খেলাপি ব্যাংক ঋণ ও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার দেশের সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে পরিণত হয়েছে, অথচ এ ব্যাপারে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা একেবারেই অনুল্লেখ্য। সরকারের অর্থমন্ত্রীর দক্ষতার অভাব এজন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী মনে করি। একজন জনশক্তি রফতানিকারক হিসেবে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হলেও তিনি নিজেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরিচয় দিয়ে থাকেন, ওই পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন বলে দাবি করে থাকেন। কিন্তু একদিনের জন্যও তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলে কোনো নজির নেই। দেশের অর্থনীতির নেতৃত্বদানে এরকম একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে গুরুদায়িত্ব প্রদান কতটুকু সমীচীন হয়েছে সে প্রশ্নটা ২০১৯ সালে তাকে নিয়োগ করার পর থেকেই প্রবলভাবে উত্থাপিত হয়ে চলেছে, অথচ পৌনে পাঁচ বছর ধরে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে মেধাবী অর্থনীতিবিদ এসএএমএস কিবরিয়া এবং ২০০৯-১৮ মেয়াদে মেধাবী ও অভিজ্ঞ আমলা জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার পর ২০১৯ সালে তাকে নিয়োগের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা জানা না গেলেও তার এহেন অযোগ্যতার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো অর্থনীতিকে। খেলাপি ঋণ ও পুঁজি পাচারকে তিনি যথাযথ গুরুত্বসহকারে মোকাবেলা করার সদিচ্ছা পোষণ করেন কিনা সে প্রশ্নটা নিয়ে এখন ওয়াকিবহাল মহল সোচ্চার। মিডিয়ায় তিনি পারতপক্ষে বক্তব্য রাখেন না, সংসদে তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। পরপর দুই বছর তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেননি। তিন বছর ধরে অর্থনীতি যে একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে চলেছে তার জন্য শুধু নভেল করোনাভাইরাস মহামারী কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করে পার পাওয়া যাবে না। এর জন্য অর্থমন্ত্রীর যোগ্যতার ঘাটতিকেই প্রধানত দায়ী করা যায়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই অর্থমন্ত্রী একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলাপি ব্যাংক ঋণ সমস্যাকে কার্পেটের তলায় লুকিয়ে ফেলার জন্য প্রয়াস শুরু করে দিয়েছিলেন। পদক্ষেপগুলো দেখুন:

১) ২০১২ সাল থেকে প্রচলিত তিন ধরনের শ্রেণীকরণের নিয়ম পরিবর্তন করে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের অনাদায়ী ঋণকে শ্রেণীকরণের নতুন নিয়ম চালু করেছে: এক. পূর্বে নির্দিষ্ট মেয়াদের তিন মাস পর যেসব ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হতো সেগুলোকে ‘সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ’ শ্রেণীকরণ করা হতো, নতুন নিয়মে তিন মাসের পরিবর্তে সময়টা ছয় মাস করা হয়েছে; দুই. পূর্বে নির্দিষ্ট মেয়াদের ছয় মাসের বেশি যেসব ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হতো সেগুলোকে ‘ডাউটফুল ঋণ’ বলা হতো, নতুন নিয়মে নয় মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ‘ডাউটফুল’ শ্রেণীকরণ হবে; এবং তিন. আগের নিয়মে নয় মাসের বেশি কোনো ঋণ খেলাপি হলে ‘মন্দঋণ’ শ্রেণীকরণ করা হতো, এখন এক বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য ঋণ অনাদায়ী হলে ‘মন্দঋণ’ বা ‘লস’ শ্রেণীকরণ করা হচ্ছে। ২০১২ সালের নিয়মটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ছিল, কিন্তু অর্থমন্ত্রীর চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরনো শ্রেণীকরণ পদ্ধতিতে ফিরে গেল।

