পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি রেলস্টেশনে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোয়েটা স্টেশন থেকে পেশোয়ারের উদ্দেশে সকালের ট্রেন ছাড়ার সময় এ বিস্ফোরণে আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা এ বোমা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে একে পুলিশ আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করছে। খবর বিবিসি।
সম্প্রতি স্বাধীনতা ও স্থানীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবিতে প্রদেশটিতে প্রাণঘাতী হামলা বেড়েছে। শহরটির কমিশনার জানান, বিস্ফোরণে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ অন্তত ২৫ জন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ বালুচ বিবিসিকে বলেন, ‘ছয়-আট কেজি বিস্ফোরক বহনকারী এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বেসামরিক উভয়ই রয়েছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শনিবার সকালে বিস্ফোরণের মুহূর্তটি দেখা গেছে। তখন প্লাটফর্মটিতে বেশ কয়েকজন মানুষকে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পরবর্তী সময়ের ফুটেজে বেশ কয়েকজন আহত মানুষসহ স্টেশনজুড়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আহতদের মধ্যে আব্দুল জব্বার একজন, যাকে সিভিল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বুকিং অফিস থেকে টিকিট কেটে স্টেশনে ঢোকার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। আজ আমি যে ভয়াবহতার মুখোমুখি হয়েছিলাম তা বর্ণনা করতে পারব না, মনে হচ্ছিল যেন শেষ বিচারের দিন চলে এসেছে!’
বিস্ফোরণ ঘটার ঠিক পর পরই মুলতানের ট্রেন ধরতে এসেছিলেন মুহাম্মদ সোহেল। তিনি বলেন, ‘স্টেশনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মাটিতে পড়ে থাকা মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে।’
বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ করে কোয়েটা থেকে ফিরে আসা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিটকে লক্ষ্য করে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী এ ঘটনাকে নিন্দনীয় ও অপরাধীদের ‘পশুর চেয়েও খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ তাদের খুঁজে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’










