বাংলাদেশসহ
সারা
বিশ্ব
এখন
কভিড-১৯
সংক্রমণে
করোনাকাল
পার
করছে।
করোনাকালের
এ
সময়ে
মহামারী
কী
করে
জয়
করা
যায়,
এ
নিয়ে
আমাদের
ভাবনার
কোনো
অন্ত
নেই।
কভিড-১৯
দ্বারা
প্রতিদিনই
মানুষ
নতুন
করে
সংক্রমিত
হচ্ছে,
মৃত্যু
হচ্ছে।
এখনো
প্রতিষেধক
বা
ভ্যাকসিন
আবিষ্কার
হয়নি,
তবে
নানা
পরীক্ষা
চলছে।
প্রতিদিনই
নতুন
নতুন
তথ্য-উপাত্ত
নিয়ে
হাজির
হচ্ছে
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থা
ও
বিভিন্ন
গবেষণা
প্রতিষ্ঠান।
সামনে
এক
অনিশ্চিত
ভবিষ্যৎ—কবে
এ
মহামারী
থেকে
পৃথিবী
মুক্ত
হবে
তা
এখনই
বলা
যাচ্ছে
না।
বিশ্ব
মিডিয়ায়
একটিই
আলোচিত
বিষয়—কভিড-১৯
ও
এর
বহুমুখী
প্রভাব।
কভিড-১৯
আমাদের
স্বাস্থ্য,
সামাজিক
ও
অর্থনৈতিক
ক্ষেত্রে
চ্যালেঞ্জ
সৃষ্টি
করেছে,
যার
কয়েকটিতে
সরাসরি
যুক্ত
রয়েছে
জনমিতিক
নির্দেশক।
বয়স
কাঠামো
এখানে
বিশেষভাবে
লক্ষণীয়।
বয়সের
মানদণ্ডে
সংক্রমণ
ও
মৃত্যুর
হারে
ভিন্নতা
লক্ষ
করা
যাছে।
কভিড-১৯-এর
মাত্রা
শুধু
একটি
দেশের
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা
কেমন
তা
এবং
কী
নীতি-কৌশল
নেয়া
হয়েছে,
তার
ওপরই
নির্ভর
করছে
না;
বরং
বয়স
কাঠামো,
অঞ্চল
বা
স্থানভেদ
ও
সামাজিক
আচরণ-আন্তঃপ্রজন্মের
সামাজিক
সংযোগ,
পারিবারিক
কারণও
হয়তো
কভিড-১৯
সুরক্ষাহীনতায়
প্রধান
ভূমিকা
রাখছে।
কভিড-১৯-এর
কারণে
বিশ্বব্যাপী,
অঞ্চলব্যাপী
কিংবা
দেশব্যাপী
কতটুকু প্রভাব
পড়বে
তা
নির্ভর
করছে
জনমিতিক,
সামাজিক,
অর্থনৈতিক
ও
রাজনৈতিক
নির্দেশকের
ওপর।
কী
করে
বর্তমান
সংকট
থেকে
উত্তরণ
ঘটানো
যায়—বিভিন্ন
শ্রেণী-পেশার
মানুষ
যার
যার
পরিসরে
ভাবছে,
পরিকল্পনাও
করছে।
আমার
কাজের
পরিসর
যেহেতু
জনসংখ্যাবিজ্ঞান,
সে
কারণেই
ভাবছি
কভিড-১৯
মহামারীর
কারণে
বর্তমান
ও
ভবিষ্যৎ
বিবেচনায়
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়ন
চ্যালেঞ্জগুলো
বিশ্ব
কীভাবে
মোকাবেলা
করবে,
বিশেষ
করে
বাংলাদেশের
ন্যায়
জনবহুল
ও
অত্যন্ত
ঘনবসতিপূর্ণ
দেশ।
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়ন
ক্ষেত্রে
গত
২৫
বছরে
যা
অর্জন
হয়েছে,
তা
থেকে
আমরা
পিছিয়ে
যাব
কিনা,
সামনে
কী
করে
এগোতে
হবে,
টেকসই
বা
বজায়যোগ্য
উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জন
সম্ভব
হবে
কিনা—এসব
নিয়েই
মূলত
আমার
বর্তমান
ভাবনা।
এ মুহূর্তে
মনে
পড়ছে
জাতিসংঘ
জনসংখ্যা
তহবিলের
