'আই হ্যাভ এ প্ল্যান'- দীর্ঘ সতেরো বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে তারেক রহমান বাংলাদেশ নিয়ে তার ভাবনার কথা এভাবেই তুলে ধরেন। তার এই উচ্চারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার ধারায় একটি সম্ভাব্য নতুন পর্বের ইঙ্গিত বহন করে। গত ২৫ ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তন বক্তব্যে তিনি তার 'প্ল্যান'- এর বিশদ বিবরণ না দিলেও ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তার চিন্তাভাবনার কিছু কিছু আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশে যে ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে তারেক রহমান বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাবনা উল্লেখ করছেন, তা আমাদেরকে একটি কল্যাণকামী ও জনমুখী সরকারব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা একটি ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা- এ তিনটি পর্ব রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি বিএনপির অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। তবে বিএনপির সামনে এ পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কারণ তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে তা ঠিক এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা বিগত ৫৪ বছরের প্রেক্ষাপট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে ইতিহাসের এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক প্রস্তুতি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বয়ের ওপর। যে প্রত্যাশা নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে তা পূর্ণতা পাবে কি না তা নির্ভর করছে অসংখ্য যদি ও কিন্তু এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা এ ভূখণ্ডের মানুষকে একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা এবং শোষণমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাগত অবক্ষয়ের ফলে সেই স্বপ্ন পূর্ণতা পায়নি। পরবর্তীতে একাধিক রক্তক্ষয়ী বিপ্লব-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সে চেষ্টা করা হলেও তা অপূর্ণই থেকে যায়। তবুও একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে লড়াই-সংগ্রামের ধারা বন্ধ হয়ে যায়নি। এ অব্যাহত ধারাবাহিকতায় অবশেষে ২০২৪ সালে এলো এবং রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটল। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তাতেও একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে একটা বিরাট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা এবং ক্ষেত্রবিশেষ রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ একটা প্রজন্মের ইতিবাচক উত্থান ঘটেছে। রক্তক্ষয়ী এ অভ্যুত্থান রাজনীতিতে ঔদাসীন্য প্রকাশ করে আসা এ প্রজন্মের মাঝে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। নতুন এ প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান যেমন দেশের রাজনীতির জন্য স্বস্তির; ঠিক তেমনই বিদ্যমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয়ও বটে।

তারেক রহমানকে এ বাস্তবতার মধ্য দিয়েই তার দেশ গড়ার পরিকল্পনা সাজাতে হবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও জাতীয়তাবাদের উত্তরাধিকার এ নেতাকে ঘিরে এ মূহুর্তের বাংলাদেশে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আবর্তিত হচ্ছে। ফলে তার ওপরই যুগসন্ধিক্ষণের এ দায়িত্ব বর্তায়। তারেক রহমান যে সময়ে রাজনীতির হাল ধরছেন, তখন দেশে তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশ সরাসরি রাষ্ট্রকাঠামোতে অংশ নিতে যাচ্ছে। দুই প্রজন্মের রাজনীতিতে মেলবন্ধন ঘটানোর এ মহান দায়িত্বটি তাই তাকে নিতে হচ্ছে।

রাজনীতির বাঁকবদলের এ সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের ওপর যেমন ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তায়, ঠিক তেমনই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বদলে দেয়ার দায়িত্বও সমানভাবে অর্পিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে তার প্রধান দায়িত্ব হবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও নৈতিক রাজনীতির দাবির সঙ্গে অর্থবহভাবে সংযুক্ত করা। রাজনৈতিক দর্শনের ভাষায় এটিকে ঐতিহ্য ও পরিবর্তনের দ্বান্দ্বিক সমন্বয় (Dialectical Synthesis) বলা হয়। তারেক রহমানকে এ সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