২) এর পরই বাংলাদেশ ব্যাংক মন্দঋণ ‘রাইট অফ’ বা অবলোপনের নিয়মনীতি অনেকখানি শিথিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করল: আগের নিয়মে যেখানে পাঁচ বছরের খেলাপি মন্দঋণ ‘রাইট অফ’ করার যোগ্য বিবেচিত হতো সেক্ষেত্রে নতুন নিয়মে দুই বা তিন বছরের মন্দঋণও ‘রাইট অফ’ করায় কোনো বাধা থাকবে না। পাঠকদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, মন্দঋণ ‘রাইট অফ’ বা অবলোপন করার মানে হলো ওই অবলোপনকৃত মন্দঋণের হিসাবটা ব্যাংকের মূল ব্যালান্স শিট থেকে অপসারণ করে আরেকটি লেজারে হিসাবটা সংরক্ষণ করা। ‘রাইট অফ’ করার দুটো শর্ত হলো: (১) ওই ঋণ সুদাসলে আদায়ের জন্য ব্যাংক মামলা দায়ের করবে, (২) যে পরিমাণ ঋণ ‘রাইট অফ’ করা হয় তার সমপরিমাণ অর্থ ‘প্রভিশনিং’ বা ‘সঞ্চিতি’ করতেই হবে। প্রভিশনিং মানে হলো, ওই পরিমাণ অর্থ অন্য কাউকে ঋণ দেয়া যাবে না। রাইট অফ করার ফলে ব্যাংকের ক্ল্যাসিফায়েড লোনের পরিমাণ ঠিক অতটুকু কম দেখানো যাবে। অতএব নতুন নিয়ম চালু করে ক্ল্যাসিফায়েড লোন কমানোর হাতিয়ার ব্যাংকগুলোর হাতে তুলে দেয়া হলো। আর একটা সুবিধা ঘোষিত হলো, মামলা করার বাধ্যবাধকতার জন্য আগে যে সর্বনিম্ন সীমা (ফ্লোর) ছিল ৫০ হাজার টাকা ওটাকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা।

৩) তারপর ২৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, মাত্র ২ শতাংশ খেলাপি ঋণ প্রথম কিস্তিতে শোধ করলে ঋণখেলাপিকে ১০ বছর সময় দেয়া হবে, যার মধ্যে তিন মাসের কিস্তিতে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে বাকি ঋণ শোধ করা যাবে। (পরে তিনি বললেন সুদের হার ৯ শতাংশ হবে)।

৪) এরপর ৭ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে তিনি বললেন, ‘আমি খেলাপি ঋণের জন্য ব্যবসায়ীদের কীভাবে জেলে পাঠাব?’ দুর্নীতির দায়ে যদি দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী জেল খাটেন তাহলে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ ব্যবসায়ীরা আইন মোতাবেক শাস্তি পেলে তার প্রাণ কাঁদবে কেন? ব্যবসায়ীরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

৫) ২৮ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে তিনি সংসদে বললেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন কার্যকর করার মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের মাফ করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

৬) সর্বশেষ, যে ১৫ জন খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে ২০১৫ সালে মন্দঋণ রিস্ট্রাকচারিংয়ের সুযোগ দেয়া হয়েছিল তাদের শর্ত দেয়া হয়েছিল যে ওই সুবিধা গ্রহণ করলে আর কখনো নতুন করে ঋণ রিশিডিউলিংয়ের সুযোগ পাওয়া যাবে না। কিন্তু ১৫ জনের মধ্যে মাত্র চারজন ওই শর্ত মেনে সুযোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। বাকি ১১ জনকে আর রিশিডিউলিং সুযোগ দেয়া হবে না বলা হলেও অর্থমন্ত্রীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আবারো ঋণ রিশিডিউল করার অনুমতি দিয়েছে।

এরপর পৌনে পাঁচ বছর ধরে আরো অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়ে খেলাপি ঋণকে লুকানোর ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ল্যাসিফায়েড লোনের পরিমাণ ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে অর্থঋণ আদালত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলার বিষয় হওয়ার কারণে যে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণকে ক্ল্যাসিফায়েড লোনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না সেগুলো যোগ করলে এবং রাইট অফ করা ৬৫ হাজার কোটি টাকা মন্দঋণ যোগ করলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ১৬ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার অর্থ হলো, মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ এ দেশে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে, যেটা বিশ্বে সর্বোচ্চ। আরো মারাত্মক হলো, এ খেলাপি ঋণের অধিকাংশই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। বিশেষত, হুন্ডি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেহেতু অতিসহজে বিদেশে ব্যাংক ঋণ পাচার করা যায় তাই এখন হুন্ডি ব্যবসা প্রবলভাবে চাঙা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন, ডলারের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি, বিদেশে পুঁজি পাচার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে হুন্ডির বেলাগাম আধিপত্যের মতো সমস্যায় জর্জরিত। আমি বারবার বলে চলেছি, যত দিন হুন্ডি ডলারের চাহিদা চাঙা থাকবে তত দিন বাংলাদেশে ডলারের দাম স্থিতিশীল হবে না। ডলারের দাম নির্ধারণ বাজারের কাছে ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত বাজারে ডলারের দাম যত থাকবে হুন্ডিওয়ালারা তার চাইতে ৭-৮ টাকা বেশি দিয়ে প্রবাসীদের ডলার কিনে নেবে পুঁজি পাচারকারীদের কাছে হুন্ডি ডলারের প্রবল চাহিদার কারণে। যেহেতু অধিকাংশ বাংলাদেশী প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণের জন্য হুন্ডি পদ্ধতিকেই বেছে নিচ্ছেন তাই বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি প্রক্রিয়ায় বিদেশে পুঁজি পাচার বর্তমান পর্যায়ে দেশে মহাসংকটজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আমি মনে করি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ও ডলার সংকট থামাতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে দুর্নীতি, পুঁজি লুণ্ঠন এবং পুঁজি পাচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করতেই হবে। তার মানে, একদিকে হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে আর অন্যদিকে দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সত্যিকারভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।