(ইউএনএফপিএ) আমন্ত্রণে
গত
বছর
(২০১৯) নভেম্বরের
১২-১৪
তারিখে
কেনিয়ার
রাজধানী
নাইরোবিতে
অনুষ্ঠিত
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়নবিষয়ক
আন্তর্জাতিক
সম্মেলন
(আইসিপিডি)+২৫
বছর
পূর্তি
উদযাপন
ও
পুনঃপ্রতিশ্রুতি
প্রদান
শীর্ষক
আয়োজনে
অংশ
নেয়ার
কথা।
ওই
সম্মেলনে
বাংলাদেশ
থেকে
একজন
একাডেমিশিয়ান
হিসেবে
আমার
প্রতিনিধিত্ব
করার
সুযোগ
হয়েছিল।
নাইরোবিতে
তখন
জাতিসংঘভুক্ত
বিশ্বের
বিভিন্ন
দেশের
সরকার,
বহুমুখী
এজেন্সির
প্রতিনিধি,
সিভিল
সোসাইটি,
বেসরকারি
আওতায়
বিভিন্ন
সংগঠন,
নারী
ও
যুবা
নেতৃত্বাধীন
বিভিন্ন
সংগঠনের
প্রতিনিধিরা
একত্র
হয়েছেন।
ওই
সম্মেলন
ছিল
১৯৯৪
সালে
মিসরের
কায়রোতে
অনুষ্ঠিত
আইসিপিডি
প্রদত্ত
প্রতিশ্রুতির
দ্রুত
বাস্তবায়নকে
উপজীব্য
করে।
উল্লেখ্য,
আইসিপিডির
মূলে
রয়েছে
মানুষের
অধিকার
ও
উন্নয়ন।
১৯৯৪
সালের
সম্মেলনে
বাংলাদেশসহ
পৃথিবীর
১৭৯টি
দেশ
অংশ
নিয়ে
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়নসংক্রান্ত
কর্মসূচি
চূড়ান্ত
করেছিল।
এক্ষেত্রে
নারী
ও
মেয়েদের
সমধিকার,
যৌন
ও
প্রজনন
স্বাস্থ্য
ও
অধিকার,
ব্যক্তির
মানবাধিকার
ও
মর্যাদা
নিশ্চিতকরণ
টেকসই
উন্নয়নের
পূর্বশর্ত।
উন্নয়নের
লক্ষ্য
হলো,
সব
মানুষের
জীবনের
গুণগত
মানের
উন্নয়ন।
এক্ষেত্রে
আইসিপিডি
ছিল
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়ন
ভাবনায়
এক
‘প্যারাডাইম’
শিফট
বা
পরিবর্তন।
জনসংখ্যার
পরিমাণগত
আকারের
পাশাপাশি
গুণগত
উন্নয়নও
অত্যাবশ্যক।
এ
লক্ষ্যে
আইসিপিডি
এক
মাইলফলক,
যেখানে
জনসংখ্যার
গুণগত
দিক
তথা
অধিকারের
বিষয়টিতে
বিশেষ
গুরুত্ব
দেয়া
হয়
প্রথমবারের
মতো।
প্রজনন
স্বাস্থ্য
অধিকার,
জেন্ডার
সমতা,
নারীর
ক্ষমতায়ন,
পরিবার-পরিকল্পনার
বিষয়গুলো
অধিকতর
গুরুত্ব
পায়,
যা
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়ন
ভাবনার
দেশীয়
ও
আন্তর্জাতিক
নীতি-পরিকল্পনায়
যুক্ত
হয়।
জনসংখ্যা,
টেকসই
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি,
টেকসই
উন্নয়ন
ও
পরিবেশ—এগুলোর
আন্তঃসম্পর্ক;
জেন্ডার
সমতা,
সমদর্শিতা
এবং
নারীর
ক্ষমতায়ন;
পরিবার:
পরিবারের
ভূমিকা,
অধিকার,
গঠন
এবং
কাঠামো;
জনসংখ্যার
বৃদ্ধি
ও
কাঠামো;
প্রজনন
অধিকার
ও
প্রজনন
স্বাস্থ্য;
স্বাস্থ্য,
রোগ
ও
মরণশীলতা;
জনসংখ্যা
বণ্টন,
নগরায়ণ
ও
স্থানান্তর;
আন্তর্জাতিক
স্থানান্তর;
জনসংখ্যা,
