আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ আগস্ট) গ্যাবন ২৪ টেলিভিশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সেনা কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন ও সংবিধান বাতিল করা হয়েছে এবং দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা দেশের সকল নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। গ্যাবনের সেনাদল গ্যাবন ২৪ টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির হয়ে ঘোষণা দেন, তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছেন এবং গ্যাবন প্রজাতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিচ্ছেন। তাঁরা বলেন, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, অপ্রত্যাশিত শাসনব্যবস্থার ফলে সামাজিক সংহতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে, যা দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাচ্ছে...আমরা কমিটি ফর ট্রানজিশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব ইনস্টিটিউশনের পক্ষ থেকে বর্তমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে শান্তি রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ওই কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ থাকবে।’
গত শনিবার গ্যাবনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট আলী বোঙ্গো ওনদিম্বা। তবে এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ছিল। নির্বাচনের পরে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এছাড়া নির্বাচনের সময় ফ্রান্সের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
নির্বাচনের ফল তুলে ধরে আল জাজিরা বলছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো ওনডিম্বা ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলবার্ট ওন্ডো ওসা ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পান। নির্বাচনে মোট ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৫৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।










