‘বেবি শার্ক’ গানটি ইউটিউবে ১ হাজার ৬০০ কোটি বা ১৬ বিলিয়নের চেয়েও বেশি বার দেখা হয়েছে। ছোটদের জন্য তৈরি করা এ গান বড়দের মাঝেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। ‘বেবি শার্ক - পিংকফং কিডস সংস অ্যান্ড স্টোরিজ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এত জনপ্রিয় গানটিকেও ছয় বছর ধরে লড়তে হয়েছে আইনি লড়াই। অভিযোগ শিল্পীর কাজ নকলের। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় এসেছে যে, গানটি কোনো শিল্পীর কাজ নকল করেনি। এর মধ্য দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রযোজক কোম্পানি পিংকফং। খবর বিবিসি।
বেবি শার্ক নিয়ে বিতর্কের শুরুটা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুরকার জোনাথন রাইট। তিনি জনি অনলি নামেও পরিচিত। ২০১১ সালে তিনি একটি লোকগান অবলম্বনে ‘বেবি শার্ক’ গানের একটি সংস্করণ রেকর্ড করেন। অন্যদিকে, পিংকফং ২০১৬ সালে তাদের সংস্করণটি প্রকাশ করে। জোনাথন রাইটের অভিযোগ, পিংকফং তার সুরটি চুরি করেছে।
কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট জানান, জোনাথন রাইটের তৈরি করা সংস্করণটি মূল লোকগানের সুর থেকে খুব বেশি আলাদা ছিল না। তাই এটি আলাদা কোনো মৌলিক কাজ হিসেবে কপিরাইট সুরক্ষার আওতায় পড়ে না।
পিংকফংয়ের গানটি ইউটিউবে ঝড় তুলেছিল এবং এখনো যথেষ্ট জনপ্রিয়। এতে দেখানো হয়েছে বাচ্চাদের জন্য কিছু সহজ নাচের ভঙ্গি। ২০২০ সালে এটি ইউটিউবের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার দেখা ভিডিও হয়ে ওঠে। এরপর ২০২১ সালে এটি প্রথম ভিডিও হিসেবে ১০ বিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক অতিক্রম করে।
গানটি মূলত গত শতকের সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে গানটির মূল কথা ততটা আনন্দময় ছিল না। এক সংস্করণে দেখা যায়, একজন সার্ফার হাঙরের কাছে তার হাত হারায়। অন্য একটিতে প্রধান চরিত্র মারা যায়। এমন সব ভয়ংকর গানের কথা শিশুদের জন্য মোটেই উপযুক্ত ছিল না।
সেজন্য পিংকফংয়ের সহজ ও আনন্দময় সংস্করণটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে। গানটি ১০০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে। পিংকফংয়ের বিপণন পরিচালক জেইমি ওহ বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কে-পপ বলি।’










