রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে সুনিদির্ষ্ট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যার মূল উদ্দেশ্য কৃষ্ণ সাগরের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় শস্য রফতানি সম্পর্কিত চুক্তির নবায়ন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) এ তথ্য জানান গুতেরেস। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের খাদ্য সংকটকে সামনে রেখে ইউক্রেন থেকে শস্য রফতানি চালু রাখতে গত বছরের জুলাইয়ে এগিয়ে আসে জাতিসংঘ ও তুরস্ক। তাদের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত দেশ দুটির মধ্যে শস্যচুক্তি হয়। তিন দফা বাড়ানোর পর ১৭ জুলাই শেষ হয় চুক্তির মেয়াদ। এরপর আর বাড়াতে রাজি হয়নি রাশিয়া ।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের মধ্যে বৈঠকের আগে গুতেরেসের এ বার্তা এল। দুটি তুর্কি সূত্রের বরাত সংবাদ সংস্থা জানায়, আগামী সোমবারের আলোচনার প্রাথমিক সূচিতে শস্য রফতানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই বিশ্বের অন্যতম শস্য রফতানিকারক দেশ। কৃষ্ণ সাগরীয় শস্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট মোকাবেলা। জাতিসংঘ জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর থেকে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

সাংবাদিকদের গুতেরেস জানান, শুধু নবায়ন নয়, আরো শক্তিশালী চুক্তি চান তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো চুক্তি করব না যা স্থগিতাদেশের মাধ্যমে বার বার সংকট তৈরি করবে। আমরা এমন একটি চুক্তি করব যা কাজ করবে ও মানুষের উপকারে কাজে দেবে।’

এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার ল্যাভরভ জানান, কৃষ্ণ সাগরের শস্য চুক্তি নবায়ন করার মতো কোনো লক্ষণ তারা দেখছে না।

রাশিয়া জানায়, যদি তাদের নিজস্ব শস্য ও সারের রফতানির দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে কৃষ্ণ সাগর চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার কথা বিবেচনা করবে।

মস্কোর অন্যতম দাবি হলো, রুশ কৃষি ব্যাংককে সুইফট তথা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকম্যুনিকেশন ব্যবস্থার সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা। যা ২০২২ সালের জুনে বন্ধ করে দেয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।