পাট শিল্পের ক্ষেত্রে সরকার
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চালুর
কথা বলছে।
এটা কতটা
ফলপ্রসূ হবে
বলে মনে
করেন?
যেখানে নৈমিত্তিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজ কম, সেসব শিল্পে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ সহজে কাজ করে। দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা ও তদারকি বেসরকরি খাতের পক্ষে করা অনেক সহজ, ওরা অনেক বেশি মনোযোগের সঙ্গে করে। যেসব মিলে নতুন প্রযুক্তির জন্য বিনিয়োগ জরুরি, সরকার সেসব ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ বিবেচনা করতে পারে। ৪০-৫০ বছরে যদি কোনো নতুন প্রযুক্তি না এসে থাকে তাহলে উৎপাদনশীলতা কমে যাবে। কিছু অঞ্চলে পাট শিল্পই একমাত্র বা প্রধান শিল্প। এসব অঞ্চলে পাট শিল্প বন্ধ হলে একসঙ্গে বহু লোক কাজ হারাবে। সেখানে সরকারের একটা দ্বিধা থাকে। তাই পাট শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য যে বিনিয়োগ দরকার তা উৎসাহিত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরেও অনেক জুট মিল হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্রমে লোকসান দিচ্ছে না। তারা নতুন মেশিন, নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পেরেছে।
পাটের জিনোম বের করার জন্য আমরা প্রকল্প নিয়েছি এবং তাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। আমরা যে সময় পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি করছি, সে একই সময় পাট শিল্প বন্ধ বা সংকোচন করছি। ফলে কাঁচা পাটের পরিমাণ অনেক হবে কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে শিল্পপণ্য তৈরি করতে পারব না। তখন আমরা অন্যদের কাছে কাঁচা পাট বিক্রি করব, দাম কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে পাটের বড় বাজার ছিল, অস্থির পরিস্থিতির জন্য চাহিদা কমে গেছে। পাট দিয়ে নতুন শিল্পপণ্য তৈরি করা যায়। এখন প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের ব্যবহার বাড়ছে। নতুন চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন চাহিদার জন্যই নতুন উৎপাদন ব্যবস্থা করতে হবে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণেও অনেক
লোকসান হয়েছে?
তখন কি
এ ত্রুটিগুলো দূর হবে?
আমি
ত্রুটি বলব
না, সরকারি
ব্যবস্থাপনার একটি
পদ্ধতি আছে।
বেসরকারি খাতে
দেখা যায়
কোনো যন্ত্রাশং
নষ্ট হয়ে
গেলে দ্রুত
ঠিক করা
হয়। কিন্তু
সরকারি মিলের
জন্য চিঠি
লিখতে হয়,
বিভাগের দায়িত্বে
যিনি থাকেন,
তার কাছে
ব্যাখ্যা করতে
হয়—এ
রকম কয়েকটি
ধাপ পেরিয়ে
সমস্যার সমাধান
হয়। সরকারি
পরিচালনায় দায়বদ্ধতা
অনেক বেশি।
সেজন্য যে
কাজে দৈনন্দিন
তদারকির দায়িত্ব
বেশি এবং
যেখানে দ্রুত
নাট-বল্টু
ঠিক করার
দরকার থাকে,
সেখানে বেসরকারি
বিনিয়োগ বেশি
কার্যকর। বড়
অবকাঠামো নির্মাণ
ও পরিচালনায়
সরকার অধিকতর
যোগ্য। পাটকল
বা বস্ত্রকল
আমাদের বহু
পুরনো শিল্প,
এ শিল্পে
আমরা অভ্যস্ত
এবং বাইরে
পরিচিত। ব্যবস্থাপনাগত
বা অন্য
কোনো কারণে
যদি সে
শিল্পটা দুর্বল
হয়ে থাকে,
তা দূর
করে হারানো
গৌরব ফিরিয়ে
আনার চেষ্টা
করতে হবে।
এসব খাতে
নতুন প্রযুক্তি
ও বিনিয়োগ
দরকার।
সরকার
পাবলিক-প্রাইভেট
পার্টনারশিপের কথা
বলছে। সরকারের
নীতি জনসাধারণের
কাছে গ্রহণযোগ্য
হতে হবে।
সরকার একদম
ছেড়ে দিচ্ছে
না। যদি
প্রাইভেট সেক্টরের
কেউ অংশীদারিত্ব
নিতে চায়,
তাকে সম্পৃক্ত
করা যাবে।
প্রাইভেট সেক্টর
থেকে একজন
সৎ উদ্যোক্তা
যুক্ত হলে
দক্ষতার সঙ্গে
মিল পরিচালিত
হবে এবং
সরকারের নীতি
ফলপ্রসূ হবে।
পাবলিক-প্রাইভেট
পার্টনারশিপ নীতি
হিসেবে খারাপ
নয়, তবে
দেখতে হবে
যে প্রাইভেট
সেক্টর থেকে
যিনি আসছেন,
তিনি নির্ভরযোগ্য
ও ব্যবস্থাপনায়
পারদর্শী উদ্যোগী
কিনা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার
পর ব্যক্তি
খাতে ছেড়ে
দেয়া সম্পর্কে
সরকার বিবেচনা
করতে পারে।
ব্যক্তি খাতে
তো এখন
নতুন মিল
হচ্ছে। তারা
যদি নতুন
মিল চালু
করতে পারে
তাহলে পুরনো
মিল নিয়েও
নতুন প্রযুক্তি
যোগ করে
চালু করতে
পারবে।
অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা
এলে দারিদ্র্য
বৃদ্ধি অস্বাভাবিক
নয়। এক্ষেত্রে
প্রাথমিক নীতি
হচ্ছে দরিদ্রদের
কষ্ট লাঘবের
জন্য সহায়তা
প্রদান। মধ্যমেয়াদ
বা দীর্ঘমেয়াদের
জন্য দরকার
যোগ্যতানুযায়ী শ্রমিকের
কাজের ব্যবস্থা
করা। করোনা
পরিস্থিতিতে আমাদের
দায়িত্ব গ্রহণ
করে রেসপন্ড
করতে হবে।
আমাদের দারিদ্র্য
বাড়ছে, দরিদ্র
লোকের সংখ্যা
বাড়ছে—এ
নিয়ে হা-হুতাশ
করা নয়;
বরং দরিদ্রদের
কষ্ট কীভাবে
লাঘব করা
যায় এবং
যাতে ভালো
অবস্থায় ফেরা
যায়, সে
চেষ্টা করতে
হবে।
সরকার
এ মুহূর্তে
দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে
সহায়তা করছে।
ছোট, মাঝারি
শিল্প, নারী
উদ্যোক্তা, কৃষি
খাত—এসবের
জন্য সরকার
সহায়তা দিচ্ছে।
ফলে উৎপাদন
বাড়বে, সঙ্গে
সঙ্গে কর্মসংস্থানও
বাড়বে। আয়
বৃদ্ধির ফলে
ভোগের চাহিদা
বাড়বে এবং
উৎপাদন উৎসাহিত
হবে ও
বাড়বে। সরকারের
নীতি সঠিক
পথেই আছে।
তবে অনেকে
মনে করতে
পারেন যে
এটা আরো
ভালো হতে
পারত। সবকিছুতেই
তো আরো
ভালো করার
সুযোগ সবসময়
থাকে। শুরু
না করলে
ভালো-মন্দের
কথা ওঠে
না। সরকার
সবসময় আরো
ভালো করার
চেষ্টা করছে।
[শেষ]
সাক্ষাত্কার
নিয়েছেন: এম এম
মুসা
শ্রুতলিখন: রুহিনা ফেরদৌস










