ডিজিটাল মাধ্যমে ‘কথা বলতে সক্ষম’ হয়েছেন গুরুতর পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক নারী। কম্পিউটার স্ক্রিনে তৈরি একটি অবতারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কের সংকেতকে কথা ও অভিব্যক্তিতে রূপান্তর করেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

এ প্রযুক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্ট্রোক ও অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিসের (এএলএস) মতো অসুস্থতার কারণে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা মানুষ আবারো নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন। এতে ব্রেন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিএলএস) প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

অবশ্য এখনো প্রযুক্তিটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর গতিও ‘হতাশাজনকভাবে’ বেশ ধীর। যা স্বাভাবিক কথোপকথনকে অসম্ভব করে তোলে।

এ প্রযুক্তিতে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সেখানে কিছু ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রোড ব্যবহার করা হয়। ওই কার্যকলাপই কথা ও মুখের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংকেতগুলো সরাসরি ডিজিটাল অবতারের কথা ও মুখের অভিব্যক্তি হিসেবে প্রদর্শিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে হাসি, ভ্রুকুটি করা বা অবাক হওয়ার মতো ভঙ্গিমা।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) অধ্যাপক এডওয়ার্ড চ্যাং। তিনি জানান, স্বাভাবিকভাবে মানুষ যেভাবে যোগাযোগ করে, তেমন একটি উপায় পুনরুদ্ধারই এ গবেষণার লক্ষ্য। সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা বাস্তব সমাধানের অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে তাদের।

৪৭ বছর বয়সী ওই রোগীর নাম অ্যান। ১৮ বছরেরও বেশি আগে ব্রেনস্টেম স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে গুরুতরভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি কথা বলতে বা টাইপ করতে পারেন না। সাধারণত মুভমেন্ট-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন, যা তাকে প্রতি মিনিটে ১৪ শব্দ পর্যন্ত অক্ষর নির্বাচন করতে দেয়। তিনি আশা করেন যে অবতার প্রযুক্তি তাকে ভবিষ্যতে একজন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে সক্ষম করবে।