম দিয়েছিলেন চৌ এন লাই, অবশ্যই মাওয়ের জীবদ্দশাতেই। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমে উষ্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে আজীবন প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকলেও বিভিন্ন সমীকরণে ক্রমে চৌ এন লাই মূল কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন। সে রকম সময়েই ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে, ক্যান্সারে আক্রান্ত, রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক, চৌ এন লাই চীনের জাতীয় কংগ্রেসে শেষবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেখানেই তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশংসা করার সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘চীনের এখন চারটি মুখ্য ক্ষেত্রে অর্থাৎ কৃষি, শিল্প, জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সামগ্রিক আধুনিকীকরণের কর্মসূচি নিতে হবে।’ তিনি এ সঙ্গে এটাও বলেন যে তিনি এ কথা বলছেন ‘চেয়ারম্যান মাওয়ের নির্দেশ’ অনুযায়ী। তিনি বক্তৃতায় আরো বললেন, এ শতাব্দীর মধ্যেই চীনকে এ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এর আগে ১৯৭৪ সালে চীন থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘ত্রিবিশ্ব তত্ত্ব’। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে এ তত্ত্ব ঘোষণা করেন চীনা প্রতিনিধি দলের নেতা দেং জিয়াও পিং। মাও সে তুংয়ের নির্দেশ বা অনুমোদন ছাড়া এ নীতিগত ঘোষণা সে সময় কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ তত্ত্বে বলা হয় বিশ্ব তিন ভাগে বিভক্ত, প্রথম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, এর বাইরে জাপান ও ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্ব এবং চীনসহ বাকি দেশগুলো গঠন করে তৃতীয় বিশ্ব। ভাষণে দেং বলেন,

‘যেহেতু দুই পরাশক্তি বিশ্ব আধিপত্যের জন্য লড়াই করছে, সেহেতু তাদের মধ্যকার এ দ্বন্দ্ব মীমাংসার অযোগ্য, একজন অন্যের ওপর ক্ষমতা খাটাচ্ছে অথবা অধিক ক্ষমতাধর হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের আপস ও সংঘাত হতে পারে কেবল আংশিক, অস্থায়ী এবং আপেক্ষিক; যেখানে তাদের প্রতিযোগিতা সর্বাত্মক, স্থায়ী ও চূড়ান্ত। তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুক্তিতে পৌঁছতে পারে কিন্তু সেটা হবে কেবলই বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক।’ (পূর্বোক্ত)

আরো বলা হলো, ‘দুই পরাশক্তি নিজেরাই নিজেদের বিরোধের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিপক্ষ তৈরি করেছে’, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এবং সারা বিশ্বের জনগণের মধ্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রবল হয়ে উঠেছে’, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে আসল ক্ষমতা নেই। আসল ক্ষমতা আছে তৃতীয় বিশ্ব এবং বিশ্বের জনগণের হাতে, যারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং জয়ের জন্য লড়াইয়ের ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে’। এ তত্ত্ব চীনকে দুই পরাশক্তি কখনো কখনো কার্যত সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নিজের প্রভাবের বলয় বাড়ানোর কৌশলগত পথ তৈরি করে দিল। এর প্রকাশ আমরা পরবর্তী বছরগুলোতে দেখেছি।

ত্রিবিশ্ব তত্ত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী রাজনীতির মধ্য থেকেই ভিন্নমত বা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ভিন্নমতের মূল বক্তব্য ছিল এ তত্ত্ব শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি বিবর্জিত। এটি তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসকদের শ্রেণী অবস্থান সম্পর্কে নির্লিপ্ত, যা দেশে দেশে বিপ্লবী রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের নেতাদের মধ্যে এ সমালোচনায় সবচেয়ে সরব ছিলেন আলবেনিয়ার নেতা আনোয়ার হোজ্জা। মতাদর্শিক ক্ষেত্রে মৌলিক দ্বিমত করায় চীনকে যেভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন শায়েস্তা করেছিল, ঠিক একইভাবে আলবেনিয়াকে শায়েস্তা করতে চেষ্টা করে চীন।

১৯৭৭ সালে আলবেনিয়া চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়ার মতোই সংশোধনবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ‘সংশোধনবাদবিরোধী’ সংগ্রামের বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে চীনের আগে আলবেনিয়ার সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক তিক্ত হয়, একই কারণে সে সময় চীনের সঙ্গে আলবেনিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। আবার এক দশকের মধ্যে চীনের মার্কিনমুখী নীতি, ত্রিবিশ্ব তত্ত্ব বিরোধিতা করায় চীনের সঙ্গেও আলবেনিয়ার সম্পর্ক তিক্ত হয়। এক পর্যায়ে চীন সেদেশে প্রদত্ত কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন সহযোগিতার কর্মসূচি বাতিল করে। এর আগ পর্যন্ত চীন উদারভাবে আলবেনিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়েছে। ত্রিবিশ্ব তত্ত্ব সম্পর্কে হোজ্জার বক্তব্য ছিল, এ তত্ত্ব দুই পরাশক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কম শত্রু হিসেবে গণ্য করছে এবং এ তত্ত্বের মধ্য দিয়ে চীন নিজেই আরেকটি পরাশক্তি হওয়ার পথে অগ্রসর হওয়ার যৌক্তিকতা দাঁড় করাচ্ছে।