সুদানের কোরদোফান অঞ্চলে গত বছরের শেষ দিক থেকে তীব্র সংঘাতের কারণে নতুন করে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শহর এল ওবেইদে পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরো সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।
গতকাল বুধবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) থেকে এ নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির এ সতর্কবার্তার মধ্যে পার্শ্ববর্তী উত্তর দারফুর রাজ্যে মৌসুমি বন্যায় বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতি আরো সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, সতর্ক বার্তাগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পুরো সুদানজুড়ে পরিবারগুলো সহিংসতা থেকে পালাচ্ছে, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর সঙ্গে এখন বিধ্বংসী বন্যার বাড়তি চাপও যুক্ত হয়েছে।
আইওএমের তথ্যমতে, এল ওবেইদ শহরসহ শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটি জানায়, এল ওবেইদে দফায় দফায় সংঘর্ষের পাশাপাশি শহরের প্রধান বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প চালানো, হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা এবং টেলিফোন সংযোগ সচল রাখার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
আইওএম আরো জানায়, ব্লু নাইল রাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। পশ্চিম দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ।
এদিকে উত্তর দারফুরের তাওইলা এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ হাজারের বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যামি পোপ বলেন, সুদান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাস্তুচ্যুতি সংকটে রয়েছে। সংঘাত, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও বন্যার সম্মিলিত প্রভাব হাজার হাজার পরিবারকে তাদের সহ্যক্ষমতার চরম সীমায় ঠেলে দিচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮৬ লাখ মানুষ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে আরো ৪২ লাখের বেশি মানুষ। জাতিসংঘের হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
এল ওবেইদের প্রধান সড়কগুলোর একটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আলমিগদাদ আলরুহাইদ জানান, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন ওই সড়কে সেনাবাহিনীর যানবাহন, তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
সুদান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এল ওবেইদ যুদ্ধের অন্যতম দীর্ঘ অবরোধের মধ্যে রয়েছে। আলরুহাইদের ভাষ্য, আরএসএফ এখনো শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কোরদোফান অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতি হচ্ছে।
-খবর আল জাজিরা










