ইরানে ইসরায়েলের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আরো গভীর করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কীভাবে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার উপদেষ্টারা। তাদের সামনে যেসব বিকল্প রয়েছে তার একটি হচ্ছে ইসরায়েলের ওপর আবারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো। কিন্তু তা করলে ইসরায়েল আগেই জানিয়েছে যে তারাও পাল্টা জবাব দেবে। আরেকটি বিকল্প ইরানের রয়েছে। তা হতে পারে হামলা বন্ধ রাখা। কিন্তু হামলা বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের চোখে ইরান দুর্বল প্রমাণিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা রক্ষাই হবে খামেনি ও তার উপদেষ্টাদের মুখ্য সিদ্ধান্ত। সে ক্ষেত্রে তারা ন্যূনতম জবাব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ও পরে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম দৃঢ় বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এর জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে নেয়া হয়ে গেছে। ইসরায়েলও অবশ্য একই সুরে বলেছে, হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে তাদের। তবে ঝুঁকি এত বেশি যে ইরান তার হুমকি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। আমাদের আরো আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়াতে হবে এবং সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে। ইরানের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত হবে না।’
১ অক্টোবর ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে ইরানের বিবৃতি মোটামুটি একই রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্কের এনটিভি নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো হামলা আমাদের জন্য রেড লাইন অতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের হামলার জবাব দেয়া হবে।’
ইসরায়েলের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের যেকোনো আগ্রাসন পূর্ণ শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা হবে। সীমিত পরিসরে ইসরায়েলের হামলার জবাব ইরান দেবে না এমন ধারণা করা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।’
ইসরায়েলের বিমানগুলো যখন ঘাঁটির দিকে ফিরে যাচ্ছিল তখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান মনে করে যে বিদেশী আগ্রাসনের জবাব দেয়ার অধিকার ও বাধ্যবাধকতা উভয়ই রয়েছে।
শুক্রবার মধ্যরাতের পর তিনটি প্রদেশে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরান জানিয়েছে, কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও তারা সাফল্যের সঙ্গে হামলা মোকাবেলা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের স্থাপনায় হামলা শেষে তাদের যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে দেশে ফিরেছে। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ২৫ দিন পর আইডিএফ এ হামলা চালাল। আইডিএফ বলছে, কয়েক মাস ধরে ইরানের ধারাবাহিক হামলার জবাবে তার এ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এ হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় আরো দুই সেনা নিহতের খবর দিয়েছে ইরান। এ নিয়ে শনিবার মধ্যরাতে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের চার সেনার নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ হামলার প্রতিশোধ প্রসঙ্গে ইরানের সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল আবদোলরাহিম মৌসাভি বলেন, তার দেশ ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইসরায়েলি হামলার জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।










