মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এ ভোটযুদ্ধের ফলাফলের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে শীর্ষ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রভাবশালী পরাশক্তি দেশটির এ নির্বাচনের ফল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারের নির্বাচনের মতো দ্বিধাবিভক্ত পরিবেশ অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রার দিক থেকে তা আগের দুই নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে এবার নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দুই-একদিনও সময় লেগে যেতে পারে। মূলত ভোট কেন্দ্রে সশরীরে হাজির না হয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রয়োগকৃত ভোট ও মেইল-ইন ব্যালট গণনার কারণে এ সময় লেগে যেতে পারে। সর্বশেষ ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট গণনায় সময় লেগেছিল চারদিন। তবে সে সময় কভিডের প্রাদুর্ভাব থাকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় লেগে যায় বলে জানা গেছে।

দুই শীর্ষ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা দাবি করছেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভবিষ্যৎ। এক্ষেত্রে স্পটলাইটে রয়েছে সুইং স্টেট বা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে বরাবরই দোদুল্যমানতা দেখিয়ে আসা অঙ্গরাজ্যগুলো।

এসব অঙ্গরাজ্যই এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন উভয় প্রার্থী। তাদের প্রচার-প্রচারণায়ও এসব অঙ্গরাজ্যই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি।

এমনই এক অঙ্গরাজ্য উইসকনসিন। গতকাল এখানে উভয় প্রার্থীই তাদের জনসংযোগ করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জনসংযোগ করেন গ্রিন বে এলাকায়। পরে ম্যাডিসন এলাকায় এমন আরেকটি কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল কমলা হ্যারিসেরও। উইসকনসিনবাসীর ভোট পেতে উভয় প্রার্থীর একই সময়ে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাওয়াকে মোটেও কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ দুই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই অর্থাৎ ২০১৬ ও ২০২০ সালে বিজয়ী প্রার্থীরা এখানে জয়ী হয়েছিলেন সামান্য ব্যবধানে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এখন প্রচার-প্রচারণার জন্য সুইং স্টেটগুলোয় টানা ভ্রমণ করে যাচ্ছেন। গতকালই উইসকনসিনের আগে নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে যোগ দেন তিনি। প্রচার-প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পদ্ধতিতে সন্তান ধারণ ইস্যুতে ট্রাম্পের কট্টর অবস্থানের সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই মনে করছেন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারণী ভূমিকা রাখবে সাতটি অঙ্গরাজ্য। এর অন্যতম নেভাদা। এখানে ইলেক্টোরাল ভোট ছয়টি। ফল নির্ধারণী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নেভাদাই সবচেয়ে ছোট। বর্তমানে গর্ভপাত ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্যতম এটি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস উভয়েই তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে কয়েক দফায় জনসংযোগ করেছেন এখানে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঙ্গরাজ্যে ভোটের ফলাফলে প্রভাবক হতে পারে অভিবাসন ও বর্ণবাদ ইস্যু।

এমন আরেক ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্য মিশিগান। এক সময় মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন—এ তিন অঙ্গরাজ্যকে দেখা হতো ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি হিসেবে। কিন্তু ২০১৬ সালে তিন দশক পর প্রথম রিপাবলিক হিসেবে অঙ্গরাজ্যগুলোয় জয়লাভ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার বছর পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অঙ্গরাজ্য তিনটিতে জয়লাভ করেন। এর মধ্যে মিশিগানে তিনি জয়লাভ করেছিলেন খুবই কম ব্যবধানে। ২০২০ সালে মিশিগানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫৫ লাখ। সেখানে জো বাইডেন জয়লাভ করেছিলেন মাত্র দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে। মিশিগানের ১৫ ইলেক্টোরাল ভোট আদায় করে নিতে ট্রাম্প ও হ্যারিস উভয়েই এখানে জোর প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ চালিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জয়লাভের জন্য মরিয়া এবার রিপাবলিকানরাও। রোনাল্ড রিগ্যানের পর আর কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী এ অঙ্গরাজ্যের সমর্থন আদায় করে নিতে পারেননি। তবে এখানে রিপাবলিকানদের বর্তমান তৎপরতাকে হালকা করে দেখছেন না ডেমোক্র্যাটরা। জোর প্রচার-প্রচারণা চালু রেখেছে উভয় পক্ষই।