আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, জাতিগত-আর্মেনিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার সামরিক অভিযানের পর নাগোরনো-কারাবাখের ওপর তার দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর আগে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান। খবর বিবিসি।

কারাবাখ বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইলহাম আলিয়েভ আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর বীরত্বের প্রশংসা করেন।

আর্মেনিয়ার দক্ষিণ ককেশাসের এ ছিটমহলে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আর্মেনিয়ান বাসে করেন, যেটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

দেশটির বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ চান প্রেসিডেন্ট ইলহাম। এর আগেও এ অঞ্চল নিয়ে ‍দুই দেশের মধ্যে লড়াই হয়েছে। এছাড়া সক্রিয় রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী।

আর্মেনিয়ান কর্মকর্তারা জানান, এ যুদ্ধে সাতজন বেসামরিক নাগরিকসহ কমপক্ষে ৩২ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছেন। তবে এক আর্মেনিয়ান মানবাধিকার কর্মকর্তার মতে হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি। কমপক্ষে ২০০ জন নিহত ও ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

এদিকে গতকাল বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সীমান্তে সোটক শহরের কাছে আর্মেনীয় সেনাদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়। তবে আজারবাইজান দ্রুতই সে দাবি অস্বীকার করেছে।

ওই দিন সকালে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী ইয়েরেভানের রাস্তায় নামে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

যুদ্ধবিরতির এই চুক্তিতে কারাবাখ অঞ্চল থেকে আর্মেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে দেশটির সরকার সেখানে তাদের সৈন্যবাহিনীর উপস্থিতি অস্বীকার করেছে।

১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নাগোরনো-কারাবাখ ঘিরে দুই প্রতিবেশী আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া অন্তত দুবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

সর্বশেষ ২০২০ সালে নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। ওই যুদ্ধে উভয়পক্ষের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই সময়ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে।