নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বন্দর অপারেটর আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এপিএসইজেড)। এতে দেশটিতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি প্রভাবিত হতে পারে। খবর দ্য হিন্দু।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আদানি গ্রুপের এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি তেল বাজারে একটি বড় ঘটনা। এটি ভারতে রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসে রাশিয়া থেকে। ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এ পণ্য আমদানির কারণে সম্প্রতি ভারতের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই কারণে ভারত ও চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপে মিত্রদের চাপ দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এপিএসইজিডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল (ওএফএসি), ইইউ ও যুক্তরাজ্য নিষিদ্ধ করেছে এমন কোনো জাহাজ তাদের বন্দরে ভিড়তে পারবে না। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে মুন্দ্রা বন্দরও। এ বন্দর দিয়ে মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ প্রবেশ করে ভারতে।
বর্তমানে এপিএসইজেড ১৫টি দেশীয় বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনা করে, যার বাজার হিস্যা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে ভারতের পশ্চিম উপকূলে ছয়টি, দক্ষিণে পাঁচটি ও পূর্ব উপকূলে চারটি বন্দর রয়েছে।
রিয়েল-টাইম ডাটা পরিষেবাদাতা ও বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার বলছে, আদানির বন্দরে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের প্রবেশ বন্ধ আন্তর্জাতিক চাপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। মুন্দ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল টার্মিনালে আদানির এ পদক্ষেপের প্রভাব পড়ছে।
কেপলার আরো বলছে, পদক্ষেপটি রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ মুন্দ্রায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশেরও বেশি রাশিয়া থেকে আসে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা ও মৌসুমি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গত আগস্টে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষত নায়ারা এনার্জির ভাদিনার রিফাইনারিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছিল। তবে ইইউ গত জুলাইয়ে নায়ারাকে নিষিদ্ধ করে।
কেপলারের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে নায়ারা এনার্জি শুধু রাশিয়া থেকেই জ্বালানি তেল পেয়েছে— তাদের ইতিহাসে প্রথমবার এমনটা ঘটেছে।
কেপলারের লিড রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত ঋতোলিয়ার মতে, আদানির সিদ্ধান্ত ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহে নতুন জটিলতা তৈরি করবে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যেতে পারে। ভারতীয় পরিশোধানাগারগুলো হয়তো বিকল্প লজিস্টিক সমাধান খুঁজতে বাধ্য হবে বা রুশ জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাহীন জাহাজের ওপর বেশি নির্ভর করবে।