হুন্ডি ব্যবস্থায় দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার কয়েক বছর ধরে যে ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনের ধারাকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নতুন ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এ বিপজ্জনক হুন্ডি ব্যবসাকে দমনের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আমি দেখতে পাইনি। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারকে সাবধান করে চলেছি যে আমদানি বাণিজ্যের ওভার ইনভয়েসিং, রফতানি বাণিজ্যের আন্ডার ইনভয়েসিং এবং রফতানি আয় দেশে ফেরত না এনে বিদেশে রেখে দেয়ার মতো প্রধান প্রধান পুঁজি পাচার পদ্ধতিকে টেক্কা দিয়ে বর্তমানে হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার ক্রমেই পুঁজি পাচারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এটাই এখন আমাদের অর্থনীতির বর্তমান টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টির জন্য প্রধানত দায়ী। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গেড়ে বসা খেলাপি ঋণ সমস্যার প্রধান কারণও এই হুন্ডি পদ্ধতিতে ক্রমবর্ধমান ব্যাংক ঋণ পাচার। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্স এখন হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশে আসছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সিংহভাগ রেমিট্যান্স প্রেরকরা হুন্ডি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। অতএব ২১ বিলিয়ন ডলার যদি ফরমাল চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স আসে তাহলে কমপক্ষে আরো ২১-২২ বিলিয়ন ডলার বা তার চাইতেও বেশি রেমিট্যান্স (টাকার আকারে) হুন্ডি পদ্ধতিতে দেশের অর্থনীতিতে ঢুকছে। গত আগস্টে ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স আগের বছরের আগস্টের চেয়ে ২১ শতাংশ কমে গেছে, সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, যা গত ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বহুদিন থেকেই আমি বলে চলেছি, হুন্ডি ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে দমন না করলে ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাড়ানো যাবে না। কারণ হুন্ডি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ‘এক নম্বর সমস্যায়’ পরিণত হয়েছে।

পুঁজি পাচার দমনের জন্য আমি অনেকগুলো কলামে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছি, কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে এখনো সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ ২০২১ সালের আগস্ট মাসের ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বিপজ্জনকভাবে কমতে কমতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ‘গ্রস রিজার্ভ’ ২০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে এবং নিট রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ শূন্যে নেমে আসতে বেশি সময় লাগবে না। প্রতি মাসে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রয় করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক দিন আগে উচ্চকণ্ঠে বলেছেন, রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। এখন আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রকৃতপক্ষে মাত্র তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত। হু হু করে ডলারের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে টাকার বৈদেশিক মান গত দুই বছরে ৩০ শতাংশ অবচয়নের শিকার হয়েছে, যার ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির তাণ্ডব জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে চলেছে। মূল্যস্ফীতির হার সরকারি হিসাবে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা অনেক বেশি হবে। ভারত ও শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে তা বেলাগাম রয়ে গেছে অর্থমন্ত্রীর অযোগ্যতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক নীতির অভাবে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো রেটকে (বাটার হার) বেশ খানিকটা বাড়িয়েছে মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংক ঋণ সংকোচনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এ পদক্ষেপ বিলম্বিত ও অকিঞ্চিৎকর। এতে মূল্যস্ফীতির তেমন হেরফের হবে না। মনে হয়, বাংলাদেশের জনগণের কপালে আরো অনেক দুঃখ আছে! 

ড. মইনুল ইসলাম: সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও 

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়