আইসক্রিম ব্র্যান্ড বেন অ্যান্ড জেরির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরি গ্রিনফিল্ড পদত্যাগ করেছে। ইউনিলিভারের মালিকানায় থেকে আর ‘সততার সঙ্গে’ কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে ৫০ বছর কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি ছেড়েছেন গ্রিনফিল্ড। এর ফলে মূল কোম্পানি ইউনিলিভারের সঙ্গে বেন অ্যান্ড জেরির চলমান বিরোধ আরো তীব্র হলো। খবর গার্ডিয়ান।

অপর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেন কোহেন সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে গ্রিনফিল্ডের পদত্যাগের খবর জানান। বেন কোহেন সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনফিল্ডের লেখা একটি চিঠি শেয়ার করেছেন। চিঠিতে গ্রিনফিল্ড লিখেছেন, প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘তার জীবনের অন্যতম কঠিন ও বেদনাদায়ক পদক্ষেপ’। গ্রিনফিল্ড অভিযোগ করেন, ইউনিলিভার বেন অ্যান্ড জেরিকে নীরব করে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি যদি আমাদের বিশ্বাসের বিষয়গুলোয় সততার সঙ্গে দাঁড়াতেই না পারে, তবে সেটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকার কোনো মূল্যই নেই।’

২৫ বছর আগে ইউনিলিভারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সময় যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে বেন অ্যান্ড জেরির সামাজিক মিশন সুরক্ষিত থাকার কথা ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

২০২১ সালে বেন অ্যান্ড জেরি ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইসরায়েলি বসতিগুলোয় আর আইসক্রিম বিক্রি করবে না। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেন অ্যান্ড জেরি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব। তারা জলবায়ু পরিবর্তন, এলজিবিটিকিউ+ অধিকারসহ নানা বিষয়ে জনসমক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চলতি বছরের মার্চে ইউনিলিভার বেন অ্যান্ড জেরির প্রধান নির্বাহী ডেভিড স্টিভারকে সরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একটি মামলা করে বেন অ্যান্ড জেরি। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইউনিলিভার তাদের সামাজিক মিশন থামিয়ে দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

এর এক মাস আগে বেন অ্যান্ড জেরি অভিযোগ করেছিল, ইউনিলিভার তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমালোচনা না করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এক বিক্ষোভে অংশ নেন বেন অ্যান্ড জেরির প্রতিষ্ঠাতা বেন কোহেন। এসময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা ও গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি চলাকালে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় কোহেনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।