(গতকালের পর)

ভিশন-২০৪১ অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মানব পুঁজি গঠনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগই হবে বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বড় নীতি-চ্যালেঞ্জ। এজন্য যথাগুরুত্বসহ মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুযোগের বিস্তার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নির্মূলের স্বার্থে প্রয়োজন অতিরিক্ত অর্থায়ন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হলো ‘পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামোগত চাহিদার উন্নতি বিধানে এডিপি ব্যয়ের ওপর আলোকপাত করা’। দেখা যায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে ‘বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ২৭১ কোটি টাকা, ‘বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনে’ ৮০০ কোটি টাকা, ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনে ৮০ কোটি টাকা এবং ‘পাঁচটি নির্ধারিত মেডিকেল হাসপাতালে (সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী এবং ফরিদপুর) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনে’ ৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রংপুরে দারিদ্র্য হার বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে অন্য অঞ্চলের চেয়ে অধিক বরাদ্দ প্রয়োজন হলেও তা দেয়া হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসুবিধা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রয়োজনের তুলনায় কম। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ তাতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার বৈশ্বিক প্রবাহের সবকিছুতেই রূপান্তর ঘটাচ্ছে কিন্তু বর্তমান বাজেটে রংপুর অঞ্চলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে পদক্ষেপ নেই। শিক্ষা খাতে রংপুর বিভাগ বাজেট বরাদ্দে পিছিয়ে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সব পর্যায়ে বাজেটের বরাদ্দ রংপুর বিভাগে কম। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২২-২৩-এর উন্নয়ন বাজেটে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে’ বরাদ্দ ৫৯৮ কোটি টাকা, ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নেত্রকোনা স্থাপনে’ বরাদ্দ ৭৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে’ বরাদ্দ ৭১৯ কোটি টাকা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পে’ বরাদ্দ ৪২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে রংপুরের ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে’ বরাদ্দ মাত্র ১৫ কোটি টাকা, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে’ বরাদ্দ শূন্য।

ভিশন ২০৪১-এ বলা হয়েছে, ‘দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দারিদ্র্যপীড়িত দুর্যোগপ্রবণ বেশকিছু জেলার জনগণের পক্ষে অভিবাসনের উচ্চ ব্যয়, প্রশিক্ষণের অভাব এবং তথ্যে অভিগম্যতার অভাব বিভিন্ন কারণে অভিবাসী শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ সম্ভব হয় না। সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূত্রপাত, তথ্যে অভিগম্যতা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শোষণমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রিত করে অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো ক্রমপরম্পরায় সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হলো ‘পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোয় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের সুবিধা তৈরি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের খরচ মেটাতে নির্ভুল তথ্য, প্রশিক্ষণ ও ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসনে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর অবস্থান উন্নত করা’। রংপুর বিভাগের প্রবাসীর সংখ্যা, রেমিট্যান্স প্রেরণের পরিমাণ অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কম। মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণের শতকরা হার যখন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৯৭, ৪২ দশমিক ৩৭ ও ৬ দশমিক ৯৫, সেখানে রংপুর বিভাগে এ হার মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। যোগাযোগ সুযোগ-সুবিধার অভাব, সচেতনতার অভাব ও তথ্য না জানার কারণে দিন দিন এ অঞ্চলের মানুষ পিছিয়ে পড়েছে। রংপুর বিভাগের অগণিত কর্মহীন মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ অঞ্চলের প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা প্রয়োজন কিন্তু এ বাজেটে এ-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

ভিশন ২০৪১-এ ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা আটটি আঞ্চলিক নগর কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট যুক্তিযুক্তভাবেই সুপ্রতিষ্ঠিত। সুতরাং প্রধান গুরুত্ব দেয়া হবে অবশিষ্ট পাঁচটি নগরীর নাগরিক সুবিধাসংবলিত অবকাঠামো শক্তিশালী করা। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হলো ‘পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শক্তিশালী করে তোলা’ কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রংপুর বিভাগে স্থানীয় সরকার ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ কম। যেমন ২০২২-২৩ সালের উন্নয়ন বাজেটে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের’ বরাদ্দ ১ হাজার ২০৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের’ বরাদ্দ ৭৭৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের’ বরাদ্দ ১০০০ কোটি ২ লাখ টাকা অথচ রংপুর সিটি করপোরেশনের’ বরাদ্দ মাত্র ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে’র বরাদ্দ ১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের’ বরাদ্দ ১৪৭৭ কোটি টাকা। অথচ ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ এখনো ‘খসড়া বিল’ পর্যায়ে রয়ে গেছে।  আবার এবারের উন্নয়ন বাজেটে ‘ঢাকা ওয়াসার’ বরাদ্দ ৩০১৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম ওয়াসার বরাদ্দ ১ হাজার ৩৩৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা অথচ ‘রংপুর ওয়াসা’ আজ পর্যন্ত গঠন করা হয়নি। এ অঞ্চলে বাস্তবায়ন হয়নি কোনো মেগা প্রকল্প। এভাবে প্রতি বছরই বাজেটে হাজার কোটি টাকার বৈষম্য হচ্ছে। পিছিয়ে পড়ছে রংপুর অঞ্চল।  