উন্নয়ন
ও
শিক্ষা;
প্রযুক্তি,
উন্নয়ন
ও
গবেষণা;
জাতীয়
কর্মকৌশল;
আন্তর্জাতিক
সহযোগিতা;
বেসরকারি
খাতে
অংশীদারিত্ব
এবং
সম্মেলনের
ফলোআপ
বা
অগ্রগতি
পর্যালোচনার
বিষয়কে
অন্তর্ভুক্ত
করা
হয়।
ফলে
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়নের
ক্ষেত্রে
আইসিপিডি
যেন
এক
মাইলফলক।
যুগান্তকারী
এ
সম্মেলনে
গত
২৫
বছরে
বৈশ্বিক
ও
দেশীয়
পর্যায়ে
অর্জনের
পাশাপাশি
বিদ্যমান
ও
ভবিষ্যৎ
বহুমুখী
চ্যালেঞ্জ
চিহ্নিত
করে
বজায়যোগ্য
বা
টেকসই
উন্নয়ন
লক্ষ্যকে
বিবেচনায়
রেখে
পরবর্তী
করণীয়
সম্পর্কে
পুনঃপ্রতিশ্রুতি
প্রদান
করা
হয়েছে
কেনিয়ার
অনুষ্ঠিত
নাইরোবি
সামিটে।
এক্ষেত্রে
তিন
শূন্য
লক্ষ্যমাত্রাকে
গুরুত্ব
দিয়ে
এজেন্ডাভিত্তিক
প্রতিশ্রুতি
দেয়া
হয়।
প্রথমটি
হলো
শূন্য
মাতৃমৃত্যু
হারে
নিয়ে
যাওয়া;
দ্বিতীয়,
পরিবার-পরিকল্পনার
ক্ষেত্রে
অপূর্ণ
চাহিদা
শূন্যতে
নিয়ে
আসা
এবং
তৃতীয়,
যৌন
ও
জেন্ডারভিত্তিক
নির্যাতনকে
শূন্যতে
নিয়ে
আসা।
এ
প্রতিশ্রুতিগুলো
সরাসরি
টেকসই
উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনের
সঙ্গে
সম্পর্কিত।
নিঃসন্দেহে
এসব
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জন
বাংলাদেশের
জন্য
যেন
বড়
চ্যালেঞ্জ।
এখনো
বাংলাদেশে
২০-২৪
বছর
বয়সী
বিবাহিত
নারীদের
অর্ধেকেরও
বেশির
বিয়ে
হয়ে
যায়
১৮
বছরের
আগেই।
প্রায়
প্রতি
তিনজন
কিশোরীর
একজন
এখনো
গর্ভধারণ
করেন
২০
বছরে
পৌঁছানোর
আগেই।
২০১১
ও
পরবর্তীতে
বাংলাদেশ
ডেমোগ্রাফিক
অ্যান্ড
হেলথ
সার্ভের
সর্বশেষ
(২০১৭-১৮)
তথ্যানুযায়ী
প্রজনন
হার
হ্রাসে
আসেনি
কোনো
অগ্রগতি।
বিভাগীয়
কিংবা
অঞ্চলভেদে
রয়েছে
বেশ
পার্থক্য—সিলেট,
চট্টগ্রাম
ও
ময়মনসিংহে
এ
হার
বেশি।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোয়
জন্মনিয়ন্ত্রণের
পদ্ধতি
ব্যবহারের
হারেও
নেই
অগ্রগতি।
১৫-৪৯
বছর
বয়সী
বিবাহিত
নারীদের
পরিবার-পরিকল্পনার
ক্ষেত্রে
অপূর্ণ
চাহিদার
হার
১৫-১৯
বছর
বয়সীদের
মধ্যে
বেশি।
এছাড়া
এখনো
বাংলাদেশে
মাতৃমৃত্যু
হার
অনেক
বেশি।
তবে
সাফল্যের
বিচারে
লক্ষ
করা
যায়,
১৯৯৪
সালের
আইসিপিডি
পরবর্তীতে
বাংলাদেশের
রয়েছে
উল্লেখযোগ্য
অগ্রগতি।
বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
বেড়েছে,
মাথাপিছু
দারিদ্র্যের
হার
হ্রাস
পেয়েছে।
কর্মক্ষম
জনগোষ্ঠীর
সংখ্যা
(১৫-৫৯
বছর)
এখন
সবচেয়ে
বেশি।
ফলে
নির্ভরশীলতার