পুরনো ধারার রাজনীতিতে দূর্নীতিপ্রবণতা এবং বলপ্রয়োগের সংস্কৃতিই ছিল প্রধান। বিগত দিনগুলোতে আমরা রাজনীতিবিদদের নৈতিক আত্মসমর্পণের যে প্রবণতা দেখেছি, বর্তমান প্রজন্ম সেটা মানতে চাইবে না। অন্যদিকে আমাদের আবহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাজনীতি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিপত্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণের মাঝে বিশেষ করে তরুণ সমাজের সঙ্গে- এ বিষয়গুলো একটা পর্দা তৈরি করে দিয়েছিল। তারেক রহমানকে এ পর্দা সরিয়ে দুইয়ের মাঝে যোগসূত্র ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের আয়-ব্যয় এবং সম্পত্তির ব্যাপারে জনগণের কাছে নিয়মিতভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। একজন অভিভাবক রাজনীতিবিদ হিসেবে আগামীর বাংলাদেশে তারেক রহমানকেই এরকম একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করে দিতে হবে। তাকে এমন একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো গঠন করতে হবে, যেখানে রাজনীতিবিদরা রাজনীতিকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে নাগরিক সেবা ও দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে রাজনীতিকে এখনো একটি পেশা হিসেবে দেখা হয়। অসংখ্য বেকার মানুষ রাজনীতিতে যুক্ত হয়, অর্থ উপার্জনের নেশায়। অথচ একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক কাঠামোতে রাজনীতির সেবাধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া উচিত। রাজনীতির এ অপচর্চা তারেক রহমানের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে কেবল রাজনীতিই জড়িত নয়; বরং পুরো সমাজকাঠামো জড়িত। এ পরিস্থিতি উত্তরণে রাজনৈতিক দলের কাঠামোকে একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ে আসা উচিত। রাজনীতিতে যোগদানে নাগরিকের অবারিত স্বাধীনতা থাকা বাঞ্ছনীয়; কিন্তু সেই অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য হতে হবে সেবাদানের উদ্দেশ্যে। আমাদের রাজনীতিতে যদি তারেক রহমান এ চর্চা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তা হবে এ সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য একটি অভূতপূর্ব মাইলফলক। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক সমৃদ্ধি এবং জনগণের উৎপাদনমুখী জাগরণ। অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারাই এ লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের পরিচালনা কাঠামোতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রমকে করতে হবে উদার, গণতান্ত্রিক ও সেবামূলক। তবেই একটি অলিগার্ক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ সম্ভব।

তারেক রহমানের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র। বিগত ষোলো বছরের কায়েমি শাসনব্যবস্থায় আমরা কেবল দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অন্ধ অনুকরণ ও তোষামোদির সংস্কৃতি লক্ষ্য করেছি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমরা সবকিছুকে একব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচালিত হতে দেখেছি। এ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চা দল ছাপিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পর্যন্ত ঢুকে গিয়েছিল, যার ফলে আমরা বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম স্বৈরতন্ত্রের অভিজ্ঞতা ভোগ করেছি। রাষ্ট্র ও রাজনীতির এ ব্যক্তিচর্চা এবং নির্ভরতা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উল্লেখযোগ্য হারে রাজনীতি বিমুখ করে তুলেছিল। কেবল তাই নয়; অনেকেই রাজনীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করেছে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আমাদেরকে এ বন্ধ ও অনুৎপাদনশীল কাঠামো ভেঙে ফেলার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা দেয়।

এ প্রজন্ম মনে করে, রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক। দলের অভ্যন্তরে গঠনমূলক বিতর্ক এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। নেতাকর্মীরা ব্যক্তিপূজার চেয়ে আদর্শিক স্বার্থের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করবে। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জন্য তরুণ প্রজন্মের এই প্রত্যাশা ধারণ করা একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান।

আমরা ইতোমধ্যে তারেক রহমানের মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং প্রজন্মের চাহিদাকে ধারণ করার মানসিকতা দেখতে পেয়েছি। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটের সাথে তার সমন্বয় সাধনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে। তার বিভিন্ন বক্তব্য, বিবৃতিতে রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়। ঘুণে ধরা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার আত্মপ্রত্যয়ের দেখা মেলে। এখন পর্যন্ত তারেক রহমান তার বিনয়, সংযত আচরণ, এবং পরিশীলিত শব্দচয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাব দেখিয়েছেন। তার নেতৃত্বের মাঝে আমরা সবাইকে ধারণ করার প্রত্যয় দেখছি। সুতরাং প্রত্যাশার পারদ আমাদের আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শুন্যাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সেটা তার মাধ্যমে পূরণ হবে। যে অপরিবর্তনীয় অমানিশা আমাদেরকে ঘিরে রেখেছিল, তা থেকে একটা উত্তরণের সুযোগ আমাদের হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। আমরা বিশ্বাস করতে শিখেছি, পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন একজন দৃঢ়চিত্ত রাজনৈতিক নেতা। তারেক রহমান সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলে ভরসা করতে চাই।

তবে এ প্রত্যাশা পূরণ কেবল একজন নেতার একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে। কারণ গণতন্ত্র একটি সমষ্টিগত অনুশীলন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, সংস্কার বা পরিবর্তনে কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং দলই চালিকাশক্তি নয়; এটা সমাজবদ্ধ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকেরও একান্ত দায়িত্ব। সুতরাং তারেক রহমানের নেতৃত্বের সফলতা নির্ভর করবে নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক দলসমূহের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর। ইতিহাসের এ যুগসন্ধিক্ষণে এমন একটি সমন্বিত প্রয়াসই কেবল একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।

ফারহান আরিফ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিএনপি; রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (বিএনআরসি)