বিশ্বের বৃহত্তম কয়েকটি জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য। অভিযোগে বলা হচ্ছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ঝুঁকির ভয়াবহতা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত না জনসাধারণকে প্রতারিত করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

রাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক্সন মবিল, শেল, শেভরন, কনোকো ফিলিপস ও ব্রিটিশ পেট্টোলিয়ামের মতো কোম্পানিকে নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সান ফ্রান্সিসকোর উচ্চ আদালতে এ মামলা দায়ের হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলায় অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলোর অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করা হোক। ঝড় ও দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় এ অর্থ ব্যয় হবে।

নিউজিম বলেন, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বড় সংস্থাগুলো মিথ্যা বলে আসছে। অনকেদিন ধরেই জানত, তাদের উৎপাদিত জীবাশ্ম জ্বালানি এ গ্রহের জন্য কত বিপজ্জনক। এ সত্য তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে এসেছে।

‘ক্যালিফোর্নিয়ার করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির’ উল্লেখ করে বলেন, পুরো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া আমাদের বাতাসকে দূষিত করছে, মারাত্মক তাপপ্রবাহ, রেকর্ড ভেঙে দেয়া খরা আমাদের জলাধারগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

১৩৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে যুক্তি দেয়া হচ্ছে, কোম্পানিগুলো কমপক্ষে ১৯৬০ সাল থেকে জানত যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াবে। কিন্তু তারা জনসাধারণের জন্য বিবৃতি ও বিপণনে এ হুমকিকে কম করে দেখিয়েছে। কোম্পানির বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ এর দশকেই জানতেন যে জলবায়ু প্রভাবগুলো বিপর্যয়কর হবে।

তবে কোম্পানিগুলো বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার জন্য আদালত উপর্যক্ত স্থান নয়। মামলায় অন্তর্ভুক্ত গ্রুপ আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আদালত নয় জলবায়ু নীতি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা করা উচিত। বৃহৎ সংস্থা শেলের মুখপাত্রও বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে আলোচনার সঠিক স্থান নয় আদালত।

এছাড়া ‘বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার জনসাধারণকে প্রতারিত করছে’ এমন ‘বেআইনি ব্যবসায়িক অনুশীলনের’ সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। বলা হচ্ছে, তারা প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ‘মিথ্যা বিজ্ঞাপন’ তৈরি করেছে।