হার
এখন
সবচেয়ে
কম।
জনমিতিক
লভ্যাংশ
অর্জনের
সুযোগের
সময়কাল
পার
করছে
বাংলাদেশ।
প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে
গ্রস
এনরোলমেন্ট
অনুপাতে
জেন্ডার
পেয়ারিটিতে
রয়েছে
লক্ষণীয়
সাফল্য।
পাঁচ
বছরের
নিচে
বয়সীদের
ক্ষেত্রে
শিশুমৃত্যুর
হার
কমে
এসেছে।
মোট
প্রজনন
হার
এখন
প্রতিস্থাপনযোগ্য
মাত্রার
কাছাকাছি।
জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি
ব্যবহারের
হার
১৯৯৩-৯৪
সাল
থেকে
২০
শতাংশ
বেড়েছে।
জীবন
আয়ুষ্কাল
এখন
উন্নীত
হয়েছে।
এসব
অগ্রগতির
পাশাপাশি
নতুন
ও
উদ্ভূত
চ্যালেঞ্জ
কিংবা
অসম
উন্নয়নও
লক্ষণীয়।
এখানে
দ্রুত
যুবগোষ্ঠী
ও
বয়স্ক
জনগোষ্ঠীর
সংখ্যা
বাড়ছে।
তবে
বেকারত্বের
হারে
তেমন
কোনো
পরিবর্তন
আসেনি;
বরং
যুব
বেকারত্বের
হার
ক্রমে
বাড়ছে।
বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান
ব্যুরোর
সর্বশেষ
শ্রম
জরিপ
বলছে,
বাংলাদেশে
১৫-২৯
বছর
বয়সী
যুবগোষ্ঠীর
প্রায়
৩০
শতাংশই
শিক্ষা,
চাকরি
অথবা
প্রশিক্ষণ—এর
কোনোটিতেই
নেই;
যাদের
অর্ধেকই
হচ্ছে
নারী।
আয়বৈষম্যে
কোনো
উন্নতি
হয়নি,
বরং
বেড়েছে।
প্রাথমিক
স্কুলে
ঝরে
পড়ে
এক-তৃতীয়াংশ,
আর
মাধ্যমিকে
দুই-তৃতীয়াংশ।
দ্রুত
নগরায়ণ
হচ্ছে।
সঙ্গে
যুক্ত
হয়েছে
প্রতিবেশী
মিয়ানমার
থেকে
আসা
১০
লাখের
বেশি
রোহিঙ্গা।
জলবায়ুর
পরিবর্তন
বা
পরিবেশগত
(প্রাকৃতিক দুর্যোগ,
নদীভাঙনসহ)
বিভিন্ন
কারণে
মানুষ
শহরে
স্থানান্তরিত
হচ্ছে।
নগরজীবনে
উদ্ভূত
হচ্ছে
নতুন
নতুন
চ্যালেঞ্জ।
এখানে
নারী,
কিশোর-কিশোরী
ও
যুবগোষ্ঠীর
চাহিদা
পূরণে
পরিবার-পরিকল্পনা
ও
প্রজনন
স্বাস্থ্যসেবা
চ্যালেঞ্জের
সম্মুখীন।
জনসংখ্যার
বয়স
কাঠামোতে
আশাব্যঞ্জক
পরিবর্তনে
জনমিতিক
লভ্যাংশ
অর্জনের
সুযোগ
থাকলেও
তা
নির্ভর
করছে
সৃষ্ট
এ
সুযোগের
সদ্ব্যবহার
এবং
তা
দীর্ঘায়িত
করার
ওপর।
আমাদের
সাম্প্রতিক
গবেষণাকর্মে
দেখতে
পাচ্ছি
কর্মক্ষম
জনগোষ্ঠী
থেকে
সর্বোচ্চ
সুবিধা
পাওয়ার
এ
সম্ভাবনা
রয়েছে
২০৩৮-৪০
সাল
পর্যন্ত।
ফলে
এ
সুযোগকে
সঠিকভাবে
কাজে
লাগিয়ে
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধির
ত্বরায়ণ
নির্ভর
করছে
বয়স
কাঠামোর
পরিবর্তনে
কর্মক্ষম
এ
জনগোষ্ঠীর
সুশিক্ষা,
সুস্বাস্থ্য,
অর্থনৈতিক
নীতি
ও
সুশাসন
নিশ্চিতকরণের
ওপর।
আইসিপিডি+২৫-উত্তর
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়নসংক্রান্ত
উল্লিখিত
