হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে নতুন করে আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ইঙ্গিত দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি কাতারের প্রধানমন্ত্রীর মোহাম্মেদ বিন আবদুলরহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ইসরায়েলের গোয়েন্দাপ্রধান ডেভিড বারনিয়া। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বৈঠকে যুদ্ধবিরতিসহ জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত শুক্রবার হামাসের হাতে আটক থাকা শতাধিক জিম্মির মধ্যে তিনজনকে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর একদিন পর সংবাদ সম্মেলন করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বেনয়ামিন নেতানিয়াহু সেখানে বলেন, ‘‌গাজায় যে সংঘাত চলছে, সেটি অস্তিত্বের লড়াই। চাপ থাকা সত্ত্বেও বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। গাজায় কোনো সামরিক বাহিনী থাকবে না। তবে সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসরায়েলের হাতে থাকবে।’

যদিও হামাসের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন একেবারে না থামলে বন্দি বিনিময়ের কোনো আলোচনায় যেতে রাজি নয় তারা।

গাজায় ইসরায়েল-হামাস চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। দেশ দুটির সঙ্গে যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্যও। যুক্তরাজ্যের ‘সানডে টাইমস’-এ লেখা এক নিবন্ধে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল আজ লড়াইয়ের অবসান ঘটানো নয়, বরং দিনের পর দিন বছরের পর বছর এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য লড়াইয়ের অবসান ঘটানো।’

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতাল থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার ও ‘সামরিক তৎপরতায় লিপ্ত’ প্রায় ৮০ হামাস সদস্যকে গ্রেফতার করেছে তারা। গত বুধবার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকদিন ধরে গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সেখানে তারা রোগীদের কক্ষে গুলি ছুড়েছে এবং কর্মীদের গ্রেফতার করেছে।

জাতিসংঘের অফিস অব দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিট্যারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, একই দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে হাসপাতালের পরিচালক এবং আরো প্রায় ৭০ চিকিৎসাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ চিকিৎসক ও নারী কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছে ১৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

অন্যদিকে, হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছিল ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় যোদ্ধারা।

দেড় মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করে গত ২৫ নভেম্বর অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও হামাস। প্রথমে চারদিনের বিরতি ঘোষণা করলেও পরে এ বিরতির মেয়াদ আরো তিনদিন বাড়ানো হয়।

সাতদিনের এ অস্থায়ী বিরতির সময় নিজের হাতে আটক দুই শতাধিক জিম্মির মধ্যে থেকে ১১৮ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস; আর এ সময়সীমায় ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ১৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে।