দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জন্য একে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) লেবানন প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি নাজিব মিকাতির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। এরপর নাওয়াফ সালামের নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। ২০২২ সালের পর এটি দেশটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ সরকার।
নতুন মন্ত্রিসভাকে এখন একটি নীতি বিবৃতি প্রস্তুত করতে হবে, যেখানে সরকারের মূল নীতিমালা ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে। এরপর এটি লেবাননের সংসদে আস্থাভোটের মাধ্যমে পূর্ণ ক্ষমতা পাবে।
কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সাবেক প্রেসিডেন্ট নাওয়াফ সালাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি লেবাননের বিচারব্যবস্থায় সংস্কার আনবেন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন করবেন এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য কাজ করবেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনটি ডিগ্রি ঘোষণার কথা জানিয়ে বলেন, ক্ষমতার ভাগাভাগি অনুসারে, সালাম সরকারের ২৪ মন্ত্রী খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়েছে।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় হিজবুল্লাহ এবং আমাল মুভমেন্টের প্রতিনিধিরাও স্থান পেয়েছে। দুই দল মিলে পাঁচজন মন্ত্রী পেয়েছে, এর মধ্যে আমাল মুভমেন্টের তিনজন এবং হিজবুল্লাহর দুইজন মন্ত্রী রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, লেবানন জাতিসংঘের রেজুলেশন ১৭০১ বাস্তবায়ন করবে। এই রেজুলেশন ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছিল এবং এতে লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই এলাকা ইসরায়েল সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
লেবাননের নতুন সরকার হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈরুত সরকার গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে বিধ্বংসী যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের তহবিল ও বিনিয়োগ পেতে চাইছে। ২০১৯ সাল থেকে চলমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে চাইছে দেশটি।
হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সালামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন না দিলেও লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা-বণ্টন ব্যবস্থার অধীনে শিয়া মুসলিম মন্ত্রীদের আসন নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এদিকে, মার্কিন উপ-বিশেষ দূত মরগান ওর্টাগাস লেবাননের নতুন সরকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হিজবুল্লাহ সরকারে থাকলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণই থেকে যাবে।










