‘ভিআইআর-৫৫০০’ নামের এ ওষুধটি উন্নত পর্যায়ের প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টিউমার সংকুচিত করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা এ সাফল্যকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে মরণব্যাধি নিরাময়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলোর একটি হলো প্রোস্টেট। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। সাধারণত ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ব্যবহার করে ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যান্য ক্যান্সারে এটি কার্যকর হলেও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এর আগে এটি খুব একটা সফল হতে পারেনি। তবে নতুন এ ওষুধটি সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ এবং রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের অধ্যাপক জোহান ডি বনো এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, ভিআইআর-৫৫০০ হলো একটি কৌশলগত অ্যান্টিবডি, যা শরীরের ‘কিলার টি-সেল’ বা রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে সরাসরি ক্যান্সার কোষের সঙ্গে যুক্ত করে। এর ফলে টি-সেলগুলো ক্যান্সার কোষগুলোকে চিনে নিয়ে ধ্বংস করতে পারে।
এ ওষুধের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কেবল টিউমারের ভেতরে গেলেই সক্রিয় হয়। এর ফলে অন্যান্য ওষুধের তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম হয়। গবেষণার প্রথম ধাপের ট্রায়ালে ৫৮ জন রোগীর ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়েছিল, যারা অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সামান্য।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রায় ওষুধ সেবনকারী ১৭ জন রোগীর মধ্যে ৮২ শতাংশের রক্তে পিএসএ লেভেল অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। পিএসএ হলো প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করার একটি বায়োমার্কার। অবাক করার মতো তথ্য হলো প্রায় ২৯ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এ লেভেল ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি ৬৩ বছর বয়সী এক রোগীর লিভারে ছড়িয়ে পড়া ১৪টি ক্যান্সারের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে।
সানফ্রান্সিসকোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি সিম্পোজিয়ামে এ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অধ্যাপক ডি বনো বলেন, যদিও আরো তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন, তবে এ প্রাথমিক ফলাফল সত্যিই অভূতপূর্ব। এটি এমন এক রোগের বিরুদ্ধে কাজ করছে, যা আগে ‘ইমিউন-কোল্ড’ বা ইমিউনোথেরাপির ক্ষেত্রে প্রতিরোধী বলে মনে করা হতো। বিজ্ঞানীরা এখন এ ওষুধের আরো বড় আকারের ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।










