চুলের বৃদ্ধি, গঠন ও সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চুলের গোড়া বা হেয়ার ফলিকলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও বিভিন্ন ভিটামিনের প্রয়োজন হয়। খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, এমনকি বেড়ে যেতে পারে চুল পড়ার প্রবণতাও। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির (এএডি) তথ্যানুযায়ী, শরীরে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চুল পড়তে পারে। চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন।
ডিম
চুলের অন্যতম উপাদান কেরাটিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি বায়োটিন, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম রয়েছে, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে সুষম খাদ্যগ্রহণকারীদের মধ্যে বায়োটিনের ঘাটতি তুলনামূলক বিরল। তাই শুধু চুল গজানোর আশায় অতিরিক্ত বায়োটিন গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
মাছ
সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, যেমন স্যামন, ম্যাকারেল ও সার্ডিনে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কিছু বি ভিটামিন পাওয়া যায়। মাছের ধরন অনুযায়ী এতে ভিটামিন ডি ও সেলেনিয়ামও থাকতে পারে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। ভিটামিন ডির ঘাটতির সঙ্গে কিছু ধরনের চুল পড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু বেশি মাছ খেলেই চুল পড়া বন্ধ হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
শাকসবজি
পালংশাকসহ গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছে দিতে রক্তের লোহিত কণিকার প্রয়োজন হয়, আর আয়রন লোহিত রক্তকণিকার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতার পাশাপাশি চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ফলমূল
পেয়ারা, আমলকী, কমলা, পেঁপে, স্ট্রবেরি ও অন্যান্য ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা আয়রন শরীরে শোষিত হতেও ভিটামিন সি সহায়তা করে। ফলে আয়রনের ঘাটতিজনিত চুল পড়ার ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ পরোক্ষভাবে উপকারী হতে পারে।
ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, সয়াবিন, চীনাবাদাম, কাঠবাদাম, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে প্রোটিন, জিঙ্ক, আয়রন, বিভিন্ন বি ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খান না, তাদের জন্য ডাল, সয়াবিন ও বাদাম উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে।
মাংস ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
মাছ-মাংস, ডিম, দুধ ও ডালজাতীয় খাবার শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। মাংসে প্রোটিনের পাশাপাশি এমন আয়রন থাকে, যা শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে। অন্যদিকে ডাল, ছোলা ও বিভিন্ন শস্য থেকেও আয়রন পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শোষণ বাড়াতে একই খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়া যেতে পারে।










