যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে নিম্ন আদালতের ক্ষমতা সীমিত হয়ে গেছে। রায়টির কারণে ট্রাম্প রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ কার্যকর হওয়ায় দেশজুড়ে অভিবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর করা যাবে। তবে এর বৈধতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চাইলে নিম্ন আদালত কিছু অংশ স্থগিত রাখতে পারবেন।

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া সব শিশুই নাগরিকত্ব পাবে। এক্ষেত্রে তাদের মা-বাবা দেশটির নাগরিক কিনা বা তারা বৈধ অভিবাসী কিনা তা বিবেচ্য নয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এ নিয়ম বদলাতে চায়, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব না পায়।

এ সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিউস্টনে থাকা ২৪ বছর বয়সী কলম্বিয়ান আশ্রয়প্রার্থী লোরেনা বলেন, ‘রায় পড়ে আমি আরো বিভ্রান্ত হয়েছি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আমি জানি না আমার অনাগত সন্তানকে নাগরিকত্ব দিতে পারব কিনা। আমি চাই না সে এমন অবস্থায় থাকুক, যেখানে তার কোনো নাগরিকত্বই থাকবে না।’

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব রাজ্য ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেনি, সেখানে এ নীতি কার্যকর হলে সারা দেশে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তখন হাসপাতাল বা রাজ্য কর্তৃপক্ষকে ঠিক করতে হতে পারে—কারা নাগরিকত্ব পাবে আর কারা পাবে না।

রায়ে প্রধান বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট বলেন, ‘নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হলে নিম্ন আদালত তা বিবেচনা করতে পারবে।’

ট্রাম্প এ রায়কে সংবিধান, ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনের শাসনের এক বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব একটি প্রতারণামূলক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে এসেছে।’

এদিকে নাগরিক অধিকার ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ নীতির বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। গত শুক্রবার বিকালে ম্যারিল্যান্ডের একটি ফেডারেল কোর্টে তারা একটি সংশোধিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সারা দেশের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।