এমন
সব
বিষয়ে
যখন
ভাবছি
তখনই
মহামারী
কভিড-১৯
যেন
সব
ভাবনায়
ভিন্ন
মাত্রা
যোগ
করে
দিল।
আইসিপিডি+২৫-এর
তিন
শূন্য
অর্জন
যেন
এখন
আরো
বড়
চ্যালেঞ্জ
আকারেই
আবির্ভূত
হয়েছে।
বর্তমানে
বাংলাদেশে
মানুষের
মৃত্যুর
প্রধান
কারণ
অসংক্রামক
ব্যাধি
এবং
ক্রমান্বয়ে
তা
বাড়ছেই।
এখানে
অসংক্রামক
ও
সংক্রামক
রোগের
দ্বৈত
বোঝা
লক্ষ
করা
গেলেও
এখন
নতুন
করে
যুক্ত
হয়েছে
কভিড-১৯।
একথা
নিশ্চিত
যে
কভিড-১৯-এর
উপস্থিতি
ও
প্রভাব
থেকে
যাবে
দীর্ঘদিন।
কত
মানুষ
সংক্রমিত
হবে,
মারা
যাবে,
তা
এখনই
বলা
যাচ্ছে
না।
সরকারি
তথ্যে
কভিড-১৯
সংক্রমণের
যে
তথ্য
দেয়া
হচ্ছে,
তা
নিয়ে
জনমনে
রয়েছে
উদ্বেগ
ও
ভিন্ন
ভাবনা।
কভিড-১৯
এখন
সারা
দেশে
ছড়িয়ে
পড়েছে।
নিউজ
মিডিয়ায়
প্রতিনিয়তই
দুর্বল
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার
চিত্র
আমাদের
সামনে
ফুটে
উঠছে।
উচ্চ
ঘন
জনবসতি,
বিদেশফেরতদের
প্রাতিষ্ঠানিক
কোয়ারেন্টিন
নিশ্চিত
না
করা,
জাতীয়
পর্যায়ে
লকডাউন
প্রয়োগ
না
করা,
সমন্বয়হীনভাবে
জনসংখ্যার
চলাচল,
সচেতনতার
অভাব,
বস্তিবাসী
ও
ভাসমান
জনগোষ্ঠী,
উচ্চ
জনবসতির
রোহিঙ্গা
শরণার্থী
ক্যাম্প,
দুর্বল
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা
ও
সম্পদের
সীমাবদ্ধতা,
প্রাতিষ্ঠানিক
সামর্থ্যহীনতা
ও
কার্যকর
সুশাসনের
অভাব
এখানে
লক্ষণীয়।
সঙ্গে
যুক্ত
হয়েছে
রোগ
নির্ণয়ের
জন্য
পর্যাপ্ত
পরীক্ষা-পরীক্ষা
ল্যাব
ও
উপকরণের
অভাব।
প্রশিক্ষিত
প্রয়োজনীয়
লোকবলের
স্বল্পতা,
তথ্য
গোপন,
এক
ধরনের
ভয়
ও
দূরত্বের
উপস্থিতি
প্রভৃতি
কারণে
বাংলাদেশে
করোনা
সংক্রমণের
ঝুঁকি
অনেক
বেশি।
আইসিপিডি প্রোগ্রাম
অব
অ্যাকশন
যখন
চূড়ান্ত
করা
হয়
তখন
কভিড-১৯-এর
অস্তিত্ব
মানুষের
জানা
ছিল
না।
তবে
স্বাস্থ্য,
রোগ
ও
মরণশীলতা
বিষয়ে
সুনির্দিষ্ট
তথ্য
রয়েছে।
ফলে
আইসিপিডি
২৫+এর
সঙ্গে
এখন
যুক্ত
হতে
হবে
কভিড-১৯।
কভিড-১৯
কীভাবে
মৃত্যু,
স্থানান্তর
ও
জন্মহারকে
প্রভাবিত
করছে
কিংবা
জনমিতিক
প্রক্রিয়ার
সঙ্গে
কভিড-১৯-এর
সম্পর্ক
কী,
তা
নিয়ে
আমাদের
ভাবতে
হবে।
জনবিজ্ঞানের
পরিসরে
এরই
মধ্যে
কিছু
গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্নের
উত্তর
খোঁজা
শুরু
হয়ে
গিয়েছে—
প্রথমত, কভিড-১৯
মহামারীতে
জনসংখ্যার
ভালনারেবেলিটি
বা
সুরক্ষাহীনতা
দেশীয়,
আঞ্চলিক
ও
বৈশ্বিক
পর্যায়কে
কী
কী
প্রভাবক
দিয়ে
ব্যাখ্যা
করা
যায়?
কভিড-১৯
সংক্রান্ত
ভালনারেবেলিটি
(সুরক্ষাহীনতা)-তে
এবং
প্রতিরোধে
কী
কী
জনমিতিক
সম্পর্কিত
প্রভাবক
(যেমন
বয়স কাঠামো,
অঞ্চল
বা
স্থানভেদ,
সামাজিক
স্তরায়ন
ও
স্থানান্তর)
এবং
কী
সামাজিক
প্রভাবক
(শ্রেয়বোধ-মূল্যবোধ)
জড়িত
রয়েছে
বা
কাজ
করছে?
দ্বিতীয়ত, কভিড-১৯-এর
জনমিতিক
প্রভাব
কী
হচ্ছে
(যেমন প্রজনন
হার
ও
পার্টনার
বা
সঙ্গীর
সঙ্গে
জীবনযাপন;
মৃত্যু
বা
মরণশীলতা
ও
স্থানান্তর-অভ্যন্তরীণ
ও
আন্তর্জাতিক)?
তৃতীয়ত, কভিড-১৯-এর
ফলে
অর্থনৈতিক
প্রভাব
কী
হচ্ছে
এবং
কীভাবে
তা
জনগোষ্ঠীর
বিভিন্ন
উপগোষ্ঠীতে
ভিন্নতা
সৃষ্টি
করছে?
চতুর্থত, উপাত্তের
চাহিদা
ও
পদ্ধতিগত
বিশ্লেষণে
আমরা
কী
শিক্ষা
নিচ্ছি
এবং
অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে
ভবিষ্যতের
নীতি-কৌশল
কী
নিতে
হবে?
তবে এ
মুহূর্তে
সবচেয়ে
বড়
চ্যালেঞ্জ
হলো
এই
মহামারী
প্রতিরোধ।
একই
সঙ্গে
দ্রুত
ভ্যাকসিন
আবিষ্কার
এবং
তার
প্রাপ্যতা
সবার
কাছে
সুনিশ্চিত
করার
কর্মকৌশল
নেয়া;
প্রতিরোধ-পরবর্তীতে
স্বাস্থ্য
খাত
ও
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থাপনায়
বিশেষ
গুরুত্ব
দেয়া
এবং
গবেষণায়
বিনিয়োগ
জোরদার
করা;
নাগরিকদের
সুস্বাস্থ্য
ও
চিকিৎসাসেবার
উন্নয়নের
পাশাপাশি
আইসিপিডি+২৫-কে
বিবেচনায়
রেখে
টেকসই
উন্নয়ন
অভীষ্ট
লক্ষ্যমাত্রা
বাস্তবায়নে
বাংলাদেশে
বাল্যবিবাহ
নিরোধ,
কিশোরী
মাতৃত্ব
হ্রাস,
শ্রমবাজারে
নারীদের
অংশগ্রহণ,
নারীর
প্রতি
সহিংসতা
দূরীকরণ,
কাঙ্ক্ষিত
মাত্রায়
স্থানীয়
ও
পরিবর্তিত
বিশ্ববাজারে
নতুন
কর্মসংস্থান
সৃষ্টি
নিয়ে
গুরুত্বের
সঙ্গে
কাজ
করা।
দরকার
জাতীয়
নীতি
ও
পরিকল্পনায়
জনসংখ্যা
ও
উন্নয়ন
ইস্যুগুলোকে
নিয়ে
সমন্বয়
সাধন।
জিডিপির
উন্নয়নকে
উপজীব্য
না
ভেবে
মানুষের
জীবনের
গুণগত
উন্নয়নের
অধিকার
নিশ্চিতকরণ
এবং
পছন্দকে
বেছে
নেয়ার
সক্ষমতা
বা
সামর্থ্য
সৃষ্টি
করাই
হোক
আমাদের
মূল
ব্রত।
ড. মোহাম্মদ মঈনুল
ইসলাম:
অধ্যাপক
ও
চেয়ারম্যান
পপুলেশন
সায়েন্সেস
বিভাগ,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
mainul@du.ac.bd










