উত্তর কোরিয়া শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সীমান্ত এলাকা থেকে জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এতে অনির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্লাইট ও নৌযানের কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। খবর এপি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তিনি ইলেকট্রনিক ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও ব্যবহার করছেন, যেমন দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক হাজার বেলুন পাঠিয়ে আবর্জনা ফেলা ও দেশটির বিরোধী লিফলেট পাঠানো।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানান, উত্তর কোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর কায়েসং ও নিকটবর্তী শহর হায়েজুর আশপাশ থেকে শুক্র ও শনিবার জিপিএস সিগন্যাল ম্যানিপুলেট করা হয়। এ তৎপরতায় বেশ কয়েকটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ও নৌযান বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী পশ্চিম সীমান্ত এলাকার কাছে উড়োজাহাজ ও নৌযানগুলোকে সতর্ক করলেও উত্তর কোরিয়া কীভাবে জিপিএস সিগন্যালে হস্তক্ষেপ করেছে বা কার্যক্রম পরিচালনায় কতটা বিঘ্ন ঘটেছে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে জিপিএস হস্তক্ষেপের উস্কানি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি দৃঢ়ভাবে সতর্ক করছি। ফলে যেকোনো পরিণতির জন্য দেশটিকে সম্পূর্ণ জবাবদিহি করতে হবে।’

বিশ্লেষক সুকজুন ইয়ুন সম্প্রতি উত্তর কোরিয়াকেন্দ্রিক ৩৮ নর্থ ওয়েবসাইটে লিখেছেন, উত্তর কোরিয়ার জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নিত ও বেলুন প্রচারণা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান পরিবহন কেন্দ্র ইনচিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুর্বলতা তুলে ধরেছে।

উত্তর কোরিয়া থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত এ বিমানবন্দর থেকে বছরে ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ও ৩৬ লাখ টন কার্গো পরিবহন করা হয়। ইয়ুন উল্লেখ করেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে জিপিএস হস্তক্ষেপ দুর্বল দৃশ্যমানতায় বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে বিপদে ফেলতে পারে।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্র্যাশ বেলুনের’ কারণে ১২ বার মোট ২৬৫ মিনিটের জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ে কার্যক্রম বন্ধ থাকে।