পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩৫। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সরকারি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স ও এএফপি।

আফগান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র বিলার কারিমি গতকাল এএফপিকে বলেন, ‘বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শেষমেশ এ সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকে তার জন্য অপেক্ষায় আছি।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১২টির বেশি গ্রামে ৬০০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, পশ্চিম আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর হেরাতের ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তি। ইউএসজিএস ওয়েবসাইটে পোস্ট করা একটি মানচিত্রে আফগানিস্তান অঞ্চলে সাতটি ভূমিকম্পের কথা জানানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হেরাত থেকে ২১ মাইল উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প, জিন্দাহ জান থেকে ২০ মাইল উত্তর-উত্তর-পূর্বে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এবং হেরাত শহর থেকে প্রায় ২৬ মাইল পশ্চিমে ও জিন্দাহ জানের ১৮ মাইল উত্তর-উত্তর-পূর্বে আরেকটি ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

হেরাত প্রদেশে ভূমিকম্পের ফুটেজে দেখা গেছে, গ্রামগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লোকজন তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনছে।

জিন্দাহ জান জেলার এক বাসিন্দা হেরাত থেকে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‌অনেক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শতশত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। আমি আমার নয়জন আত্মীয়ের মরদেহ হেরাতে নিয়ে গেছি। বহু গ্রামের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌আমার আত্মীয়দের গ্রামে মাত্র ৫০ জন বেঁচে আছেন। সকাল পর্যন্ত সেখানে চার শতাধিক মানুষ বসবাস করছিল।’

আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালায়, যা ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।

এর আগে ২০২২ সালের জুনে পূর্ব আফগানিস্তানের একটি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে পাথর ও কাদা-ইটের বাড়িঘর সমতল ভূমিতে পরিণত হয়। দুই দশকের মধ্যে আফগানিস্তানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার নিহত ও প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হয়।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপকভাবে প্রত্যাহারের কারণে দেশটি এরই মধ্যে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের কবলে পড়ে আছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলো এশিয়ার দেশটি।