সম্প্রতি হিজবুল্লাহ ইস্যুতে লেবাননকে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৯ জুন পাঠানো ঐ প্রস্তাবে মূলত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে মিল রেখে, হিজবুল্লাহর বাহিনীকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে সেখানকার সামরিক অবকাঠামো লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানানো হয় এ প্রস্তাবনায়। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্র মতে, চুক্তির ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখা হয়, যাতে উভয় পক্ষ তা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই শর্তকে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গেই তুলনা করছে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবনার জবাব দিয়েছে লেবানন। বৈরুতে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক থমাস ব্যারাকের হাতে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত মার্কিন প্রস্তাবের জবাব তুলে দেন। প্রেসিডেন্ট আউনের কার্যালয় থেকে দেয়া সাত পৃষ্ঠার এই প্রতিক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে বৈঠক শেষে ব্যারাক সাংবাদিকদের জানান, লেবাননের জবাব অসাধারণ এবং তিনি এতে ‘অবিশ্বাস্যরকম সন্তুষ্ট’ হয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় লেবানন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করুক। এই অঞ্চল ম্যাক স্পিডে এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এটি ঠিক কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে তা তিনি পরিষ্কার করেননি। বিগত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় ইসরায়েল গাজা, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননে হামলা চালিয়েছে।

সরকারিভাবে লেবাননের প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ না পেলেও, সূত্র বলছে এতে বেশ কিছু জোরালো দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করে, সম্প্রতি দখলকৃত পাঁচটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, বন্দি লেবানিজদের মুক্তি দেয় এবং জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব মেনে চলে।

এই প্রস্তাবে উল্লেখ আছে, ইসরায়েলকে ২০০০ সালের সীমান্ত থেকে সম্পূর্ণরূপে পেছাতে হবে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষা করতে হবে। এছাড়া, দেশটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন—বিশ্বব্যাংকের মতে যার পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। ব্যারাক অবশ্য পরিষ্কার করেননি যে যুক্তরাষ্ট্র এই সহায়তা দেবে কি না।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো অবস্থান আসেনি, তবে দলটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে যতক্ষণ ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে দখল বজায় রাখবে এবং হামলা চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ তারা অস্ত্র নামাবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবানিজরা হিজবুল্লাহকে নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে দেখে। ফলে হঠাৎ করে নিরস্ত্রীকরণ হলে জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরতে পারে। রাষ্ট্র চায় সহানুভূতি ও আস্থা বজায় রেখে হিজবুল্লাহর অস্ত্র জমা নেয়া হোক। এতে গোষ্ঠীটি ও তাদের সমর্থকরা জাতীয় কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। অন্যদিকে, লেবাননকে পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা পাবে।

আল জাজিরা অবলম্বনে।