বন্যা, নদীভাঙন রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র্যের একটি বড় কারণ। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম জেলা বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে দারিদ্র্যের হার জেলাওয়ারি সর্বোচ্চ। ভিশন ২০৪১ স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ১৫টি দরিদ্রতম জেলার অধিকাংশই বন্যা, নদীভাঙন, সমুদ্র্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত উচ্চঅরক্ষণশীলতার বৈশিষ্ট্যযুক্ত। কুড়িগ্রামের দৃষ্টান্ত উদ্বেগজনক, দারিদ্র্য সংগঠন এমনকি স্বাধীনতা লাভের ৪৫ বছর পরও খানা আয়-ব্যয় জরিপ (এইচআইইএস) ২০১৬-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী এখানে দারিদ্র্যের অভিঘাতের হার ৭০ শতাংশ। এটি সবার জানা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিক থেকে সবচেয়ে অরক্ষিত জেলাগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম অন্যতম। প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবেশমুখে অবস্থিত কুড়িগ্রাম প্রতি বছর বন্যা ও প্লাবনের শিকার হয়, যা এর সব উন্নয়ন প্রচেষ্টার মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।’ ২০২২-২৩ সালের উন্নয়ন বাজেট লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এবারে রংপুর অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ‘তিস্তা ব্যারাজের উজানে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের সংরক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহার এবং কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা নদীর বামতীর সংরক্ষণ কাজের সম্ভাব্যতা সমীক্ষণ’ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং নদীতীর সংরক্ষণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় ব্রহ্মপুত্র এবং জিঞ্জিরামা নদীর বেসিন ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই’ প্রকল্পে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। লক্ষণীয় এসব প্রকল্প সবই স্বল্পমেয়াদি। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ইত্যাদির স্থায়ীভাবে নদীতীর সংরক্ষণ, ড্রেজিং, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিজ্ঞান, প্রতিবেশ ও পরিবেশসম্মত বাস্তবায়নে উন্নয়ন বাজেটে কোনো ধরনের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। 

ভিশন-২০৪১-এ দারিদ্র্য নিরসন কৌশলের মূল উপাদানের একটি হলো সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি। কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। আবার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হলো পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেয়া কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলে দারিদ্র্য বেশি হলেও সামাজিক সুরক্ষার জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প এবারের উন্নয়ন বাজেটে নেই। অধিকন্তু এর আগে গৃহীত ‘লালমনিরহাট জেলার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবন-মান উন্নয়ন’ প্রকল্পে, ‘অনগ্রসর ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পে এবং ‘অবহেলিত, বিধবা, দুস্থ, অনগ্রসর ও পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নে কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান’ প্রকল্পে ২০২২-২৩ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। রংপুর অঞ্চলের দেশের সর্বোচ্চ দারিদ্র্য দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশেষ বরাদ্দ বা প্রকল্প প্রয়োজন। দেখা যায়, দারিদ্র্য নিরসনে ‘উত্তরাঞ্চলে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি (দ্বিতীয় পর্যায়)’ ২০২২-২৩ সালে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকা, যা হতাশাজনক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ভিশন-২০৪১-এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যহীন ‘সোনার বাংলা’ গঠন করতে হলে কোনো অঞ্চলকে পেছনে ফেলে রেখে তা সম্ভব নয়। ভিশন-২০৪১-এর  দারিদ্র্য নিরসনের অভীষ্ট হলো: ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য নির্মূল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ন্যূনতম পর্যায়ে (৩ শতাংশ বা এর নিচে) নিয়ে আসা। ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিকের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করা হবে। কর্মসন্ধানী নাগরিকদের কাজ থেকে আয়ের ব্যবস্থা এবং বয়স ও দৈহিক কারণে কর্মক্ষম নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা প্রদান করা হবে। বেকারত্ব অতীতের বিষয় বলে গণ্য হবে। অন্যান্য উচ্চ আয়ের অর্থনীতির মতো দারিদ্র্য হয়ে পড়বে একটি আপেক্ষিক ধারণা মাত্র। এ রকম পরিস্থিতিতে যারা দরিদ্র বিবেচিত হবে তাদেরও অন্তত খাদ্য চাহিদা মেটানোর পর জীবনধারণের ন্যূনতম সামগ্রী কেনার মতো পর্যাপ্ত আয় থাকবে।’ দীর্ঘদিন থেকে বঞ্চিত ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার রংপুরের জনগণ ভিশন-২০৪১-এর এ অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণের প্রত্যাশায় আজ। এজন্য প্রয়োজন রংপুর অঞ্চলের জন্য বাজেটে ‘অনেক বেশি বিশেষ বরাদ্দ’ যাতে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চল, অন্য অঞ্চলের উন্নয়নের সমপর্যায়ে যেতে পারে। তাহলেই অর্জিত হবে বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন ‘সোনার বাংলা’। (শেষ)

 

ড. মো. মোরশেদ হোসেন: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর