গত ২০ নভেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চালকল মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দেশে প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ টন চালের বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ টন। এ মুহূর্তে সরকারের বিভিন্ন গুদামে মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৭০৭ টন, যার মধ্যে চালের পরিমাণ ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩০৩ টন। তাই পণ্যটির দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আরো বলেছেন, ধানের দাম বাড়েনি। তাই চালের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। ধানের দাম বাড়লে কৃষক কিছুটা লাভবান হতেন, কিন্তু তা হয়নি। কৃষক লাভ পাবেন না, কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা সব লাভ নিয়ে যাবে, সেটা চলতে দেয়া যাবে না। উল্লেখ্য, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে হঠাৎ করে মোটা ও চিকন চালের দাম বেড়ে যায়। কেজিতে সব ধরনের মোটা চালের দাম ৬ টাকা পর্যন্ত এবং চিকন চালের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর বস্তাপ্রতি বিভিন্ন জাতের চালের দাম ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। দেশে চালের ‘পর্যাপ্ত মজুদ’ থাকা অবস্থায় আমনের ভরা মৌসুমে চালের দামে ঊর্ধ্বগতির জন্য কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ধান-চালের ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিসহ পাইকারি চালের আড়তদাররা চালকল মালিকদের দায়ী করেন।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সরকার চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে ধান-চাল সংগ্রহের নীতিমালা ঘোষণা করে। এতে ১০ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করার ঘোষণা দেয়া হয়; যার মধ্যে ছয় লাখ টন ধান, সাড়ে তিন লাখ টন সিদ্ধ ও ৫০ হাজার টন আতপ চাল। প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারিত হয় ২৬ টাকা, আর সিদ্ধ ও আতপ চালের কেজিপ্রতি দাম ধরা হয় যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৫ টাকা। ২০ নভেম্বর থেকে ধান এবং ১ ডিসেম্বর থেকে চাল কেনা শুরু হয়ে এ কার্যক্রম ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ নভেম্বর ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবার আমন ধান ও চাল সংগ্রহে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে ব্যতিক্রমধর্মী বললে বোধ হয় অত্যুক্তি হবে না। এর কারণ এক. বেশ কয়েক বছর পর এবার আমন মৌসুমে সরকার ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিল। কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ধান সরকার চুক্তিবদ্ধ মিলারদের দেবে নির্ধারিত দামে খাদ্য অধিদপ্তরকে চাল সরবরাহের জন্য। দুই. সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত মোট ১০ লাখ টন চাল তৈরির জন্য যে ধান ক্রয় করা প্রয়োজন হবে, তার বেশির ভাগ কেনা হবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে। আর সরকার নির্ধারিত দামে খাদ্য অধিদপ্তরকে চাল সরবরাহ করতে যেসব চালকল মালিক দপ্তরটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন, তারা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় অবশিষ্টাংশ ধান কিনবেন।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে সরকারের ধান ও চাল সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হলো ধান কাটা এবং ঘরে তোলার মৌসুমে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখা, যাতে ধানচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং অধিক পরিমাণে ধান উৎপাদনে উৎসাহিত হন। অন্যান্য উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে










